মুস্তাফিজে মোহাবিষ্ট বাংলাদেশ

বাঁহাতি পেস সব সময়ই একটা দেখার মতো জিনিস ক্রিকেটের। এতে শিল্পের মায়াবী ছোঁয়া দিতে পারলে তা হয় চোখে মায়াঞ্জন বুলিয়ে দেবার বিষয়। আরেক দল আছেন যারা একটু বিদ্রোহী ধাঁচের- শিল্পের ধার ধারেন না কিন্তু গতির ঝড়ে কাঁপিয়ে দেন ব্যাটসম্যানকে। আমরা এতদিন রাসেলের মধ্যেই বাঁহাতি পেসার দেখেছিলাম। তার অবস্থা ছিল বাবুরাম সাপুড়ের সাপের মতো, নখদন্তহীন। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাতক্ষীরার এক তরুণ তুর্কিকে সুযোগ দেওয়া হয় এবং তিনি ভিনি ভিদি ভিসি স্টাইলে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেন সবার মধ্যে। চার ওভারের স্পেলে তার শিকার ছিলেন পাকি অধিনায়ক আফ্রিদি। কিন্তু তার বলে সুইঙ্গের এমনই বিষ ছিল জে,২৪ টা বলের কয়টা পাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যাটে লাগাতে পেরেছিলেন সেটাই ছিল গবেষণার বিষয়! এই তরুণকে দিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওভার করানোর মতো কাজ একজনের পক্ষেই সম্ভব- আমাদের অধিনায়ক মাশরাফি! চার পেসার খেলিয়ে সবার চোখ কপালে যদি তুলে দিয়ে থাকেন, মুস্তাফিজকে নতুন বল দেওয়াটা তাহলে তার থেকেও বড় বিস্ময় ছিল। তবে সেই মুস্তাফিজ এখন সবার নয়নের মণি। পর পর দুই ম্যাচে ভারতীয়দের নাকানি চুবানি খাইয়ে বিশ্ব রেকর্ড করে মুস্তাফিজ এখন সারা বিশ্বের নতুন বিস্ময়, আর আমাদের অহংকার।
তার বলে নাকি ঘূর্ণি জাদুকরদের থেকেও বেশি টার্ন আছে! তা আমাদের নেতাজি কথাটা ভুল বলেননি। তার কাটারে মাঠ থেকেই যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে রাহানে আর ধাক্কাবাবাকে ( মহেন্দ্র সিং, ভারতীয় অধিনায়ক) তা আসলে বিখ্যাত ওয়াসিম আকরাম আর ভাসের মায়াবী বোলিঙের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
এই মুস্তাফিজ আমাদের জন্য গেম চেঞ্জার। কাল শেষ স্পেলে এসেই যেমন ভেঙে দিলেন ভারতীয় ব্যাটিঙের মেরুদণ্ড এবং লেজ! তার প্রভাবেই পাওয়ার প্লে ভারতের দুঃস্বপ্ন হয়ে গেলো। আর প্রথম ওয়ানডেতে তো মহেন্দ্র সিং এর ধাক্কা খেয়ে মাঠের বাইরে গেলেন, আর এসে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন ভারতীয় দলকেই!
এই মুস্তাফিজ এক মুগ্ধকর। তবে তাকে পরিচর্যার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। ছোট মানুষের কাঁধে আরও বড় দায়িত্ব দেবার আগে তাকে আরও শানিয়ে নিতে হবে। তাহলেই বারবার তার হাতের জাদুতে বোকা বনে যাবেন বিখ্যাত ব্যাটসম্যানরা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 − 1 =