যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : হিগুইতার পাগলামি, কলম্বিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : হিগুইতার পাগলামি, কলম্বিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

আর মাত্র ৪৭ দিন বাকী। ৪৭ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!

রেনে হিগুইতা। রজার মিয়া। দুজনই দুই ফুটবল খেলুড়ে দেশের দুই কিংবদন্তী। একজন কলম্বিয়ার, আরেকজন ক্যামেরুনের। পাগলাটে গোলকিপিং করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন রেনে হিগুইতা, এখনকার সময়ের গোলরক্ষকদের মধ্যে ম্যানুয়েল নয়্যার, এডারসন মোরায়েস, হুগো লিওরিসরা যেরকম “সুইপার কিপার” – ধারণাটার ব্যপ্তি ঘটিয়েছেন ও ঘটাচ্ছেন প্রতিনিয়ত, রেনে হিগুইতাই ছিলেন সেই “সুইপার কিপার” ধারণাটার একরকম প্রবর্তক। প্রায়ই নিজের ডি-বক্স থেকে বের হয়ে এসে আক্রমণ শুরু করতে চাইতেন নিজের দলের হলে, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে নিজেই ড্রিবল করতে চাইতেন। মাঝমাঠে চলে আসতেন হুট হাট করে, নিজের দল আক্রমণে থাকলে। বলা বাহুল্য, সে যুগে গোলরক্ষকদের এহেন কীর্তিকে মহান কিছু ভাবা হত না, এখন যেরকম গোলরক্ষকদের এহেন কার্যক্রমকে সুইপিং কিপিং বলা হয়, তখন এটাকে নিখাদ পাগলামি হিসেবেই ধরা হত। হিগুইতা নিজেও ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত পেনাল্টি কিক, ফ্রি-কিক এগুলো নিতেন। ফলে গোলরক্ষক হলেও প্রায় সময়ই তাঁর নাম গোলদাতার তালিকায় দেখা যেত। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েম্বলিতে একটা ম্যাচে তো ইংলিশ উইঙ্গার জেমি রেডন্যাপের একটা ক্রস “স্করপিওন কিক” দিয়ে ক্লিয়ার করে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন তিনি!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : হিগুইতার পাগলামি, কলম্বিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

ওদিকে রজার মিয়া ক্যামেরুন কি, বলতে গেলে আফ্রিকার ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ৩৮ বছর বয়সে ১৯৯০ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে গোল করেছেন চারটা, যে বয়সে অধিকাংশ ফুটবলারই অবসর নিয়ে থাকেন। এমনকি ৪২ বছর বয়সে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েও গোল করে সবচেয়ে বেশী বয়সী হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্বও গড়েছেন তিনি।

এই দুই কিংবদন্তী মিলে গড়েছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। গ্রুপপর্বে আগেরবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে উড়তে থাকা ক্যামেরুন শীর্ষে থেকেই গ্রুপপর্ব শেষ করে, আর ওদিকে গ্রুপগুলোতে তৃতীয় হওয়া দলগুলোদের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাওয়া কলম্বিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হয় কলম্বিয়ার। ম্যাচের ৯০ মিনিট গোলশূণ্য থাকার কারণে শুরু হয় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা। ৫২ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ক্যামেরুন স্ট্রাইকার রজার মিয়া চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ক্যামেরুনিয়ানদের স্তব্ধ করে দেন (১০৬ ও ১০৯ মিনিট)। এর মধ্যে দ্বিতীয় গোলটা নিয়েই কথা বলছি।

কলম্বিয়ার গোলরক্ষক রেনে হিগুইতা যথারীতি নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে ডিবক্সের বাইরে এসে একদম মাঝমাঠে চলে এসেছেন। সতীর্থ ডিফেন্ডারের ব্যাকপাস রিসিভ করামাত্রই দেখলেন তাঁর দিকে আগুয়ান হয়ে ছুটে আসছেন বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার রজার মিয়া। মুহূর্তের হিসাবে গরমিল হয়ে গেল হিগুইতার, ড্রিবল করে মিয়াকে কাটাতে চাইলেন, পারলেন না। মিয়ার পায়ে চলে গেল বল, বল নিয়ে ফাঁকা গোলপোস্টের দিকে ছুটতে থাকলেন রজার মিয়া। পরে ফাঁকা গোলপোস্টের দিকে বলটাকে ঠেলে দিলেন তিনি, পেছন থেকে শেষমুহূর্তে একটা স্লাইডিং ট্যাকল করেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না হিগুইতা!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : হিগুইতার পাগলামি, কলম্বিয়ার স্বপ্নভঙ্গ
মিয়াকে ঠেকায়, সাধ্য কার!

পরে ১১৫ মিনিটে কলম্বিয়ার হয়ে বার্নার্ডো রেডিনের গোলটা শুধুমাত্র ব্যবধানই কমিয়েছে। বিশ্বকাপ এর কোয়ার্টার ফাইনালে আর ওঠাতে পারেনি কলম্বিয়াকে। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় রজার মিয়ার ক্যামেরুন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − 1 =