দুঃখিত রিয়াল মাদ্রিদ, রোনালদোর বিকল্প শুধু রোনালদোই!

দুঃখিত রিয়াল মাদ্রিদ, রোনালদোর বিকল্প শুধু রোনালদোই!

কয়েকদিন আগে একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম। কয়েকদিন আগে বলতে মাস দেড়েক আগে হওয়া লিভারপুল বনাম রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের কটা দিন আগে হবে আরকি। আর্টিকেলটা ছিল লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের আগে রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, সেটা নিয়ে।

লিকুইড নাইট্রোজেন ট্রিটমেন্ট, চিন আপ করতে করতে বল ভলি করা, ভোররাত তিনটার সময় বরফ-স্নান করা – মেশিনের মত খেটে যাচ্ছেন ভক্তদের প্রিয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

স্রেফ স্তব্ধ হয়ে গেলাম আর্টিকেলটা পড়ে। কি দরকার তাঁর, এরকম জীবন-মরণ বাজী রাখার মত করে একটা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নেবার, যেখানে তিনি এর মধ্যেই চার বছরে তিনটা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ফেলেছেন? নিজে লিভারপুল সমর্থক হয়েই বলছি, ম্যাচ শুরু হবার অনেক আগে থেকেই আমি জানতাম আমার লিভারপুল রিয়াল মাদ্রিদের অন্যান্য চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের প্রতিপক্ষের মত না। আমাদের না আছে জিজি বুফন-জর্জো কিয়েল্লিনি-লিওনার্দো বোনুচ্চির জুটির মত অটুট রক্ষণভাগ, না আছে আতোয়াঁ গ্রিজম্যান-কোকে-ইয়ান ওবলাক-দিয়েগো গডিনদের মত হার না মানা একঝাঁক উদ্যমী সিংহপুরুষ। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এত খাটাখাটনি করার কি দরকার? সে না খেলে শুধু ক্রুস-মডরিচ-বেল-অ্যাসেনসিও রা খেললেও তো লিভারপুলের জেতার কথা না। সেখানে রোনালদো খেলবেন, তা আবার যেমন তেমন ভাবে খেলা না, একদম শতভাগের চেয়েও বেশী প্রস্তুতি নিয়ে!

রোনালদোকে (এবং অতি অবশ্যই মেসিকে) আলাদা করেছে এই সর্বদা জিততে চাওয়ার মানসিকতাটাই। যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, যে প্রতিপক্ষই হোক না কেন, শক্তিশালী বা খর্বশক্তির, রোনালদোর জিগীষাটা কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই সমান। সবাই পুড়বেন রোনালদো-আগুনে, সমভাবে। যে রোনালদো বার্সেলোনার বিপক্ষে শেষ মূহুর্তের সহজ একটা গোল মিস করে দলকে সমতায় আনতে ব্যর্থ হলে যেরকম নিজের উপরেই ক্ষিপ্ত হন, বিরক্তিতে ঢেকে ওঠে মুখ, সে একই রোনালদোই লাস পালমাসের সাথে ম্যাচের সত্তর মিনিটে দলের অষ্টম গোল করার সুযোগ মিস করলেও ঐ একইভাবে বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই জিগীষার কারণেই তিনি রোনালদো।

সবার চেয়ে অনন্য। প্রত্যেকটা গোলের দামই তাঁর কাছে সমান।

দশ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর একাদশ ম্যাচে পাওয়া গোলটাও যেরকম, দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করা চারটা গোলের চতুর্থটাও তাঁর কাছে একই রকম। অমূল্য। এখনো কোন ম্যাচে গোল করতে না পারলে একরকম খেপেই যান প্রচণ্ড। প্রতিনিয়ত নিজেকে সবার উপরে দেখতে চান, উন্নতি করতে চান। শিখরে অবস্থান করতে চান। মানব-উচ্চাশার সর্বোচ্চ চূড়ার সমার্থক হতে চান।

এই জিগীষার কারণেই ব্যালন ডি’অর দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির কাছে ৪-১ স্কোরে পিছিয়ে পড়লেও পরের তিন বছর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার রূপকথা কায়েম করে আরও তিনটে ব্যালন ডি’অর বগলদাবা করেছেন। মেসির সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনে একদম শূণ্যে নামিয়ে এনেছেন। দুজনের কাছেই এখন ব্যালন ডি’অর পাঁচটা করে। কে জানে, সামনের বছরে হয়তো মেসিকে ছাড়িয়েও যাবেন!

রিয়াল মাদ্রিদ তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সফল ক্লাব। এই সফল ক্লাব হবার পেছনে কিন্তু শুধু ভালো খেলা বা নিয়মিত ভালো ফলাফল করা বা ট্রফি জেতা মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেনি। এর পেছনে কাজ করেছে ধুরন্ধর ব্যবসায়িক কিছু চিন্তাধারা, মুনাফা লাভের সুতীক্ষ্ণ কিছু কলাকৌশল। সব মিলিয়েই রিয়াল আজকের রিয়াল। সব মিলিয়েই রিয়াল আজকে মাদ্রিদের সেরা ক্লাব। সব মিলিয়েই রিয়াল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাব।

এই ব্যবসায়িক দিক থেকে চিন্তা করলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বেচে দেওয়ার মাদ্রিদের এই সিদ্ধান্তটাকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হতে পারে। রোনালদো যত ভালো খেলোয়াড়ই হন না কেন, বয়স হয়ে গেছে ৩৩। বিশ্বের শতকরা ৯০ শতাংশ ফুটবলার এই বয়সে এসে হয় কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে বেশী অর্থ উপার্জন করার জন্য খেলতে যান, আর নাহয় অবসর নিয়ে ফেলেন। চীন, আমেরিকা, কাতার, সৌদি – বয়স্ক খেলোয়াড়দের “বৃদ্ধাশ্রম” বলে পরিচিত লিগের কমতি আছে নাকি বিশ্বে? সেখানে নিজেদের এই ৩৩ বছরের বুড়োর জন্য ১০৫ মিলিয়ন ইউরো পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। কয়টা ক্লাবের সৌভাগ্য হয় নিজের ক্লাবের বুড়ো খেলোয়াড়কে বেচে বিনিময়ে ১০৫ মিলিয়ন ইউরো পাওয়ার? রিয়াল মাদ্রিদের সেই ‘সৌভাগ্য’ হয়েছে। ‘সৌভাগ্য’ হয়েছে রোনালদোর বার্ধক্যেকে ১০৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে সওদা করার। আর এই সুযোগটা তারা দু’হাত ভরে নিয়েছে। তুরিনের বুড়ি হিসেবে খ্যাত জুভেন্টাস মাদ্রিদের এই বুড়োকে নিয়ে নিয়েছে, মাদ্রিদের সাথে এই সওদাবাজিটা করেছে। খালি চোখে তাই এই সওদাটাকে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য প্রচুর লাভজনক বলে মনে হতেই পারে।

কিন্তু আসলেই কি তাই?

কয়েকদিন আগেই একটা গবেষণায় বের হয়ে এসেছিল, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শারীরিক বয়স ৩৩ হলেও শারীরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে ২৩ বছর বয়সের যেকোন তরুণ ফুটবলারের চাইতে কোন অংশেই কম নন তিনি।  সাধারণ ফুটবলারদের শরীরে গড় ফ্যাট যেখানে ১১% থাকে, রোনালদোর সেখানে আছে ৭% এর মত। শরীরে চর্বিহীন পেশীর মাত্রা বাকী খেলোয়াড়দের যেখানে ৪৬% মত করে থাকে, রোনালদোর সেখানে আছে ৫০% এর মত। একটা যেকোন ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের মডেলের গায়েও চর্বি থাকে ১৩%, রোনালদোর প্রায় দ্বিগুণ! এখনো আমেরিকান বাস্কেটবলের যেকোন খেলোয়াড়দের থেকে লম্বা ঝাঁপ দিতে পারেন রোনালদো। এমনকি এই বিশ্বকাপেও সবচেয়ে দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রোনালদো, যার গতিবেগ ঘন্টায় ৩৪ কিলোমিটার! যার ফিটনেসের অবস্থা এখনো যেকোন ২৩ বছরের ফুটবলারের তুলনায় ভালো, তাঁকে কিভাবে আপনি বাকী ফুটবলারদের সাথে মেলাতে পারেন? কিভাবে আপনি ৩৩ বছর বয়সের অন্যান্য খেলোয়াড়দের সাথে মেলাতে পারেন?

ফুটবল খেলাটার অন্যান্য কিংবদন্তিদের কথাই ধরুন। রোনালদোর সাবেক গুরু জিনেদিন জিদান। ৩৩ বছর বয়সেই ফুটবলের পাট চুকিয়ে অবসরে চলে গিয়েছিলেন তিনি চিরতরে। কিংবা রোনালদিনহো। বার্সেলোনা, এসি মিলানের অধ্যায় শেষ করে ৩৩ বছর বয়সের ক্ষয়িষ্ণু রোনালদিনহো ক্যারিয়ারের সেই বালুকাবেলায় নাম লিখিয়েছিলেন অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে। রোনালদো নাজারিও ডা লিমা আর ম্যারাডোনার কথা নাহয় বাদই দিলাম। একজন চোটে পড়ে পড়ে আর আরেকজন কোকেনে নিমজ্জিত হয়ে নিজেদের শেষই করে দিলেন। কাকাও এসি মিলান ছাড়ার পর নিজের সেরা অবস্থানে আর আসতেই পারেননি কখনো। লিওনেল মেসির হিসাব আলাদা। সে প্রসঙ্গে যাচ্ছিও না। রিয়াল মাদ্রিদ কখনো মেসিকে রোনালদোর বিকল্প হিসেবে দলে পাবেও না।

জুভেন্টাসে যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন, সেদিনও সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো এই কথাটাই স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন, “সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমার বয়সের অন্যান্য খেলোয়াড়েরা কাতার বা চীনে খেলতে যায়। কিন্তু আমি এই বয়সে এসেও নিজেকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছি,” কি অকপট, অথচ কি দ্ব্যর্থহীন চিত্তের বক্তব্য! নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে কতটুকু নিঃসন্দেহ হলে এরকম কথা বলা যায়? ৩৩ বছর বয়সের কোন বুড়োর কণ্ঠে সর্বশেষ নিজের সামর্থ্যের প্রতি এমন নিঃসন্দেহ অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেখেছেন? দেখেননি, এটা আমি নিজেই দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি। কেননা এক মেসি ছাড়া রোনালদোর সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না, এখনো নেই, আদৌ থাকবেন কি না তারও ঠিক নেই।

আদৌ কেন থাকবেন না? আসুন তাহলে সেটা নিয়ে একটু প্যাঁচাল পাড়া যাক। মেসি রোনালদোর হাত থেকে বিশ্বসেরার ব্যাটনটা বুঝে নেওয়ার জন্য কে কে আছেন? তালিকার সর্বাগ্রে আসবে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের নাম। রোনালদোর বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদও এই নেইমারের কথাই ভাবছে। রিয়াল মাদ্রিদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা লিওনেল মেসির ছায়া থেকে বের হয়ে আসার প্রত্যয় নিয়ে গত মৌসুমেই পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন, যেখানে ক্লাবের সবকিছু সংঘটিত হবে তাঁকে কেন্দ্র করেই, ক্লাবের মূল তারকা হবেন তিনিই, লিওনেল মেসির মত কেউ নয়। এখন রিয়াল মাদ্রিদে যেহেতু রোনালদো নেই, সেহেতু মাদ্রিদের “মূল তারকা” হবার সুবর্ণ সুযোগ তাঁর সামনে। কিন্তু রোনালদো নামের মহীরুহকে কি আসলেই ছাপিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে নেইমারের?

জাতীয় দলে নিয়মিত গোল পান তিনি, ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে এরই মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। কিন্তু ব্রাজিলের মত বড় দলের একমাত্র চাওয়া যেখানে বিশ্বকাপ জয়, বা নিদেনপক্ষে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক কোপা আমেরিকা জয়, সেক্ষেত্রে কতটুকু সফল নেইমার? বিশ্বকাপ বা কোপা জয়ের কথা নাহয় বাদই দিন, খেলার মধ্যেও নেইমারের আচরণ ও অভিব্যক্তি দেখে কি কখনো আপনার কাছে মেসি বা রোনালদোর কথা মনে পড়েছে? সেই অদম্য জিগীষাটা কি নেইমারের চোখেমুখে দেখেছেন কখনো? এই বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ যাওয়া ব্রাজিলের নেতা হিসেবে নিজেকে কতটুকু প্রমাণ করতে পেরেছেন নেইমার? উলটো বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ নেতিবাচক কারণে শিরোনাম হয়েছেন, ডিবক্সের আশেপাশে হুটহাট পড়ে গিয়ে রেফারির অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার পেছনেই ছিল তাঁর অখণ্ড মনোযোগ, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলে ব্রাজিলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দিকে যে মনোযোগটা ছিল না। এই নেইমারের উপরে রোনালদোর অভাব পূরণের দায়িত্ব দিয়ে মাদ্রিদ কতটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে? ৯ মৌসুম খেলে প্রতি মৌসুমে গড়ে ৫০টা করে গোল করে মোট ৪৫০ গোল করে মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা গোলদাতা হয়েছেন রোনালদো, নেইমার কোন মৌসুমে ভাঙতে পেরেছেন ৫০ গোলের ব্যারিয়ার? তলায় তলায় নেইমারের বয়সও কিন্তু কম হল না! সেই ২১ বছর বয়স থেকেই কিন্তু ইউরোপে খেলে যাচ্ছেন নেইমার, এখন বয়স হয়েছে ছাব্বিশ। ওদিকে রোনালদোর কিন্তু ২৬ বছর বয়সেই একটা ব্যালন ডি’অর জেতা হয়ে গিয়েছিল, মেসির তিনটে!

নেইমারের কথা বাদ দিন। রোনালদোর বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ আর কার কার কথা ভাবছে? আলোচনায় আসছে ইডেন হ্যাজার্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, মাউরো ইকার্দি, রবার্ট লেফান্ডোফস্কির নাম। ইডেন হ্যাজার্ড চেলসি ও বেলজিয়ামের মূল তারকা, বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা বললেও অত্যুক্তি করা হবেনা। কিন্তু চেলসির হয়ে এযাবৎকাল এক মৌসুমে ১৬ গোলের বেশী না করতে পারা হ্যাজার্ড কিভাবে রোনালদোর মত পাকা গোলশিকারী হয়ে উঠতে পারবেন? ২৭ বছর বয়সেও ঠিক গোলস্কোরার হয়ে না উঠতে পারা হ্যাজার্ড আর কবে দলের নির্ভরযোগ্য গোলদাতা হয়ে উঠবেন, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। লেফান্ডোফস্কি, কেইন, ইকার্দি – সবার পরিসংখ্যান আকর্ষণীয়। ‘গোলস্কোরার’ রোনালদোকে নাহয় কোনভাবে এদের কারোর দ্বারা প্রতিস্থাপন করা গেল, কিন্তু ‘খেলোয়াড়’ রোনালদোকে কিভাবে প্রতিস্থাপন করবে মাদ্রিদ? সেই জয়ের আগ্রহ, সেই নিজেকে সদাসর্বদা সবার উপরে দেখতে চাওয়ার অদম্য মানসিকতাটা কি এদের মধ্যে কারোর আছে? গত কয়েক বছরের ব্যালন ডি’অরের সেরা তিন খেলোয়াড়ের নামের দিকে নজর বুলিয়ে দেখুন। দুটো নামই যেন ধ্রুবক রাশি, বাকীগুলো চলক রাশি – জাভি, ইনিয়েস্তা, নেইমার, নয়্যার, রিবেরি, গ্রিজম্যান, টরেস! মেসি-রোনালদোর সারিতে যে এখনকার কোন খেলোয়াড়ই নেই, এটা বোঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়া লাগে না।

দুঃখিত রিয়াল মাদ্রিদ, রোনালদোর বিকল্প শুধু রোনালদোই!

ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় মনে করি (করতাম?!) অন্তত মেসি যতদিন বার্সেলোনায় আছে, রোনালদোরও ততদিন বার্নাব্যুপাড়ায় থাকা দরকার ছিল, কিংবা ভাইস-ভার্সা! একটা কথা আছে বাংলায়, মরা হাতির দাম লাখ টাকা। মেসি-রোনালদো কারোর বয়সই সময়ের সাথে সাথে হয়ত কমবে না, কিন্তু এক পায়ের মেসি বা রোনালদো যা করে দেখাতে পারবেন, তা এ যুগের কারোরই নিয়মিতভাবে করার সামর্থ্য, মানসিকতা, স্পৃহা – কোনটাই নেই। বয়সের দোহাই দিয়ে মাদ্রিদ রোনালদোকে ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু কমবয়সী কতজনকে দিয়ে তারা রোনালদোর অভাবটা পূরণ করতে পারবে, বা আদৌ পারবে কি না – এ নিয়ে বোধকরি আমার মত আরও অনেকেরই ঘোর সংশয় কাজ করছে। শুধুমাত্র বয়সের অজুহাত দিয়ে রোনালদোর মত খেলোয়াড়কে দাম না দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া নিছক বোকামি, বোকামিরও বেশী কিছু।

টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডে এখন রোনালদো-শূণ্যতা। এই শূণ্যতা পূরণে গোটা স্কোয়াডকেই ঢেলে সাজানো লাগবে। কোন একজন খেলোয়াড় নিয়ে এসে তার উপর রোনালদো-সম দায়িত্ব দিয়ে দিলে হবে না। কারণটা সোজা, মেসি-রোনালদোর মত কোন খেলোয়াড় বিশ্বেই নেই আর। যেখানে এরকম লিগ্যাসির খেলোয়াড়ই নেই, সেখানে এদের মধ্যে একজনকে শুধুমাত্র অন্য একজন খেলোয়াড় দিয়ে প্রতিস্থাপন করে কিভাবে?

আরও পড়ুন –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − three =