মিরাজকে শিখতে দিন

মিরাজকে নিয়ে মিডিয়া যা শুরু করেছে, তা আদতে দেশের ক্রিকেটের জন্যে দারুন ক্ষতিকর। এরা প্লেয়ারদের ক্ষুধা কমিয়ে দিচ্ছে। যেখানে টেস্ট সিরিজের নিজের ব্যাটিং নিয়ে মিরাজের নাথা নাড়াচাড়া থাকার কথা আর ওটা নিয়ে কয়েকদিন পর থেকে কোচদের কাজে মন দেবার কথা , সেখানে ইন্টার্ভিউ আর শৈশবে কোথায় হাগত-মুতত সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া।

তিন ইনিংসে সেইম ফ্যাশনে লেগবিফোর হওয়াতে সবচেয়ে বেশি অতুষ্ট থাকবার কথা মিরাজের। নিজের ফুটওয়ার্ক আর রিফ্লেক্স নিয়ে নিজের মধ্যে হা-হুতাশ থাকার কথা প্রচুর পরিমাণে। সবচেয়ে প্রিয় কোচটার কাছে যেয়ে মনোযোগী ছাত্র হয়ে এগুলো শুধরে ফেরার কথা। সে সুযোগ মিডিয়া দিচ্ছে কোথায়??

গঠনমূলক সমালোচনা করুন,
খারাপ সময় এলে তীর নিয়ে ছুটবেন না,

ঐটুকুন বয়সে ১০০ কোটি লোকের সব সামলে ওভাবে উঠতে পারাতেই ঐ ছেলেটা শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ডাবল মেরে অতৃপ্ত থাকাতেই অনেক পরে ইন্টারন্যাশনাল খেলা শুরু করেও এত এত রান করা প্লেয়ারটার নাম কুমার সাঙ্গাকারা।

শৈশব – কৈশোর এসব নিয়ে নাড়াচাড়ার জন্যে তো প্লেয়ারের রিটায়ারমেন্টের পরের সময়টা পড়ে আছে। আপাতত ওকে ওর আত্মজীবনী বের করে আনার ডিউটি থেকে রেহাই নিন প্লিজ। আত্মজীবনীটা ওর যখন মনে চাইবে নিজেই লিখা শুরু করবে। আপনি গিয়ে সম্পাদনায় সাহায্য করলে দু পয়সা কামাতেও পারবেন। খেলোয়াড়দের একটু ব্যক্তিগত জীবনটায় রেহাই দিন যাতে খেলায় ফিরলে ১০০ ভাগ পেশাদারিত্ব নিয়ে লাল-সবুজকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন তারা।

আপনাদের জন্যে শচীন বা সাঙ্গারা এখানে জন্মালেও বড় হয়ে উঠতে পারে না। মিরাজকে ছাত্র হতে দিন। ক্রিকেটের ছাত্র! যে স্কুলে ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত আজকের মিরাজ বা মোসাদ্দেকেরা শিখবে। বাংলাদেশকে সার্ভিস দেবার শেষ দিন পর্যন্ত শিখবে। বয়স ৩০ পেরোলেও ফিল্ডিং এ প্রতিটা রান বাঁচাতে ছুটবে। ১০০ রান করে ফেললেও পরের আরো ১ টা রানের জন্যে সমান ক্ষুধা থাকবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seven − three =