ভিয়া দা আনপ্রেডিক্টেবল লিজেন্ড

একজন সেনাপতি কিংবা একজন সেনাপ্রধান যতই দক্ষ আর বিচক্ষণ হোক নাহ কেন তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত অসহায় যতক্ষণ তার সাথে থাকা সিপাহীরা অচল, আপনারা দাবা খেলায় দেখে থাকেন মন্ত্রী খেলার মাস্টারমাইন্ড হলেও মাঝেমধ্যে কিস্তি দিয়েও আপনি অপোনেন্টের ঘরে হামলা চালাতে পারেন আর তার প্রত্যেকটা পাওয়ার লন্ডবন্ড করে দিতে পারেন, তবে আপনি এই কিস্তির চালই যদি না জানেন কিংবা ভুল ঘরে গিয়ে আপনার কিস্তি বসে তখন আপনার চাল আপনাকেই নিয়ে ডুববে, ভিসেন্তে দেল বক্স নামক একজন মাস্টারমাইন্ডার লোককে আপনারা সবাই চিনেন তার চালে মন্ত্রী ছিল তিনজন কিন্তু এই তিন মন্ত্রীর সাথে তার কাছে এমন এক কিস্তি ছিল যা মন্ত্রীর আগেই খেলা কাবুতে নিয়ে নিতো, কার কথা বলছি? আচ্ছা আরেকটু ধৈর্য্য নিয়ে পড়ি,
রনক্ষেত্রে কেবল তীর আর ধনুক নিয়ে নেমে পড়লে কেউ যোদ্ধা হয়ে যায় না, সঠিক সময়ে, সঠিক গতিতে, সঠিক কোনায়, সঠিক নিশানা লাগাতে পারলেই যুদ্ধ বিজয় করা সম্ভব, সেনাপতি ইকার ক্যাসিয়াস আর রাজা ভিসেন্তে দেল বক্সের নেতৃত্বে স্পেন যে সাম্রাজ্য জয় করতে গিয়েছিল সেই স্পেনেরই একজন যোদ্ধা একজন প্রকৃত তীরন্দাজ ছিল ডেভিড ভিয়া, হুম কথা বলছি স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের উত্তানের অনেকগুলো মহানায়কের মধ্যে একজনকে নিয়ে, দেল বক্সের চালের কিস্তি, স্প্যানিশ যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বকালের সেরা তীরন্দাজ ডেভিড ভিয়া সানচেজ যার প্রত্যেকটা নিশানা লক্ষ্য ভেদ করতো অপোনেন্টকে পিছু হটতে বাধ্য করতো আজকের পর্বটা তাকে নিয়েই।স্পেন সেই ১৯৯৮ থেকে বিশ্বকাপ প্রত্যাশী দল, তাদের টিমে এর আগে অনেক স্ট্রাইকার খেলে গিয়েছিল এর পরেও অনেক খেলবে তবে একটা ভিয়া কেবল একবারই আসে, ফুটবল গোলের খেলা না কেবল এটা চিরন্তন সত্য কিন্তু ফাইনালে একটা গোল না পাওয়ার দায়েই গত তিন তিনটা বছর রানার্সআপ আর্জেন্টিনা, বুঝতেই পারলেন একটা দলে একটা জাত স্ট্রাইকারের ভূমিকা কতটুকু, ফুটবল মাঠে ছন্দ, শিল্প, পাসিং কম্বো এইসবই দেখে নিয়ে দর্শক তালি দিবে কিন্তু এইসবের শেষে যদি গোল না আসে তাহলে দর্শক সেলেব্রেট করবে না, ফুটবল সবাই দেখে বুঝোক বা না ই বুঝোক, কারো জন্য ফুটবল গোলের খেলা, কারো জন্য ফুটবল ২২ জনের ১ টি বল নিয়ে এদিক ওদিক ছুটা, কারো জন্য ফুটবল একটা ভালবাসা, একটা বিশ্বাস যেখানে গোল হওয়া আবশ্যক, ডেভিড ভিয়া সেইরকমই একজন গোলদাতা, সে হয়তো জাভি-ইনিয়েস্তা কাতারে শামিল হতে পারবে না কিন্তু তার জায়গায় তার নিজস্ব অবস্থানে সে একজন পরিপূর্ণ লিজেন্ড, ২০০৮-২০১২ স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের শাসনামলে যতবারই দেল বক্সের দলের গোল প্রয়োজন হয়েছে যতবারই জাভি-ইনিয়েস্তার পাসিং গেমকে পরিপূর্ণ অ্যাটাকের রুপ দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে ততবারই বিপক্ষ দুর্গ ভেদ করে সঠিক সময়ে সঠিক মাপে সঠিক স্টাইলে বলটিকে জালে জড়িয়ে দিতো ডেভিড ভিয়া।
২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপ আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, স্পেন টিম বলতে জানতাম তাদের একটা গোলকিপার আছে ক্যাসিয়াস যে বিশ্ব সেরাদের একজন, আমাদের জাভি,পুয়োল,ইনিয়েস্তা তাদের হয়ে খেলে আর হুম তাদের একটা স্ট্রাইকার আছে এল নিনো তরেস, কিন্তু এ কি তাদের আরো একটা স্ট্রাইকার আছে যাকে আমি চিনতামও না, তাদের আরো একজন বেস্ট আছে যার কথা চর্চাইও ছিলো না, সেই ২০১০ এ ডেভিড ভিয়া তার ফিনিশিং তার সেলেব্রেশন আমাকে আমার মতো অনেককে স্পেনের ফ্যান হতে বাধ্য করলো , স্প্যানিশ যে রুপকথা লিখে দিয়েছিলেন স্পেনের সেই টিমটা সেই টিমের কালি সরবরাহকারী ছিলেন ভিয়া দা আনপ্রেডিক্টেবল লিজেন্ড, দা আল্টিমেট ডেড ফিনিশার.পূর্ন নাম-ডেভিড ভিয়া সানচেজ
জন্মতারিখ- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৮১
জন্মস্থান- লাঙ্গারিও, স্পেন
উচ্চতা-৫ ফিট ৯ ইঞ্চি
প্লেয়িং পজিশন- সেন্টার ফরোয়ার্ড
ইয়ুথ ক্যারিয়ার- লাঙ্গারিও, স্পোর্টিং গিজন
সিনিয়র ক্যারিয়ার – স্পোর্টিং গিজন, রিয়াল জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া, ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা, এটলেটিকো মাদ্রিদ, নিউইয়র্ক সিটি।
জাতীয় দল- স্পেন(২০০৫-২০১৪)১৯৮১ সালের ৩ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্পেনের ইতিহাসের সেরা এই তীরন্দাজ(স্ট্রাইকার), ছোটবেলায় ভিয়ার একটা অভ্যাস ছিলো যেটা নিয়ে তার মা-বাবা সবসময় চিন্তায় থাকতো, সে ফুটবল খেলার জন্য তার চেয়ে বয়সে বড়দের চ্যালেঞ্জ করতো আর প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জ সে জিতে নিতো কিন্তু মাঝেমধ্যে বড়রা ক্ষেপে গিয়ে তাকে ধুয়ে দিতো যেমনটা সে ধুয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ৪ টা প্রতিপক্ষকে, ভিয়া তার ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করে তার জন্মভূমি লাঙ্গারিওর হয়ে, সেখানে ৯ বছর ট্রেনিং নেওয়ার পর তাকে নিয়ে যায় স্পোর্টিং গিজন ইয়ুথ একাডেমী, স্পোর্টিং গিজনের সিনিয়র টিমে তার প্রমোশন হয় পরবর্তী বছরই, ট্যালেন্টেড ভিয়ার উপর চোখ পড়ে রিয়াল জারাগোজার, রিয়াল জারাগোজা থেকে যোগ দেয় ভ্যালেন্সিয়ায়, ভ্যালেন্সিয়ায় ভিয়া ২০০৮-০৯ মৌসুমে ২৮ গোল করে লা লিগার সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা ছিল, ২০১০ এ তাকে দলে টানে বার্সেলোনা, বার্সার হয়ে ভিয়া তার প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে যেটার ফাইনালে ম্যানইউর বিপক্ষে তার গোল নিশ্চয় আপনাদের চোখে এখনো ভাসে, ২০১৩ তে সে এটলেটিকোতে যোগ দেয় ২০১৪ বিশ্বকাপের পরেই স্পেনকে বিদায় জানিয়ে সে এমএলএসএ নিউইয়র্ক সিটিতে যোগ দেয়, বর্তমানে ভিয়া নিউইয়র্ক সিটির ক্যাপ্টেন,
২০০৮ ইউরোর সিলভার বুট উইনার ভিয়া, ২০১০ বিশ্বকাপেও সে যৌথভাবে সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা ছিল, স্পেনের ইতিহাসের প্রথম প্লেয়ার হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে ভিয়া ২০১৪ তে অবসর নেওয়ার আগে ৯৭ ম্যাচে গোলসংখ্যাটাকে ৫৯ এ নিয়ে যায় ভিয়া।
জিতেছেন ইউরো, কনফেডারেশন কাপ, ফুটবল বিশ্বকাপ।দেখে নি আনপ্রেডিক্টেবল লিজেন্ড ভিয়ার ক্লাব ক্যারিয়ার -ইয়ুথ ক্যারিয়ার-ভিয়া লাঙ্গারিওর ছোট একটা অঞ্চল টুলিয়াই জন্ম নেয়, তার বাবার নাম হোসে ম্যানুয়াল ভিয়া, ভিয়ার ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালবাসা রয়েছে, কিন্তু তার ফুটবলার হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে যখন তার ৭ বছর বয়সে সে ইন্জুরীতে পড়েছিলো তার ডান পায়ের হাঁটুতে, ডাক্তার বলেছিলো সেটা রিকোভার করা সম্ভব না কিন্তু তার বাবার সাপোর্ট আর তার ইতিহাস লেখার অদম্য ইচ্ছাই ভিয়া সময়মত রিকোভার করে তারপর সে লাঙ্গারিওর ইয়ুথ একাডেমীতে যোগ দেয়, সেখান থেকে ৯ বছর ফুটবল ট্রেনিং নেওয়ার পর স্পোর্টিং গিজন তাদের ইয়ুথ একাডেমীতে ভিয়াকে নিয়ে যায়। গিজ। তখন লা লিগার টিম ছিলা না তারা সেকেন্ড ডিভিশনে খেলতো।স্পোর্টিং গিজন(২০০১-২০০৩)২০০১ এ স্পোর্টিং গিজনের সিনিয়র টিমে সুযোগ পায় ভিয়া, সেখানে ২ মৌসুমে ২৫ গোল করে ভিয়া, তখনকার গিজন কোচ আলকেভার ভিয়া সম্পর্কে বলে-
“তার টেকনিকাল কোয়ালিটি অনেক উপরে, তার প্রথম টাচ অসাধারন কেউ এটা তার চেয়ে ভালোভাবে করতে পারবে কিনা আমি সিউর না, সে ডি এরিয়ায় খুব চালাকির সাথে ডায়াগনাল রান করতে পারে আর সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে শ্যুট করবে কি করবে না”জারাগোজা(২০০৩-২০০৫)গিজনের হয়ে দুই মৌসুমে মোট ৪০ গোল করার পর স্প্যানিশ লিগের অনেক টিম ভিয়ার জন্য বিড করে, গিজন তাকে বিক্রয় করার জন্য রাজি ছিল না কিন্তু ২০০৩ এ ক্লাবের আর্থিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে পড়ে আর তাই ২০০৩ এর সামারে ৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে রিয়াল জারাগোজাতে ট্রান্সফার সম্পন্ন করে ডেভিড ভিয়া, ডেভিড ভিয়া জারাগোজার হয়ে তার প্রথম অফিসিয়াল লা লিগা ম্যাচ খেলে, ২য় ম্যাচেই তার প্রথম লা লিগা গোল পেয়ে যায় ভিয়া , ভিয়া তার প্রথম হ্যাটট্রিক করে সেভিয়ার বিপক্ষে যেটা ৪-৪ গোলে ড্র ছিল, জারাগোজার হয়ে চার গোলই করে ভিয়া, ২০০৪ সালে কোপা দেল রের ফাইনালে কোয়ালিফাই করে জারাগোজা যেখানে ফাইনালের ম্যান অফ দা ম্যাচ ছিল ভিয়া, সে শুরুতেই জারাগোজাকে ক্রুশাল লিড এনে দেয় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ৩-২ গোলে জিতে নেয় জারাগোজা তখনই স্প্যানিশ দলে প্রথমবার ডাক পায় ভিয়া, তার হ্যাটট্রিকে পরবর্তী মৌসুমে সেভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পায় জারাগোজা জিতে নেয় সুপারকোপা দা এসপানা,
জারাগোজা ফ্যানরা ভিয়ার শেষ ম্যাচে চান্ট করতে থাকে – “ইয়া ইয়া ইয়া ভিয়া মারাভিয়া” মারাভিয়া মানে গ্রেট ওয়ান্ডারফুল।ভ্যালেন্সিয়া(২০০৫-২০১০)২০০৫ সামার ট্রান্সফার উইন্ডোতে ১২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ভ্যালেন্সিয়ায় ট্রান্সফার সম্পন্ন করে ভিয়া, প্রথম ম্যাচে সাবস্টিটিউট হিসেবে নেমে গোল করে ভিয়া দলকে ১-০ গোলে জিতিয়ে আনে, ২য় ম্যাচটি ছিল তার সাবেক ক্লাব জারাগোজার বিপক্ষে সে ম্যাচে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ভ্যালেন্সিয়া, ৮১ মিনিটে সাবস্টিটিউট হিসেবে নেমে আরো একবার ভ্যালেন্সিয়াকে পয়েন্ট এনে দেয় ভিয়া, ভিয়া মূলত ডেড মোমেন্ট স্পেশালিষ্ট ছিল সে ডেড মোমেন্টে গোল বের করে আনতো, তার দেয়া গোলেই বার্সাকে ন্যু ক্যাম্পে ১-০ গোলে পরাজিত করে ভ্যালেন্সিয়া, ভ্যালেন্সিয়ায় তার প্রথম মৌসুমেই সে ৩৫ লিগ ম্যাচে ২৫ গোল করে লা লিগার ২য় সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা হয়।
পরবর্তী মৌসুমে সে লিগে ১৮ গোল করে আর ২০০৮ ইউরোর সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পর সে ভ্যালেন্সিয়ায় তার ফর্ম কন্টিনিউ করে, ২০০৯ এ ব্যালন ডি অরের ১০ জনের শর্টলিস্টে জায়গা পায় ভিয়া, যেখানে সে ৯ নম্বর পজিশন অর্জন করে,
“ডেভিড ভিয়া একজন পিউর ক্লাস, তার ফিনিশিং তার স্পেস করে নেওয়ার এভিলিটি অন্য পর্যায়ের, আমি চাই সে আমার সাথে এক টিমে খেলুক, সে ইংলিশ লিগে আরো ভালো করবে”
-সেস ফাব্রেগাস
পরবর্তীতে তারা দুজন একসাথে বার্সায় খেলেছিলো,
ইউরোপের টপ ক্লাবগুলো ভিয়ার জন্য লড়াইয়ে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড,
কিন্তু ভিয়া তখনও তার নিজস্ব গতিতে ছুটছিলো ভ্যালেন্সিয়ায়, সে তার গিজনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলো গিজনের মাঠেই কিন্তু একটি গোলও সে উৎযাপন করেনি।
“ডেভিড ভিয়া ইজ এ ফেনোমেনন, বেস্ট ইন ইউরোপ”
-কুইনিফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা(২০১০-২০১৩)২০১০ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই বার্সায় যোগ দেয় ডেভিড ভিয়া, যদিও ডিলটি বিশ্বকাপের আগেই সম্পন্ন হয়েছিল, তাকে কিনতে বার্সার গুনতে হয়েছিল ৪০ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু তার জন্য ৪০ মিলিয়ন খরচ করা যে খুব বেশি না সেটা তার প্রথম মৌসুমেই বার্সাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভিয়া,
নিজের জাত চেনাতে কখনোই ভুল করতো না ভিয়া সে তার পুরো ক্যারিয়ারে প্রত্যেকটা ধাপে তার আইডল কুইনিকে অনুসরন করতো,
বার্সাও ভিয়াকে নিরাশ করেনি ভিয়ার স্বপ্ন ছিল ৭ নম্বর জার্সি পড়ে মেসির পাশে খেলার বার্সা ম্যানেজমেন্ট তাকে সে সুযোগটি দিয়েছিল আর ভিয়াও প্রমান করেছিল সে একজন জাত লিজেন্ড,
লা লিগায় তার ডেবিউ ম্যাচেই রিয়াল সান্টাডোরের বিপক্ষে গোল করে ভিয়া, পরবর্তী ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে ভিয়ার গোলটি বেস্ট গোল অফ দা মান্থ নির্বাচিত হয়, ভিয়া তার প্রথম এল ক্লাসিকোতে ২ গোল করেছিল ২৯ নভেম্বর ২০১০ এ ম্যাচটিতে ৫-০ গোলে জয় পেয়েছিল বার্সা, ২৮ মে ২০১১ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ২৫ এয়ার্ড দূরত্ব থেকে গোল করেছিল ভিয়া ম্যানইউর বিপক্ষে যেটি তার ২য় সেরা চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সেরা ৫০ গোলের মধ্যে জায়গা করে নেয় ভিয়ার গোলটি,
পরবর্তী মৌসুমে ফাব্রেগাসের উপর মার্সেলোর ফাউল নিয়ে এল ক্লাসিকোতে যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল সেটাতে মেসুত ওজিলের সাথে ইনবল্ব হয়ে লাল কার্ড দেখে ভিয়া সাথে তিনম্যাচে সাসপেন্সন, ওই পুরো মৌসুমটাই ডান পায়ের পুরনো ইন্জুরীতে আক্রান্ত হয়ে চলে যায় ভিয়ার মিস করে স্পেনের হয়ে ২০১২ ইউরোও,
বার্সার হয়ে তার ৩য় মৌসুমে ৩০০ ক্যারিয়ার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে ডেভিড ভিয়া, ওই মৌসুমে ১৬ লিগ গোল করে ভিয়া যার ফলে ২০১৩ কনফেডারেশন কাপে আবারো স্পেন টিমে ফিরে ভিয়া, ২০১৩ এর জুনে তাকে বিক্রয় করে দেয় বার্সা।
” ভিয়া কেবল ফিনিশিং দেওয়ার জন্য সেখানে থাকে না, সে গভীরতার সমার্থক , সে যে কোন মুহূর্তে যে কোন পজিশন থেকে পাসিং লাইন বের করতে পারে আর ডিফেন্ডারদের পজিশন ছাড়তে বাধ্য করতে পারে”
-ইয়োহান ক্রুইফ(২০১২)এটলেটিকো মাদ্রিদ ও নিউইয়র্ক সিটি(২০১৩-বর্তমান)২০১৩ সালের ৮ ই জুলাই বার্সা ঘোষনা দেয় যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে এটলেটিকোতে যোগ দিচ্ছে ভিয়া, সেখানে তার প্রথম ম্যাচ ছিল বার্সার বিপক্ষে সুপারকোপা দা এসপানার, সেই ম্যাচে গোল করে ভিয়া, এটলেটিকোর হয়ে লিগে ১৩ গোল করে ভিয়া, সাথে জিতে নেয় লা লিগা টাইটেল।নিউইয়র্ক সিটি-২০১৪ সালে এমএলএসএ পারি জমায় ভিয়া, মেলবোর্ন সিটিতে ৬ মাস লোনে খেলে ভিয়া, লোন থেকে ফেরার পর ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে তাকে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব দেয় নিউইয়র্ক সিটি চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করেছে ভিয়া..জাতীয় দল(২০০৫-২০১৪)২০০৫ এ স্পেনের হয়ে প্রথম মাঠে নামে ডেভিড ভিয়া, সে বছর ১৬ ই নভেম্বর স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে সে তার প্রথম ইন্টারন্যাশনাল গোল পায়, তার পরের বছরই ২৩ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পায় ভিয়া, ২০০৬ বিশ্বকাপেও নিজের সামর্থ্যের বরাবর পরিচয় দিয়েছিল ডেভিড ভিয়া, নকআউট রাউন্ডে ফ্রান্সের বিপক্ষে দলকে ১-০ গোলের লিডও এনে দিয়েছিল যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হেরে স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা ওইখানেই থেমে যায় প্রতীক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হয়, সে বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৩ গোল করেছিল ভিয়া,ইউরো ২০০৮-ইউরো ২০০৮ এর কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ৬ গোল করে ভিয়া যার মধ্যে লিচেনস্টেইনের বিপক্ষে বাইসাইকেল গোল রয়েছে, শুরু হয় ইউরো ২০০৮, রাশিয়ারর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ডেভিড ভিয়া ওই ম্যাচে স্পেন ৪-১ গোলে জয় পায়, তৃতীয় গোলটি করার পর ভিয়া সেটি সেলেব্রেট করার জন্য তরেসের উদ্দেশ্যে ছুটে যায় যে তখন বেঞ্চে ছিল, সুইডেনের বিপক্ষে আরো একবার ডেড মোমেন্টে গোল করে ভিয়া ৯২ মিনিটে তার গোলে ২-১ গোলে জয় পায় স্পেন, কোয়াটার ফাইনালে পেনাল্টিশ্যুট আউটে ইতালিকে পরাজিত করে স্পেন ভিয়া ছিল প্রথম পেনাল্টিটেকার আর গোলদাতা, সেমিফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে পায়ে আবারো ইন্জুরীতে পড়ে ভিয়া ফলে ফাইনালে সে খেলতে পারেনি, ফাইনালে জার্মানিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন জানিয়ে দেয় বিশ্বকে তাদের আধিপত্যের কথা, ৪ গোল করে গোল্ডেন বুট নিজের নামে করে নেন ডেভিড ভিয়া।
“কাকা আর রোনালদোর পরিবর্তে আমার ডেভিড ভিয়া আছে”
-ভিসেন্তে দেল বক্স
২০০৯ এ বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইং ম্যাচে ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে ভিয়া, কনফেডারেশন কাপে ৩ গোল করে জিতে নেয় ব্রোন্জ বুট, ইরাকের বিপক্ষে তার গোলটি ডিসাইসিভ ছিল ১-০ গোলে জিতেছিল স্পেন। ২০০৯ এ স্পেনের হয়ে ৫০ ম্যাচ পূর্ন করে ভিয়া, সেই সাথে সো বছর ১২ গোল করে স্পেনের একবছরে সবচেয়ে বেশি গোলদাতার রেকর্ডে নিজের নাম বসিয়ে দেন ভিয়া।বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০(নতুন এক সূর্যের উদয় নতুন এক স্বপ্নের সফলযাত্রা) -সময় চলে এসেছিলো সেটা করে দেখানোর যেটা স্পেন গত একযুগ ধরে করে দেখাবে বলে স্বপ্ন দেখছিল, স্পেনের সে টিমটা যেটা ইতিহাস লিখে গিয়েছিল সেই টিমটা স্প্যানিশ ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল অমর, তারা এসেছিল তারা খেলেছিল তারা পুরো বিশ্বকে দেখিয়েছিল স্বপ্নেরযাত্রা কিভাবে পারি দিতে হয়, তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল দা গ্রেটেস্ট শো অন দা আর্থে, তারা নিজের করে নিতে সক্ষম হয়েছিল ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফিটিকে, তারাই হলো ইতিহাসে সাফল্যের লেখক ও ধারক তারা হলো ক্যাসিয়াস,পুয়োল জাভি,ইনিয়েস্তা, জাভি আলনসো, এই নামগুলোর ভীড়ে একটা নাম খুঁজে পাওয়া খুব বেশি কষ্টকর কিন্তু তাদের মধ্যেই একজন ছিল ডেভিড ভিয়া দা ডেড মোমেন্ট স্পেশালিষ্ট,
ভুভুজেলা, কেনানের ওয়েভিন ফ্লাগ আর শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা দিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ ২০১০, স্পেন তাদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২য় ম্যাচে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পায় স্পেন গোল দুইটিই করেছিল ভিয়া, পরবর্তী ম্যাচে মিডফিল্ড থেকে খালি বারে শ্যুট নেয় ভিয়া বামপ্রান্ত থেকে নেওয়া সে শ্যুট বরাবর লক্ষ্যে চিলির বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে নকআউটের টিকেট পায় স্পেন,
২য় রাউন্ডে স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল পর্তুগাল, ডেভিড ভিয়া আরো একবার প্রমান করেছিল সে জাভি-ইনিয়েস্তা ডুয়োর পাসিংয়ের পূর্ন রুপ, জাভির ব্যাকহিল থেকে ইনিয়েস্তার পাস ভিয়ার পায়ে ভিয়া সেটি পর্তুগালের জালে জড়িয়ে দেয় স্পেন পেয়ে যায় কোয়াটার ফাইনালের টিকেট, কোয়াটারে স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল প্যারাগুয়ে যেখানে আরো একবার গোল করে স্পেনকে সেমিতে নিয়ে যায় ডেভিড ভিয়া, সেমিতে পুয়োলের সেই বিধ্বংসী হেড গোলে জার্মানিকে পরাজিত করে স্পেন, আর ফাইনালে ডন ইনিয়েস্তার গোলে ইতিহাস লিখে ফেলে স্পেন, সেই টুর্নামেন্টে ৫ গোল করে সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা হয় ডেভিড ভিয়া,ইন্জুরীর কারনে ২০১২ ইউরো খেলতে পারেনি ভিয়া, ২০১৪ বিশ্বকাপই ছিল স্পেনের হয়ে তার বিশ্বকাপ, সে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ব্যাকহিল গোলটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গোল, সেটিই ছিল স্পেনের হয়ে ভিয়ার শেষ ম্যাচ, ৩ বিশ্বকাপে ৯ গোল নিয়ে ভিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা, অবসর নেওয়ার আগে স্পেনের জার্সি গায়ে ৯৭ ম্যাচে করেছেন ৫৯ গোল, ভিয়া এখন পর্যন্ত স্পেনের সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা, এবং একমাত্র প্লেয়ার যে স্পেনের হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।ভিয়ার অর্জনসমূহ-দলগত অর্জন-Real Zaragoza
Copa del Rey (1): 2003–04
Supercopa de España (1): 2004Valencia
Copa del Rey (1): 2007–08Barcelona
La Liga (2): 2010–11, 2012–13
Copa del Rey (1): 2011–12
Supercopa de España (2): 2010, 2011
UEFA Champions League (1): 2010–11
UEFA Super Cup (1): 2011
FIFA Club World Cup (1): 2011Atlético Madrid
La Liga (1): 2013–14
UEFA Champions League Runner-up (1): 2013–14জাতীয় দলের হয়ে-FIFA World Cup (1): 2010
UEFA European Championship (1): 2008ব্যক্তিগত অর্জন-Spanish Player of the Year: 2005–06
Zarra Trophy: 2005–06, 2006–07, 2008–09, 2009–10
La Liga Assist Leader: 2006–07[217] UEFA Euro 2008 Golden Boot
UEFA Euro 2008 Team of the Tournament[146] UEFA Euro 2008 Man of the Match Spain vs Russia, Spain vs Swedenborg
2009 FIFA Confederations Cup Bronze Shoe
2009 FIFA Confederations Cup Team of the Tournament.[156] 2010 FIFA World Cup Silver Shoe
2010 FIFA World Cup Bronze Ball
2010 FIFA World Cup Dream Team[218] 2010 FIFA World Cup Man of the Match Spain vs Honduras
USSA Male Athlete of the Year: 2010
FIFA/FIFPro World XI: 2010
UEFA Team of the Year: 2010
MLS Player of the Week 2015: Week 2
MLS Player of the Week 2015: Week 15
MLS All-Star (2): 2015,[219] 2016
NYCFC Etihad Player of the month: July 2015
Ride of Fame: September 2015 [220] NYCFC Most Valuable Player: 2015[221] NYCFC Goal of the Year: 2015
NYCFC Etihad Player of the month: April 2016
Achievements
Valencia Top Scorer: 2005–06, 2006–07, 2007–08, 2008–09, 2009–10
La Liga’s Top Assisting Player: 2006–07[13] Spain all-time top scorer: 59 goals
Spain’s all-time top scorer in FIFA World Cup matches
Most goals scored in one World Cup (by a Spanish international): 5
Most goals scored in one calendar year (by a Spanish international): 12 (2008, 2009)[148] Largest streak of games having scored (by a Spanish international): 6[150] Decorations
Prince of Asturias Awards: 2010
Gold Medal of the Royal Order of Sporting Merit: 2011[222] Notes
Jump up ^ Includes Copa del Rey, Supercopa de España, U.S. Open Cup and MLS Cup Playoffs.
Jump up ^ Includes UEFA Intertoto Cup, UEFA Cup, UEFA Champions League, UEFA Super Cup, FIFA Club World Cup and CONCACAF Champions League.অন্যান্য-ভিয়া ২০০৩ এ তার বান্ধবী প্যাটরিয়া গন্জালেসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে, তার স্ত্রীও ফুটবল প্লেয়ার ছিল, ভিয়ার আইডল হলো কুইনি ও বর্তমান বার্সা কোচ লুইস এনরিকে, ভিয়া ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করে।ডেভিড ভিয়া স্পেনের এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ভার্সেটাইল একজন স্ট্রাইকার, তার ফিনিশিং তার স্পেস বের করে নেওয়ার ক্ষমতা অন্য কারো মধ্যে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, ভিয়া স্পেনের সোনালী প্রজন্মের একজন, পার্সোনালি সে আমার খুব বেশি পছন্দের একজন, ডেভিড ভিয়ার মতো একজন স্পেন টিম আর কখনো আনতে পারবে না, এটাই ছিল তার গল্প,ডেভিড ভিয়া দা আনপ্রেডিক্টেবল লিজেন্ড……।। 🙂
লিখাঃ Hameem Sharar JuveenG

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 1 =