মার্কোস আলোনসো পারবেন চেলসির প্রত্যাশা মেটাতে?

সমস্যাটা আসলে সেই অ্যাশলি কোল যাওয়ার পর থেকেই। চেলসির চিরনির্ভর এই লেফটব্যাক ক্লাব ছাড়ার পর থেকেই নিয়মিত ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারে এরকম একটা লেফটব্যাকের সমস্যায় ভুগছে চেলসি। প্রথমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে আসলেন ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক ফিলিপে লুইস। এক মৌসুম পর চলে গেলেন তিনিও তাঁর আগের ঠিকানায়। ব্যাকআপ লেফটব্যাক রায়ান বার্ট্রান্ড ও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম না করতে পেরে পাড়ি জমালেন সাউদাম্পটনে। তৎকালীন চেলসি কোচ তখন অগসবুর্গ থেকে উড়িয়ে আনলেন ঘানাইয়ান লেফটব্যাক আব্দুর রহমান বাবা কে। সেই বাবাও ব্যর্থ লেফটব্যাক সমস্যা সমাধানে। ফলে রাইটব্যাক থেকে কাজ চালানোর জন্য লেফটব্যাক পজিশানে খেলা শুরু করতে হল স্প্যানিশ রাইটব্যাক সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটাকে।

marcos-alonso-fiorentina-serie-a_cntzecnjiri71qqvb6cdn0xqh

কিন্তু এভাবে মৌসুমের পর মৌসুম চলতে পারে না, সেটা বুঝতে পারলেন বর্তমান চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তে। তাই এবার দলবদলের বাজার শুরু হবার পর থেকেই মোটামুটি আঁটঘাট বেঁধে নামেন তিনি, নতুন লেফটব্যাকের খোঁজে। কিংবা এমন একজনকে, যে কিনা কন্তের পছন্দের ৩-৫-২ ফর্মেশানে লেফট উইংব্যাক কিংবা বামদিকের সেন্টারব্যাক হয়ে খেলতে পারেন। কন্তের এতদিনের খোঁজ শেষ হল আজ। ২৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ফিওরেন্টিনা থেকে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্কোস আলোনসো কে দলে টানলো চেলসি।

জুভেন্টাসে দুই মৌসুম কোচ থাকার সুবাদে মার্কোস আলোনসোকে মোটামুটি ভালই চেনা আছে কন্তের। ফিওরেন্টিনার আগে তিন বছর ইংল্যান্ডে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে খেলে যাওয়া আলোনসো কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাকাডেমি প্রোডাক্ট। ২০১০ সালে রেসিং সান্তারদারের সাথে এক ম্যাচে সাবস্টিটিউট হিসেবে লা লিগায় অভিষেক হয় তাঁর, চিলিয়ান কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির অধীনে।

b_DESEADO_b_Marcos_Alonso

বোল্টনে তিন বছর কাটানোর পর ফিওরেন্টিনায় যোগ দেন তিনি ২০১৩ সালে, কিন্তু ছয় মাস কাটিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতেই ইংল্যান্ডের ডাকে আবার যোগ দেন স্যান্ডারল্যান্ডে, ধারে। স্যান্ডারল্যান্ডে খেলেছিলেন বেশ ভালোই, ফলে কোচ গাস পোয়েতের ইচ্ছা ছিল তাঁকে পাকাপাকিভাবে নিয়ে আসার। কিন্তু ফিওরেন্টিনার তৎকালীন কোচ ভিনসেঞ্জো মনটেলা সেটা হতে দেননি। আর এখন ত কোচ পাওলো সোসার অধীনে ফিওরেন্টিনার মূল একাদশের এক অবিচ্ছেদ্য নাম এই মার্কোস আলোনসো।

কখনই সেরকম উঁচুমানের কোন ডিফেন্ডার ছিলেন না আলোনসো যাকে নিয়ে দলবদলের বাজারে সেরা ক্লাবগুলোর মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতে পারে। এই যেমন কিছুদিন আগেই নরউইচ সিটিতে যোগ দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। আবার পাওলো সোসা কোচ হিসেবে আসার পর নিয়মিতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করার সুবাদে বার্সেলোনাও তাঁর দিকে চোখ রাখছে বলে শোনা যাচ্ছিল, যদিও সেটা নিশ্চিত কোন সোর্সের খবর না।

Marcos-Alonso

আলোনসোর সবচেয়ে বড় গুণ তাঁর ভার্সেটাইলিটি ও পজিশনিং সেন্স। সেন্ট্রাল ডিফেন্সের বাম দিকে, লেফট উইংব্যাক হিসেবে কিংবা লেফট মিডফিল্ডার ও লেফটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি অনায়াসেই। একজন যোগ্য বল-প্লেয়িং ডিফেন্ডারের মত তিনিও পাস আদান-প্রদানে অনেক দক্ষ, উচ্চতা ৬ ফিট ২ ইঞ্চি হবার ফলে বাতাসে ভেসে আসা বলগুলোও ডিফেন্ড করার ব্যাপারে অত্যন্ত পটু। বোল্টন বা স্যান্ডারল্যান্ডে থাকার সময়ের তুলনায় এখন তাঁর ট্যাকলিংটাও ভালো হয়েছে যথেষ্ট।

মাঝে মাঝেই উপরে উঠে গিয়ে গোলসহায়তা ও গোল করা তে আগ্রহী আলোনসো তাঁর পজিশনিং সেন্সের কারণে নিজের ডিফেন্সিভ দায়িত্বও ভুলে যান না। তিনি চেলসিতে আসার ফলে চেলসির যে সুবিধাটা হবে সেটা হল সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা তাঁর রাইটব্যাক পজিশানে ফেরত যেতে পারবেন আবার।

MarcosAlonso

আলোনসোর কোন নেতিবাচক দিক থেকে থাকলে তাঁর গতি। তাঁকে কোনভাবেই একজন স্পিডি ফুলব্যাক বলা যাবেনা। ইংল্যান্ডে স্যান্ডারল্যান্ডের হয়ে যখন খেলে গেছেন তখন প্রায়ই জেরার্ড ডিলোফেউ, অ্যারন লেনন, রাহিম স্টার্লিং বা উইলফ্রিয়েড জাহাদের মত দ্রুতগতির উইঙ্গারদের সাথে পেরে উঠতে পারতেন না তিনি। তাই এখনো যে তিনি অ্যান্থনি মার্সিয়াল বা সাদিও মানে দের সাথে খুব ভালোভাবে পেরে উঠবেন সেটাও বলা যাচ্ছেনা।

এখন সময়ই বলতে পারবে মার্কোস আলোনসো কি চেলসি সমর্থকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারবেন কি পারবেন না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 2 =