যেখানে একমেবাদ্বিতীয়ম ইউনুস

ছক্কায় জাভেদ মিয়াঁদাদকে ছাড়ালেন ইউনুস খান। ব্যাটিংয়ে নামার সময় দরকার ছিল ১৯ রান। ১৫ রান থেকে মঈন আলিকে ছক্কা মেরে পাকিস্তান ক্রিকেটের চূড়ায়…টেস্টে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান!

ডাউন দা উইকেটে মারা ওই ছক্কা দেথে চট করে মনে পড়ল ইনজামাম-উল-হকের কথা। ৮ বছর আগেই মিয়াঁদাদে রেকর্ড নিজের করে নিতে পারতেন ইনজি। আজ ১৩ অক্টোবর, সেদিন ছিল ১২ অক্টোবর, ২০০৭। ইনজির সেটি ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট, শেষ ইনিংসে মিয়াঁদাদকে ছুঁতে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ৩ রানের মাথায় ইনজির খায়েশ হলো ছক্কা মেরে রেকর্ড গড়ার। ডাউন দা উইকেট গিয়ে উল্টো পল হ্যারিসের বলে হলেন স্টাম্পড!

ইনজির না পারার ওই ইনিংসে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন ইউনুস খান। আজ রেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন। পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড তাঁর। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। পরের ১৫ বছরে যা করেছেন, তাতে ‘গ্রেট’ তাকে বলাই যায়। যদিও বিশ্ব ক্রিকেটের মানদণ্ডে বরাবরই আন্ডাররেটেড একজন ব্যাটসম্যান।

ইউনুসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে রিমার্কেবল ব্যাপার হলো, চার ইনিংসেই প্রায় একইরকম গড়। প্রথম ইনিংসে ৫৪.৮৭, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪.৮৪, তৃতীয় ইনিংসে ৪৮.৭০, চতুর্থ ইনিংসে ৬০.৫৯। সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় থাকেন, এমন অনেক ব্যাটসম্যানেরও সব ইনিংসে প্রায় সমান দক্ষতার প্রমাণ নেই গড়ে।

চতুর্থ ইনিংসের গড়টা চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মত। শেষ ইনিংসে কমপক্ষে ৭৫০ রান করাদের মধ্যে তার গড় সর্বকালের সেরা। দারুণ একটা রেকর্ডও আছে এখানে। চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড ৫টি সেঞ্চুরি ইউনুসেরই। চারটি করে সেঞ্চুরি আছে গাভাস্কার-পন্টিং-স্মিথ-সারওয়ানের।

গত ১০ বছরে, মানে ২০০৫ সাল থেকে ইউনুসের (৬০.৭৫) চেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় কেবল কুমার সাঙ্গাকারার (৬১.২২)। বয়স ৩৫ হওয়ার পর ব্যাটিং গড় ৬৩!

এইসব রেকর্ড-পরিংখ্যানের বাইরেও ব্যাপার আছে। ইউনুস খুবই হার্ড ওয়ার্কার, ডেডিকেটেড এবং জেন্টেলম্যান, পাকিস্তানের খুব বেশি ক্রিকেটার, তথা খুব বেশি মানুষকে নিয়ে এই তিনটি কথা বলার সুযোগ নেই!

আজকে আরও দুটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছিল। ৫ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেই অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন শোয়েব মালিক, টেস্ট ক্য রিয়ারে প্রথমবার ৩ নম্বরে নেমেই। গত মে মাসে ওয়ানডে দলে ফিরেছিলেন ২ বছর পর, সেখানেও ফিরেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। আমাদের আশা হারানো অনেক ব্যাটম্যানদের জন্য মালিক হতে পারেন প্রেরণা। কিপ ফাইটিং বয়েজ!

আর মিসবাহকে আউট করে ওয়াসিম আকরামের (৪১৪) টেস্ট শিকার ছাড়িয়ে গেছেন জেমস অ্যান্ডারসন (৪১৫)। তিনি এখন টেস্ট ইতিহাসের দশম সফলতম বোলার। হিউজ অ্যাচিভমেন্ট। অভিনন্দন জিমি! হরভজন (৪১৭), পোলক (৪২১), হ্যাডলি (৪৩১) ও কপিলকে (৪৩৪) ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ওয়ালস (৫১৯) অবশ্য বহুদূরে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 5 =