রায়ান গিগস : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তীর জন্মদিনে

রায়ান গিগস : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তীর জন্মদিনে

১৯৭৩ সালের ২৯শে নভেম্বর কার্ডিফে জন্ম নেন ওয়েলশ ফুটবলার রায়ান গিগস। সম্প্রতি ৪৫তম জন্মদিন পালন করা এই ইউনাইটেড মহাতারকা তাঁর সম্পূর্ণ ক্রীড়া জীবন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেই কাটিয়েছেন। গিগস বর্তমানে ম্যানচেস্টারে দীর্ঘতম সময় ধরে খেলা ফুটবলার। ১১ নম্বর জার্সি পরিধানকারী এই ফুটবলার ১৯৮৭–২০১৪ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন এবং খেলা ছাড়ার পরেও দলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবেও ছিলেন বেশ কিছুদিন রেড ডেভিলসদের সাথে। আজ ফিরে দেখা যাক তাঁর ক্যারিয়ারটি।

গিগস ইংল্যান্ডে স্কুল পর্যায়ে খেলেছেন,খেলেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওয়েলস জাতীয় দলের হয়ে ;আন্তর্জাতিক খেলায় ওয়েলসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারও তিনি এবং পরবর্তীতে ওয়েলসের দলনেতা হিসেবেও নির্বাচিত হন। ১৭তম জন্মদিনে প্রথম পেশাদার ফুটবল খেলার চুক্তির প্রস্তাব পান তিনি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১৯৯১-১৯৯২ মৌসুমে দলের নিয়মিত একাদশে ছিলেন। ১৯৯০-১৯৯৫, এই ৫ বছরে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে থেকে রায়ান গিগস হয়ে উঠলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সবচেয়ে নামী লেফট উইঙ্গার। তাঁর প্রথম গোলটির কারণে ১৯৯১ সালে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেড জিতে গিয়েছিলো ১-০ গোলে। ১৯৯২ সালে নটিংহাম ফরেস্টকে লীগ কাপ ফাইনালে হারিয়ে রেড ডেভিল হিসেবে প্রথম কাপ জিতেছিলেন গিগস। রায়ান গিগস ও তার সমসাময়িক ইউনাইটেড একাডেমী গ্র‍্যাজুয়েট ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যারি ও ফিল নেভিল, নিকি বাট ও পল স্কোলস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলে সুযোগ পান এবং গড়ে তোলেন ক্লাস অফ ৯২ খ্যাত এক গ্রুপ যারা একসাথে লম্বা সময় ইউনাইটেডে খেলে অনেক শিরোপা জয় করেন।

আবার ফিরে আসি রায়ান গিগসের ক্যারিয়ারে। দুঃখজনকভাবেই, ইনজুরির কারণে ১৯৯৪-৯৫ সালে আশানুরূপ পারফর্মেন্স দেখাতে না পারলেও ১৯৯৫-১৯৯৬ তে ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ডাবল জেতেন এবং ১৯৯৬-৯৭ তে চারটি সিজনে ইউনাইটেডের ৩য় লীগ শিরোপা জয়ে, ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমি-ফাইনালে পৌঁছানোতে গিগসের অনেক বড় ভূমিকা ছিলো। পরবর্তী ২টি বছর ইনজুরি, সুস্থ হয়ে উঠা, ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সেমি ফাইনাল জেতা, ইন্টারকন্টিনেটাল কাপে পালমেইরাসকে ১-০ গোলে হারিয়ে “ম্যান অফ দ্য ম্যাচ” হওয়া। পরবর্তী ১৪ বছর ছিলো রায়ান গিগসের জন্য অসম্ভব ভালো ফুটবলার থেকে একজন কিংবদন্তী হিসেবে গড়ে ওঠার সময়। ২০০১-২০০৩ সময়কালে ফর্ম ও ইঞ্জুরির সাথে যুঝতে থাকা গিগস নিজেকে ফিরে পান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসের সাথে অসাধারণ দুটি গোল করে। ২০০৫ সালে পরবর্তি সময়ে রায়ান গিগস দলের প্রথম একাদশে নিয়মিত না খেললেও, রেখেছেন ইউনাইটেডের সাফল্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০০০-২০১৪ সাল সময়কালে গিগস জিতেছেন প্রিমিয়ার লীগে টেন এবং টুয়েন্টি সিজন্স এ্যাওয়ার্ড, প্রিমিয়ার লীগে প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ ও হয়েছেন। এফ.ডব্লিউ.এ ট্রিবিউট এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন এবং ২০১১ সালে জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন ফুটও। রায়ান গিগস জায়গা করে নিয়েছেন “হল অফ ফেইম”-এও। রায়ান গিগস এর সব স্বপ্নই ছিলো যেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ঘিরেই। ইউনাইটেডের হয়ে তিনি ৯৬৩ টি খেলাতে অংশ নিয়েছেন এবং ১৬৮ টি গোল করেছেন, এছাড়াও গোলে সহায়তা করেছেন ১৩১ বার যা এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২৩ বছরের সিনিয়ার ক্যারিয়ারে ৩৪টি শিরোপা জিতে প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ক্যারিয়ার গিগসের।

২০১৪ সালে ফুটবলার হিসেবে অবসর নেন। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নিলেও ইউনাইটেডের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে পারেননি। ফলে সাথেসাথেই রেড ডেভিলদের সাথে যোগ দিলেন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। ময়েস আমলের শেষে কয়েক ম্যাচের জন্য ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন। অনেকেই ভেবেছিলেন লুই ভ্যান হালের পরে তিনিই হবেন ম্যান ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যানেজার। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে এখন সেটা না হলেও ভবিষ্যতে যে সেটা হবেনা, তাঁর নিশ্চয়তা কি? বর্তমানে ওয়েলসের জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা গিগস এক সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের আসনে বসবেন, অনেক সমর্থকেরই স্বপ্ন এটা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম শুনলে প্রথম যে কয়জন ফুটবলারদের কথা মাথায় আসে, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন রায়ান গিগস। “ইউনাইটেড” – এই শব্দটির শাব্দিক অর্থেও যেনো গিগসকে পাওয়া যাবে। সবসময় থেকেছেন প্রিয় দলের সাথে। “ইউনাইটেড উই উইন”- এটি যে শুধু বলার জন্য বলা নয়, বরং আসলেই করে দেখানো, সেটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন এই মানুষটি। রায়ান গিগস, আপনাকে ধন্যবাদ।

লেখা – বিদিতা জামান

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − 3 =