মনের বদলটাই আসল বদল !

১) বাংলাদেশের ইতিহাসে টেস্টের ২য় ইনিংসে দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস …
২) বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ …
৩) তামিম ইকবালের ইনিংসটাই এখনো বাংলাদেশের সবচাইতে বড় ইন্ডিভিজুয়্যাল ইনিংস …
শুধু এই তিনটা নয় , খুঁটিনাটি আরো অনেক পরিসংখ্যানকে নতুন করে আরো গৌরবময় করে লিখেছে টীম বাংলাদেশ । তবে পরিসংখ্যানের জটিল অংকগুলো মাথায় রেখে অনেকদিন সুখ পাওয়া তো আর সোজা কাজ নয় ! তাই সেই কঠিন কাজে আমি যাবোও না ।

হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ আর মাশরাফি-মুশফিকের বাংলাদেশের আসল পার্থক্যটা আসলে কোথায় ? ক্রিকিনফোর সাইটের গাঁদা গাঁদা স্ট্যাটিস্টিক্স আপনাকে বলে দেবে, বাংলাদেশের ইনিংসপ্রতি গড় রান বেড়েছে , বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেস্টে হান্ড্রেড মারার রেইট বেড়েছে , মুশফিক-তামিমেরা ডাবল হান্ড্রেডও মেরে দিচ্ছে মাঝে মাঝে , বাংলাদেশ একজন মিস্টার কনসিস্টেন্ট মমিনুল হককে পেয়েছে … সাথে আরো অনেক কিছু !

তবে বাংলাদেশের টেস্ট টীমটাকে অনেক দিন ধরে ফলো করলে আপনার মনের অজান্তে বেরিয়ে আসবে অন্য কথা !
মাইন্ডসেট!!! মানসিকতা!!! মাঠে চ্যালেঞ্জের মুখে রঙ দেখানোর স্টাইল !!!
আসল পরিবর্তন তো এই জায়গাগুলোতেই । ৩০০ রানে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে স্রেফ প্রথম ইনিংসেই । ফিল্ডিং এ নেমে ১৬৯ টা ওভার খাটতে হয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি । শুধু ন্যূনতম ম্যাচ বাঁচাতে হলেই খেলতে হবে প্রায় ৫ সেশন । দেড়শ ওভার ! সাথে আরো যোগ করতে হবে দলের অন্যতম ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের চোটের কারণে প্রায় কাটা পড়ার ব্যাপারটা ।

CRICKET-BAN-PAK

কোন দলকে কতোটা পেশাদার হতে হবে ঠিক সে জায়গাটা থেকে একদম পাল্টা আক্রমণ করে ম্যাচ বাঁচাতে ?
হ্যাঁ ! ঠিক ততোটাই যতোটা বাংলাদেশ দল ছিলো খুলনা টেস্টের ৪র্থ ও ৫ম দিনে । বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান টেস্টের শুরুতে এগিয়ে ছিলো তাদের বোলিং আক্রমণের প্রোফাইলেই । পাকিস্তানের ২ জন স্পেশ্যালিস্ট ফাস্ট বোলার আর ২ জন স্পেশ্যালিস্ট স্পিনারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ খেলেছে ২ জন ফাস্ট বোলার (যাদের মধ্যে মোহাম্মদ শহীদের অভিষেক টেস্ট ছিলো এই খুলনা টেস্ট ) আর সাকিবের সাথে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে । সেদিক থেকে ৩০০ এর কাছাকাছি লিডকে পুঁজি হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার সবরকমের রসদই পাক দলপতি মিসবাহর কাছে ছিলো । কিন্তু মাইন্ডগেইম খেলাটা যে এখন বাংলাদেশও শিখে গেছে খুব সেয়ানাভাবে ! এমন জায়গা থেকে চতুর্থ দিনের শেষে বাংলাদেশ ১২০/৫ … এমন স্কোরবোর্ড দেখতে দেখতে তো আমরা অনেক আগ থেকেই অভ্যস্ত । পরের দিন সকালে হয়তো সাকিব বা রিয়াদ একটু দাঁড়াবে । তারপর হালকা আশা জাগিয়ে লাঞ্চের পর পরই টেস্ট শেষ । গল্পটা তো এমনই ছিলো আমাদের । ৫ম দিনের টি ব্রেকের আগ পর্যন্ত খেলা গেলেও রেজাল্ট হয়ে যায় আসলে চার নাম্বার দিনের খেলা শেষেই । সেই ভূতকে তামিম-মুশফিক-সাকিবের মতো সারথিরা পিটিয়ে মেরেছেন ।

এমনিতেই পিচে বোলারদের জন্যে ছিলো খুব কমই । তার উপরে অমন বুনো ব্যাটিং । সবমিলিয়ে ওয়াহাব রিয়াজের মত একজনকে দিনের শেষে থাকতে হলো ‘হামানদিস্তা’ সাইজের বড় ব্যাটারি হয়েই। সারাদিন মুখে দারুন তর্জন -গর্জন … কিন্তু আসল কাজের সময় স্রেফ বাতিল মাল ! দলটার আসল ব্যাপার হলো , দলটা এখন সামর্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত । ৩০০ রানের লিডেও ভড়কাচ্ছে না … আবার ওয়ানডেতে ৩১০-৩২০ চেইজ করার সময় এটাকে স্পেশ্যাল কিছু ভাবছে না । ফিল্ডারেরা দরকারি সময়ে ডিরেক্ট থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙে দারুন ব্রেকথ্রু এনে দিচ্ছে । সাব্বিরের মতো তরুণেরা জাতীয় দলে ঢুকতে ঢুকতেই ম্যাচ উইনার হয়ে যাচ্ছে ।

যেখানে ৩য় দিনের খেলা শেষে দেশের সবচাইতে বড় দৈনিকটার শিরোনাম , “ড্রই এখন জয়ের সমান … ”
সেখানে ৫ম দিনের খেলা শেষে আমরা আফসোস করি , “টেস্ট খেলাটা ৬ দিনের হলে মনে হয় বাংলাদেশই জিতে যায় !”

CRICKET-BAN-PAK

ফিয়ারলেস বাংলাদেশ ! এটা একেবারে নতুন বাংলাদেশ … এখনোতক সবচাইতে সেরা বাংলাদেশ দল । দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সব রেকর্ড এই দলটার পায়ে লুটাবে এ নিয়ে এত অবাক হবার কি? বিস্ময়ের আসল জায়গাটা তাই মন-মানসিকতায় বদলে যাওয়া এক ক্রিকেট ইউনিট ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − fifteen =