লঙ্কা-বিজয় কাব্য

চোখ থেকে মুছে ফেল অশ্রু টুকু,
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই।
সব কটা জানালা, খুলে দাও না!
আমি গাইবো, গাইবো, লঙ্কা-বিজয়ের গান,
শততম টেস্টে, বাঘেদের জয়ে, আনন্দে ভরে গেছে প্রাণ!

কি খেলাটাই না দেখাল বাংলাদেশ! তরুণ সাব্বিরের ব্যাটে ঠিকরে বের হচ্ছিলো আত্মবিশ্বাস! তামিমের ব্যাটে সতর্কতা আর আগ্রাসনের কি দারুণ মিশেল! শততম টেস্টে শতক হাঁকানো যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিলো, তখনই এমন এক কাণ্ড তামিম করলেন, যার ব্যাখ্যা তিনি নিজেও দিতে পারবেন কিনা সন্দেহ! এর পর যেন জেগে উঠলো লঙ্কা। আমাদের মনের কোণে একটা আশঙ্কা যে ছিল না তাও নয়, কারণ কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা তো আর কম দেখলাম না।

কিন্তু এ যে অন্য বাংলাদেশ! সাকিবের ব্যাটে বল লেগে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেবার পরও পাথরের মতো শক্ত মানসিকতায় এক দিক আগলে রাখলেন মুশফিক। আর অন্য দিকে? এ টেস্টের সেরা আবিস্কার, তরুণ তুর্কি মোসাদ্দেক খেললেন অসীম সাহসের সাথে। হেরাথ আর পেরেরাকে চেপে বসতে না দিয়ে সামনে এগিয়ে এসে মারলেন দুটি চার। মিরাজের ব্যাটে বাংলার জয় এবং ওপাশে মুশফিকের হাসি- ইঙ্গিত দেয় এক সুখী পরিবারের।

দুই বছর আগে, এই দিনে, ভারতের কাছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে অন্যায্য ভাবে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। সেই স্রিনিবাসন এখন নির্বাসনে, তিনি যদি খেলাটা দেখে থাকেন, তাহলে হার্ট ফেল করার আশঙ্কা ছিল।

এই ম্যাচের সব থেকে বড় প্রাপ্তি? মোসাদ্দেক! শুধু মনে হচ্ছে, দেরি করে ফেললাম একে টেস্ট খেলাতে। কি পরিপক্ক মানসিকতা! তা ছাড়া সে অনেক আগে থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলছিল।

একজনের কথা না বললে এ লেখা অসমাপ্ত থাকবে। যার সেঞ্চুরিতে গড়ে উঠেছে জয়ের ভিত, যার চার উইকেট শিকারে ধসে গেছে শ্রীলঙ্কা, ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং ম্যান অব দ্য সিরিজ- সাকিব আল হাসান!
আশা করি এবারে ঘৃণা একটু কম ছড়ানো হবে তার নামে। আজ থেকে ৯ বছর আগে, দলকে খাঁদের কিনারা থেকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ বলে ৯২ রান করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন সাকিব। তাকে নিয়ে উঠা ফিসফাসের জবাব এর থেকে ভালো হতে পারতো না।
অভিনন্দন বাঘের দল!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + six =