মুহাম্মাদ আলী : যে কারণে তিনি সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট

মুহাম্মাদ আলী : যে কারণে তিনি সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট

আজকের কিছু পোস্ট দেখলাম যেখানে মেসিকে সর্বকালের সর্বসেরা এথলেট হিসেবে ভোট দেয়া হয়েছে এবং অনেকে আবার সেখানে কমেন্ট করে বলছে সেটি মেসি নয় সেটি হবে ফেডারের !! মুহাম্মাদ আলীর নাম কাউকেই লিখতে দেখলামনা। আমার ধারণা বাংলাদেশী জেনেরেশনের কাছে ধারণাই নেই মুহাম্মাদ আলী সম্পর্কে , তাই চিন্তা করলাম এই সম্পর্কে কিছু লিখি। অবশ্য মুহাম্মাদ আলীর ফিগার, এতো বড় ছিল যে সেই সম্পর্কে ১০ কেন ১০০০ লাইন লিখাও যথেষ্ট হবেনা।

পৃথিবীর প্রতিটা স্পোর্টসম্যান অথবা এথলেট তাদের নিজ নিজ খেলাধুলাতেই তাদের বড়ত্ব দেখিয়েছেন ; মেসি, পেলে, ম্যারাডোনা, রোনালদো, ফেদেরার, নাদাল, আগাসি, টাইগার উড, শুমাখার, ভালেন্তিনো রোসি, মাইকেল জর্দান, লেব্রন জেমস সকলের স্থান সীমিত ছিল নিজ নিজ খেলার মাঝেই। টেনিসের বাহিরে ফেদেরার কি ? কিছুই না ! ফুটবলের বাহিরে মেসি কি ? কিছুই না ! মুহাম্মাদ আলী একমাত্র ব্যাক্তিত্ব যিনি কিনা শুধু তার খেলা বক্সিং না , এর বাহিরেও নিয়ে গিয়েছেন নিজেকে। মুহাম্মাদ আলী শুধুমাত্র একজন ক্রীড়াবিদ নন, তিনি একজন ইনস্টিটিউশন, তিনি একটি মুভমেন্টের এম্বলেমা, তিনি একটি ইতিহাস।

মুহাম্মাদ আলী ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে শুধুমাত্র একটি রিঙের ওপর লড়াই করার জন্য নয় , তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অধিকারের জন্য লড়াই করার জন্য। রিঙের মাঝে গ্লোভস হাতে তিনি যেমন ছিলেন ভয়ংকর, রিঙের বাহিরে তিনি ছিলেন তেমনি শান্তিপ্রিয় এক মানুষ।

আমেরিকা যখন ভিয়েতনাম আক্রমণ করে তখন একটি শান্তিপ্রিয় মুভমেন্ট চালু হয় সেই যুদ্ধের বিপক্ষে এবং তার লিড দিয়েছেন মুহাম্মাদ আলী। তিনি বলেছিলেন : ”ভিয়েৎকংগ দের সাথে আমার কিছুই হয়নি, তারা আমাকে কখনো নিগ্রো বলে ডাক দেয়নি” – যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার জন্য তার হেভিওয়েইট চ্যাম্পিয়ন বেল্ট তুলে নেয়া হয় এবং বক্সিং করা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ৫ বছরের জেলও দেয়া হয় যা জনগণের প্রতিবাদের কারণে তুলে নেয়া হয়।

মুহাম্মাদ আলী ছিলেন একজন ইনস্পিরেশন , একজন ইন্টেলেকচুয়াল। তার তুলনা ত হয় মেন্ডেলা, গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং দের সাথে। তিনি প্রমাণ করে দেখিয়ে গিয়েছেন যে একজন খেলাধুলার মানুষ তার খেলার আংগিনা থেকে বের হয়েও বিশ্বে পরিচিত হতে পারেন।

মুহাম্মাদ আলী কখনো ট্রফির জন্য খেলেননি , খেলেছিলেন তার জনগণের জন্য, তার ভক্তদের জন্য। ট্রফি তার কাছে কখনোই কোনো মুখ্য বিষয় ছিলোনা। ১৯৬০ সালের অলিম্পিক গেমে গোল্ডেন মেডেল জয়ের পর আমেরিকা ফিরে এসে রেসিজম এর বিপক্ষে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেটিকে তিনি OHIO নদীতে ঢিল মেরে ফেলে দেন।

কংগোর রাজধানী KINSHASA তে ১ লক্ষ্য জনতার সামনে GEORGE FOREMAN এর বিপক্ষে তার সেই ম্যাচের কথা আজও ইতিহাসের সবথেকে বড় বক্সিং ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত। আলী শুধু একজন স্পোর্টসম্যান ছিলেননা , তিনি ছিলেন একজন ভিশনারি। SO PLEASE DON’T EVEN TRY TO COMPARE ANY GREAT SPORTSMAN WITH THE GREATEST SPORTSMAN MUHAMMAD ALI .

By the way, ইতালিয়ান পত্রিকা LA GAZZETTA DELOO SPORT একবার একটি POLL করেছিল এই ব্যাপারে এবং সেখানে ৬৬% ভোট নিয়ে মুহাম্মদ আলী জিতেছিল; তার পর তাকে এথলেট অফ দি সেঞ্চুরি হিসেবে নমিনেটেড করা হয়েছিল।

::: আরাফাত ইয়াসের :::

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + 20 =