ম্যানচেস্টার ইজ ব্লু থুক্কু রেড!

11150218_896666620394345_8202142230483308545_n
ম্যানচেস্টার ইজ ব্লু।

এক জন আরব শেখের প্রিমিয়ার লিগে ব্যবসা শুরুর পরের থেকেই বাংলাদেশের এক দল ফ্যানের মুখে লেগে থাকত এই এক উক্তি।

কিন্তু কারা এরা?

গোপন সুত্রে জানা যায়, এরা পূর্বে ছিল গাঁড় নীল (পড়ুন চেলসি) দলের সাপোর্টার, পরে এরা সবাই কনভার্ট হয়েছে হালকা নীল (পড়ুন ম্যানচেস্টার সিটি) দলের সাপোর্টার হিসেবে। ফুটবলের ‘ফ’ না জানা এই ফুটবল ফ্যান(!)রা তাদের দুনিয়ার অদ্ভুত সব লজিক নিয়ে আসতেন তাদের সুপেরিওরিটি দেখানোর জন্য। তবে গত রাতে ৪-২ এর হতাশাজনক হারের পরে আপাতত তারা সবাই দল বেঁধে মুখ লুকিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার পুরনো ভালবাসা চেলসির দোরে চলে যাবেন বলে মনস্থির করছেন, এমন কথাও শুনা যাচ্ছে।

ESPN

এনিওয়ে, ম্যাচের শুরুর দিকে রেজাল্ট যে এমন হবে তা ঘুনাক্ষরেও কেউ ভাবতে পেরেছিল বলে মনে হয় না। লিভারপুল, বার্নলি, ক্রিস্টাল প্যালেস টানা ৩টি দলের বিপক্ষে এওয়ে ম্যাচে পরাজয়ের শোক ভুলতে উদগ্রীব সিটি প্রথম ১০ মিনিট পুরোপুরি একচেটিয়া আক্রমণ করে ইউনাইটেড ডিফেন্সকে পুরোপুরি নাস্তানবুদ করে ফেলে। সিটির এই অসাধারণ শুরুর ফল পায় তারা জলদি, খেলা শুরুর ৯ মিনিটে ডেভিড সিল্ভার পাস থেকে আগুয়েরো গোল করে এগিয়ে দেন সিটিকে।

এই ডমিনেশন কিছুক্ষণ চলে, তবে ইউনাইটেড খুব তাড়াতাড়ি ম্যাচে ফিরে। ইউনাইটেডের হাই লাইনের কারণে এই ম্যাচে বেশ ক’বার সুইপার কিপারের দায়িত্ব পালন করা ডেভিড ডে গেয়ার
লং ক্লিয়ারেন্সের থেকে বল যায় আন্দার হেরেরার কাছে, এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের ক্রস থেকে গোল করে বসেন গত সিজনেই ইউনাইটেড ফ্যানবেইসের বু বয় এশলি ইয়ং।

এর পর থেকে আস্তে আস্তে ম্যাচের কন্ট্রোল নিয়ে নেয় ইউনাইটেড। যেসব সিটি ফ্যান মানতে রাজি নন, তাদের জন্য তথ্য, পুরো ম্যাচে সিটির পাস পারসেন্টেইজ ছিল ৭১%, তাদের জন্য পুরো সিজনের সবচেয়ে কম।

২৭ মিনিটে এশলি ইয়ং এবার অবতীর্ণ হন এসিস্ট মেকার হিসেবে। তাঁর ক্রস থেকে ‘গ্রুট’ ফেলাইনি সহজেই তুলনামূলক খাট গায়ল ক্লিশিকে বাতাসে হারিয়ে অসাধারণ এক হেডে গোল করেন।

সিটি কিছুটা লাকি হয়, যখন তাদের ক্যাপ্টেন ভিন্সেন্ট কোম্পানি ডেলি ব্লিন্ডের উপর লেট চ্যালেঞ্জ করেন। ইয়েলো কার্ড দেখান রেফারি, তবে এই ক্ষেত্রে লাল কার্ড দিলেও অবাক হবার কিছু ছিল না। পরে ইঞ্জুরির কারণে হাফ টাইমের পর তাঁকে উঠিয়ে মাঠে নামেন মাঙ্গালা।

ইউনাইটেডের ডমিনেশন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। সিটি কিপার জো হার্ট দ্রুত ডবল সেভ করতে বাধ্য হন, প্রথমে ওয়েইন রুনির ফ্রি-কিক থেকে, পরে মাইকেল ক্যারিকের টেপ-ইন থেকে।

শুরুর দিকে সিটি যেমন উৎসাহ ও আবেগ নিয়ে খেলেছিল, তা সময়ের সাথে সাথে পুরোই উধাও হয়ে যায়। ৬৭ মিনিটে রুনির পারফেক্ট রিভার্স পাস থেকে মাঝমাঠ থেকে রান শুরু করা হুয়ান মাতা বল রিসিভ করে, তারপর অবিশ্বাস্য দক্ষতায় হার্টের সাথে ১-অন-১ অবস্থায় নিজের কম্পোজার বজায় রেখে ইউনাইটেডের ৩য় গোল করেন। গোলটি অবশ্য মারজিনালি অফসাইড ছিল।

ESPN

সিটির জন্য দুর্দশা আরও বাড়ে যখন ইয়ং এর ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন স্মলিং। সিটির ৪০ মিলিয়ন দামের সেন্ট্রাল ব্যাক মাঙ্গালা, যার ডেবুটের পর সিটি ফ্যানরা তাঁকে নেক্সট কোম্পানি বলে আখ্যায়িত করেছিল, তিনি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন, স্মলিংকে সম্পূর্ণভাবে অন্সাইড রেখে, ফ্রি কিকের সময়।

জয় নিশ্চিত জেনে আগ্রহ হারিয়ে বসা ইউনাইটেড ২য় গোল খায়, আগুয়েরোর গোলে। এই গোলে বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা ফ্যানবেসের কাছে ‘মারসেনারির’ আখ্যা পাওয়া আগুয়েরো সিটি জার্সিতে তাঁর ১০০তম গোল করেন।

আগুয়েরোর ১০০তম গোল, সিটির জার্সিতে
আগুয়েরোর ১০০তম গোল, সিটির জার্সিতে

 

এই নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখন এখন ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৩য় স্থানে, অন্যদিকে সিটি ৬১ পয়েন্ট নিয়ে ঠিক তার পরেই। তবে এক ম্যাচ কম খেলা লিভারপুল তাদের নেক্সট ম্যাচ জিতলেই পয়েন্ট পার্থক্য হয়ে যাবে মাত্র ৪। সিটির বর্তমান ফর্মে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাইরে ছিটকে পরা কোন ব্যাপার নয়।

ম্যানচেস্টার ইস ব্লু?! আর ইউ ফাকিং কিডিং মি?

ম্যানচেস্টার রেড ছিল, থাকবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight + 8 =