এবার তাহলে জিদান রাজ্যের সূচনা?

জিনেদিন জিদান – এই নামের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কোন প্রয়োজন নেই। ২০০১/০২ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদের নবম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে রেখেছেন অনন্যসাধারণ ভূমিকা। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে হয়ে গেছেন ফ্রান্সের মানুষের আদর্শ। আর রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তরা তো তাঁকে একরকম পূজাই করে আসছে। ২০০৬ সালে সব ধরনের খেলা থেকে যখন আকস্মিক অবসর গ্রহণ করেন তখন অনেকেই হতাশ হন; বিশেষভাবে রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। এখন তাদের জন্য সুসংবাদ হল গিয়ে “জিদান” নামটা তারা অদূর ভবিষ্যতে হয়ত আরও অনেকবারই দেখতে পাবেন! কিভাবে পাবেন? আসুন এবার সে কথায় আসি।

রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান
রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান

জিনেদিন জিদান খেলা থেকে অবসর নিয়েছেন ঠিক কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন থেকে তো আর অবসর নেন নি। দেখতে দেখতে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী ভেরোনিকা ফার্নান্দেজের ঘর আলো করে পৃথিবীতে এসে গেছেন চার চারটি ছেলে সন্তান। আর মজার ব্যাপার হল চারটি ছেলেই বাবার মত ফুটবলার হয়েছেন এবং চারজনই এখন রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক কোন না কোন দলে খেলছেন! সবচেয়ে বড় ছেলের নাম এনজো জিদান, এরপরই লুকা ফার্নান্দেজ জিদান, তারপর থিও ফার্নান্দেজ জিদান, আর সর্বশেষ জনের নাম এলিয়াজ জিদান। এবার আসুন দেখে নেই এই চার বালকের বর্তমান অবস্থা।

এনজো জিদান – জন্ম ফ্রান্সের বোর্দোতে; বয়স উনিশ। অনেকে বলেন তাঁর খেলার ধরন হুবহু তাঁর বাবার মতই। ইতোমধ্যে তাঁর মধ্যে অনেকেই বিশ্বসেরা হবার সব গুণাবলী দেখতে পাচ্ছেন। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব ইয়ুভেন্তাসের হয়ে। পড়ে বাবার সাথে স্পেনে পাড়ি জমান। এখন খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের রিজার্ভ দল কাস্তিয়াতে। মাঝে ২০১১ সালে তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মৌরিনহোর অধীনে ফার্স্ট টিমে অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছিলেন। খেলেন বাবার পজিশনেই, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে। দুর্দান্ত টেকনিকের সাথে আছে দারুণ ভিশন। বছরখানেক আগে বার্সেলোনা বি দলের বিপক্ষে এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের দলের খেলোয়াড়দের যে হারে নাকানি চুবানি খাইয়েছেন, এরপর তো ইউটিউবে ওই ম্যাচের ভিডিও একরকম ভাইরাল হয়ে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদও জানে এনজো কি জিনিস। আর তাই তাঁর উন্নতিকল্পে সম্ভাব্য সবই করছে মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের ভাষ্যমতে, “দেখতে ছোটখাট হলেও বলের উপর তার টেকনিক দুর্দান্ত। দুপায়ে সমানে খেলতে পারেন এবং ইয়ুথ ক্লাবের হয়ে ১০ সিজন ধরে খেলছেন”

একনজরে দেখে নিন জিনেদিন জিদানের চার ছেলেকে

লুকা ফার্নান্দেজ জিদান – নাহ ইনি বাবার মত হতে পারেন নি। চাইলেও এখন আর পারবেন না। আর পারবেনই বা কিভাবে? তিনি যে বেছে নিয়েছেন গোলকিপারের পজিশন! তাঁর আদর্শ আবার স্পেন কাম রিয়াল মাদ্রিদের এক নম্বর গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াস। জন্ম তাঁর ফ্রান্সের মার্সেইয়ে, ১৯৯৮ সালে। সেখান থেকে পরবর্তীতে স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান। ফুটবল খেলার হাতেখড়িটাও এই ক্লাব থেকেই। আর বর্তমানে খেলছেন ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে। ক্লাবের ভাষ্যমতে, “সবক্ষেত্রেই সে অসাধারণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সে এটা প্রমাণও করেছে। শারীরিক অবস্থা প্রশংসনীয়; গোলপোস্টে ক্ষিপ্রতা এবং শক্তির মধ্যে দারুণ ভারসাম্য”

থিও ফার্নান্দেজ জিদান – ইনি আবার সবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে। খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে আর হতে চান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মত ফুটবলার! মানে এই ছেলের মধ্যে গোল বানানো থেকে গোল করার মধ্যেই তীব্র আকাঙ্খা।      ইনার জন্মও মেঝো ভাইয়ের মত ফ্রান্সের মার্সেইতে; বয়স এগারো। এখনই স্বপ্ন দেখেন যে একদিন রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের হয়ে মাঠ মাতাবেন। ক্লাবের ভাষ্যমতে, “চোখধাঁধানো স্কিল এবং টেকনিক দিয়ে সর্বদাই ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর চেষ্টা করেন। ওয়ান-অন-ওয়ানে দারুণ, গতিময় এবং নিখুঁত ফিনিশার”

এবার আসুন সর্বশেষ ছেলের কথায়। নাম তাঁর এলিয়াজ জিদান। জন্ম ফ্রান্সের মার্সেইতে; আর বয়স সবে সাত! বাপ আর তিন ভাইয়ের পদচারিকা অনুসরণ করে ইনিও রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন। ইতোমধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ অনূর্ধ্ব-৯ দলের হয়ে খেলছেন এবং সবার পড়ে এসেও টেকনিক এবং স্কিলে দলের বাকি সব খেলোয়াড়কে টেক্কা দিয়ে গেছেন। এখনও কোন পজিশনে থিতু হতে পারিননি বটে, তবে খুব সম্ভবত ইনিও বাবার পদাঙ্কই অনুসরণ করবেন।

এখন কথা হল ফুটবল বিশ্ব আরও অনেক কিংবদন্তির সন্তান দেখেছে। তবে তারা কিন্তু তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি! উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বার্সা লেজেন্ড ইয়োহান ক্রুইফের ছেলে জর্ডি ক্রুইফের কথা। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একবার বলেছিলেন, 

ফুটবল খেলোয়াড় দুই প্রকার – কিংবদন্তি এবং মরণশীল। কিংবদন্তিরা আমার বাবার মত। তাঁরা আসে, খেলে এবং ইতিহাসে নাম লেখে যায়। আমি সেই বিশাল মরণশীল গোত্রের একজন ফুটবলার যারা আসি, খেলি এবং হারিয়ে যাই। আমার বাবার অর্জনগুলোর দিকে তাকিয়ে আমি কখনই চাপ অনুভব করিনি। বরং মিডিয়াই আমার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা ধরে নিয়েছিল আমি হুবহু আমার বাবার মতই প্রতিভাবান হব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমি কোনদিনই সেরকম ছিলাম না!

জিনেদিন জিদানের চার ছেলের মধ্যে প্রতিভা আছে সত্যি কিন্তু তাঁরা সকলেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠ মাতাতে পারবেন কিনা তা হয়তো এখনই নিশ্চিতভাবে বলে দেয়া যাচ্ছে না। একদিকে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণের চাপ, আরেকদিকে মিডিয়া আর ফ্যানদের চাপ। এত ভার নিয়ে শেষ পর্যন্ত যে মাটি কামড়ে টিকে থাকতে পারবেন তিনিই হবেন রিয়ালের নতুন কান্ডারি। এখন দেখাই যাক কে সেই ভার সহজে বহন করতে পারেন…বাকিটা নাহয় সময়ের হাতেই তোলা থাক!

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 − five =