মুসলিম হও কর্মে, হিংস্র রক্তলোলুপতায় নয়!

করীম আব্দুল জব্বার
নামটা কি পরিচিত লাগছে?
আমি শিউর আমার ফ্রেন্ড-ফলোয়ারদের মধ্যে হাতে গোনা দুই-একজনও এই নামটা কার, জানে না। 
মুহাম্মদ আলীকে যেমন সর্বকালের সেরা বক্সার ধরা হয়, করীম আব্দুল জব্বারকেও অনেকেই সর্বকালের সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে মানে। ২০১৬ সালে ESPN তাকে মাইকেল জর্ডানের পর সর্বকালের ২য় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে যদিও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়ার রেকর্ড ও ৬ বার MVP হবার রেকর্ড তাঁরই। এছাড়াও বাস্কেটবল খেলাটার অনেক অনেক রেকর্ডের মালিক ৭ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই আফ্রিকান আমেরিকানের।
মুহাম্মদ আলির মত উনিও কনভার্টেড মুসলিম। মাত্র ২৪ বছর বয়সে, ক্যারিয়ারের গনগনে সময়ে তিনি সুন্নি মুসলিমে কনভার্টেড হন। তাঁর আগের নাম ছিলো ফার্ডিন্যান্ড লুইস আলকিন্দর। তাঁর পূর্বপুরুষেরা দাস হিসেবে আমেরিকায় এসেছিলো, তিনি নিজের ইতিহাস জানতে পেরে মুসলিম এ কনভার্টেড হন। কলেজ বাস্কেট বলে টানা ৭১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড করা এই অসংবাদিত কিংবদন্তি হয়তো তার এই ধর্মের পরিবর্তনের কারণেই মাইকেল জর্ডান বা কোবি ব্রায়ান্টের মত লাইম লাইট পাননি, তারকা খ্যাতিও না।
অথচ তাঁকে নিয়ে ইউটিউবে যত ভিডিও আছে সেগুলোর কমেন্টে যান। দেখবেন খ্রিস্টান, ইহুদি নির্বিশেষে “Love you Kareem” “Kareem is the greatest of all time” লিখে ভরে ফেলসে। সেই ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৯ সালে খেলা মানুষটাকে এখনও টুনাইট উইথ ট্রেভর নোয়াহ, জিমি ফ্যালন শো ইত্যাদি জনপ্রিয় টিভি শোতে আমন্ত্রণ জানায়, তার লিখা বই আমেরিকায় বেস্ট সেলার হয়। তিনি কিন্তু আমেরিকায় মুসলিমদের, কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার নিয়েই লিখেন। তাও ইন্টারনেটে তার প্রতি কি ভালোবাসা দেখায় অন্য ধর্মের মানুষরা! 

মুসলিম হও কর্মে, হিংস্র রক্তলোলুপতায় নয়!
মো সালাহ


মোহামেদ সালাহ নামে একজন মিশরীয় খেলোয়াড় সম্প্রতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ মাতাচ্ছেন লিভারপুলের হয়ে, নিজের দেশকেও নিয়ে গেছেন বিশ্বকাপে। আমি ফুটবলের তেমন খবর রাখিনা কিন্তু সেদিন একটা এলবাম দেখলাম- মানুষের টুইটের স্ক্রিনশটের কালেকশন। সবাই বলতেসে- “Salah scoring one more goal and I am converting to Islam!!” গলার কাছে কি যেন জমাট বাঁধলো- মানুষের মন তো কর্মেই জয় হয়!
এরকম ভাবেই যুগে যুগে মুহাম্মদ আলি, করিম আব্দুল জব্বার, মেসুত ওজিল, মোহামেদ সালাহরা দেখিয়ে আসছে- একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম হয়েও সারা বিশ্বের সব ধর্মের মানুষের আইডল হওয়া যায়। মানুষকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করা যায় এভাবেই- মানুষ একজন গ্রেটের কথা শুনবে, ইন্টারনেটে লাফানো কোন রক্তলোলুপ জিহাদির না। নিজের ধর্মকে জনপ্রিয় করতে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে আগে নিজে ভালো কিছু হও, ভালো কথা বলো, বিবেক দেখাও। মানুষ এমনিই ছুটে আসবে, মান্য করবে। ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে, হামলা করে, রক্তে হাত ভিজিয়ে শুধু ঘৃণাই জন্মাবে তোমার অতিভঙ্গুর স্পর্শকাতর বিশ্বাসের প্রতি।
হে ফেসবুকিও গালিবাজ হিংস্র মুমিনের দল, আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সাঃ) এর বিশাল সেনাবাহিনী দেখে ভয়ে ইসলাম কবুল করেনি, হাতেনাতে ধরা খেয়েও মহানবীর তাকে মাফ করে দেওয়া ও বুকে আসার আহবান দেখে তার পাষাণ হৃদয় গলে গিয়েছিলো, মনে রেখো।

কমেন্টস

কমেন্টস