রস বার্কলি : এভারটনের এই মিডফিল্ডারকেই কি দরকার ছিল চেলসির?

রস বার্কলি : এভারটনের এই মিডফিল্ডারকেই কি দরকার ছিল চেলসির?

স্টিভেন জেরার্ড, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড পরবর্তী যুগের সবচেয়ে প্রতিভাবান মিডফিল্ডার বলে মনে করা হত একসময় তাঁকে। তিনি ইংলিশ মিডফিল্ডার রস বার্কলি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের হয়ে অভিষিক্ত এই মিডফিল্ডারকে অনেকে “নতুন ওয়েইন রুনি” ও বলতেন, এর পেছনে কারণ ছিল দুইজনের শারীরিক আকারগত সাদৃশ্য, তরুণ রুনির সাথে তাঁর খেলার স্টাইলের সাদৃশ্য ইত্যাদি। রস বার্কলি কে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও চেয়েছিলেন। এতেই বোঝা যায় ইংলিশ ফুটবলে রস বার্কলি কতটা আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সেসব সময়গুলোতে। বিভিন্ন ইনজুরি ও ফর্মহীনতার কারণে গত কয়েক বছরে অন্যান্য আর দশটা সাধারণ ইংলিশ মিডফিল্ডারের মতই একরকম হারিয়েই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খুব সম্ভবত এখনো চেলসি রস বার্কলির শেষ দেখতে নারাজ। ছয় মাসের চেষ্টা শেষে তাই এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে দলে এনেছে আন্তোণিও কন্তের দল

রস বার্কলি কে চেয়েছিল টটেনহ্যামও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেলসির সাথে পেরে উঠতে পারেনি তারা। ওদিকে এভারটনের সাথে বার্কলির চুক্তিও শেষ হয়ে যাচ্ছিল। আর ছয় মাসের মত চুক্তির বাকী ছিল তাঁর। এখনই এভারটন যদি বার্কলিকে না বেচত তাহলে সামনের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়ে কোন ধরণের ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ছাড়তে হত বার্কলিকে। সেটা যাতে না হয় এজন্যই চেলসির কাছে বার্কলিকে ছেড়ে দিল তারা। গত এক বছর ধরেই বার্কলির সাথে চুক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে চেষ্টা করে যাচ্ছিল এভারটন। কিন্তু রস বার্কলি নতুন চুক্তি সই করেননি এভারটনের হয়ে। ফলে টটেনহ্যাম ও চেলসির মত ক্লাবগুলো আগ্রহী হয় তাঁর প্রতি। গ্রীষ্মকালীণ দলবদলের সময়েই ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে বার্কলিকে দলে আনতে চেয়েছিল চেলসি। সেবার পারেনি, এবার আরও ২০ মিলিয়ন পাউন্ড কমেই বার্কলিকে পেয়ে গেল তারা।

রস বার্কলি : এভারটনের এই মিডফিল্ডারকেই কি দরকার ছিল চেলসির?

গত দুই মৌসুমে মিডফিল্ড থেকে নেমানিয়া মাতিচ, জন ওবি মিকেল, রামিরেস, অস্কারদের মত মিডফিল্ডারদের ছেড়ে দেওয়া চেলসি রি রস বার্কলি কে দলে এনে কিরকম সুবিধা পাবে?

সত্যি কথা বলতে কি, বার্কলি তাঁর ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত যেভাবে খেলে গেছেন তাঁর দিকে নজর রাখলে বলা যায় চেলসির বর্তমানে মূল একাদশের কোন মিডফিল্ডারকেই বেঞ্চে বসানোর সামর্থ্য তাঁর নেই। চেলসির বর্তমানে মূল পছন্দের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হল এনগোলো কান্তে, তিমুইয়ে বাকায়োকো, সেস ফ্যাব্রিগাস। মাঝে মাঝে সুযোগ পান গত গ্রীষ্মে দলে আসা ইংলিশ মিডফিল্ডার ড্যানি ড্রিঙ্কওয়াটারও। বার্কলির মূল পজিশন ৪-২-৩-১ ফর্মেশানে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের, নাহয় আরেকটু পেছনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের। দুই ক্ষেত্রেই ভালো খেলার জন্য পাশে একজন নির্ভরশীল রক্ষণাত্মক স্টাইলের মিডফিল্ডারকে দরকার হয় বার্কলির। আবার রোনাল্ড ক্যোম্যানের অধীনে এভারটনে মাঝে মাঝে রাইট উইঙ্গার হিসেবেও খেলেছেন তিনি, যদিও তিনি প্রথাগত উইঙ্গার নন। চেলসির ৩-৪-৩ বা ৩-৫-২ ফর্মেশানে উইঙ্গার হিসেবে ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে হলে তাঁকে লড়তে হবে পেদ্রো, উইলিয়ান, ইডেন হ্যাজার্ড, জেরেমি বগা – এদের সাথে। আর গোলের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হ্যাজার্ড বা ফ্যাব্রিগাসের তুলনায় যোজন যোজন পিছিয়ে থাকার ফলে আরেকটা আক্রমণাত্মক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে মূল একাদশে ঢুকিয়ে অবশ্যই মূল দলের কম্বিনেশনটা নষ্ট করতে চাইবেন না কন্তে। তাই রস বার্কলি যে চেলসির মূল একাদশের খেলোয়াড় হবেন, এ কথাটা বলা যাচ্ছেনা। খুব সম্ভবত বেঞ্চই গরম করতে হচ্ছে তাঁকে, আর ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আজকের বাজারে রস বার্কলির মধ্যে একজন অসাধারণ মিডফিল্ড ব্যাকআপ যে চেলসি পেয়েছে, সে কথা বলাই যায়। কোচ আন্তোনিও কন্তে সবসময়েই স্কোয়াডের গভীরতা নেই বলে যে অভিযোগটা করেন, বার্কলি আসার কারণে সেটা অনেক কমে যাবে।

২৪ বছর বয়সী বার্কলি ক্যারিয়ারের এখনো বিশাল সময় বাকী আছে, কন্তের অধীণে তাই উন্নতি করার সম্ভাবনাও অপার তাঁর। তাই আগে থেকেই কিছু বলা যাচ্ছেনা। আর বার্কলি যদি নিজের প্রতিভা অনুযায়ী একেবারেই ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে না পারেন, সেক্ষেত্রে চেলসি তাঁকে বিক্রি করে দিলেও ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের থেকে অনেক বেশী দাম পাবে এই বাজারে, এ কথাও বলাই যায়। তাই ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইংলিশ লিগের একজন অভিজ্ঞ কমবয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার পাওয়াটাও চাট্টিখানি কথা নয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − 7 =