মরিনহোর উত্থান : পোর্তোর গল্প – ১

ডাচ ক্লাব পিএসভিতে টানা দুইবার লিগ জিতে কিংবদন্তী ইংলিশ কোচ স্যার ববি রবসন তখন নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে। পেয়েও গেলেন মনমতো এক নতুন চ্যালেঞ্জ। পর্তুগালের বিখ্যাত ‘বিগ থ্রি’ স্পোর্টিং লিসবন, বেনফিকা ও এফসি পোর্তোর মধ্যে অন্যতম স্পোর্টিং লিসবন কোচ হিসেবে পেতে চাইলো তাঁকে। সে যুগে স্পোর্টিং লিসবন প্রায়ই ইংলিশ ম্যানেজারদের নিয়ে আসত কোচ হিসেবে – যাদের মধ্যে আর্থার জন, বব কেলি, র‍্যানডলফ গ্যালোওয়ে, রনি অ্যালান, জিমি হ্যাগান, ম্যালকম অ্যালিসন ছিলেন উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে লিসবনের হয়ে সফলতার মুখ দেখতে পেরেছিলেন শুধুমাত্র র‍্যানডোলফ গ্যালোওয়ে, বব কেলি ও ম্যালকম অ্যালিসন। ম্যালকম অ্যালিসনের অধীনে সেই বিরাশির দিকে লিগ, কাপ ও সুপারকাপের একটা ট্রেবলই জিতেছিল লিসবন, তারপর থেকে বিরানব্বই পর্যন্ত সেরকম কোন (ছিয়াশির সুপারকাপ বাদে) শিরোপার মুখ না দেখা স্পোর্টিংয়ের কর্তাব্যক্তিরা ভাবলেন অ্যালিসনের স্বদেশী কাউকে কোচ করে আনা গেলে সফলতার মুখ দেখা গেলেও দেখা যেতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই লিসবনে আগমন হল স্যার ববি রবসনের, কিংবদন্তী স্যার ববি রবসন – পিএসভির হয়ে দুইবার লিগজয়ের আগে যিনি ছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও ইপসউইচ টাউনের প্রবাদপ্রতিম ম্যানেজার। ছেষট্টির বিশ্বকাপ জয়ে পর ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল নব্বইয়ের বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়া, সেটা তাঁরা হয়েছিল এই ববি রবসনের অধীনেই।

এতকিছু দেখে স্পোর্টিংয়ের কর্তাব্যাক্তিরা আর কালক্ষেপণ করতে চাননি। ব্রাজিলিয়ান কোচ মারিনহো পেরেস আর পর্তুগিজ কোচ আন্তোনিও ডমিঙ্গুয়েজকে ছাঁটাই করে স্যার ববি রবসনকে স্পোর্টিং লিসবনের কোচ করে নিয়ে আসলেন তাঁরা।

ববি ও হোসে
ববি ও হোসে

কোচ নাহয় ঠিক হল। কিন্তু নতুন কোচ নিয়ে আলাদা একটা সমস্যায় পড়লো লিসবন। কোচ ত পর্তুগিজ ভাষায় একটা বর্ণও উচ্চারণ করতে পারেন না! বারে গিয়ে সামান্য একটা ড্রিঙ্ক অর্ডার করতেই খবর খারাপ হয়ে যায় নতুন কোচ রবসনের, নিজের কোচিং পাণ্ডিত্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন কি করে? কি করে খেলোয়াড়দের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ছক কষবেন বিভিন্ন ম্যাচের? এ এক বিশাল সমস্যা!

সমস্যা যখন আছে, তাঁর সমাধানও অবশ্যই আছে। স্যার ববি রবসনের দোভাষী হিসেবে এমন একজনকে খোঁজা শুরু হল, যিনি কিনা পর্তুগিজ, সাথে ইংলিশ ভাষাটাও বলতে পারেন চোস্ত, এমন ফুটবলের জ্ঞানও আছে মোটামুটি। স্থানীয় কোচ খোঁজা শুরু হল তাই রবসনের জন্য। পাওয়াও গেল একজন কোচকে, স্পোর্টস সাইন্সের উপরে যিনি মোটামুটি একটা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন লণ্ডন থেকে, এবং কাজ করেছেন ভিতোরিয়া দি সেতুবাল ক্লাবের যুবদলের কোচ হিসেবে। স্যার ববি রবসনের দোভাষী ও খেলোয়াড়দের সাথে কোচের সেতুবন্ধক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল হোসে মারিও ডস স্যান্টোস মরিনহো ওরফে হোসে মরিনহোকে…

(চলবে)

কমেন্টস

কমেন্টস

4 thoughts on “মরিনহোর উত্থান : পোর্তোর গল্প – ১

মন্তব্য করুন

one × three =