রুদ্ধশ্বাস দিনশেষে

ক্রিকেট আরেকবার দেখিয়ে দিল, সাফল্য আর ব্যর্থতার ব্যবধান কখনও কখনও কতটা সূক্ষ্ম!

প্রথম ৭ ওভারে আজ ৫৩ রান দিয়েছিলেন তাসকিন। সেই তাসকিনই প্রায় নায়ক হয়ে উঠছিলেন শেষের ২ ওভারে। শেখ জামালের প্রয়োজন তখন

ক্রিকেট আরেকবার দেখিয়ে দিল, সাফল্য আর ব্যর্থতার ব্যবধান কখনও কখনও কতটা সূক্ষ্ম!

প্রথম ৭ ওভারে আজ ৫৩ রান দিয়েছিলেন তাসকিন। সেই তাসকিনই প্রায় নায়ক হয়ে উঠছিলেন শেষের ২ ওভারে। শেখ জামালের প্রয়োজন তখন ৩ ওভারে ২৫, হাতে ৬ উইকেট। সহজ সমীকরণ। ৪৮তম ওভারে ৬টি বলই ব্লক হোলে করলেন তাসকিন, দারুণ সব ইয়র্কার। ওভার থেকে এলো মাত্র ৪ রান।

আবুল হাসানের করা পরের ওভারের প্রথম বলেই দারুণ এক স্ট্রেইট শটে ছক্কা মারলেন নাজমুস সাদাত। ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত স্কুপে সাদাতের চার। ওভার থেকে এলো ১৪ রান। শেষ ওভারে চাই মাত্র ৭, হাতে সেই ৬ উইকেটই। ম্যাচ শেখ জামালের হাতের মুঠোয়।

শেষ ওভারের প্রথম বলে আবার তাসকিনের নিঁখুত ইয়র্কার। কোনো রকমে ঠেকিয়ে রান নিতে গিয়ে রান আউট শ্রীলঙ্কান অ্যাঞ্জেলো পেরেরা। পরের বলে তাসকিনের বিদ্যুৎগতির ইয়র্কার, দারুণ খেলতে থাকা নাজমুস সাদাত মনে হয় চোখেও দেখেননি। বোল্ড। পরের ৩ বলে মাত্র ২ রান। শেষ বলে চাই ৫ রান। একের পর এক দারুণ সব ইয়র্কার করতে থাকা তাসকিন একই প্রচেষ্টা করবেন স্বাভাবিক। করলেন। কিন্তু ওই যে ব্যবধান সূক্ষ্ম!

এবার ইয়র্কার দিতে গিয়ে গড়বড়। হয়ে গেল হাফ ভলি। লং অন সীমানা ছাড়িয়েও আরও কিছু দূরে আছড়ে ফেললেন মুক্তার আলি। কয়েক সেন্টিমিটার এদিক-সেদিক হলেই ঠিক ইয়র্কার হতো, তাসকিন হতে পারতেন আবাহনীর স্মরণীয় এক জয়ের নায়ক। পারলেন না ওইটুকুর জন্যই।

আবাহনীর তামিম করেছেন ৯০, নাজমুল হোসেন শান্ত ৫২*, মোসাদ্দেক হোসেন ২৯ বলে ৪৬*। তবে শেষ বলটা ঠিকঠাক করতে পারলে ওভারপ্রতি ৭ রান করে দিয়েও জয়ের নায়ক হতেন তাসকিন। তিনি পারেননি, হারের স্বাদ পেতে হয়েছে সবাইকেই। ১১০ বলে ১৩০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন মাহবুবুল করিম। কিন্তু মুক্তার শেষ বলে ছক্কা না মারতে পারলে মাহবুবুলকেওথাকতে হতো গোমড়া মুখে। মুক্তার পারলেন, তাই হাসলেন মাহবুবুল। তার ইনিংসটি এক বলের মধ্যে হয়ে গেল ম্যাচ-জয়ী সেঞ্চুরি! ক্রিকেট এমনই।

মিরপুরে যখন ঘটনার ঘনঘটা, ফতুল্লায়ও তখন জমে উঠেছে নাটক। ৪৯তম ওভারে ফরহাদ রেজাকে যখন ছক্কা মারলেন মাশরাফি, কলাবাগানের জিততে চাই ৮ বলে ১১ রান। হাতে ৪ উইকেট। সহজ ম্যাচ। শেষ ওভারে দরকার ৯ রান। কিন্তু আল আমিনের প্রথম দুটি বলেই রান নিতে পারলেন না মেহরাব জুনিয়র। ৮৬ রানে অপরাজিত ব্যাটসম্যান শেষ ওভারে দুটি ডট খেলবেন, অভাবনীয় নয়? এটাই ক্রিকেট!

প্যানিকড হলো কলাবাগান। শেষ ৩ বলে ৩টি রান আউট। ওভারে ৪ রান এলো, প্রাইম দোলেশ্বর জিতল ৪ রানে। আল আমিন ৯-০-৫৬-০, তবু নায়ক!

বিকেএসপির নাটক শেষ হয়েছে এসবের খানিক আগে। শেষ ওভারে সিসিএসের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম বলে রুবেল হোসেনকে ছক্কা মেরেছিলেন সালমান হোসেন। তবু শেষ পর্যন্ত জিতেছেন রুবেলই। পরের ৫ বলে দিয়েছেন মাত্র ৩ রান, সঙ্গে সালমানেরই উইকেট। প্রাইম ব্যাংকের ২৫৭ রান তাড়ায় লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন সম্ভাবনাময় দুই তরুণ সাইফ হাসান ও সালমান। শেষ ৬ ওভারে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে দরকার ছিল ৫০। সিসিএস হেরেছে ৫ রানে। ক্রিকেট!

মাঠে ছিলাম মিরপুরে। মুক্তারের ছক্কার পরও আমার মতে ম্যাচের সেরা মুহূর্ত আরেকটি ছক্কা, যেটি হজম করেছিলেন ওই মুক্তারই! ম্যাচের প্রথম ইনিংসের শেষ ওভারে। দারুণ এক সুইচ হিটে পয়েন্টের ওপর দিয়ে (কিংবা স্কয়ার লেগ!!!) ছক্কা মারলেন মোসাদ্দেক। গায়ের জোরে নয়, স্রেফ দুর্দান্ত টাইমিং, নিখুঁত এক্সিকিউশন। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানকে সুইচ হিট সেভাবে খেলতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। মোসাদ্দেকের এই শটের মত এত নিখুঁত ও এমন অথোরিটি নিয়ে তো নয়ই। একদম এফোর্টলেস!

সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে কী থ্রিলিং একটা দিন…! আহ…!!!

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 5 =