ভোজেসের বিশ্ব রেকর্ডে চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান এ্যাডাম ভোজেসকে জিজ্ঞাসা করুন তো সে শেষ কবে আউট হয়েছিল ?
পেশাদার এই ক্রিকেটার উত্তর দিতে গিয়ে অপ্রস্তুত লাজুকতায় মাথা চুলকাবে নিশ্চিতভাবে ।
টেস্টে তার শেষবার আউট হওয়ার তারিখটি ভোজেস কেন, তার ভক্তরাও হয়ত বেমালুম ভুলে খেয়েছেন । গত বছরের নভেম্বরে এ্যাডিলেইডে কিউইদের বিপক্ষে শেষ আউট হয়েছিলেন মিস্টার আনবিটেন । এরপর দিন গড়িয়েছে । দেড়খানা সিরিজও গড়াচ্ছে । কিন্তু রোচ, টেইলর অতঃপর বোল্ট, সাউদিদের কাছে রহস্যই থেকে যাচ্ছেন তিনি ।
রহস্য মানবের চতুর্পাকেই বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন এই অজিম্যান ।
গ্রেট শচীন টেণ্ডুলকারের ৪৯৭ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে ভোজেস (৫৫১*) রানের দিক থেকে দীর্ঘ সময় আউট না হওয়া নতুন রেকর্ডধারী ।
দিনটি সোনার অক্ষরে বাধাই করে রাখতেই পারেন ভোজসে । রেকর্ডের এই উর্বর দিবসে আরও কয়েকটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনি । বর্তমান টেস্ট ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড়ের মালিক তিনি । তার টেস্ট গড় এখন ১০০.৩৩ ! ! !
ভুল দেখেননি । সংখ্যাটি ১০০.৩৩ ই । অপরাজিত থাকার রেকর্ডের দিনটিতেও শেষতক অপরাজিত থেকে গেলেন । সাউদি, বোল্টদের হতাশ করে ব্যক্তিগত ১৭৬ রানে দিনশেষ করেছেন স্যার এ্যাডাম খ্যত এ্যাডাম ভোজেস । সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানকেও আজ স্বরণ করে দিয়েছে ভোজেসের রেকর্ড ।
গড়ের শতকের কথা উঠলেই স্যার ডনের নাম চলে আসে সর্বাগ্রে । যদিও একটুর জন্য ক্যারিয়ার গড় ১০০ হয়নি ব্র্যাডম্যানের । তবে চলন্ত ক্যারিয়ারে ঠিকই এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন স্যার ডনের স্বদেশী স্যার এ্যাডাম ।
ভোজেসের এমন সব কীর্তিতে ভক্তরা আপ্লুত হবেন স্বাভাবিকভাবেই । তবে আক্ষেপের জায়গা একটিই । বয়সটা যে ৩৫ পেরিয়েছে ভোজেসের ।
ক্রিস রজার্স, মাইক হাসির পর ভোজেস আরেক আক্ষেপের নাম অজি ভক্তদের জন্য । অসম্ভব প্রতিভাবান এই কীর্তিমানবদের আন্তর্জাতিক অভিষেক ও কীর্তিগাঁথা শুরু হয়েছে ক্রীড়া বৃদ্ধকালে ।
আর ৩৫ বছর বয়সে অভিষিক্ত ভোজেস রেকর্ড গড়েছেন ৫টি শতক হাঁকিয়ে । ৩৫ বছরে এসে এর আগে সর্বাধিক শতকের রেকর্ড মালিক ছিলেন জিম্বাবুয়ের ডেভ হফটন (৪) ।
এখানেই শেষ নয় । জিওফ বয়কটের সাথে যৌথভাবে আরেকটি রেকর্ড বাগিয়েছেন ভোজেস । টানা তিন শতকের প্রথম দুটিই অপরাজিত থাকার রেকর্ড । কাল যদি অজি ইনিংস ঘোষণার সময় ভোজেস অপরাজিত থেকে যায় তবে বয়কটকে সরিয়ে এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক বনে যাবেন তিনি ।
একই দিনে রেকর্ড বইয়ে পরিবর্তন এসেছে আরও একটি । ৩৫ বয়সের পর ১৭৫+ এর একাধিক (২) ব্যক্তিগত ইনিংসে গ্রেট পন্টিংয়ের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয়তে চলে এলেন ভোজেস । চারটি নিয়ে স্যার ব্র্যাডম্যান শীর্ষে ।
ভোজেসের এতসব কীর্তির দিনে তার দল অস্ট্রেলিয়াও যে মেঘের ভেলায় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । সফল প্রথম দিনের পর ওয়েলিংটনের ২য় দিনটিও নিজেদের করে নিয়েছে স্মিথ বাহিনী । স্বাগতিক কিউইদের প্রথম ইনিংসের ১৮৩ রানের জবাবে অজিদের প্রথম জবাব এখন পর্যন্ত ৪৬৩/৬ স্কোরকার্ডে লীড ২৮০ ।
লীড ঋণ বাড়তে কাল সকালেও । যদি না অজি অধিনায়ক জলদি জলদি ইনিংস ঘোষণা করেন ।
লীড বোঝার এমন দমবন্ধ দৃশ্যে অবতারণে কিউই অধিনায়ক তার ঘরের পিচকে বিশ্বাসঘাতক বলতেই পারেন । সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়ানো নিজেদের ‘ডেডলি পিচ’ এখন নিজেদেরই মৃত্যুফাঁদ । অবশ্য পিচ মহাশয়ও পাল্টা জবাব দিতে পারেন এই বলে যে, প্রথম সেশনে তো অগ্নিগর্ভাই থাকি । কই তখন তো তোমার ছেলেরা তার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি । তবে পিচ ও ম্যাককালামের এই কাল্পনিক বাক-বিতণ্ডার মধ্যে বাস্তব সত্যটি হলো অজিদের দুই ব্যাটসম্যানের অতিমানব হয়ে ওঠা ।
ভোজেস তাণ্ডবের আগেই আরেকটি তাণ্ডব আরম্ভ হয়েছিল । উড়ন্ত ছঁন্দে থাকা উসমান খাজা আগের দিন অর্ধশতকে অপরাজিত ছিলেন ।
যেটি আজ গিয়ে ঠেকেছে শতকের মাইলফলকে । ট্রেন্ট বোল্টের এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদের পড়ার আগে খাজার ব্যাট থেকে এসেছে ১৪০ রানের এক ঝলমলে ইনিংস । তার সাজঘরের ফেরার সময় দল এক শক্ত ভীতে দাঁড়িয়ে । দলীয় রান ২৯৯ এ লীড তখন ১১৬ ।
উসমান খাজা তার ছয়টি টেস্ট ইনিংসের চারটিতেই শতক হাঁকিয়েছেন ।
ইনিংসগুলো যথাক্রমে ১৭৪, ৯*, ১২১, ১৪৪, ৫৬, ১৪০ । খাজার বিদায়ের পরের এক বল বাদেই বোল্টের ফিরতি ক্যাচের শিকার হোন মিচেল মার্শ । দিনশেষে স্বাগতিকদের অর্জন এই একটাই । মার্শের বিদায়ের পর এবার উইকেট রক্ষক পিটার নেভিলকে সাথে করে ৯৬ রানের জুটি গড়েন ভোজেস । ব্যক্তিগত ৩২ রানে এ্যাণ্ডারসনের বলে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসে ধরা পড়েন নেভিল । এরপর কোন অজি ব্যাটসম্যানই ড্রেসিংরুমমুখী হতে চাননি । পিটার সিডলকে (২৯*) সাথে করে দিনের বাকিটা নিরাপদে পার করেছেন অপরাজিত ভোজেস ।
ম্যাচের বয়স এখন মাত্র দুইদিন । আর তাতেই চালকের আসনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + nine =