মেসি-ডিবালার না থাকা নয়, আর্জেন্টিনার সমস্যা আরও গভীরে

মেসি-ডিবালার না থাকা নয়, আর্জেন্টিনার সমস্যা আরও গভীরে

ইটালির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে যা একটু আশার সঞ্চার হয়েছিল বিশ্বকাপ নিয়ে, স্পেইনের কাছে ৬-১ গোলে উড়ে যাওয়ার পর সেই আশাটুকু আবারও কর্পূরের মত উবে গেছে। নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে পরাজয়ের পর (চেকোস্লোভাকিয়া আর বলিভিয়ার কাছেও এর আগে একই ব্যবধানে হেরেছিল আর্জেন্টাইনরা) আবারও নতুন করে হিসাব মেলাতে বসেছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি – সমস্যাটা হল কোথায়! দুই ম্যাচের একটাতেও খেলেননি সুপারস্টার লিওনেল মেসি।

মেসি না থাকার ফলে দুনিয়াজোড়া আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে একটা রেডিমেড অজুহাত আগে থেকেই আছে, যে মেসি খেলেননি! তার সাথে আবার যুক্ত হয়েছে জুভেন্টাসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/স্ট্রাইকার পাওলো ডিবালার না থাকাটাও। অনেকেই বলছেন মেসি থাকলে কাল স্পেইনের কাছে এমন নাকানিচুবানি খেতে হত না তাদের, আবার অনেকের মতে মেসি সাথে পাওলো ডিবালা থাকলেও ম্যাচের ফলটা হত অন্যরকম। কিন্তু আসলেই কি মেসি-ডিবালার না খেলার জন্যই আর্জেন্টিনা এভাবে হেরেছে? এরকম ভেবে থাকলে আপনি ভুল ভাবছেন। আর্জেন্টিনার সমস্যাটা আসলে আরও গভীরে।

মেসি-ডিবালার না থাকা নয়, আর্জেন্টিনার সমস্যা আরও গভীরে
ইটালি-স্পেইন ম্যাচে খেলেননি মেসি

রাশিয়া বিশ্বকাপ যেসব দলের জিতার সম্ভাবনা আছে, তার একটা তালিকা করলে আপনি কোন কোন দলের নাম রাখবেন? জার্মানি, স্পেইন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা – তাইতো? অতি আশাবাদীরা স্কোয়াড দেখে বেলজিয়াম বা ফ্রান্সের নামও বলে বসতে পারেন। হিসেব করে দেখুন, সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী এসব স্কোয়াডের আর্জেন্টিনা ছাড়া প্রত্যেকটারই মূল একাদশ মোটামুটি নিশ্চিত। এসব দলের কোচগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি ছাড়া মোটামুটি সব কোচই জানেন বিশ্বকাপে তাঁর দলের মূল একাদশ কোনটা হবে। ব্রাজিলের কোচ তিতের কথাই ধরুন, ভদ্রলোক আরও এক মাস আগে ঘোষণা করে দিয়েছেন তাঁর মূল একাদশে কারা কারা থাকবেন! শুধুমাত্র আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলিই এখনো জানেন না, তাঁর মূল একাদশে কে কে থাকবে, কোন ফর্মেশানে খেলবে তাঁর দল, কোন স্টাইলেই বা খেলবে আর্জেন্টিনা – রক্ষণাত্মক না আক্রমণাত্মক! গত বছরের শেষদিকে এসে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পাওয়া সাম্পাওলি এখনো বুঝতে পারছেন না বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম খেলোয়াড় লিওনেল মেসি এর উপযোগিতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে, আর্জেন্টিনার জন্য এরকম উপযোগী স্টাইল কোনটা! ফলে যা হবার সেটাই হচ্ছে, বিশ্বকাপ শুরু আর মাত্র মাস দুয়েকের মত বাকী থাকলেও সাম্পাওলি তাঁর মূল একাদশ কি হবে সেটা জানার জন্য ম্যাচের পর ম্যাচ নিরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছেন!

সাম্পাওলির স্টাইল সবসময়েই হাই-প্রেসিং। মাঠের উপরের দিকেই প্রতিপক্ষকে প্রেস করে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল আদায় করে আক্রমণে যাওয়াটা সাম্পাওলির স্টাইলের এক্স-ফ্যাক্টর। দুজন সেন্টারব্যাক তাদের মধ্যে সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে নিয়ে হাই-লাইন ডিফেন্সে দাঁড়িয়ে থাকবে, দুই ফুলব্যাকের ভূমিকা মূলত উইংব্যাকের হবে যাদের অন্যতম কাজ হবে সময়-সময় দুই উইং দিয়ে আক্রমণে উঠে যাওয়া। বল হারানো মাত্রই প্রতিপক্ষকে প্রেস করে বল কেড়ে নিয়ে তড়িৎগতিতে আক্রমণে যাওয়া। বল পাসিং হবে একদম নিখুঁত, এবং দ্রুতগতির। কিংবদন্তী আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসার যোগ্য উত্তরসূরি সাম্পাওলি নিজের স্টাইলটাকেও গুরুর মতই অতি-আক্রমণনির্ভর করেই গড়ে তুলেছেন সবসময়। এবং নিজের দলের মূল একাদশে তিনজন ডিফেন্ডার নিয়েই খেলতে পছন্দ করেন সাম্পাওলি।

তিনজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের ৩-৪-৩ বা ৩-৪-২-১ ফর্মেশানে খেলাতে হলে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় দুই উইংব্যাককে (চারজনের ডিফেন্সে যারা ফুলব্যাক থাকেন আরকি)। আর্জেন্টিনার এই পজিশনে খেলোয়াড় বছরের পর বছর ধরে কেউ নেই। সাম্পাওলির খেলোয়াড় নির্বাচন দেখে মনে হচ্ছে দুই উইংব্যাক ভূমিকায় ডানদিকে দেখা যেতে পারে আর্জেন্টাইন ক্লাব ইন্দিপেন্দিয়েন্তের রাইটব্যাক ফ্যাব্রিসিও বুস্তোস ও সেভিয়ার গ্যাব্রিয়েল মের্কাদোর মধ্যে যেকোন একজনকে ; আর বামদিকে দেখা যেতে পারে আয়াক্সের নিকোলাস তাগ্লিয়াফিকো কিংবা স্পোর্টিং লিসবনের মার্কোস অ্যাকুনিয়ার মধ্যে যেকোন একজনকে। তিন ডিফেন্ডারের এই ফর্মেশানে দুই উইংব্যাককে ম্যাচের নব্বই মিনিট একাধারে আক্রমণ ও রক্ষণ করে যেতে হয়, মেশিনের মত ওঠানামা করতে হয়। ইটালি ও স্পেইনের বিপক্ষে খেলা দুই ফুলব্যাক/উইংব্যাক বুস্তোস ও তাগ্লিয়াফিকোর খেলা দেখে মোটামুটি আশাবাদী হওয়া গেলেও তারা বিশ্বকাপের মত চাপের জায়গায় একইসাথে ওঠানামা করে রক্ষণ ও আক্রমণভাগ সামলাতে পারবেন কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই দুই উইংব্যাকের খেলা দেখে সন্তুষ্ট হলেও – বুস্তোসের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে তাঁর অতি-আক্রমণাত্মক মনোভাব আর সঠিক সময়ে বিপদ আঁচ করতে না পেরে নিচে নেমে রক্ষণ না করতে পারার ব্যর্থতা। সেক্ষেত্রে সাম্পাওলি সুযোগ দিতে পারেন সেভিয়ার গ্যাব্রিয়েল মের্কাদোকে, যিনি এমনিতেই সাম্পাওলির অধীনে সেভিয়ায় খেলেছেন, সাম্পাওলির স্টাইল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু তিনি সেন্টারব্যাকেও খেলতে পারেন, ফলে তাঁর আক্রমণে যাওয়ার আগ্রহ বুস্তোসের মত নেই। ওদিকে বামে নিকোলাস তাগ্লিয়াফিকোও নিজেকে ভালো একটা লেফট উইংব্যাক/লেফটব্যাক হিসেবে প্রমাণ করেছেন এই দুই ম্যাচে, কিন্তু স্পেইনের সাথে ম্যাচ প্রমাণ করেছে তিনিও বুস্তোসের মতই বিপদ আঁচ করতে পেরে সময়মত নিচে নামতে অপারগ, সাম্পাওলির সিস্টেম হজম করতে তাঁরও সময় লাগবে।

হ্যাভিয়ের মাশচেরানোর অফ ফর্মের কারণে ও বয়স বেড়ে যাওয়ার ফলে আর্জেন্টিনার প্রথাগত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আর নেই। প্রতিপক্ষের কাউন্টারে মাশচেরানো আর আগের মত চীনের প্রাচীর হয়ে ডিফেন্স আগলে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন না। তাঁর পরিবর্ত হিসেবে দলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে নিয়মিত খেলা লুকাস বিলিয়ার খেলা প্রচণ্ডরকমের শ্লথ। সিরি আ এর মত রক্ষণাত্মক শ্লথগতির লিগে একজন কার্যকরী ডিফেন্সিভ মিড হিসেবে বছরের পর বছর খেলে গেলেও সাম্পাওলির এই ট্যাকটিকসের সাথে বিলিয়া একদমই বেমানান। ফলে মিডফিল্ড আর ডিফেন্সের মধ্যে বিশাল ফাঁকটা প্রতিপক্ষরা কাউন্টারে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারে আর গোল দেয়। স্পেইন যা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আর হাই প্রেসিং খেলায় প্রতিপক্ষের আক্রমণের সময় তাড়াতাড়ি নিচে নেমে দলকে বিপদমুক্ত করতে পারে এমন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারও নেই আর্জেন্টিনার। মার্কোস রোহো’র খেলা দেখলে এখন ২০১৪ এর রোহো কে দূর আকাশের তারা বলে মনে হয়, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবস্টিটিউট খেলোয়াড়দের তালিকায়ও জায়গা পান না কখনো কখনো। অন্যান্য সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের মধ্যে এখন শুধুমাত্র নিকোলাস ওটামেন্ডিই যা একটু ফর্মে আছেন, আর কেউ নেই। সাম্পাওলির খেলার অন্যতম প্রধান একটা অঙ্গ হল সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা নিচ থেকে বল বের করে নিয়ে এসে পাসিং গেইম এর মাধ্যমে বল আস্তে আস্তে আক্রমণভাগে পাঠাবে। দুর্ভাগ্যবশত এই কাজ সুষ্ঠুভাবে করার মত ডিফেন্ডার এক ওটামেন্ডি ছাড়া আর কেউ নেই সাম্পাওলির হাতে – অন্তত এই দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে যা মনে হয়েছে।

স্পেইনের সাথে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলেছিলেন মিডফিল্ড ত্রয়ী লুকাস বিলিয়া, জাভিয়ের ম্যাশচেরানো আর এভার বানেগা ; মোটামুটি আর্জেন্টিনার বর্তমান মিডফিল্ডারদের মধ্যে এরা তিনজনই সবচাইতে কম সৃষ্টিশীল। কালকে স্পেইনের কাছে হারার পেছনে এটাও একটা কারণ, একে তো মেসি নেই, তাঁর উপর দুইজন জাত ডিফেন্সিভ মিডের সাথে একজন – যাকে খুব জোর বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার বলা যায়, এই তিনজন কিভাবে স্পেইনের অতি-সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডের সাথে পেরে উঠবে? আশা করি সাম্পাওলি তাঁর এই সমস্যাটা বুঝতে পেরেছেন। আরেকটা ভুল করেছেন জিওভানি ল সেলসোকে রাইট উইঙ্গে খেলিয়ে। যদিও ইটালির সাথে ম্যাচে রাইট উইঙে ল সেলসো বেশ ভালোই খেলেছেন, কিন্তু স্পেইনের মত এরকম বড় বড় ম্যাচ হারলে তখন হয়তোবা বোঝা যাবে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা ল সেলসোর জায়গা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডেই, উইঙ্গার হিসেবে নয়।

বাম প্রান্তে একটা বিশাল সমস্যার নাম অ্যানহেল ডি মারিয়া। এই ভদ্রলোক শুধু বয়সেই বেড়েছেন, আর্জেন্টাইনদের মত পর্যাপ্ত কারিকুরি তাঁর পায়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার হয়ে দায়িত্ব নিয়ে এখনো খেলতে শেখেননি। সবসময় কারিকুরি দেখিয়ে শেষে পাস না দিয়ে নিজে অহেতুক শট নেবার যে প্রবণতা তাঁর, এতবছর পরেও সে অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি। যদিও তাঁর পরিবর্তে স্পেইনের সাথে খেলা ম্যাক্সিমিলিয়ান মেজা নিজের জাত চিনিয়েছেন, ৬ গোল খাওয়ার পরে আক্রমণভাগে শুধু এর খেলা দেখেই যা একটু শান্তি লেগেছে।

বাকী থাকেন হিগুয়াইন। গঞ্জালো হিগুয়াইন। তাঁর হয়ে যত কম বলা যায় তাই ভালো। স্পেইন ম্যাচে প্রথম বিশ মিনিটেই মোটামুটি ৩টা সুযোগ থালায় করে বেড়ে দেওয়ার পরেও গোল করতে পারেননি তিনি। একটা কথাই বলব, মূল একাদশের স্ট্রাইকার হিসেবে গঞ্জালো হিগুয়াইন খেললে মেসির উচিৎ বিশ্বকাপে না খেলা।

আক্রমণভাগে স্ট্রাইকারদের মধ্যে দলে নেওয়ার জন্য হোর্হে সাম্পাওলি যাদের মধ্যে থেকে বিবেচনা করবেন তারা হল লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুয়াইন, সার্জিও অ্যাগুয়েরো, লাউতারো মার্তিনেজ। কেননা নিজের স্টাইলের সাথে খাপ খায়না দেখে সাম্পাওলির ইচ্ছে নেই জুভেন্টাসের স্ট্রাইকার পাওলো ডিবালা বা ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দিকে দলে রাখার।

মেসি-ডিবালার না থাকা নয়, আর্জেন্টিনার সমস্যা আরও গভীরে
আর নয় হিগুয়াইন!

এখন বোঝাই যাচ্ছে সাম্পাওলি যদি নিজের স্টাইলে দলকে খেলাতে চান, তাহলে হয়তোবা দলের খেলা দেখে ভালো লাগবে, কিন্তু খেলা থেকে ফল পাবেনা আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ থেকে ফল পাবেনা আর্জেন্টিনা। কারণ সাম্পাওলির ট্যাকটিকসে খেলার মত যোগ্য খেলোয়াড় আর্জেন্টিনায় নেই, আর থাকলেও তাদেরকে সাম্পাওলির ট্যাকটিকসে অভ্যস্ত করাতে সময় লাগবে অনেক, যা এই দুই মাসে হবেনা। আর এবার মেসির শেষ সুযোগ। বিশ্বকাপ না জিততে পারার মানেই ব্যর্থতা। স্পেইনের মত দল যেভাবে কালকে প্রতিক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে হারালো, সেভাবে খেললে বিশ্বকাপ জয় কি, প্রথম রাউন্ডই পেরোনো লাগবেনা আর্জেন্টিনার। এখন আপনি বলতে পারেন সাম্পাওলি চিলির মত দলকেও তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য এনে দিয়েছেন, কোপা জিতিয়েছেন, কিন্তু ভেবে দেখুন, তাদের সাথেও শিরোপা জেতার আগে সাম্পাওলি কাজ করেছেন বছর দুয়েক। সবচেয়ে বড় কথা চিলিকে সাম্পাওলির আগে কোচিং করিয়ে গিয়েছিলেন সাম্পাওলিরই গুরু, মার্সেলো বিয়েলসা। ফলে চিলির খেলোয়াড়রা মোটামুটি এই হাই প্রেসিং স্টাইলের সাথে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। ফলে সাম্পাওলিও তাদেরকে শিরোপাজয়ী দল হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

তাই সবশেষে একটা কথাই বলব, এবারের বিশ্বকাপ জিততে চাইলে নিজের স্টাইলকে আপাতত বিসর্জন দিতে হবে সাম্পাওলিকে। নাহলে আর্জেন্টিনার বর্তমান একাদশ সাম্পাওলির স্টাইলের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবেনা। আর সে জন্যই দলে হিগুয়াইনদের মত স্ট্রাইকার না রেখে তরুণ পাওলো ডিবালাকে একবার সুযোগ দিতেই পারেন তিনি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 + two =