যে কারণে লুকা মডরিচ ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার

যে কারণে লুকা মডরিচ ব্যালন ডি'অরের যোগ্য দাবিদার

গতকাল থেকেই চোখে পড়ছে লুকা মডরিচ কে ব্যালন ডি’অর দেওয়া নিয়ে অনেকের অনেক মত। এক একজনের এক এক ধরণের প্রতিক্রিয়া তবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াই নজরে পড়েছে বেশি ; এর মূল কারণ হয়তো এই জন্য যে স্বাভাবিকভাবেই মেসি-রোনালদো দের ভক্তরাই বেশি এবং যেহেতু তাদের কেউ জিতেনি সুতরাং দুই পক্ষের সমর্থকরাই সমালোচনা করছে। তো এই ব্যাপারে এবার আমি কিছু বলতে চাই, বরাবরের মত চেষ্টা করবো নিরপেক্ষভাবে কথা বলার জন্য এবং অতিরঞ্জিত বা বাড়াবাড়ি না করার জন্য।

প্রথমে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি ব্যালন ডি অর দেওয়ার ক্রাইটেরিয়া যা কিনা ব্যালন এর রুল-রেগুলেশনের ১০ নম্বর আর্টিকেলে লিখা রয়েছে এবং সেগুলো হচ্ছে নিন্মলিখিত ৪ টি :

➡️এক মৌসুমে খেলোয়াড়দের ব্যাক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স

➡️খেলোয়াড়দের দাম (ট্যালেন্ট এবং ফেয়ার প্লে)

➡️ক্যারিয়ার

➡️খেলোয়াড়ের ব্যাক্তিত্ব ও ক্যারিশমা

ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় ওপরে লিখিত এই ৪ টি ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী এবং আমার ব্যক্তিগত মতামত এই ৪ টি ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী মডরিচ কে ব্যালন ডি’অর দেওয়া মোটেও নেতিবাচক কিছু নয়। আপনি এক মত হতে না পারেন, অন্য কেউ হয়তো বেশি ডিজার্ভ করতে পারে কিন্তু তাই বলে এটাকে নেতিবাচক বলার মত কোনো সুযোগ নেই। এখন আমি বলবো কিভাবে মদ্রিচ ওপরে লিখিত ৪ টি ক্রাইটেরিয়া পূরণ করেছে :

১. গতবছর এই মদ্রিচ কেই কিন্তু সবাই (অন্তত ৭০-৮০%) বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে মনে করেছে। সাধারণত ম্যান অফ দি ম্যাচ নির্বাচন করা হয় গোল স্কোরারদের তাই হয়তো মদ্রিচ সবথেকে বেশি ম্যান অফ দি ম্যাচ নির্বাচিত হননি কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রতিটি ম্যাচেই তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মত। আর বিশ্বকাপেও তিনি ভালো করেছেন, ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পিছে তিনি ছিলেন অন্যতম কারিগর এবং বিশ্বকাপ শেষ করেছেন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে।

২. মডরিচ এর প্রতিভা নিয়ে কি নতুন করে কিছু বলতে হবে ? গতবছর কিন্তু মডরিচকেই বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার মনে করা হতো (অধিকাংশই মনে করত) মডরিচ এর প্রতিভা নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে তো আপনাকে বলবো ফুটবল বাদ দিয়ে অন্য কোনো খেলা অনুসরণ করতে। আর ফেয়ার প্লে চিন্তা করলেও মদ্রিচ কখনোই আন্টি ফেয়ারপ্লে কিছু করেছে বা বলেছে বলে আমার মনে পড়েনা।

৩. মডরিচ এর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত বলকান এলাকায় এবং সেই যুদ্ধ থেকে তিনি এসেছেন বিশ্বের সব থেকে সেরা ক্লাবটিতে, শুধু তাই নয়, সেই ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সিটিও তিনি গায়ে দিয়েছেন। জিতেছেন টানা ৩ টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং প্রতি বছরই তিনি ছিলেন সেরাদের কাতারেই।

৪. মডরিচ এর ব্যাক্তিত্ব নিয়েও মনে হয়না কারো কোনো প্রশ্ন রয়েছে।

আমি এই কথা বলছিনা যে মডরিচ কে ব্যালন ডি’অর দেয়া সঠিক বা বেঠিক কিন্তু আমার মতে এটা এতটাও নেতিবাচক ধরণের কিছু না।

এখন আসি আরেকটি প্রসঙ্গে। অনেকেই বলছেন ২০১০ এবং ২০১৪ তে কেনো বিশ্বকাপকে অগ্রাধিকার দেয়া হল না ? কারণ খুব সাধারণ। কারণ হচ্ছে ২০১০-২০১৬ পর্যন্ত এই ৬ বছর সময়ে ব্যালন দে অর শুধুমাত্র ফ্রান্স ফুটবলের নিয়ন্ত্রণে ছিলোনা ; ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবল একসাথে মিশে ফিফা ব্যালন ডি অর নামক অ্যাওয়ার্ড বানিয়েছিলো যাতে করে ফিফা বেস্ট প্লেয়ার ও ব্যালন ডি’অর নিয়ে কাড়াকাড়ি না হয়। সুতরাং সেই সময়টিতে ভোট দিয়েছে পৃথিবীর ১৮০ টি দেশের একজন করে সাংবাদিক (ফ্রান্স ফুটবলের নিয়ম) এবং পৃথিবীর সব ফেডারেশনের ক্যাপ্টেন ও কোচ (ফিফা বেস্ট বাছাইয়ের নিয়ম) ; এই দুই পক্ষের ভোটের যোগফলে নির্ধারিত হয়েছে ব্যালন জয়ী। কিন্তু ২০১৬ এর পর থেকে ফ্রান্স ফুটবল পুনরায় ফিফা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং এর পর ২০১৮ বিশ্বকাপ হচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। ২০১০ এর আগ পর্যন্তও বিশ্বকাপের বছরে ফ্রান্স ফুটবল সবসময়ে বিশ্বকাপকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে , যেমন ২০০৬ তে জয়ী হয়েছে ক্যানাভারো, ২০০২ তে রোনালদো (যদিও ক্লাব পর্যায়ে তিনি কিছুই জিতেনি) এবং ১৯৯৮ তে জিদান। সুতরাং ২০১৮ তেও বিশ্বকাপকেই সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে চিরচারিত নিয়ম অনুযায়ী। ব্যতিক্রম হয়েছে শুধুমাত্র ২০১০, ২০১৪ তে। ২০১৮ নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে।

তবে শেষ কথা, আমার মতে ব্যালন ডি অর যেহেতু ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া উচিত সুতরাং মৌসুমে যে সব থেকে ভালো খেলেছে ব্যালন ডি’অর তাকেই দেয়া উচিত ; দলীয় ভাবে সে কি জিতলো বা না জিতলো সেটি দেখা উচিত নয়। এটা শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত মতামত। কিন্তু যেই রীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে সেই অনুযায়ী মডরিচ কে ব্যালন ডি’অর জয়ী ঘোষণা করা মোটেও অন্যের প্রতি অবিচার নয় কারণ মডরিচ একমাত্র খেলোয়াড় যে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ দুই প্রতিযোগিতাতেই ভালো পারফর্ম করেছে।

::: আরাফাত ইয়াসের :::

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × two =