লানজিনির বদলে এনজো পেরেজ : কেমন খেলোয়াড় তিনি?

লানজিনির বদলে এনজো পেরেজ : কেমন খেলোয়াড় তিনি?

একের পর এক দুঃসংবাদে টালমাটাল আর্জেন্টিনা শিবির। প্রথমে দলের মূল গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেলেন, এরপর দল থেকে বাদ হয়ে গেলেন মূল একাদশের আরেক অবিচ্ছেদ্য অংশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল লানজিনি। এই ম্যানুয়েল লানজিনি কোচ হোর্হে সাম্পাওলির পরিকল্পনায় বেশ ভালোভাবেই ছিলেন, মূল একাদশে সুযোগও পেতেন এই বিশ্বকাপে। কিন্তু হাঁটুর চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবার ফলে আবারো রণপরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে কোচ সাম্পাওলিকে। এরই ধারাবাহিকতায় রিভারপ্লেটের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এনজো পেরেজ কে দলে ডেকেছেন সাম্পাওলি, লানজিনির বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে।

লানজিনির বদলে এনজো পেরেজ : কেমন খেলোয়াড় তিনি?
gollachhut.com

৩২ বছর বয়সী এনজো পেরেজ বেশ অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার, দলের হয়ে ২৩ ম্যাচ খেলেছেন, ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। এখন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটে খেলা এই মিডফিল্ডার খেলেছেন ভ্যালেন্সিয়া ও বেনফিকার মত ক্লাবের হয়েও। বেনফিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সফল এই খেলোয়াড়কে বেনফিকা কোচ হোর্হে হেসুস অভিহিত করেছিলেন দলের মস্তিষ্ক হিসেবে। এই মৌসুমে রিভারপ্লেটের হয়ে ১৮ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এমনকি আর্জেন্টিনার বাছাইপর্বের শেষ দুই ম্যাচে – পেরু ও ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে খেলে প্রত্যেকবারই শতভাগ সফল পাস প্রদান করেছেন।

এনজো পেরেজ এর সবচেয়ে বড় গুণ তাঁর একাধিক পজিশনে খেলতে পারার ক্ষমতা। সাধারণত বক্স-টু-বক্স সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা পেরেজ খেলতে পারেন রাইট মিডফিল্ডার হিসেবেও। হয়তোবা ম্যানুয়েল লানজিনির মত অতটা আক্রমণাত্মক নন, তবে লানজিনির সাথে পেরেজ এর মূল পার্থক্য হল পেরেজ একটূ পিছনে খেলতে পছন্দ করেন, নিজের বক্স থেকে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে বিরামহীন দৌড়ে দৌড়ে খেলতে পারেন, আর তাঁর “পাসিং গেইম” বা ছোট ছোট পাসে পেছন থেকে খেলা গড়ে দেওয়ার প্রবণতার কথাটা তো বললামই একটু আগে। লানজিনি সাধারণত আক্রমণভাগের ডানদিক থেকে এসে মিডফিল্ড ও স্ট্রাইকের মধ্যে যোগাযোগ ঘটাতে পারতেন বেশ ভালো। এখন সেই জায়গায় আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে খেলানোর মত বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ই রয়েছেন, যেমন – পাওলো ডিবালা, ম্যাক্সিমিলিয়ান মেজা, ক্রিস্টিয়ান পাভন প্রমুখ। তাই লানজিনি যাওয়ার পর সাম্পাওলি দলে এমন এক মিডফিল্ডারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন যে শুধু আক্রমণই নয়, বরং রক্ষণের দিকেও সমানভাবে সচেতন। এনজো পেরেজ এর খেলার আরেকটা বড় দিক, যেহেতু তিনি একজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার, সেহেতু প্রচুর পরিশ্রম করে খেলতে পারেন তিনি। প্রথাগত আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মত সেরকম কারিকুরি প্রদর্শণ করতে না পারলেও নিজের কাজটা বেশ ভালোই করতে পারেন তিনি।

আর আরেকটা বড় ভালো দিক হল, মেসি, ম্যাশচেরানো, বিলিয়া, ওটামেন্ডি, ডি মারিয়া, হিগুয়াইন ও অ্যাগুয়েরোর পর আর্জেন্টিনা দল এমন একজনকে পেল যে কিনা অনেক অভিজ্ঞ। মেজা, ডিবালা, পাভন, তাগলিয়াফিকো, আরমানি, লো সেলসোর মত তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে নিয়ে বসতে পারবেন এনজো পেরেজ! মূল একাদশে হয়তো পেরেজ এর খেলা হবেনা, কিন্তু তিনি বেশ কয়েকটা পজিশনের খেলোয়াড়দের যোগ্য বিকল্প হতে পারেন।

এক ঝলকে দেখে নিন আর্জেন্টিনার মূল স্কোয়াডটা কেমন হল!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − eleven =