মরিনহোর উত্থান : পোর্তোর গল্প – ৬

টানা দুই মৌসুমে পোর্তোকে নিয়ে দুইবার লিগ জিতলেন মরিনহো। একবার ইউয়েফা কাপও জিতলেন। কিন্তু আসল রূপকথা ত বাকী আছে এখনও, হাতছানি দিয়ে ডাকছে যে চ্যাম্পিয়নস লিগ!

সেবার দলে আসলেন মিডফিল্ডার পেদ্রো মেন্ডেস, সেল্টা ভিগো থেকে যোগ দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান স্ট্রাইকার বেনি ম্যাকার্থিও। রাইটব্যাকে পাওলো ফেরেইরার ব্যাকআপ হিসেবে বোয়াভিস্তা থেকে আনা হল তরুণ হোসে বসিংওয়াকে। ফ্লুমিনেন্স থেকে ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কার্লোস আলবার্তোকে আনা হল। আগের দলটার সাথে মোটামুটি এই একটু-আধটু যোগ বিয়োগ করেই মরিনহো ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের জন্য গড়ে তোলা শুরু করলেন পোর্তোকে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর গ্রুপে পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ, মার্শেই ও পার্টিজান বেলগ্রেড। পুরো গ্রুপপর্বে শুধুমাত্র রোনালদো-ফিগো-জিদান-কার্লোসদের রিয়াল মাদ্রিদের কাছে একটামাত্র ম্যাচ হেরে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে উঠে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে পড়ল পোর্তো। সবাই ভাবলো, মরিনহো কেরদানি এখানেই শেষ। কিন্তু মরিনহো ত হাররা পাত্র নন!

পোর্তোর এস্তাদিও দ্রাগাওতে কুইন্টন ফরচিউনের গোলে পিছিয়ে পড়েও বেনি ম্যাকার্থির দুই গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লো পোর্তো। ওল্ড ট্রাফোর্ডের দ্বিতীয় লেগে পল স্কোলস গোল করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এগিয়ে দিলেন, অর্থাৎ এখন অ্যাওয়ে গোলের ভিত্তিতে পোর্তো আর গোল না করতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই বেনি ম্যাকার্থির ফ্রি কিক থেকে কস্টিনহা গোল করে পাশার দান পালটে দিলেন কস্টিনহা। ফলাফল – কোয়ার্টারে পোর্তো!

কোয়ার্টার ফাইনালে লিওঁকে হারানোর জন্য আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি পোর্তোকে, দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিতে স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো না করুনার মুখোমুখি হয় তাঁরা। দুই লেগ মিলিয়ে রক্ষণাত্মক ফুটবলের এক অনন্য পসরা সাজিয়ে ১-০ গোলে জিতে ফাইনালে এবার মোনাকোর মুখোমুখি হয় তাঁরা।

ফাইনালের স্কোয়াড
ফাইনালের স্কোয়াড

ফাইনালে দিদিয়ের দেশমের মোনাকোতেও কিন্তু স্টার প্লেয়ারের অভাব ছিল না। লেফটব্যাকে ছিলেন প্যাট্রিস এভরা, উইঙ্গার হিসেবে লুডোভিক গিলি ও স্ট্রাইকে ছিলেন স্প্যানিশ সুপারস্টার ফার্নান্দো মরিয়েন্তেস। ছিলেন তরুণ ইম্যানুয়েল আদাবায়োর ও ক্রোট সুপারস্টার দাদা প্রসোও। এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা অলিম্পিক লিওঁর মত দলকে হারিয়ে পোর্তো ফাইনালে উঠলেও সেদিকে মোনাকোও কিন্তু ফাইনালে উঠেছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির মত পাওয়ারহাউজকে হারিয়ে।

deco-porto-champions-league

মোণাকোর আক্রমণ মূলত গঠিত হত অধিনায়ক লুডোভিক গিলিকে ঘিরে, দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরির জন্য মাত্র ২০ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, ফলে মোনাকোও তাঁদের ট্রেডমার্ক ৪-৩-৩ ফর্মেশান থেকে সরে এসে ৪-৪-২ ফর্মেশানে খেলা শুরু করে। এবং এখানেই সুযোগটা পেয়ে যান মরিনহো। ৪-৩-২-১ ফর্মেশানে খেলানো মরিনহো তখন মিডফিল্ডে একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় পেয়ে যান। ফলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের লড়াইয়ে পোর্তোর সাথে পেরে উঠলো না মোনাকো। চারজন ডিফেন্ডারের সাথে তিনজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মিলে পোর্তো যেন একরকম ডিফেন্সিভ দেওয়াল গঠন করলো, যেটা লুডোভিক গিলি বিহীন মোনাকোর ভাঙ্গার সাধ্য ছিল না। আর বাকী তিনজন (ডেকো, দার্লেই ও কার্লোস আলবার্তো কিংবা আলিনিচেভ) মাঝে মাঝেই কাউন্টারে উঠে যাচ্ছিলেন, পোর্তোর শেষ দুটো গোলও এসেছে দুর্দান্ত দুটো কাউন্টার থেকেই।

৩-০ গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে পোর্তোয় নিজের অধ্যায় এভাবেই সফলভাবে শেষ করলেন হোসে মরিনহো, পাড়ি জমালেন চেলসিতে। আর এভাবেই বিশ্ব পেয়ে গেল বিশ্বসেরা এক কোচকে।

(শেষ)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − 7 =