মেসি রবার্তো পাওলিনিও ভার্মায়েলেন এবং লিগ জেতার পথে বার্সার আরেক ধাপ

মেসি রবার্তো পাওলিনিও ভার্মায়েলেন এবং লিগ জেতার পথে বার্সার আরেক ধাপ

স্ট্যান্ডার্ড জিনিসটা খুব অদ্ভুত। আইজকা টুইটারে দেখলাম এক মাদ্রিদিস্তা “জার্নালিস্ট” মেসিরে ক্রিটিসাইজ করতেসেঃ “হু, খুব বলে ভেস্ত এভার, কই পেনাল্টি ছাড়া তো গোল দিতে পারে না”। আরেকজন দেখলাম ম্যালা গবেষণা করতেসে যে তিন নাম্বার গোলের সময় “অসৎ” মেসি লাইনের বাইরে যাওয়া বল চোরামি (!) কইরা ভিত্রে নিয়ে আইসা অ্যাসিস্ট করসে, এই কারণে মার্সেলোরে ঘোল খাওয়ানোটা হিসাবে নেয়া যাবে না।

এইদিকে নদীর আরেক সাইডে দেখি অন্য কান্নাকাটিঃ “আমাদের বস মেসি পর্যাপ্ত সার্ভিস (কি ধরনের সার্ভিস কে জানে) পাচ্ছেন না, বস এইজন্যেই গোল না দিতে পেরে রাগে-দুক্ষে নিজেই নিজেরে নাটমেগ দিতেসেন।”

The difference between those two is quite astonishing really.

ফার্স্ট হাফে বার্সা আসলেই তেমন ভালো খেলে নাই। আর্লি কিক-অফে বার্সা কখনোই তেমন ভালো খেলে না। যেই টাইমে ভরপুর খাওয়া দিয়া সব কিঞ্চিৎ ঘুম দেয়, সেই সময়ে যদি সামনে ক্যাসেমিরোর দাত ক্যালানি আর রোনালদোর ডিগবাজি দেখা লাগে তখন মেজাজ বিগড়ায় বিবাগী হই যাইতে চাওয়াটা অস্বাভাবিক না। ফর্চুনেটলি স্টেগেন, পিকে আর রবার্তো – এই তিনজন বিবাগী হইতে চায় নাই, ফলাফলে ফার্স্ট হাফেই ২টা খাই নাই। অবশ্য ফার্স্ট হাফে ২টা দিতেও পারতো, সুতরাং সেই হিসাব করলে স্কোরলাইন ফেয়ার ছিলো।

মেসি রবার্তো পাওলিনিও ভার্মায়েলেন এবং লিগ জেতার পথে বার্সার আরেক ধাপ

এক গোল খাইলেই মাদ্রিদ টেম্পার হারাবে – এইটা জানা কথা। এই ম্যাচ না জিতলে লীগে মোটামুটি চান্স প্রায় শেষ, সেইটা ওরা জানে ভালোমতই। আর প্রেশারে মাদ্রিদ বেশ বিনুদনমূলক খেলা দেয়। সেই বিনুদনের লিস্টে আজকে যোগ হইলো কার্ভাহালের গুপন গোলকীপিং প্রতিভার ডিস্প্লে। সবচাইতে মজা লাগসে যে বেটায় দুইবার গোল ঠেকানোর চেস্টা করসে। প্রথমবার বল পোস্টে লাগসে, সেকেন্ডবার সে সফলতার সাথে গোল ঠেকাতে সক্ষম হইসে। মাদ্রিদ লিজেন্ড হওয়ার প্রথম শর্ত হইলো ক্লাসিকোতে বলদামি করে রেড খাওয়া। কার্ভাহাল যে একজন মাদ্রিদ লিজেন্ড হওয়ার পথে দুই ধাপ এগিয়ে গেলো, এইটা আমরা বলতেই পারি।

যাই হউক, সব কথার শেষ কথাঃ রবার্তো, ভার্মায়েলেন, আর পলিনহো। মেসি রে তেলায়ে লাভ নাই, বুট ছাড়াও অ্যাসিস্ট করবে/মার্সেলোরে ডিগবাজি দেয়াবে – এইগুলা আমরা এমনিতেই ধইরা নেই। কিন্তু রবার্তো আজকে প্রথমে রাইট ব্যাকে আর পরে সিএমে যেই খেলাটা দিলো, এই খেলা যদি এক বিশেষ ওভাররেটেড ফ্রেঞ্চম্যান দিতো তাইলেই ম্যাঞ্চেস্টারের (ম্রা খেয়ে) লাল এলাকা থেকে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হইতো। আবার এই খেলা ভেরাত্তি দিলে এই এলাকাতেই “হায় ভেরাত্তি হায় কুতিনহো”, অথবা যদি মড্রিচ/ক্রুস এইভাবে খেলতো তাহলে ‘রাকিটিচ আউট ক্রুস ইন” টাইপ কল্পনাও অনেকে করতো। বেচারা রবার্তো সেইরকম সুপারস্টার কেউ না, নামকরা এজেন্টও নাই, এই কারণেই ডিবক্সের চিপায় ওরে ৩ জন মার্ক করার পরেও আস্তে কইরা বল বাইর কইরা থ্রু দিয়া কাউন্টার ইনিশিয়েট করলে, কিংবা ফার্স্ট টাচে অপজিট এন্ডে পিনপয়েন্ট গ্রাউন্ড ক্রস দিলেও কোন উচ্চবাচ্য হয় না, যদিও এইগুলা নিয়ে ব্যাপক চিল্লাফাল্লা করা উচিৎ।

ভার্মায়েলেনরে নিয়ে মজা নেয় নাই – এমন বার্সা ফ্যান দুনিয়ায় আছে বইলা মনে হয় না। উমতিতি না থাকলেও ভার্মায়েলেন যেই খেলা দিসে – এক্সেপশনাল। ফার্স্ট হাফে কিছু ভুল করলেও সেকেন্ড হাফে রক-সলিড। আমি চাইবো সে এই সিজন থাকুক। He has earned it.

এবং সবার শেষে, আমাদের সকল ব্যান্টারের “ব” যারে দিয়ে শুরু হয়ঃ সেই সেভেনাপ-খাওয়া পলিনহো আজকে আরো একবার #হেটারদের মুখে ছাই দিলো। মাদ্রিদ আসলেই জানে না পলিনহোরে ক্যামনে হ্যান্ডেল করতে হয়, যেই কারণে ফার্স্ট হাফে দুইটা ভালো চান্সের দুইটাই পলিনহোর থেকে আসছে। ওরে কেউ মার্কই করে না, কারণ ওগো মনেই থাকে না এইরকম কেউ বার্সা দলে খেলে। বিষয়টা খ্রাপ না।

৯ পয়েন্টের গ্যাপ নিয়ে লীগের টপে, আর ১৪ পয়েন্টের গ্যাপ নিয়ে মাদ্রিদের থেকে আগায়ে, এবং সিজনের বিগ সাইনিং এখনো খেলা শুরুই করে নাই। ভালভার্দের ক্রেডিট এইখানে সবথেকে বেশি – এই বিষয়ে সন্দেহ নাই। সো-কল্ড “বেস্ট মিডফিল্ড” মাদ্রিদের মিড লাস্টের ২০ মিনিট বলই পায় নাই তেমন। তারপরেও বার্সার মিডফিল্ড নিয়ে আমরা কেউই সন্তুষ্ট না, অনেকেই মনে করি যে “সিটির সাথে খেলা পড়লেই আমরা শ্যাষ” – যেইটা একটা ব্যাপক হাস্যকর জিনিস। সিটি যতই ভালো খেলুক, বার্সার সাথে খেলতে আসলে তারা আন্ডারডগই থাকবে।

কারণ?

কারণ আর কিছুই নাঃ স্ট্যান্ডার্ড। বার্সার মিড এখনো মাদ্রিদের মিড ডমিনেট করতে পারবে, কিন্তু আমাদের মন ভরবে না, কারণ “আগে তো আরো ভালো খেলতাম”। সিটির সাথে খেলা পড়লে মেসি স্টোন্সরে ডিগবাজি দেয়ানোর সমূহ সম্ভাবনা। তারপরেও জনতা বলবেঃ “কিন্তু সিটি মিডে বল বেশি রাখসে”। লীগে কারেন্ট চ্যাম্প থেইকা ১৪ পয়েন্ট আগায়ে থাইকাও মন ভরে না, কারনঃ “আরো ৬ পয়েন্ট আগায়ে থাকতে পারতাম।”

এবং এই স্ট্যান্ডার্ডের কারণেই আরেকটা ট্রেবল জিতলেও অনেকের মন ভরবে না। Because nothing is good enough anymore, nothing can be as good as the old days anymore. For they are the good ol’ days, and nostalgia is eternal.

#ViscaElBarca

পুনশ্চ-১ঃ ইনিয়েস্তা ফিট থাকলে মড্রিচ/ক্রুসরে আব্বা ডাকায়ে ছাড়ার ক্ষমতা রাখে এই বুইড়া বয়সেও। এইরকম প্লেয়াররে রিপ্লেস করা সম্ভব না, কখনোই না।

পুনশ্চ-২ঃ বুস্কেটস আজকে ক্রুসরে নিয়ে যেই ছিনিমিনি খেললো, ক্রুস গিয়া মানহানির মামলা করলেও অবাক হবো না।

পুনশ্চ-৩ঃ সুয়ারেজ আস্তে আস্তে লাইনে আসতেছে। আর কয়েকদিন গাইল দিলেই আশা করি পুরা লাইনে আইসা পড়বে।

 

কাজী  মাহবুব মুতাকাব্বির

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × one =