যে মিথ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে মিলান ধংসের মূল হোতা

::::: আফনান বিন হোসেন :::::

আপনাদের মনে অনেকেরই হয়ত এসি মিলানের ডাউনফল নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। ক্লাবের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডিশনের এই হাল কেন, কেন ভালো প্লেয়ার আমাদের ক্লাবে আসতে চায় না, সেরা প্লেয়ারদের আমরা কেন বিক্রি করি, এর পিছনে দায়ী কে প্রেসিডেন্ট সিলভিও বারলুস্কনি নাকি সিইও আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানি, ক্লাবের অবকাঠামোর এই হাল কেন, এই ডাউনফলের শুরু আসলে কবে থেকে, এর ফলে আসল লাভবান কে হচ্ছে – এইরকম হাজারো প্রশ্ন। কেউ হয়ত অস্পষ্ট ভাবে কিছু জানি বা কেউ একেবারেই না। এসবের জন্যই মূলত এই লেখা। যদিও সব কৃতিত্বই মুন্নার। ওর দেওয়া রেফারেন্স থেকেই আমার লেখা। লেখাটা অনেক বড়। আশা করি ধৈর্য নিয়ে পড়বেন।
খুব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আমরা মিলান ফ্যানরা যে কোন অ্যাবিউজ নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সেটা টাকা-পয়সার অ্যাবিউজ বলেন আর প্লেয়ার। সাধারণত অধিকাংশ ক্লাবই ফ্যানদের মতামত গুরুত্বের সাথে নেয় এবং চেষ্টা করে ওইরকম প্লেয়ার আনতে। না পারলেও খোলাখুলি মিডিয়াতে ফ্যানদের এই নিয়ে অবহেলাসূচক বেহেভিয়ার দেখায় না যেটা এসি মিলান করে। এবং যা পাইছো ওইটা নিয়াই খুশি থাক এই মনোভাবটা ওইসব ফ্যানদের প্রতি দেখানো হয় যাদের জন্য প্লেয়াররা হাউসফুল মাঠে খেলে। এবং সমর্থকগোষ্ঠীর বেশির ভাগই হচ্ছে ক্লাবের সিইও “গালি”য়ানির তৈরি করা। আমাদের প্রিয় মিলান ধ্বংসের মূল হোতা। তাকে নিয়েই এই লেখা।
galliani-adriano
মানুষ তাকে পছন্দ বা অপছন্দ যাই করুক তার কিছু কিছু কাজ তার সবচে পেশনেট সাপোর্টারও ডিফেন্ড করতে পারবেনা। যেমন মাসিমো আম্ব্রোসিনি যখন ক্যাপ্টেন ছিল তখন তার কন্ট্রাক্ট নিয়ে মিডিয়াতে খোলাখুলি বলা যে সে তার কন্ট্রাক্ট রিনিউ করবেনা। অথচ সে আমাদের মেইন ক্যাপ্টেন এবং সে নিজে তা বলেনি বা এটা প্রকাশ করার আগে গ্যালিয়ানি তার সাথে আলোচনা করে নেয় নি। অথবা ১ বছর ধরে ক্লাবে আসা রিকার্ডো মন্টিলিভো কে ক্যাপ্টেন অ্যানাউন্স করা যেখানে গোলরক্ষক ক্রিস্টিয়ান আব্বিয়াতির ক্যাপ্টেন হওয়ার কথা আগের রুল ফলো করলে। এবং এটাও ক্রিস্টিয়ান আব্বিয়াতির সাথে আলোচনা করে নেওয়া না। ইভেন মন্তিলিভো যোগ্য হলেও বা এম্ব্রসিনির ক্লাব লিভ যৌক্তিক মনে হলেও সামান্যটুকু প্রফেশনালিজম এর আশ্রয় নেয়া যেত। নিদেন পক্ষে একটা ফোন কল করে বা আগেই মিডিয়াতে এনাউন্স না করে।
সে ভালো কাজ করে নাই তা না। কিন্তু তার করা ভালো কাজগুলোও খুব কমই তাকে জাস্টিফাই করতে পারে। খুব কম লোকই ২০০৬ সালে ম্যাচ ফিক্সিং এর সময় তার রোল সম্পর্কে অবহিত আছেন। যার ফলে মিলানের ১৭ পয়েন্ট কাটা গেছিল আর জুভ রেলিগেটেড হইছিল। লোকজন জুভেন্টাসকে দোষারোপ করে ওই কারনে কিন্তু জানেনা গ্যালিয়ানির রোল লুসিয়ানো মগির (তৎকালীন জুভেন্টাস সিইও) থেকেও বেশি ছিল ওই কেলেঙ্কারিতে। যার কারনে মগি ইতালিয়ান ফুটবলে লাইফ টাইম ব্যান যেটা হওয়ার কথা গেলিয়ানির উপর। এমনকি গেলিয়ানির হাতের পুতুল লিওনার্দো মিয়ানি যাকে সে হায়ার করেছিলো এইসব কাজের জন্য তাকেও অনেক বড় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে যার জন্য মূলত গ্যালিয়ানিই দায়ী। এর কারণে ইতালিয়ান ফুটবলে গ্যালিয়ানিকে অনেক সময় বুড়ো শেয়াল বলে ডাকা হয়। কিন্তু যদি আদালতে সঠিক বিচার হত? গ্যালিয়ানি হত সবচে বড় ক্রিমিনাল যেটা সে করেছে তার জন্য। তার প্রত্যেকটা কাজ ছিল ক্রিমিনালের মত কিন্তু সে পার পেয়ে গেছে। তাই আমি তাকে ক্রিমিনালই বলব যদিও ইতালিয়ান ফুটবলে সে অন্যতম একজন পারসোনালিটি।
এই গ্যালিয়ানির জন্যই ক্লাবে আসতে চাচ্ছেন না আর মালদিনি
এই গ্যালিয়ানির জন্যই ক্লাবে আসতে চাচ্ছেন না আর মালদিনি
তার আকাম-কুকাম এর জন্য বেশি পিছনে যাওয়ার দরকার নাই বিশেষ করে বড় ধরণের কোন বাজে ঘটনা। অনেকের মনে থাকতে পারে যে ২০১৩ তে সে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের জন্য রিজাইন করছিলো(পুরাই নাটক)।কিন্তু অনেকেরই মনে না থাকতে পারে কেন সে রিজাইন করেছিল। এটা এমন না যে বারবারা বারলুস্কনি এক্সিকিউটিভ পাওয়ার হ্যান্ডঅভারের জন্য প্রেশার দিচ্ছিল। বরং বারাবারা আরও কিছু মেম্বার মিলানের অডিট ফাইলে ট্রান্সফার বিজনেসের সময় করা ভয়ানক রকমের টাকা নয়ছয় করার কিছু প্রমান পেয়েছিল যেগুলোর বেশির ভাগ ডিল জেনোয়ার সাথে। এমনকি আপনি যখন ট্রান্সফার হওয়া ট্রাঞ্জেক্টেড অর্থটা হিসাব করবেন এবং যে প্লেয়ার গুলোকে আমরা জেনোয়ায় পাচার করেছি তা মনে করবেন আপনিও প্রশ্ন উঠাতে বাধ্য। এবং কন্সিকুএন্টলি আমাদের তখনকার স্পোর্টিং ডিরেক্টর আরেইদো ব্রাইদা ক্লাব লিভ নেয় যার সরাসরি দায় পরে গ্যালিয়ানির দুর্নীতির যে এইসব এর কলকাঠি নেড়েছে। এছাড়া গ্যালিয়ানির জন্য ক্লাবের আরও কয়েকজনকে এর শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে। তার রেজিগ্নেশনের কয়েক ঘণ্টার পরেই সিলভিও বার্লুসকোনি তাকে আবার পূর্বের পদে বহাল করেছে যদিও সে কো-সিইও পদে তার ডিমোশন হয়ে গিয়েছিল।
গেলিয়ানির সাপোর্টাররা মনে করে যে গত কয়েক বছরে বারলুস্কনি আর আগের মত প্লেয়ার কেনার পিছনে আর আগ্রহী না। কিন্তু এটা বোঝার জন্য আপনাকে খুব ভালো ম্যাথম্যাটিশিয়ান হতে হবে এমন কোন কথা নেই বরং খেয়াল করলে দেখবেন যে ফান্ড এর মিসম্যানেজমেন্ট যেটা মিলানের ট্রান্সফার অ্যাবিলিটি এই সিচুয়েশনে এসে পৌঁছেছে। যে সকল প্লেয়ার তিনি ক্লাবে এনেছেন তাদের অনেকেই ছিল ফ্রি এজেন্ট। এদের মধ্যে কয়েক জনের অনেক লং কন্ট্রাক্ট ছিল এবং তাদের সেলারি ছিল অনেক হাই। এই ধরণের অস্বাভাবিক ডিলের ফলে যে ধরণের ফাইনেন্সিয়াল বাঁশ খেতে হয়েছে তার ঔষধ হিসেবেই ইব্রাহিমোভিচ, কাকা, আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোকে বিক্রি করা হয়েছে। এভাবে কন্টিনিউয়াসলি গ্যালিয়ানি সত্য গোপন করে গেছে, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে আর ক্লাব এর কন্ডিশন খারাপের চে খারাপের দিকে নিয়ে গেছে। যেমন অনেকটা ক্রেডিট কার্ড এর টাকা আপনি খরচ করলেন কিন্তু তার বিল আপনি কখনই দেননি। এবং কারো মনেই কোন সন্দেহের উদ্রেক হয়নি যতক্ষণ না খেলার মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি আর লাভের সংখ্যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যেটা তার অপরিণামদর্শী এবং বিলাসী নেচার সবার সামনে এক্সপজ করেছে। এবং তখনি সিলভিও বার্লুসকোনির টনক নড়ে যখন মিলানের প্যারেন্ট কম্পানি ফিনিনভেস্ট ৫৪৭ মিলিওন ইউরো লস খায়। যে পয়সা আজ পর্যন্ত শোধ করা হয়নি। কিন্তু যখন ইতালিয়ান অর্থনীতি মন্দায় পরে, ২০০৬ এর ফিক্সিং এর শাস্তি এসে ঘাড়ে পরে এবং অন্যান্য লীগ গুলো জমে ওঠে তখন এই উচ্চাভিলাষী ওয়েজ পলিসি(এখনও প্লেয়ারদের টোটাল সেলারি হিসাব করলে ইতালিতে মিলান ৩য়!!!! ) বিয়ার করা মিলানের জন্য অসম্ভব হয়ে পরে। ফলাফল!!!?? বারলুস্কনি ট্রান্সফার স্পেন্ডিং একেবারেই কমিয়ে দেয়। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায় যে এখনও সিলভিও গ্যালিয়ানিকে কতটুকু বিশ্বাস করে। যদি করত সে তার ওয়ালেট খুলে বলত যে আমার আগের ম্যাজিকেল টিম বানিয়ে দাও। কিন্তু তার বদলে এখন সে ক্লাবে গিয়ে স্কোয়াড উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে যেখানে সে স্টিল লসের উপরে আছে গ্যালিয়ানির কিছু ফালতু ডিলের জন্য। এটা আসলে সিলভিওর টাকা নেই এজন্য খরচ করছেনা তা নয় বরং এজন্য যে এতো বছর ধরে গ্যালিয়ানির সীমাহীন দুর্নীতি যা এতদিন পর সিলভিও বুঝতে পেরেছে।
সো পূর্বের ঘটনা গুলো দেখলে বোঝা যায় গ্যালিয়ানি বেসিরভাগ সময় বিভিন্ন ডিলের সময় খুবই চিপ ক্যারেক্টার শো করছে যেটা তাকে একজন ক্রিমিনাল প্রুফ করা আর আমাদের ক্লাবকে দীনহীন একটা ক্লাবে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও অনেকে মনে করে সে অনেক ফ্রি ট্রান্সফার করে ক্লাবের ফাইনেনশিয়াল কন্ডিশন চেঞ্জ করার অনেক চেষ্টা করেছে। শুধু উপরের প্রমাণই না, কয়েকদিন আগে এক ইন্টার্ভিউতে পাওলো মালদিনি বলেছিল যে গ্যালিয়ানি ক্লাবে অনেকটা স্বৈরতান্ত্রিক এবং সবার সাথে মিলে কাজ করতে আগ্রহী না। ক্লাবের অনেক ফ্যান ,কর্মকর্তা ইভেন অনেক প্লেয়ারের আগ্রহ সত্ত্বেও মালদিনি শুধু গ্যালিয়ানির জন্যই ক্লাবে কোন অফিশিয়াল রোল প্লে করতে চাচ্ছেনা। যদিও অনেকে মনে করেন মালদিনি কিছুটা স্বার্থপরের মত ডিসিশন নিয়েছে যদিও তাদের ধারণা একেবারেই ভুল। জুভেন্টাস এবং ইন্টার মিলান কিন্তু তাদের দুই ক্লাব লিজেন্ড কে অলরেডি ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল করেছে। আসলে বর্তমানে ক্লাবের সাবেক প্লেয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রিক্রুট করা অস্বাভাবিক কিছুনা। এই ট্রেন্ড টা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খুব কাজে দিয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র গেলিয়ানির সাথে মালদিনির পার্সোনাল প্রব্লেমটাই এই চমৎকার ডিলটার বাস্তবায়নের পথে সবচে বড় বাধা।
কিছুদিন আগে মিলানের উগ্র সমর্থকগোষ্ঠী কার্ভা সাড এক খোলা চিঠি তে গেলিয়ানির নীরবে-নিভৃতে কুকর্মের জন্য দোষারোপ করেছে এবং তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি তাকে পদত্যাগ করার জন্য আহ্বান করেছে। রিসেন্টলি তাকে আবার নিম্নমানের কিছু প্লেয়ারের উপর ইনভেস্ট করা আর ক্ল্যারেন্স সিডরফ এর সাথে খুব চিপ ট্রিটমেন্টের জন্য ক্রিটিসাইযড হতে হয়েছে। সেই সাথে ১০ মিলিওনের কন্ট্রাক্ট ফি যেটা এখনও আমরা পে করে চলেছি। এইসব ডিলের কথা যেহেতু আসলই বলি আরেকটা ডিলের কথা, আমরা এখনও জুভেন্টাসকে স্ট্রাইকার অ্যালেসসান্দ্রো মাত্রির ওই ১১ মিলিওন এখনও পে করে চলেছি যখন আবার তাকেই ওদের কাছে লোনে পাঠাচ্ছি। মিলানকে এখনও ফার্নান্দো তরেসের ৪ মিলিওন বেতন তাকে লোনে দেয়ার জন্য পে করতে হয়। এইরকম হাজারো পায়ে কুড়াল মারা ডিলের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত বাঁশ খেয়ে চলেছি। যে জন্য কারভা বলেছিল আমাদের কিছু অভারপেইড প্লেয়ারের আছে যারা ফ্রিতে আসে এবং তাদের পারফর্মেন্স আর হাই সেলারির থেকে মিলান কখনই মুক্ত হতে পারেনা।
উপসংহারে বলা যায় গেলিয়ানি তার চিপ ক্যারেক্টার এখন আর কন্ট্রোল করতে পারছেনা। জুভেন্টাসের কাছে হারের পর সে দাবি করে ম্যাচ টিভি ফুটেজ জুভেন্টাসের কন্ট্রোল করে যেটা ওইসময় অন্য কোন ক্লাবের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু জুভেন্টাস বলে যে ওইটা ছিল একটা পোস্ট-প্রোডাকশন এডিশন, জুভেন্টাসের প্রভাইড করা না। সেই সাথে টিভি ক্যামেরার এঙ্গেল ম্যাচের ফলাফলে কোন প্রভাব রাখে না। সো অভিযোগটা ভিত্তিহীন। কিন্তু মিলান গেলিয়ানির ভুলকে পাশে সরিয়ে রেখে জুভেন্টাসের রোল নিয়েই প্রশ্ন তোলে যেটা ছিল খুবই লজ্জাজনক। জুভেন্টাসের সাথে প্রচুর তিক্ত অভিজ্ঞতার পর একমাত্র ম্যাচ যেটা কোন প্রকার বিতর্ক ছাড়াই শেষ হয়। ম্যাচে ভয়ানক বাজে পারফর্মেন্স এর পর সমর্থকদের এই পরাজয় এক্সেপ্ট করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা।কিন্তু এতেও শেষ হয় নি। সে মিলানের যশ, গৌরব, খ্যাতি মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। এমনকি প্লেয়ারদের ক্লাস যেটা নিয়ে মিলান একসময় গর্ব করত যে সব প্লেয়াররা জয়-পরাজয়ে নিজের জীবন মিলানের জন্য দিয়ে দিত তাদেরকেও সে কিনে নিয়েছে। বারলুস্কনি তাকে আনার আগে যে ছিল একজন জুভ ফ্যান, এখন মাঠের খেলা ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং এখন বিশ্বজুড়ে মিলান এর ইমেজ ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লাগছে। যারা তাকে এখনও ক্লাবের হিরো বা দেবতা জাতীয় কিছু একটা ভাবে প্লিয এখনও বলি, বোকার স্বর্গে আছেন। সে যা নিজ হাতে গড়েছে, গ্রেজুয়েলি নিজ হাতেই তা শেষ করছে। তাই সেই মিলানের সবচে বড় মিথ্যাবাদী, সবচে বড় পাপিষ্ঠ, ঘর শত্রু বিভীষণ, সবচে বড় ক্রিমিনাল।যারা পুরোটা কষ্ট করে পড়লেন তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 3 =