যা যা জানা দরকার ব্রাজিলের নতুন কোচ তিতে সম্পর্কে

নতুন হিসেবে টিটে দায়িত্ব নিচ্ছেন এটা কনফার্ম হয়ে গেছে আর গতকালকেই বলেছিলাম এক অ্যানালাইটিকাল পোস্টের মাধ্যমে টিটের ট্যাকটিস,প্রিভিয়াস হিস্টোরি সবকিছু জানাবো আর সেজন্যই এই পোস্ট 🙂
টিটের পুরো নাম আদেনর লিওনার্দো বাচ্চি তবে ব্রাজিলের জনগণের কাছে তিনি টিটে নামেই সমধিক পরিচিত।টিটের জন্ম ১৯৬১ সালের ২৫ শে মে। খেলোয়াড় হিসেবে টিটের ক্যারিয়ার আহামরি কিছু ছিলেন না,খেলতেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনে।১৭ বছর বয়সে ক্যাক্সিয়াসের হয়ে অভিষেক হয় টিটের।কিন্তু ২৭ বছর বয়সেই হাঁটুর ইনজুরির কারণে অবসর নিতে বাধ্য হন।১৯৯০ সাল গারিবাল্ডি সিটির কোচ হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ক্যাক্সিয়াস,ভেরানোপলিস,পিরাঙ্গা,জুভেন্টিউডে ছোট ছোট স্পেলে কোচিং করান।কোচ হিসেবে টিটে প্রথম বড় কোনো সাফল্য পান ১৯৯৯ সালে ক্যাক্সিয়াসের কোচ হিসেবে। রিওর স্টেট টুর্নামেন্টে সেবার রোনালদিনহোর গ্রেমিওকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় টিটের ক্যাক্সিয়াস। এরপর ২০০১ সালে গ্রেমিওর দায়িত্ব পান তিনি।দায়িত্ব নিয়েই গ্রেমিওকে জেতান গাউচো চ্যাম্পিয়নশীপ। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে করিন্থিয়াসকে হারানোর মাধ্যমে কোপা ডো ব্রাজিল জেতার মাধ্যমে।এটি ছিল টিটের কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম ন্যাশনাল টাইটেল।তবে এরপর গ্রেমিওকে তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিতে না পারায় ২০০৩ সালে গ্রেমিওর ক্লাব কর্মকর্তারা তাকে বরখাস্ত করেন।
এরপর ২০০৩ সালে দায়িত্ব নেন সাও ক্যাটানো ক্লাবের,ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছিলো যাতে ক্লাব কোপা লিবার্তোদেসে কোয়ালিফাই করতে পারে এবং টিটে সেই অ্যাসাইনমেন্টে সফল হয়,লীগে চতুর্থ হয়ে সাও ক্যাটানো পায় কোপা লিবার্তোদেসের টিকিট। কিন্তু লিবার্তোদেসে ভালো না করায় সাও ক্যাটানো ক্লাবের কোচের পদ থেকেও সরে যেতে হয় টিটেকে :/ এতটুকু পড়ে অনেকের মনেই ধারণা হতে পারে যেই লোক মাত্র দুই বছর পরপরই চাকরী হারায় সে কি করে এত্ত ভালো কোচ হয়??আসলে যারা রেগুলার ব্রাজিলের লীগ ফলো করেন তারা এব্যাপারে ভালোই অবগত আছেন।ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর ধৈর্য্য বলতে কিচ্ছু নাই এরা আগের সিজনে লীগ চ্যাম্পিয়ন করা কোচকেও মাত্র কয়েকম্যাচ হারার কারণে বরখাস্ত করে দিতে পারে।
এরপর টিটে ছোট ছোট স্পেলে করিন্থিয়াস,অ্যাতলেতিকো মিনেইরো,পালমেইরাস ও আল আইনের দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু কোনো ক্লাবেই তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি।এরপর ২০০৮ সালে টিটে ইন্টারন্যাসিওনালের দায়িত্ব নেন কিন্তু ইন্টারন্যাসিওনাল হচ্ছে টিটের সাবেক ক্লাব গ্রেমিওর রাইভাল তাই টিটেকে কোচ হিসেবে নেওয়ায় প্রচুর সমালোচনা করতে থাকে ইন্টারের সমর্থকরা। দায়িত্ব নিয়েই ইন্টারকে জেতান কোপা সুদামেরিকানা। এছাড়াও ইন্টারকে বেশ কয়েকটি স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপ জেতান টিটে তবে ২০০৯ সালে লীগ ভালো ভাবে শুরু করলেও লীগের শেষের দিকে খেই হারিয়ে ফেলে ইন্টার তাই ইন্টার ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেন।এরপর আল ওয়াহদা নামক এক আমিরাতের ক্লাবের দায়িত্বে কিছুদিন থাকেন কিন্তু কিছুদিন পরেই তার পুরনো ক্লাব করিন্থিয়াস তাকে আবারো কোচ হিসেবে চাইলে সে করিন্থিয়াসে ফিরে আসেন।
এতক্ষণ যা বলেছি তা সবটাই ছিল টিটের আর্লি ক্যারিয়ারের কিছু স্ট্রাগল। ২০১০এ করিন্থিয়াসের কোচ হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় এক নতুন যাত্রা,এখানেই টিটে এক ট্যাকটিকাল জিনিয়াস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। টিটে যখন দায়িত্ব নেন তখন করিন্থিয়াস লীগ জয় থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলো কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর টিটের অধীনে করিন্থিয়াস লীগের শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকে আর লীগে তৃতীয় হয়ে পেয়ে যায় কোপা লিবার্তোদেসের প্রাইমারি স্টেজের টিকিট।কিন্তু কলম্বিয়ার ক্লাব মুরিলোর কাছে হেরে লিবার্তোদেসের প্রাইমারি স্টেজ থেকেই বিদায় নেয় যার জন্য সমালোচনার ঝড় উঠে যায়।এরপর করিন্থিয়াস থেকে একসাথে অনেকগুলো সিনিয়র প্লেয়ার অন্য ক্লাবে চলে যায়,লিজেন্ড রোনালদো অবসর গ্রহণ করেন। এরপর টিটে ক্লাবকে নতুনভাবে সাজানো শুরু করেন।কিছুদিন পরেই পাওলিস্তার ম্যাচে করিন্থিয়াস মুখোমুখি হয় তাদের রাইভাল পালমেইরাসের মূলত এই ম্যাচের উপর নির্ভর করছিলো টিটের চাকরী থাকবে কি থাকবে না তবে সেই ম্যাচে ১-০ তে জিতে টিটে সেযাত্রায় তার চাকরী বাঁচান তবে সান্তোসর কাছে ফাইনালে হেরে যায় করিন্থিয়াস। তবে ২০১১ তেই টিটের তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য পান,কোনো বড় তারকা ছাড়াই করিন্থিয়াসকে জেতান ব্রাজিলের সিরি এ লীগের টাইটেল।এটা ছিল টিটের ক্যারিয়ারের প্রথম লীগ টাইটেল।কোনো তারকা ছাড়া করিন্থিয়াস্কে লীগ জিতিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন টিটে। এরপর লীগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০১২ তে লিবার্তোদেস খেলতে যায় টিটের করিন্থিয়াস আর সেখানে তারা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়।ফাইনালে আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সকে হারিয়ে টিটে পান তখন পর্যন্ত নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য 🙂 আর লিবার্তোদেস জেতার ফলে করিন্থিয়াস পেয়ে যায় ক্লাব বিশ্বকাপ খেলার টিকিট ।
ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে করিন্থিয়াস মুখোমুখি হয় মিশরের ক্লাব আল আহলির,সেই ম্যাচে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে করিন্থিয়াস পেয়ে যায় ফাইনালের টিকিট যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো তখনকার ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন চেলসি।চেলসির বিপক্ষে টিটে তার দলকে সাজান ৪-৬-০ ফর্মেশনে।সবাইকে অবাক করে দিয়ে চেলসিকে ফাইনালে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে টিটের করিন্থিয়াস আর এর মাধ্যমেই টিটে হয়ে যান ব্রাজিলের বেস্ট ট্যাকটিশিয়ান ।
তবে ২০১২ সালে এত্ত সাফল্যের পরেও ২০১৩ তেই আবার চাকরী হারাতে হয় টিটেকে,টিপিকাল ব্রাজিলের ক্লাবের মতন করিন্থিয়াস টিটেকে বরখাস্ত করেন কয়েকটা ম্যাচে খারাপ করার জন্যই।এবার আর নতুন কোনো ক্লাবের দায়িত্ব তিনি নেন নি বরং প্রায় দেড়বছর টিটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কোচের কাছে গিয়ে নিজের কোচিং দক্ষতা বাড়ান।এরপর ২০১৫ তে আবার করিন্থিয়াসের দায়িত্ব পান আর এবার নতুন ট্যাকটিসে দলকে সাজিয়ে দ্রুত ফল পান,দল হয় লীগ চ্যাম্পিয়ন কিন্তু লীগ জেতার পরেই করিন্থিয়াসের অনেকগুলো কী প্লেয়ার ক্লাব ছাড়ে তবে তাতেও টিটে দমে যায় নি বরং চলতি সিজনেও তার দল রয়েছে লীগের শীর্ষে।গতকাল ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আপাতত তার ক্লাবকে বিদায় জানিয়ে অপেক্ষায় আছেন সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য
এবার আসি টিটের প্লেইং স্টাইলের ব্যাপারে,টিটের প্লেয়িং স্টাইল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুই ধাপে আলচনা করতে হবে।একটা হচ্ছে ২০১৩ এর আগপর্যন্ত প্লেয়িং স্টাইল আরেকটা ২০১৩ এর পরে তার প্লেয়িং স্টাইল।২০১৩ এর আগপর্যন্ত টিটে ছিল মূলত মরিনহো টাইপ কোচ যে তার দলকে ফুললি ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে সাজাতো এমনকি ৪-৬-০ ফর্মেশনেও দল সাজানোর নজির আছে তার কিন্তু ২০১৩ সালে প্রায় দেড়বছর ইউরোপিয়ান স্টাইল নিয়ে স্টাডি করে টিটে বুঝতে পারেন যে শুধুমাত্র ডিফেন্সিভ খেলে সবসময় সাফল্য পাওয়া যাবে না তাই সে ডিফেন্স আর অ্যাটাকে সমন্বয় আনার সিদ্ধান্ত নেন যার ফলে মরিনহো টাইপ কোচ থেকে তিনি হন আনচেলেত্তি টাইপ কোচ। এরপর থেকে তার প্রিয় ফর্মেশন ৪-১-৪-১ যেই ফর্মেশনে কজন ওয়ার্ল্ডক্লাস লিবারো থাকা ফরজ কাজ যেটা এখন আমাদের আছে।এই ফর্মেশনে টিটে তার দলের ডিফেন্ডারদের বেশী উপরে ঊঠার ব্যাপারে উৎসাহ দেন না কারণ তারমতে ডিফেন্ডারদের মূল দায়িত্ব ডিফেন্ড করা আর তারা সেটা ঠিকমত করলে অ্যাটাকাররা আরো বেশী ফ্রিডম পাবে। ৪-১-৪-১ এ দলকে পজিশন ধরে রাখতে হয় ও শর্ট পাসে খেলতে হয় আর এজন্য ডিফেন্ডারদেরও প্রচুর পাসিং করতে হয় (এই লাইন পড়ে মিরাণ্ডার ক্যারিয়ারের অবসান অনেকেই দেখতে পারেন 😛 ) উইং ধরে অ্যাটাক করার জন্য লাগে ভালো দুইজন উইঙ্গার যারা এই ফর্মেশনে থাকবে ওয়াইড মিডি হিসেবে তবে উইঙ্গারের ডিউটি এরাই প্লে করবে।সেন্ট্রাল মিডি হিসেবে দুইজন থাকবে তবে মাঝেমধ্যেই কোচ দুইজন সিএম নেওয়ার ক্ষেত্রে একজন বিটুবি আর একজন অ্যাটাকিং মিডি নেন যাতে ডিফেন্স আর অ্যাটাকে সমন্বয় আসে।স্ট্রাইকারের ব্যাপারে টিটের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নাই,ভালো ক্লাসি স্ট্রাইকার না পেলে তিনি ফলস নাইন সিস্টেমে খেলানোর ব্যাপারেই আগ্রহী যেটা আমাদের বর্তমান টিমে দরকার।আর ইউরোপিয়ান ট্যাকটিসে দীক্ষা নেওয়ার পর টিটে বুঝেছেন কোনো ধরাবাঁধা ফর্মেশনে বসে থাকা অর্থহীন তাই সবসময় যে সে দলকে ৪-১-৪-১ এ খেলাবে তা নয়,পরিস্থিতির সাথে ফর্মেশন চেঞ্জ হবে। টিটে যেটা খুব বেশী বিশ্বাস করেন সেটা হচ্ছে একঝাঁক তারকা নিয়ে একটা নন অর্গানাইজড টিমের চেয়ে কিছু এভারেজ প্লেয়ার নিয়ে একটা অর্গানাইজড টিম নিয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ আর এজন্যউ করিন্থিয়াসকে এত্ত সাফল্য এনে দিতে পেরেছেন কোনো বড় তারকা ছাড়াই।তিনি এব্যাপারে আরো বলেছিলেন,”জার্মানিতে নেইমারের মতন প্রতিভাবান কোনো প্লেয়ার নেই তাও তারা বিশ্বকাপ জিতেছে কারণ তাদের একটা অর্গানাইজড টিম ছিল।” এটা আমাদের বর্তমান দলের জন্য খুবই ভালো খবর কারণ আমাদের দলের অনেক তারকাই মাঠে কোচের কথা পুরোপুরি মানে না যেমন নেইমিকে সবসময় মাঠে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলা হলেও সে তা না করে মনের আনন্দে কার্ড গিলে সাসপেনশনে যাচ্ছে তবে এসব কাজকারবার টিটের আমলে চলবে না।ওয়ার্নিং দেওয়ার পরেও অর্ডার অমান্য করলে নেইমিকেও বেঞ্চে যেতে হবে আর এটাই দরকার।এখনকার প্লেয়ারগুলো সাপের পাঁচ পা দেখে ফেলেছে,একম্যাচ বেঞ্চে থাকলেই বুঝবে পাঁচ তারকার জার্সিতে খেলার মাহাত্ম কতটা বেশী।
এবার আসি টিটের ব্রাজিলের কোচ হওয়ার ব্যাপারে,টিটে কিন্তু সেই ২০১০ থেকেই ব্রাজিলের কোচ হওয়ার দৌড়ে ছিলেন কিন্তু প্রতিবারই সে নিজেই সিবিএফকে ফিরিয়েছে।২০১০ এ সে কোচ হতে রাজি হয় নি কারণ তার মনে হয়েছিলো সে এখনো ব্রাজিলের কোচ হওয়ার জন্য তৈরী হন নি।এরপর ২০১২ তেও সিবিএফ টিতের সাথে কথা বলেছিলো কিন্তু সেবার তারা বিগ ফিলকেই কোচ হিসেবে নেয়।সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয় ২০১৪ সালে,সেবার মিডিয়া যখন কোচ হিসেবে টিটের নাম মোটামুটি নিশ্চিত ধরে নিয়েছগে তখুনি শুনা গেলো ব্রাজিলের নতুন কোচ টিটে না নতুন কোচ হয়েছেন দুঙ্গা।পরে জানা যায় সিবিএফ টিটের শর্তে রাজি না হোয়ার কারণেই টিটে এবারো কোচ হয় নি ।এব্যাপারে টিটে সাংবাদিকদের বলেছিলেন “আমি ব্রাজিলের কোচ হয়ে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে চাই কিন্তু এই কারোপ্টেড সিবিএফ চায় আমি যাতে
তাদের দাস হিসেবে নিযুক্ত হই কিন্তু সেটা কখনোই সম্ভব নয় কারণ সেটা হলে কখনোই ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয় আর তাই এবারো আমি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি।আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেই আমি কোচ হবো অন্যাথায় না” তখন টিটের অনেক কাছের মানুষেরাই বলেছিলো যে এভাবে প্রতিবার শর্ত না মানার কারণে ফিরিয়ে দিলে তো কখনোই সে ব্রাজিলের কোচ হতে পারবে না কিন্তু টিটে কারো কথায়ি কান দেয় নি বরং কারণ সে বিশ্বাস করতো সময় ঠিকই তাকে সুযোগ করে দিবে আর এবার সময় তাকে সেই সুযোগই করে দিয়েছে।সিবিএফের কারোপ্টেড প্রেসিডেন্ট দেল নেরোর পদ ঝুঁকির মুখে আছে দুর্নীতির অভিযোগে তারউপর দুঙ্গার অধীনে ব্রাজিলের অবস্থা শোচনীয় তাই উপায় না দেখে সিবিএফ আবারো গিয়েছে টিটের কাছে কারণ জনগণের পছন্দের কোচ টিটে আর টিটে কোচ হলে পাবলিক কিছুটাই হলেও শান্ত হবে।যেই টিটে কিছুদিন আগেই দেল নেরোকে পদচ্যুত করার পিটিশনে সাইন দিয়েছিলেন সেই টিটেকে কোচ হিসেবে পাওয়ার জন্য দেল নেরো বেশ কয়েকবার ছুটে গেছে টিটের কাছে। এবার অবশ্য সিবিএফ টিটের সব শর্ত মেনেই তাকে কোচ হিসেবে নিতে রাজি হয়েছে আর এর সাথে সাথেই মিলে গেলো টিটের দুই বছর আগের কথা যখন সে বলেছিলো যে সময়ই তাকে সঠিক সুযোগ দিবে।এবার কোচ হিসেবে নিয়োগের আগেই নিশ্চিত করে নিয়েছেন পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়ার ব্যাপারটা আর সেটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই কাল অফিসিয়ালি জানিয়েছেন যে ব্রাজিলের কোচ হওয়ার জন্য সে রাজি আছে।যেটা আমাদের জন্য স্বস্তির কারণ টিম সিলেকশনে সিবিএফ যা অব্যবস্থাপনা করেছে তা দূর করার জন্য টিটের মতন একটা দৃঢ়চেতা সৎ মানুষই দরকার 🙂 টিটে আর যাই করুক অন্যায়ের সাথে আপোষ করবে না এই বিশ্বাস সব ব্রাজিলিয়ানের আছে 🙂 শুধু সাধারণ জনগণই না,ব্রাজিলের লিজেন্ডরাও চেয়েছিলেন টিটে যাতে কোচ হয়।রোনালদো,রিভালদো,রোমারিও এরা সবাই একবাক্যে ঘোষণা দিয়েছে যে টিটেই বর্তমান ব্রাজিলের সেরা ট্যাকটিশিয়ান।তাই যোগ্য লোককে কোচ হিসেবে পেয়ে আমরা ২০১৮ নিয়ে আশার আলো দেখতেই পারি 🙂
সবশেষে একটাই কথা,নতুন কোচ মানে নতুন আশা,নতুন স্বপ্ন।তবে কেউ যদি ভেবে থাকেন যে টিটে আবার সেই ৭০ এর সাম্বা ফিরিয়ে আনবে তবে সেই আশা বাদ দেন,বর্তমান যুগে সাফল্য পেতে হলে ট্যাকটিকাল ফুটবল খেলেই সাফল্য পেতে হবে।আর সাফল্য পাওয়ার আশা বাস্তবায়নের জন্য কিছু সময় টিটেরও লাগবে।প্রথম কিছু ম্যাচে আশানুরূপ পারফর্ম না করলেও যেনো আপনারা সবাই কোচের গুষ্ঠি উদ্ধার করবেন না,মনে রাখবেন বর্তমানে টিটেই হচ্ছে ব্রাজিলের সেরা কোচ,কোচ হিসেবে বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে টিটে।মিনিমাম ১ বছর সময় দেন ইনশাল্লাহ টিটে আপনাদের হতাশ করবে না 🙂
গ্রান্দে ব্রাজিল
ফোর্সা টিটে

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen + 20 =