ভিভ কথন

চুইংগাম চিবুতে চিবুতে মাঠে আসা, হেলমেট না পরে ক্যাপ মাথায় দিয়ে দুর্দান্ত গতির পেসারদের সামলে পাড়ার বোলার বানিয়ে ফেলা, পেসাররা স্লেজিং করবে কি, স্লেজিং সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকতো। তার ব্যাটিঙের সময় প্রবল শত্রুও হয়ে যেত মুগ্ধ দর্শক আর ভাবতো, এভাবেও ব্যাটিং করা যায়!? থোড়াই কেয়ার ভাব দেখাতেন মাঠে নামার সাথে সাথে, স্লেজিং দিয়ে ব্যস্ত রাখতেন বোলার ফিল্ডারদের, আর সীমানার বাইরে থেকে বল কুড়াতেও ব্যস্ত থাকতো তারা! তিনি স্যার ভিভিয়ান রিচারডস, সংক্ষেপে ভিভ, আক্রমনাত্মক ব্যাটিঙের শেষ কথা এতদিন পরে এসেও, সাথে কাজ চালানোর মতো বোলিং দিয়ে তিনি সর্বকালের সেরা সব্যসাচীদের একজন।
আমি বেদুইন আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ।
এই কথা দিয়েই বোঝানো যাবে তাকে। যেমন আক্রমনাত্মক ব্যাটিং, তেমন কাউকে পরোয়া না করা ব্যক্তিত্ব, হারার আগে হার না মানা, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার মানসিকতা- সব মিলিয়ে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেট-ব্যক্তিত্বের একজন। শচীনের আইডল ভিভ বলতেন,
‘Viv Richards is What Viv Richards Does’
ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সোনালি সময়ের প্রতিনিধি তিনি, লয়েড, সবারস, গারনার, মার্শাল, গ্রিনিজ- এদেরকে পেয়েছিলেন টিমমেট হিসেবে। তারপরও তিনি ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
জীবনের দ্বিতীয় টেস্টেই ১৯২ রান করে জানিয়েছিলেন নিজের আগমনীবার্তা। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। নয়াদিল্লী দেখল এক নয়া তারকার আগমন। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে তিন জন অসি ব্যাটসম্যানকে রান আউট করে দলের জয়ের পথ সুগম করেন। ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে অনবদ্য সেঞ্চুরি করে দলকে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেন এই কিংবদন্তি। তার আগে ১৯৭৬ সালে ২৯১ রান করেন টেস্টের এক ইনিংসে, যা পরবর্তী ৩০ বছরে ছিল বিশ্ব রেকর্ড, এই ১৯৭৬ এ তার ব্যাটিং গড় ছিল ৯০.১১, অসম্ভব, তাই না? কিন্তু অসম্ভব শব্দটি কেবল বোকাদের অভিধানেই থাকে। ৫০ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে একটিও সিরিজ না হারা একমাত্র অধিনায়ক তিনি।
সব শেষে উজ্জ্বল হয়ে থাকে তার ঐ চুইংগাম চিবুতে চিবুতে ক্যাপ মাথায় দিয়ে দুরন্ত সব পেসারকে অবলীলায় চার ছক্কা মারার দৃশ্যটা। তার অধিনায়কত্বও ছিল এমন ইতিবাচক এবং আক্রমনাত্মক। তিনি তার হার না মানা মানসিকতা আর ভয়ঙ্কর সুন্দর ব্যাটিঙের জন্য ক্রিকেট রোমান্টিকের হৃদয়ে থাকবেন যুগের পর যুগ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 4 =