মিলানে চৈনিক শাসনঃ থেকে যাবেন কারা?

অবশেষে রোজোনেরিদের মালিকানা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে চাইনিজদের হাতে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলা চাইনিজদের আরেকটি দারুণ পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বার্লুসকোনির মালিকানায় মিলান নিজস্ব ক্লাব ইতিহাসের সবথেকে সুবর্ণ সময় পার করলেও, গত চার-পাঁচ সিজনে ম্লান হয়ে গেছে সেই অর্জন। মালিকানা পরিবর্তনের গুঞ্জন চলছিলো কয়েক সিজন ধরেই। ক্লাবের ধার-দেনার পরিমাণ গত কয়েকবছরে এতটাই বেড়ে গেছিলো, গত কয়েক সিজন যাবৎ বলার মত কোন ভালোমানের খেলোয়াড়ই আসে নি সান সিরোতে।
চাইনিজরা মালিকানা গ্রহণের পর ভক্তদের মনে তাই ভালো খেলোয়াড়দের মিলানের জার্সিতে দেখার স্বপ্নটাই প্রধান হিসেবে রয়েছে। তবে তার আগে দেখে নেয়া যাক, কাদের থাকা উচিত মিলান জার্সিতে।

প্রথমেই বলতে হবে, ইতালির টিনেজ সেনসেশন দোন্নারুমার কথা। ১৮তে পা দিতে যাওয়া এই গোলকিপার বর্তমান ফুটবলে নতুন আলোচনার নাম। ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এই কিশোর যে মিলান একাডেমির অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার, এতে অমত করবে না কেউই। তার সাথে মিলানের নতুন কন্ট্রাক্ট হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলা যায়।

এরপরে আসে সুসোর কথা। লিভারপুলের ইয়ুথ টিমে থাকাকালীন সময়ে, তার পটেনশিয়াল নিয়ে কারোরই সন্দেহ ছিলো না। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেন যেন মেলে ধরতে পারেন নি ঠিকভাবে। মিলানে এসেও তেমন আহামরি কোন পারফরম্যান্স ছিলো না এই সিজনের আগে। কিন্তু বর্তমান সিজনে ৬ গোল আর ৭ এসিস্ট দেখলেই বোঝা যায়, দলে তার কার্যকারিতা কতখানি। তার সাথেও নতুন কন্ট্রাক্টের ব্যাপার চুড়ান্ত প্রায়।

সুসো আর দোননারুমার সাথে সাথে আরো কয়েকজন তরুণতুর্কীর থেকে যাওয়া জরুরী, তাহলে কয়েক বছরের জন্য এসি মিলানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিন্ত বলা যায়। তেমন কয়েকটা নাম হচ্ছে- রোমাগনলি, ক্যালাব্রিয়া, লোকাতেল্লি এবং ডি শিলিও।
ইতালির আগামী দিনের ডিফেন্স লিডার হবার সমস্ত গুণাবলিই আছে রোমাগনোলির মধ্যে। অন্যদিকে ক্যালাব্রিয়ার মধ্যে একজন স্টার রাইটব্যাক হবার যোগ্যতা সবটুকুই আছে। লোকাতেল্লিকে ঠিকমত তৈরী করতে পারলে বিশ্ব ফুটবল পেতে পারে আন্দ্রেয়া পিরলোর যোগ্য উত্তরসূরি। ডি শিলিওকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তার মধ্যে এখনও পটেনশিয়াল আছে ভবিষ্যতের টপ ক্লাস ফুলব্যাক হবার। তাই তাকেও সান সিরোতে রাখা জরুরী।

মোদ্দা কথা, এই কয়েকজনের উপরেই নির্ভর করছে মিলানের ভবিষ্যৎ। তাই ম্যানেজমেন্টের উচিত যেকোন মূল্যেই তাদেরকে ধরে রাখা।
এদের বাইরে আরেকজনের কথা বিশেষভাবে বলতে হবে। তিনি বোনাভেনতুরা। মিডফিল্ডের নাটাই নিজের হাতে রেখে যিনি ইচ্ছামত খেলানোর ক্ষমতা রাখেন দলকে। চাইনিজ যুগ শুরু হলেও, বোনাভেনতুরাকে দরকার লাল-কালো শিবিরে।

সেই সাথে এবাতেকে ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন এবং কুচকা, পলিকে সিনিয়র কোটায় রাখা যেতে পারে। বিশেষ বিবেচনায় থাকতে পারেন মন্টোলিভোও।

যেতে পারেন যারা-

আলেসান্দ্রো প্লিজারি, মিলানের আরেক তরুণ গোলকিপার। নিজের ভালোর জন্যেই মিলান ছাড়া উচিত তার। দোননারুমার কারণে ঠিকমত প্লেইং টাইম পাবেন না। শুধু শুধু বেঞ্চে বসে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করতে চাইবেন না তিনি।
ক্রিশ্চিয়ান জাপাতা, তার ডিফেন্সিভ এরর বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়েই চলেছে। ব্যাকাপ অপশন হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা নেই দলে।
লিওনেল ভ্যানজিওনি আর লুকা আন্তোনেল্লির বয়স বেড়েছে, তাই কতদিন দলে থাকবেন সেটাও দেখার বিষয়। যদিও আন্তোনেল্লির পারফরম্যান্স বেশ ভালোই, তবুও দিনশেষে বয়স শুধুই সংখ্যা নয়, একটা ফ্যাক্টও।

গুস্তাভো গোমেজ, এই সিজনে দলে আসার পরে তেমন কোন কিছুই দেখাতে পারেন নি এই উরুগুয়ান। দলে তার প্রয়োজনীয়তাও তাই এক প্রকার নেই বলা যায়।
কেইসুকে হোন্ডা, আসছে গ্রীষ্মে এই জাপানিজের দল ছাড়া এক প্রকার নিশ্চিত। ইদানীং তেমন কোয়ালিটি পারফরম্যান্সও নেই তার।
মাতিয়াস ফার্নান্দেজ, বুড়িয়ে যাওয়া এক মিডফিল্ডার। সত্যি বলতে, দলে তার জায়গা দেখছি না।
বার্তালোচ্চি, দলে আসার পর থেকে এখনও ফ্লপ। আর কতবার সুযোগ পেলে নিজেকে চেনাবেন, তাও বা কে জানে। চাইনিজরা নিশ্চয়ই ভাগ্যের সন্ধানে থাকা কাউকে রাখতে চাইবে না দলে।
মারিও প্যাসিলিচ, লোন শেষে ফেরত যাবেন চেলসিতে। এরপর মিলান তাকে ফেরত আনবে বলে মনে হয় না। সে পরিশ্রমী, সাথে গোল করতেও জানে। কিন্তু লিমিটেশন তাকে এভারেজের থেকে বেশী কোন স্থান দেবে না। তাই থাকার সম্ভাবনা নেই তারও।
সোসা, মিডফিল্ডকে ঢেলে সাজাতে যেয়ে বাদ পড়তে পারে এই আর্জেন্টাইন। তাছাড়া তাকে পেতে আগ্রহী দলও আছে, দিন শেষে একটু ব্যবসা করতে কে না চাইবে? তাই তাকেও বেচতে পারে ম্যানেজমেন্ট।
ওকোম্পাস, লোন ডিল শেষে মিলানে ফেরত না আসার সম্ভাবনাই বেশী এই আর্জেন্টাইনের।
এবার সবথেকে বড় নাম- কার্লোস বাক্কা। গত সিজনের দুর্দান্ত ফিনিশার এই সিজনে ভোঁতা! মন্তেল্লার ট্যাকটিক্সে খেলার মত এট্রিবিউটসে ঘাটতি আছে তার। যেকারণে যেতে পারেন এই কলম্বিয়ান।
লাপাদুলা, মনতেল্লা যদিও তাকে অতোটা প্লেইং টাইম দেয় নি, তবুও যতোটুকু খেলতে পেরেছে তাতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেন নি গত সিজনে সিরি বি এর এই টপস্কোরার। তাই যদি তাকেও দল ছাড়তে হয়, অবাক হবার কিছু নেই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen + eleven =