পালাবদল

(১)

কি মনে হচ্ছে? কি মনে হওয়া উচিৎ? জানিনা আসলে।

একবার কিছুই মনে হচ্ছে না, আবার একবার হুট করে রাজ্যের চিন্তা, রাজ্যের হতাশা ঘিরে ভর করছে। কয়েকবছর আগেও এই “একবার কিছুই মনে হচ্ছে না” বিষয়টা একটুও হত না। তখন মনজুড়ে এসব চিন্তা, উল্লাস, হতাশা, উদ্যম, আশা, স্পৃহা – এসব পরষ্পর ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনার সমাগম ছিল। কে জানে, বয়স বাড়ছে, কাঁধে আরও বেশী দায়িত্ব এসে পড়েছে, এজন্যই হয়ত।

স্কুল থেকে শুরু করে এখন এই বয়স পর্যন্ত জীবনে যত সার্কেলের সাথে চলাফেরা করেছি, মোটামুটি সব জায়গাতেই আমার মত লোকদের জন্য একটা গালভরা নাম আছে – “ফুটবল পাগল”। ফুটবলপাগল, ফুটবলবোদ্ধা – আরও কত কি! সার্কেল অনলাইন হোক বা অফলাইন, সেই পরিচয়ের ব্যত্যয় এখনো পর্যন্ত ঘটেনি। ব্যতিক্রম ঘটলে ঘটেছে ফুটবল নিয়ে আমার মাতামাতির মাত্রার হয়ত। আগে ইংলিশ লিগের হাল সিটি বনাম ডার্বি কাউন্টি টাইপের ম্যাচও মিস না দেওয়া ছেলের আজ লিভারপুলের সব ম্যাচ দেখতেই হিমশিম খাওয়া লাগে। আগে মানে যে সময়টায় ফেইসবুক বা টুইটার ছিল না, তখন জীবন মানেই খেলা দেখা আর খাওয়া-দাওয়া-পড়া-ঘুম। খেলা দেখা, খেলা দেখার পর বন্ধুদের সাথে টেক্সট মেসেজ করা অনবরত। এয়ারটেলের নাম তখন ওয়ারিদ ছিল, পরে এয়ারটেল হল, পাঁচ টাকা দু’শ ফ্রি এসএমএস টাইপ একটা বান্ডিল অফার ছিল তাদের। পাঁচ টাকার বিনিময়ে সেই এসএমএস গুলোর ভ্যালিডিটি ছিল দুই দিনের, সেই দুই দিন আমাদের জেনারেশনের ছেলেপেলেরা তখন পাগলের মত টেক্সট করত। রিপ্লাই দিত।

ফেইসবুক টুইটার না থাকলেও গুগলের সাথে পরিচয় হয়ে গেছে ততদিনে। বিশ্বের তাবৎ ক্লাবের, জাতীয় দলের খবর নিতাম গোল ডটকমে, টেলিগ্রাফে, মেইলে আর বিবিসিতে। সাথে উইকিপিডিয়া তো ছিলই।

ফুটবলপাগলদের মধ্যেও একটা আলাদা জায়গা ছিল আমার, সবখানে। এমন একটা ক্লাবের প্রেমে পড়া হয়েছিল ছোটবেলা থেকে, যার সমর্থক আমি এ কথা শুনলে সামনের লোক কয়েক মাইক্রো সেকেন্ড আমার চোখের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিত ফাজলামো করছি নাকি জানার জন্য।

ক্লাবটাই এরকম। কিছু জিতত টিতত না। জিতলেও নিয়মিত না। ইংলিশ লিগে তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসির দাপট। আমার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। আমার হোসে মরিনহো। আমার রোনালদো-গিগস। আমার দ্রগবা-ল্যাম্পার্ড।

মাঝেমধ্যে আর্সেনাল। থিয়েরি অঁরি আর ইনভিন্সিবলস এর চেতনায় উদ্ভাসিত ক্লাবটা।

আর এমনিতেই দেশের প্রায় সব মানুষই ক্লাব ফুটবল বলতে রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনাই বুঝত, এখনো সেই বিষয়ের বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

এর মাঝে লিভারপুলের জায়গা কোথায়?

(২)

আটানব্বই বিশ্বকাপ এর কথা মনে পড়ে। বাবার কোলে বসে সোফায় ফুটবল দেখার সেই প্রথম দিনগুলো। ঝাঁকড়াচুলো সুদর্শন ফ্রেঞ্চ কাটের এক স্ট্রাইকার প্রেমে পড়াও সে বছরই। গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিস্তুতা। যা হোক, সে অন্য আলোচনা।

দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ঝাঁকড়াচুলো স্ট্রাইকারের হ্যাটট্রিক দেখে ঠাওর করে নিলাম সমর্থন বলে কিছু থেকে থাকলে এদেরকেই করা যায়। আমার শিশুমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। জাতীয় দল মানেই আকাশী-সাদা।

আকাশী-সাদা।

আকাশী-সাদাদের ম্যাচগুলোতে টিভিসেটের সামনে আমাকে দেখতে পাওয়া যেত। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে এই আকাশী-সাদাদের প্রতিপক্ষ হল ইংল্যান্ড।

বসে পড়লাম ম্যাচ দেখতে। আমার আকাশী-সাদা আজকে নেভি ব্লু রঙের জার্সিতে। ঝাঁকড়াচুলোকে দেখে নিশ্চিত হলাম। গোলও করলো সে একটা, পেনাল্টিতে।

কিছুক্ষণ পরে সাদা জার্সি পরা একজন দুর্দান্ত গতিতে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে এসে গোল দিয়ে ম্যাচটাকে উত্তেজনাপূর্ণ বানিয়ে দিল। কমবয়সী এক ছেলে। চুল ঝাঁকড়া রাখার এত বাগাড়ম্বর নেই। মুখে সুন্দর একটা হাসি। কে এই ছেলে?

ঝাঁকড়াচুলো বাতিস্তুতার আর্জেন্টিনা সেবার জিতে গেলেও ঐ ছেলের খেলাও মনে ধরে গেল। হালকাপাতলা পত্রিকা পড়ানোর অভ্যাস করাচ্ছে ততদিনে আব্বু, আর সাথে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে পেপসির স্টিকার। ব্যস, জেনে গেলাম নাম।

মাইকেল ওয়েন।

পত্রিকার পড়ার একটা সুবিধা তখন থেকেই বোঝা শুরু হল। চার বছর পরপর বিশ্বকাপ হওয়া ছাড়াও বছরব্যাপি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন লিগ যে হয়, সেটা বুঝলামও সেবারই। বাতিস্তুতা ফিওরেন্টিনায় খেলত, দেশের পত্রপত্রিকা ফিওরেন্টিনার হাল-হকিকত প্রকাশ করা সম্পর্কে সেরকম উদ্যোগী ছিল না। আর না হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফিওরেন্টিনা এমন কোন ক্লাব না যার জন্য পত্রিকার কয়েক বর্গইঞ্চি জায়গা খরচ করতে হবে। দেশের প্রধান খেলা যেখানে ক্রিকেট।

দেশীয় পত্রিকার দোষ দিয়ে লাভ নেই, বিদেশের অনেক চ্যানেলই ইতালিয়ান সিরি আ ভালোভাবে কভার করত না। অন্তত আমাদের দেশে দেখতে পেতাম না। ক্লাবের খেলা মানেই ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টসের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কাভারেজ। তাই বাতিস্তুতাদের দেখা পাওয়ার জন্য চার বছর পর পর হওয়া বিশ্বকাপ ছাড়া গত্যন্তর ছিল না।

তবে মাইকেল ওয়েন দের লিভারপুলকে চ্যানেল ঘোরালেই পাওয়া যেত বেশ। যদিও এখনো আসল নায়ক আসেই নি।

(৩)

ট্রেবল শব্দটার সাথে আমার পরিচয় বহুদিন পর। পর পর দুই মৌসুমের ঝটকায় শিখে গেছিলাম শব্দটা বেশ, বার্সেলোনা আর ইন্টার মিলানের কাছ থেকে। তাও সেই ২০০৮ এর দিকে। ২০০১ এর দিকে সেই শব্দটার গৌরব সম্পর্কে বাঙ্গালী অতটা ওয়াকিবহাল ছিল না। যদিও ইতিহাস বলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মাত্র দুই বছর আগেই ট্রেবল জিতে ইতিহাস গড়েছে, তাতে দেশের মানুষের আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। জানতই বা ক’জন?

সেবার রাতের বেলা এমনই কোন এক খেলা দেখতে বসে পড়া হয়েছিল। পুরো খেলা অবশ্যই দেখা সম্ভব হয়নি, কিছুক্ষণ যা দেখেছি তাতেই মাইকেল ওয়েনকে চিনে ফেললাম। তবে এবারের নায়ক ওয়েন না। মিডফিল্ড থেকে দৌড়ে অনেকটা ঐ আটানব্বইয়ের ওয়েনের মতই করা গোলটা হাঁ করে দিল কিছুক্ষণের জন্য।

স্টিভেন জর্জ জেরার্ড। একই রকম বাচ্চাসুলভ চেহারা, সুন্দর হাসির আরেক ছেলে।

পরে জানলাম, সেবার আমরাও আসলে ট্রেবল জিতেছিলাম। আর ওটা ছিল ইউয়েফা কাপের ফাইনালে জেরার্ডের করা লিভারপুলের দ্বিতীয় গোল। হোক ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ট্রেবল, বা মূল ট্রেবলের মত অতটা জাঁকজমকপূর্ণ ট্রেবল নয়, তাও –

ট্রেবল তো!

(৪)

একের পর এক বছর যায়। লিগ জেতা হয় না। দুর্দান্ত কামব্যাক করা হয় একেক ম্যাচে, নখ-কামড়ানো সেসব ম্যাচের ফল ড্র হয়, কিংবা হয়তোবা জিতিও। মৌসুম শেষ হলে সেসব নখ কামড়ানো উত্তেজনাগুলো শিরোপায় রূপ নেয় না। চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড – এদের সাথে পয়েন্টের ব্যবধান থাকে দশ-বারো করে।

এক স্টিভেন জর্জ জেরার্ড একাই বয়ে নিয়ে যায় ক্লাবটাকে। সাথে সঙ্গী হিসেবে কেউ না কেউ থাকলে থাকে, নাহলে নাই। কখনো মাইকেল ওয়েন, ফার্নান্দো টরেস, কখনোবা লুইস সুয়ারেজ।

চেলসিকে দেখতাম। ঈর্ষা হত। ফ্র‍্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড কি সুন্দর দ্রগবা, টেরি, কোল, রবেন, ম্যাকেলেলেদের পায় খেলার জন্য! একই কথা ইউনাইটেড বা আর্সেনালের বেলাতেও। স্কোলস এর সাথে সাথে খেলে গিগস, বেকহ্যাম, নেভিল, রোনালদো, রুনি। ২০০৫ এর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পরেও দলে কেউ আসত না। আমাদের স্কাউট খুঁজে পেত না।

সেবার ২০০৬ এর পুরো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে একটা খেলোয়াড়ের খেলাই অনেক ভালো লাগলো।

সেই ওয়েন হারগ্রিভস চলে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে।

ঐ যে পর্তুগালের ঐ খেলোয়াড়টা, বিশ্বকাপ দেখতে দেখতে আব্বু বললো এই খেলোয়াড়টা চাইলে রুই কস্টা হতে পারবে।

না রোনালদো না, সে এর মধ্যেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে।

ম্যানিশ নামের সেই খেলোয়াড়টাকে চেলসি পরের মৌসুমেই নিয়ে আসল।

কলেজে থাকতে একটা বদ-অভ্যাস ছিল। নতুন পাওয়া মাল্টিমিডিয়া ফোন দিয়ে সামনে বসে থাকা বন্ধুর পিছনে ফোনটা রেখে সারাক্ষণ ফোন চালাতাম। সেই সময়টায় সারাক্ষণ একের পর এক সাইট ব্রাউজ করে দেখতাম এবার কি দলে ভালো কোন খেলোয়াড় আসবে? না আবারও এক জেরার্ডের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দিতে হবে পুরো মৌসুম?

লেফটব্যাক দরকার আমাদের। জন আর্ন রিসা যাওয়ার পর থেকে বহুদিন ধরেই দলে ভালো লেফটব্যাক নাই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্যাট্রিস এভরা। সে খাটাসের বাচ্চা হলেও খেলার সময় তো তুলনাহীন। মানতে হবে।

চেলসির আছে অ্যাশলি কোল। আমাদের কে? আমাদের স্কাউটগুলো একটা ভালো লেফটব্যাকও আনতে পারেনা? কি করে ওরা?

উইঙ্গার দরকার আমাদের। দরকার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার দরকার। স্পেইনের উত্থানের ঐ দিনগুলোয় হেসাস নাভাস, হুয়ান মাতা, ডেভিড সিলভাদের বেশ লাগত। কেন আনতে পারেনা লিভারপুল ওদের? বড় ক্লাবে খেলেনা ওরা। ভ্যালেন্সিয়া কি বড়? পরে শুনলাম ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড না দিলে হুয়ান মাতা আসবেনা। এত বাজেট নেই আমাদের। নিজের শহরের ক্লাব ছেড়ে হেসাস নাভাস আসবেনা।

কবে জানি চোখে পড়লো উইগানের পল শার্নার কে মনে ধরেছে লিভারপুল স্কাউটদের। অ্যাস্টন ভিলার গ্যারেথ ব্যারি আসছে জেরার্ডের সাথে জুটি বাঁধতে। ওয়েস্ট হ্যাম থেকে কার্লটন কোল আসছে স্ট্রাইকার হতে। যে স্ট্রাইকারকে আজ অব্দি কোন গোল করতে দেখিনি। সে স্ট্রাইকার বলে আসছে লিভারপুলে।

মন-টন খারাপ করে ফোন বন্ধ করে ক্লাসে মন দেওয়াটাই শ্রেয়তর মনে হত সেসব সময়গুলোতে।

(৫)

সোনালী চুলের ছেলেটা। স্পেইন থেকে এসে জয় করে নিলো সবকিছু। এত করে চেলসি চাওয়ার পরেও লিভারপুলকেই মনে ধরেছিল তাঁর। জেরার্ডও ওয়েনের পরে মনের মত সঙ্গী পেল যেন। এতদিন পরে এসে বড় কোন ট্রফি জেতার আশা পূরণ হল বলে। কিন্তু হল না। শেষে ঐ ইউনাইটেডের কাছেই জলাঞ্জলি দিতে হল শিরোপা স্বপ্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন কেড়ে নিল চেলসি।

সাথে সেই সোনালী চুলের ফার্নান্দো টরেস কেও।

গত দুইবছরের মত সময় ধরে দলে যে কয়জন মোটামুটি ভালো খেলোয়াড় এসেছিল, এই হতাশাতেই ক্লাব ছাড়লো বুঝি। জেরার্ড আবারও একা।

আবারও ফুটবল খেলা দেখা মানেই জেরার্ডের অতিমানবীয় কোন মুহূর্তের অপেক্ষা করা। কখনো হত, হলে ম্যাচ জিততাম। না হলে হারতাম।

ট্রফি? সে দূর অস্ত।

সোজা হিসাব।

একই ভাবে, একই হতাশায় লিভারপুল নামের বাসে একে একে উঠে বিভিন্ন স্টেশনে নামা শুরু করলো কখনো লুইস সুয়ারেজ, কখনো হ্যাভিয়ের ম্যাশচেরানো, কখনো রাউল মিরেলেস, কখনো ইয়োসি বেনায়ুন, কখনো রাহিম স্টার্লিং, আবার কখনো ফিলিপ্পে কউতিনহো।

যে বাসের ড্রাইভারের ভূমিকা পালন করতে করতে ক্লান্ত, অবসন্ন – স্টিভেন জর্জ জেরার্ড।

তীরে এসে তরী ডোবা দেখতে দেখতে ক্লান্ত লোকটা নিজেই চলে গেল একদিন। লিভারপুল ক্লাবে তাঁর যতটা প্রাপ্য ছিল, অর্জনের খাতায় তার আরও অনেক অনেক গুণ কম সম্মাননা নিয়ে।

(৬)

রয় হজসনের সময়কার কথা মনে পড়ে। রাফা বেনিতেজ মাত্র চলে গেল তখন। মাত্রই ইউরোপা লিগে ফুলহ্যামকে ফাইনাল খেলানো কোচ লিভারপুলে এসে তাঁর “পছন্দের” খেলোয়াড় দিয়ে দল ভরা শুরু করল। তখন অনলাইনের বাজার জমজমাট। সবার একটা করে ফেইবুক অ্যাকাউন্ট। মানুষ চ্যাট করার জন্য ইনবক্সে না গিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের পোস্ট, স্ট্যাটাস, ছবি – এগুলোর কমেন্ট সেকশনেই কাজ সেরে ফেলত।

রাতের পর রাত ব্যান্টারিং এর শিকার হওয়া লাগত। অন্যান্য দলের সমর্থক বন্ধুদের টিটকারি, হাহা! যার প্রত্যেকটার ফলাফলই ছিল মন খারাপ করে রাত্রেবেলা ঘুমিয়ে যাওয়া, আর পরের সকাল থেকে নবোদ্যমে আবারও ঝগড়া করা শুরু করা অনলাইনে।

সেই পল কনচেস্কি। সেই ক্রিস্টিয়ান পউলসেন। সেই ড্যানি উইলসন। সেই মিলান ইয়োভানোভিচ। জনজো শেলভি বলে ইংল্যান্ডের নতুন ভরসা তখন।

আর হ্যাঁ। জ্যো কোল। ইংলিশ মেসি। লিভারপুল এবার জিতবেই কিছু না কিছু।

এখন দলে মোহামেদ সালাহ, রবার্তো ফিরমিনো, ভার্জিল ভ্যান ডাইক, সাদিও মানে, ইউর্গেন ক্লপদের দেখে সেসব সময়ের কথা মনে হয়।

আর মনে হয়, ঐ সময়টা পেরিয়ে এই সময়ে আজকে এসেছে আমার ক্লাব? বিশ্বাস হয় না মাঝে মাঝে!

বড় বড় সব খেলোয়াড়েরা আজ খেলতে চায় এখানে। পেপ গার্দিওলার ক্লাবে না গিয়ে লিভারপুলে আসার জন্য গোঁ ধরে বসে থাকে ভ্যান ডাইক। মোহামেদ সালাহ আজ মেসি-রোনালদোদের সাথে পাল্লা দেয়।

রেলিগেশনের খড়্গে থাকা সেই ক্লাব আমার আজকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে পরাক্রমশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে।

যুক্তি বলে রিয়াল মাদ্রিদ জিতবে, জিতাই উচিৎ। বর্তমানে শক্তিমত্তার দিক দিয়ে লিভারপুল বা রিয়াল মাদ্রিদের সেরকম পার্থক্য না থাকলেও বড় ফাইনাল খেলে ভুরি ভুরি জেতার অভিজ্ঞতা রিয়াল মাদ্রিদের এই দলটার আছে। এই অভিজ্ঞতাটা একাই রিয়াল মাদ্রিদকে জিতিয়ে দিবে। তারা জানে কিভাবে এসব ম্যাচ জিততে হয়। তারা জানে, যে তাদের জেতার ক্ষমতা আছে, সামর্থ্য আছে।

এই অভিজ্ঞতার জায়গাতেই যোজন যোজন পিছিয়ে আমার লাল দল।

সমর্থক হিসেবে পল কনচেস্কি থেকে মোহামেদ সালাহ পর্যন্ত বিবর্তনের এই সময়ে পাওয়া ফলাফলটা আমার কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

ট্রফি জিততে ইচ্ছা করে। কিন্তু বাস্তবতাকেও মাথায় রাখতে হয়।

দুটো ইচ্ছা এখন মনের মধ্যে আমার রয়েছে প্রবলভাবে।

যে লোকটা এতদিন ধরে লিভারপুলকে বয়ে নিয়ে এসে আজকের এই দলের ভিত্তি স্থাপন করে গেল, সেই স্টিভেন জর্জ জেরার্ড যদি আজকের দলটায় থাকত!

আর, আজ থেকে আরও আট-নয় বছরের সেই উদ্দীপনাটা যদি এখনো থাকত!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + 14 =