মরিনহোর উত্থান : পোর্তোর গল্প – ২

প্রথম পর্বের পর…

দোভাষী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও, মরিনহোর কাজ কিন্তু শুধুমাত্র দোভাষী হবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলোনা। স্যার ববি রবসনও বুঝতে পারলেন, ক্লাব তাঁর দোভাষী হবার জন্য যাকে নিয়োগ দিয়েছে, সে দোভাষীর থেকেও বেশী কিছু। ফুটবল কোচিংয়ের খুঁটিনাটি সম্বন্ধে বেশ জ্ঞান আছে ছেলেটার। থাকবে নাই বা কেন, যুবদলের কোচ কিংবা রবসনের দোভাষী হবার আগে মরিনহো ত নিজের বাবার ক্লাবের স্কাউট হিসেবেও কাজ করেছেন সেই দশ বছর বয়স থেকে! মরিনহোর বাবা হোসে ম্যানুয়েল মরিনহো ফেলিক্স ওরফে ফেলিক্স মরিনহো নিজেও ছিলেন কোচ। খেলোয়াড় হিসেবে গোলরক্ষকের ভূমিকায় পর্তুগালের হয়ে একটামাত্র ম্যাচ খেলা ফেলিক্স মরিনহো পরে কোচ হয়ে কাটিয়েছেন অনেক সময়, আর তখনই ছেলে মরিনহো তাঁর সাথে রিও আভে বা বেলেনেন্সেসের স্কাউট হিসেবে ম্যাচের আগে আগে বাবাকে স্কাউট রিপোর্ট বানিয়ে দিতেন, ফলে খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তা দুর্বলতা ট্যাকটিক্সের বিভিন্ন ফাঁকফোকর সম্বন্ধে ভালোই অবগত ছিলেন মরিনহো ছোটবেলা থেকেই। সেইসব অভিজ্ঞতাই রবসনের সময়ে কাজে লেগেছে তাঁর। রবসনও সুযোগ বুঝে মরিনহোকে দোভাষীর থেকেও বড় কিছু বানিয়ে দিলেন, বিভিন্ন ম্যাচের আগে বিপক্ষ দলের স্কাউটিং করে মরিনহো সেই রিপোর্ট রবসনের হাতে পৌঁছে দিতেন।

তো যাই হোক, রবসন-মরিনহোর স্পোর্টিং লিসবনের সময়টা সেরকম সুখময় ছিল না, সেবার লিগে তৃতীয় হবার পর ১৯৯৩ ইউয়েফা কাপে ক্যাসিনো সালজবার্গের কাছে হারের পর প্রেসিডেন্ট সোসা সিন্ত্রা একরকম পাগল হয়ে গেলেন, ছাঁটাই করলেন রবসনকে। তো যাই হোক, ছাঁটাই হবার পরেও বেশীদিন বেকার হয়ে বসে থাকতে হয়নি রবসনকে। স্পোর্টিংয়ের গাধামির চূড়ান্ত ফায়দা লুটে নিল চিরশত্রু এফসি পোর্তো, কোচ করে নিয়ে আসলো রবসনকে। রবসনও তাঁর যোগ্য সাগরেদ মরিনহোকে সাথে করে পোর্তোতে নিয়ে আসলেন, এবার একেবারে সহকারী হিসেবে! শুধু মরিনহোই না, রবসনের সাঙ্গপাঙ্গদের তালিকায় আরও ছিলেন সতের বছর বয়সী আরেক কিশোর, আন্দ্রে ভিয়াস বোয়াস নাম, যে ভিয়াস বোয়াস নিজেও পরে বিশ্বের অন্যতম নামকরা কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

স্পোর্টিংয়ে কিছু না করতে পারার হতাশা পোর্তোতে এসে অনেকটাই ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন রবসন, টানা দুইবার লিগ আর একবার পোর্তোকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়ে, যেই সেমিফাইনালে ইয়োহান ক্রুইফের অদম্য বার্সেলোনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাঁদের। বিদায় নিতে হলেও, পোর্তোতে রবসনের কীর্তি ভালোই নজরে রাখছিলেন বার্সেলোনার কর্তাব্যক্তিরা। ১৯৯৬ সালে বার্সেলোনার কোচ করে তাঁরা নিয়ে আসলেন রবসনকে, বলা বাহুল্য, সাথে করে চলে আসলেন মরিনহোও…

(চলবে)

কমেন্টস

কমেন্টস

3 thoughts on “মরিনহোর উত্থান : পোর্তোর গল্প – ২

মন্তব্য করুন

11 + thirteen =