নঙ্গরহারের স্পিন জাদুকর : রশিদ খান

নঙ্গরহারের স্পিন জাদুকর : রশিদ খান

সাকিবকে দিয়ে শুরু করা যাক! সাকিব যখন কোন বিদেশী লীগে গিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তখন গর্বে আমাদের বুকেরপাটা চওড়া হয় বাংলাদেশি হিসেবে। একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার যখন অন্য দেশে গিয়ে আমাদের ক্রিকেটের নাম উজ্জ্বল করবে তখন সবার ভালো লাগবে তাই স্বাভাবিক। তেমনি আমাদের মতো আফগানদেরও এমন বুকেরপাটা চওড়া করার অনেক উপলক্ষ এনে দিয়েছে রশিদ খান। নিশ্চিত রশিদের জয়োল্লাস বা ঘূর্ণি জাদুতে অনেকবার উচ্ছ্বাসিত হয়েছে আফগানরা। বিভিন্ন লীগে গিয়ে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে সুনাম কুড়িয়েছে রাশিদ; জাতীয় দলের হয়েও বিভিন্ন সময়ে উড়িয়েছে আফগান ঝাণ্ডা।

১৯৯৮ সালের আজকের দিনে আফগানিস্তানের নঙ্গরহারে জন্মগ্রহণ করে রশিদ খান। শৈশবে জীবনের নিষ্ঠুরতা দেখে ফেলেছিল রশিদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে পালাতে হয়েছিল রশিদ খানের পরিবারকে। কয়েকবছর পাকিস্তানে থাকার পর আবার দেশে ফেরে তার পরিবার। ছোটবেলা থেকে লীগ স্পিনে হাত পাকায় রশিদ খান।

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা স্পিনারের শুরুটা কাবুল ইগলসের হয়ে আফগানিস্তানের স্থানীয় ক্রিকেটে। এরপরে খেলে বেড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন লীগ। আইপিএল, বিপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল যেখানে খেলেছে নিজের যোগ্যতা দিয়ে সফল হয়েছে রাশিদ। জয় আর সাফল্য দিয়ে ভরপুর তার ছোট্ট ক্যারিয়ার।

দেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ম্যাচে নিয়েছে ১০০ উইকেট, সবচেয়ে কম বয়সে অধিনায়ক হবার রেকর্ড, কম বয়সে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা বোলার হওয়া। সাফল্য ধরা দিয়েছে সর্বত্র। এছাড়া ২০১৭ সালের বর্ষসেরা সহযোগী ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয় সে।

শুধু বল হাতে না ফিল্ডার রশিদ খানও দুর্দান্ত; কভারে প্রায় সব দুর্দান্ত সব ক্যাচ বা বাউন্ডারি বাঁচায়। আর ব্যাট হাতে ইনিংসের শেষদিকে ছোট্ট ক্যামি ইনিংস খেলারও যোগ্যতা রাখে সে।

রশিদ খানের বয়স নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান ট্রল হয়; আমি নিজেও নানান ট্রল করেছি। তবে একজন রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণি মুগ্ধ হয়ে দেখাতে শান্তি আছে। আর সেসব অনবদ্য বোলিংয়ের প্রশংসা যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমী করতে বাধ্য।

২০ তম জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা রশিদ খান। সফলতার ঝাণ্ডা উড়িয়ে যাও স্পিন জাদু দিয়ে। শুভকামনা রইল।

::: রিফাত এমিল :::

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × five =