মিলানের জেনোয়া-প্রীতি

 

জিনিসটা একটু চমকপ্রদ। এমনিতেই বহুদিন থেকেই ট্রান্সফার মার্কেটে অত্যন্ত হিসেবি হিসেবে সুনাম বা দুর্নাম আছে এসি মিলানের, সিইও আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানির। কিন্তু গত কয়েকবছরে মিলানের ট্রান্সফারগুলোর দিকে একটু ভালোভাবে নজর দিলে বোঝা যায় আরেক সিরি আ এর ক্লাব জেনোয়াকে টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে এসি মিলান বলতে গেলে কোন কার্পণ্যই করেনা!

গত সাত-আট বছরে মিলানের সাথে জেনোয়ার সওদা হয়েছে মোটামুটি চৌদ্দজন খেলোয়াড়কে নিয়ে (শুধুমাত্র জেনোয়া থেকে মিলান)। দেখে নেওয়া যাক তাদের কয়জনকে কত দিয়ে নিয়েছে মিলান!

১৪. মাতেও শিনেলাতো

=> ইতালির এই তরুণ স্ট্রাইকার ২০১১ সালে জেনোয়া থেকে যোগ দেন মিলানে, ০.৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। এখন খেলছেন এফসি সুডরিটোলে।

১৩. পেলে

=> পর্তুগীজ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার শিনেলাতোর সাথেই জেনোয়া থেকে মিলানে যোগ দেন। ঐ মৌসুমে জেনোয়া ও মিলান চার-চারটি “কো-ওউনারশিপ” ডিল সম্পন্ন করে, যার ফলে জেনোয়া থেকে মিলানে যোগ দেন শিনেলাতো ও পেলে, আর মিলান থেকে জেনোয়াতে যোগ দেন মারিও সামপ্রিসি ও নিকোলা পাসিনি। জেনোয়া থেকে মিলানে পেলের ট্রান্সফার ফি ছিল ০.৯৫ মিলিয়ন ইউরো।

১২. জিয়ানমার্কো জিগোনি

=> তরুণ এই ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ১.৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে জেনোয়া থেকে মিলানে যোগ দেন ২০০৯ সালে। মিলানের মূল দলের হয়ে মাত্র একটা ম্যাচ খেলা এই স্ট্রাইকার এখনো মিলান থেকে বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন ধারে।

১১. মার্কো অ্যামেলিয়া

=> ২০১০ সালে জেনোয়া থেকে মিলানে নাম লেখানো এই গোলরক্ষক পরের চার বছরে মিলানের হয়ে খেলেছেন মোটামুটি ২৯টার মত ম্যাচ। মূলত রিজার্ভ গোলরক্ষক হিসেবেই তাঁকে রাখা হয়েছিল, ট্রান্সফার ফি ছিল ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো। এখন খেলছেন পেরুজিয়ায়।

১০. আলবার্তো পালোশচি

=> মিলানের যুবপ্রকল্পের এই স্ট্রাইকার ৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মিলান থেকে ২০০৮ সালে যোগ দিয়েছিলেন পারমাতে। পরে পারমা থেকে জেনোয়া ঘুরে আবার ৪.৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ২০১০ সালে যোগ দেন মিলানে। এখন খেলছেন শিয়েভো ভেরোনায়।

৯. সকরাটিস পাপাস্থাতোপৌলোস

=> বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে মাঠ মাতানো এই ডিফেন্ডারও একসময়ে খেলে গেছেন মিলানের হয়ে, এবং ইনিও জেনোয়া থেকেই মিলানে গেছিলেন। ট্রান্সফার ফি ছিল ৪.৫ মিলিয়ন ইউরোর মত। পরে এই জেনোয়ার কাছেই আবার সকরাটিসকে ফেরত পাঠায় মিলান। কে জানে, আর কিছুদিন ধৈর্য্য ধরে সকরাটিসকে রাখলে হয়ত মেক্সেস-জাপাতা-বনেরার কমেডি শো থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারতেন মিলানকে তিনি!

interessant-fuer-die-bundesliga-sokratis-papastathopoulos_17957

৮. আলেক্সান্দার মের্কেল

=> ২০১২ সালে জেনোয়া থেকে মিলানে যোগ দেওয়া এই জার্মান মিডফিল্ডারের জন্য মিলানের খরচ হয়েছিল মোটামুটি ৫ মিলিয়ন ইউরোর মত।

৭. ফ্র্যানসেস্কো অ্যাসেরবি

=> ২০১২ সালে শিয়েভো-জেনোয়া-মিলানের “কো ওউনারশিপ” এর গ্যাঁড়াকলে মোটামুটি ৪ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে জেনোয়া থেকে ধারে অ্যাসেরবিকে দলে এনেছিল মিলান, দিয়েছিল মিলান কিংবদন্তী আলেসসান্দ্রো নেস্তার ১৩ নম্বর জার্সি। বলা বাহুল্য, কিংবদন্তীর জার্সির মর্যাদা রাখতে পারেননি আসেরবি। এখন আছেন সাসুয়োলোয়।

৬. ফ্র্যাঙ্কো বোরিয়েল্লো

=> ২০০৮ সালে মোটামুটি ৯ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আলবার্তো জিলার্দিনোর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে জেনোয়া থেকে মিলানে আসেন মিলানেরই যুবদলের খেলোয়াড় ফ্র্যাঙ্কো বোরিয়েল্লো। দুই বছরে ৩৭ ম্যাচে ১৫ গোল করার পর বোরিয়েল্লো মোটামুটি ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দেন রোমায়। এখন আছেন ক্লাবহীন।

৫. কেভিন কনস্ট্যান্ট

=> গিনিয়ান এই ফুলব্যাক/মিডফিল্ডার ২০১৩ সালে ৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে জেনোয়া থেকে যোগ দেন এসি মিলানে। সেরকম নজরকাড়া কিছুই করতে পারেননি, যার ফলাফল এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে।

৪. ভাল্টের বিরসা

=> ২০১৩ সালে স্লোভেনিয়ান এই মিডফিল্ডার ১.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দেন জেনোয়া থেকে মিলানে। তালিকার অধিকাংশ খেলোয়াড়ের মত ইনিও মিলানের হয়ে বিশেষ কিছু করতে পারেননি। এখন খেলছেন শিয়েভো ভেরোনাতে।

৩. ইউরাজ কুচকা

=> মিলান-জেনোয়া প্রেমকাহিনীর সর্বশেষ সংস্করণ। স্লোভাকিয়ান এই মিডফিল্ডার আজকেই জেনোয়া থেকে যোগ দিয়েছেন মিলানে, ৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। দেখা যাক, তিনি হিট হন নাকি ফ্লপ!

২. স্টেফান এল শারাউই

=> এই মৌসুমেই মিলান থেকে ধারে মোনাকোতে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ডও এসেছিলেন কিন্তু জেনোয়া থেকে, সবমিলিয়ে ১৫.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। মিলানের হয়ে প্রথম সময়টুকু যথেষ্ট ভালো কাটিয়েছিলেন, পরে আস্তে আস্তে ফ্লপ হতে থাকেন। এই মৌসুম শেষে মিলান থেকে মোনাকোতে ১৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পাকাপাকিভাবে যোগ দেবেন।

Stephan-El-Shaarawy-580129

১. কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং

=> তালিকার মোটামুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম এই ঘানাইয়ান মিডফিল্ডার। ২০১১ সালে ৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে জেনোয়া থেকে মিলানে যোগ দেওয়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এখন খেলেন শালকেতে।

boateng_2442346b

তাই কোন খেলোয়াড়ের যদি এসি মিলানে খেলার স্বপ্ন থেকে থাকে, আগে জেনোয়াতে খেলে দেখতে পারে, এসি মিলানের নজরে আসা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty + four =