মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্যের আরেক পালক!

মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্যের আরেক পালক!

সাফল্যের পথচলায় ধরা দিল আরও একটি অর্জন… এশিয়া কাপ জয়ের পর এবার বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়…

২০১৪ সালে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয় এটিই প্রথম…

প্রতিপক্ষ খুব কঠিন ছিল না। তবে কন্ডিশন ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। আয়ারল্যান্ডে গিয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই সিরিজ জয়, খুব সহজ নয়। অভিনন্দন বাংলাদেশ…

আজ ফিফটি করেছেন শামিমা সুলতানা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তিনটি ফিফটির দুটিই এখন আমাদের এই কিপার-ব্যাটারের। তার ব্যাটিংয়ের উন্নতি দেখেও অবাক হচ্ছি প্রায়ই। আলাদা করে অভিনন্দন তার জন্যও…

সিরিজ জয়ের ম্যাচ বলে অনেক কিছু আড়ালে পড়ে যেতে পারে। কিন্তু মেয়েদের অনেক কিছু শেখার আছে আজকের ম্যাচ থেকে…

রান তাড়ায় শামিমা আর ফারজানার জুটি দারুণ ছিল। খুব ভালো লাগছিল, দাপুটে ও পেশাদারী ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে ছিল দল। শেখার জায়গা পরের ধাপটুকুই। শামিমার আউট হওয়ার পর ফারজানার প্রয়োজন ছিল না বড় শটের বীরত্ব দেখানোর চেষ্টা করার। বরং সেট ব্যাটার হিসেবে উচিত ছিল শেষ করে আসা…

রুমানার শটে আমি খুবই হতাশ। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। রান রেটের চাপ ছিল না। প্রতিপক্ষের বোলিং ছিল না আহামরি। দলের সেরা ক্রিকেটার, সবচেয়ে স্মার্ট ও সেন্সিবল ক্রিকেটার হয়ে ওই সময় অযথা রিভার্স সুইপ কেন? আমি নিশ্চিত, রুমানা শিখবেন ভুল থেকে…

তেমনি নিগার সুলতানার দরকার ছিল না তেড়েফুড়ে মারার। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলা আর ফিনিশারের ভূমিকা ফাহিমার। আজ চাপের কারণেই কিনা, সোজা বল ক্রস খেলে আউট হলেন। পরিস্থিতি চাইছিল ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং…

শেষটা অবশ্য দারুণ ছিল… সানজিদা ছক্কায় দলকে জিতিয়ে ব্যাট বগলদাবা করে যেভাবে মাঠ ছাড়লেন, শরীরী ভাষায় যে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠল, তাতে মনে হলো অযথাই টেনশনে ছিলাম…

টানা তিন ম্যাচে শেষ ওভারে জয়। তিনটিতেই উইকেটে ছিলেন জাহানারা। লাকি চার্ম! তবে প্রতি ম্যাচেই এভাবে নিশ্চয়ই জাহানারাকে উইকেটে দেখতে চাইবেন না টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা…! তাদের শেষ করে আসা শিখতে হবে। সবচেয়ে জরুরী অবশ্য, এদিনও জাহানারা বোলিং ভালো করেছেন। নতুন বলে ভালো শেইপ ও আউট সুইং পেয়েছেন। কন্ট্রোল যদিও আরেকটু ভালো হওয়া প্রয়োজন…

একটা ব্যাপার ভালো লাগছে, এখন আর ২-৩ জনের ওপর নির্ভরশীল নয় দল। পারফরমার বেড়েছে, বাড়ছে…

যদিও শীর্ষ দলগুলির সঙ্গে লড়াই করতে হলেও এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সেই পথচলা শুরু হয়েছে, মেয়েরা এখন সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছে দৃঢ় পদক্ষপে, এটিও দারুণ ব্যাপার…!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 + fourteen =