আমি, লিও মেসি, কি পারব বিশ্বকাপ জিততে?

আমি, লিও মেসি, কি পারব বিশ্বকাপ জিততে?

… দেখতে দেখতে জীবনের একত্রিশটা বসন্ত কাটিয়ে দিলাম! এই জন্মদিনটা হওয়ার কথা ছিল উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ভরপুর; না তা হলো না। আমার খুব মন খারাপ, আমি শংকিত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে। যদিও আমাদের এখনো সুযোগ থাকছে; নাইজেরিয়াকে হারাতে হবে। বিশ্বকাপ শুরু করেছি হতাশ হয়ে, পরের ম্যাচে ডুবেছি লজ্জার মহাসাগরে! আর একটা সুযোগ! জানিনা ভাগ্যে কী লেখা আছে! জানিনা বিধাতা ঠিক চায়! কী হবে আমার আর আমার আর্জেন্টিনার সাথে?

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে পরে আসি; হঠাৎ শৈশবে ফিরতে ইচ্ছে করতেছে ওল্ড ইজ গোল্ড বলে একটা কথা আছে তো! না আমার শৈশবটা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো ছিলনা; ছিলনা প্রাচুর্য আর আনন্দে ভরপুর! রোজারিওতে জন্ম নিয়েছি এক ইস্পাতের কারখানার শ্রমিক পিতা আর সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মী মায়ের কোলে! কথায় আছে জন্ম হোক যথাতথা; কর্ম হোক ভালো! আমায় দিয়ে সম্ভবত তাই হবে এমনটাই বিধাতার চাওয়া। চারদিকে দুঃখকষ্টে জর্জরিত আমি। তবে ফুটবল পেলে সব ভুলে যেতাম। ভালোই খেলতাম। গ্রান্দোলির কোচ ছিলেন বাবা, সেথায় ফুটবলের হাতেখড়ি। নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে যোগ দিলাম; দেখিয়ে দিলাম প্রতিভা। অনন্য, দুর্দান্ত ফুটবল খেলা যাকে বলে আরকি!

সুখ বেশিদিন সইল না! হঠাৎ গ্রোথ হরমোনজনিত এক রোগ ধরা পড়ে; আমি নাকি আর লম্বা হব না! চিকিৎসার জন্য লাগবে অনেক টাকা। এতো টাকা দেবে কে? সুদূর স্পেনের বার্সেলোনা থেকে কার্লেস রেক্সাস এসে চুক্তিতে সব ব্যয়ভার বহন করল। হাতের কাছে কাগজ না থাকায় টিস্যুতে চুক্তি হয়েছিল। ভাবা যায়?

এরপরে পরিবার ছেড়ে লা মাসিয়ায় আসা! ক্ষুদ্রাকার দেখে কোচরা ডিফেন্ডারদের মানা করেছিল আমায় কড়া ট্যাকল না করতে। সেই আমি কয়েক বছর পর পৃথিবীর সেরা সব ডিফেন্ডারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিলাম আমার পায়ের জাদুতে!

বার্সা ক্যারিয়ার বা ক্লাবের হয়ে অর্জন বলে শেষ করা যাবেনা! প্রায় সব রেকর্ডস লুটোপুটি খাচ্ছে পায়ে! এমন কিছু কী বাকী আছে যা আমি অর্জন করতে পারেনি বার্সার জার্সিতে? খুব সম্ভবত উত্তর না!

স্পেনের নাগরিকত্ব পেলাম। চাইলে স্পেনের হয়েও খেলতে পারতাম। কিন্তু জন্মভূমি আর্জেন্টিনার মায়া ত্যাগ করতে পারিনি! তাই বেছে নিলাম প্রিয় আকাশী সাদাদের!

জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের ভাণ্ডারে ষাটের অধিক গোল! অনূর্ধ্ব২০ বিশ্বকাপ আর বেইজিং অলিম্পিকে গোল্ড জেতা ছাড়া আর কোন অর্জন নেই! নেই কোন বৈশ্বিক শিরোপা। দুটা কোপা আমেরিকার ফাইনাল আর ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে যাওয়া সাফল্য বলা যেতে পারে।

এইতো সেদিন চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকার মিস করে রাগে, ক্ষোভে অবসর নিলাম। তবে ফিরে আসলাম আবার সমর্থকদের জন্য! আর যদি এবারের বিশ্বকাপ জেতা যায়!

কিন্তু আসলে জিততে পারব বিশ্বকাপ? বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করতেই রীতিমতো হিমশিম খেলাম আমরা। বাদ পরে যেতাম যদিও শেষ ম্যাচ হ্যাট্ট্রিক করে দলকে নিয়ে আসি বিশ্বকাপের মঞ্চে।

তবে আজ বয়স একত্রিশ হয়ে গেলো। এটা সম্ভবত আমার শেষ বিশ্বকাপ! আরেকটা খেলা হবে কিনা জানিনা। তবে এবার সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সব জিতে ফেলেছি! অনেক নিন্দুক গায়ে ‘ক্লাব লিজেন্ড’ তকমা আঁটায়! আমি তা ছুড়ে ফেলতে চাই চিরদিনের মতো! সবচেয়ে বড় কথা আমি দেশের হয়ে একটা বিশ্বকাপ জিততে চাই! অমর হয়ে যেতে চাই ফুটবল ইতিহাসে। পেলে, ম্যারাডোনার পরেই যেন লোকজন আমার নাম নেয়! সম্ভব হলে এঁদেরও আগে!

আমি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি কী পারব বিশ্বকাপে টিকে থাকতে? পারব গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে দলকে আরেকটু দূরে নিয়ে যেতে? জানিনা! এই প্রশ্নের জবাব দেবে সময়। তবে আমি শেষ সুযোগটা হেলায় নষ্ট করছি না; লড়াই হবে শেষঅবধি তা বলে দিতেই পারি!…”

*পাদটীকা : লিখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এমন কোন লিখা বা সাক্ষাৎকার মেসি কখনো দেয়নি। একত্রিশতম জন্মদিনে একজন মেসির হয়ে তার ভাবনাটা আমি, রিফাত এমিল, নিজেই লিখলাম!

শুভ জন্মদিন লিও মেসি; শুভেচ্ছা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − twelve =