নতুন মৌসুম, ভিন্ন লিভারপুল

নতুন মৌসুম, ভিন্ন লিভারপুল

গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা লিভারপুল এর মন্ত্র ছিল শুধুই ‘প্রেস, প্রেস আর প্রেস’। ফলে রবার্তো ফিরমিনো, মোহামেদ সালাহ আর সাদিও মানে কে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ পুরো মৌসুম জুড়েই দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের পসরা সাজিয়েছে, গোলের পর গোল করেছে। গত মৌসুমটা সেক্ষেত্রে লিভারপুল কোচ ইউর্গেন ক্লপের পছন্দের ‘জেজেনপ্রেসিং’ ট্যাকটিকসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। তবে এই ট্যাকটিকসের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যে কারণে গত মৌসুমে এত ভালো খেলা সত্ত্বেও পরে কিছুই জিততে পারেনি লিভারপুল। ক্লপ খুব ভালোভাবেই জানেন এ কথা। তাই এবার প্রথম থেকেই সুন্দর ফুটবল খেলার থেকে প্রতি ম্যাচে যেভাবেই হোক, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়াটাকে আগের থেকেও আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাঠের খেলাতেও সেটা বোঝা যাচ্ছে। লিগে ১২ ম্যাচ খেলে এখনো অপরাজিত লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটির থেকে দুই পয়েন্ট পেছনে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তারা। যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরুটা ভালো হলেও শেষ দুই ম্যাচে হোঁচট খেয়েছে তারা। ১২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত, ঘরোয়া লিগে এটাই লিভারপুলের সেরা শুরু। কিন্তু যারা লিভারপুলের খেলা মোটামুটি ভালোভাবে অনুসরণ করেন, তারা বুঝতে পারছেন, খেলার ধরণ একটু বদলেছে লিভারপুল, গত মৌসুমের মত দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক খেলা খেলছে না তারা। খেলার স্টাইলে ঠিক কেমন পরিবর্তন এনেছেন ক্লপ?

গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি, এএস রোমা, আর্সেনাল, পোর্তোর মত দলগুলোকে যেমন গোলের বন্যায় ভাসিয়েছে লিভারপুল, তারাই আবার সোয়ানসি সিটি, স্টোক সিটি, ওয়েস্টব্রমের কাছে হোঁচটও খেয়েছে। কিন্তু শিরোপা জেতার জন্য বড় দলকে যেমন হারানো দরকার, একইভাবে ছোট দলগুলোকেও হারানো দরকার। এই সত্যটাই ক্লপ বুঝেছেন এই মৌসুমে, অন্তত এখন পর্যন্ত। সব দলের কাছ থেকে পয়েন্ট পাওয়ার জন্য নিজের কৌশল আর ছকে পরিবর্তন আনছেন প্রতিনিয়ত। গত মৌসুমে যে সমস্যটা হয়েছিল, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেললেও ক্লপের কৌশল মোটামুটি অনুমান করা যেত, ৪-৩-৩ ছকেই দলকে সমানে খেলিয়ে গেছেন তিনি। ফলে প্রতিপক্ষ দল আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেত, ক্লপের কৌশলকে কিভাবে হারানো যায়, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করতে পারত। ক্লপের কৌশলে তেমন অননুমেয় কিছু ছিল না। ‘সমানে প্রেস করতে থাকো, প্রতিপক্ষের পায়ে বল গেলেই প্রেস করে করে বল আদায় করে বিদ্যুতগতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে যাও, এটাই ছিল ক্লপের কৌশল। ফলে যেসব দল আক্রমণ করা বাদ দিয়ে ম্যাচের পুরোটা সময় ধরে রক্ষণকাজে ব্যস্ত থাকত, নিজেদের ডিবক্সে বসে থেকে ‘বাস পার্ক’ করত, তাদের ভেদ করে গোল করে ম্যাচ বের করে আনতে গলদঘর্ম হতে হত সালাহ-মানে-ফিরমিনোদের। যে কারণে স্টোক, সোয়ানসি, ওয়েস্টব্রম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ক্রিস্টাল প্যালেসের সাথে ম্যাচগুলোতে ভুগেছে লিভারপুল। নিজেদের ডি-বক্সের মধ্যে জমাট বেঁধে রক্ষণকাজ করে আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার এই কাজকে বলা হয় ‘Deep Block’ সৃষ্টি করা। লিভারপুলের বিপক্ষে ছোট দলগুলো (এবং যে দলের ম্যানেজার যথেষ্ট রক্ষণাত্মক মনোভাবের) তারা এই Deep Block সৃষ্টি করে লিভারপুলের আক্রমণভাগকে আটকিয়ে রাখত। আর এই সমস্যাটা সমাধান করার উপায় লিভারপুল কোচ ইউর্গেন ক্লপের জানা ছিল না। কোন ‘প্ল্যান – বি’ ছিল না। তাঁর শুধুমাত্র একটাই প্ল্যান ছিল,  ‘প্ল্যান – এ’ : জেজেনপ্রেসিং।

নতুন মৌসুম, ভিন্ন লিভারপুল
গত মৌসুমের লিভারপুল

এই মৌসুমে নতুন এক প্ল্যান নিয়ে এসেছেন ক্লপ। ফলে সালাহ-মানে-ফিরমিনো রা আগের মত স্বচ্ছন্দ হয়ে আক্রমণ করতে না পারলেও ফল আসছে। ৩-৪ গোল দিয়ে ম্যাচ জেতা লিভারপুল এখন ১-০ গোলেও ম্যাচ জেতা শিখেছে। আগে দেখা যেত যেসব ম্যাচের ফলাফল ১-১, ১-২ হত, সেসব ‘ক্লোজ’ ম্যাচগুলোর ফলাফল এখন লিভারপুল নিজেদের পক্ষে আনতে পারছে। ম্যাচ জিতে ফিরতে পারছে। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পয়েন্ট তালিকায়। লিগে ১২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত লিভারপুল।

প্ল্যানটা কি? লিভারপুলে এসে সব সময় দলকে ৪-৩-৩ ছকে খেলানো ক্লপ এখন প্রায়ই ৪-২-৩-১ বা ৪-৪-১-১ ফর্মেশনে খেলাচ্ছেন দলকে। আক্রমণভাগে সালাহ, মানে ও ফিরমিনোর সাথে যোগ দিয়েছেন সুইস উইঙ্গার জের্দান শাকিরি। আগে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে স্ট্রাইকার হিসেবে তিনজনের মাঝে খেলতেন ফিরমিনো, ডানে খেলতেন সালাহ, ও বামে খেলতেন মানে। শাকিরি আসার পর সে সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে। এখন প্রায় সময়েই ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে সামনের একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন সালাহ, পেছনের তিনজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জায়গায় বামে খেলছেন যথারীতি সাদিও মানে, মাঝে ‘নাম্বার ১০’ হিসেবে খেলছেন রবার্তো ফিরমিনো আর ডানে খেলছেন জের্দান শাকিরি। ফিরমিনোর সাথে নিয়মিত জায়গা বদল করছেন সালাহ, তখন সালাহ মাঝে মাঝে নেমে ডানে চলে আসছেন, ‘নাম্বার টেন’ অবস্থান থেকে উপরে উঠে তখন আবার আগেকার মত স্ট্রাইকার হয়ে যাচ্ছেন ফিরমিনো। আগে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে যেমন সালাহ-মানে-ফিরমিনো তিনজনের অবস্থান মোটামুটি আগে থেকে নির্ধারণ করা যেত, এখন সেটা যায়না। গত মৌসুমে ভুরিভুরি গোল দেওয়া সালাহর দিকে এবার প্রতিপক্ষরা বিশেষ নজর রাখছেন, সে কারণে গত মৌসুমের মত অত গোল করতে না পারছেন না সালাহ। এ কারণে আবার উপকার হচ্ছে বিশেষত দুইজনের। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাবিনহো আর সুইস উইঙ্গার শাকিরির। শাকিরি এখন নিচে নেমে ‘line breaker’ এর কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ মিডফিল্ড আর আক্রমণভাগের কাল্পনিক দুটো লাইনের মধ্যের যে জায়গাটা, সেই জায়গাটায় অবস্থান করেন শাকিরি। উইংয়ে থেকে খেলা শুরু করলেও একটু নিচে নেমে মিডফিল্ড থেকে খেলা গড়ে দেওয়ার কাজ করা শুরু করেছেন তিনি। ফুলহাম আর সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচটাই শাকিরি-ভূমিকার জ্বলন্ত প্রমাণ। দুই ম্যাচেই সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা তেমন ফর্মে না থাকলেও দুর্দান্ত খেলেছেন শাকিরি। ওদিকে মোনাকোতে ৪-৪-২ ফর্মেশনে পাশে একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে নিয়ে খেলে অভ্যস্ত ফাবিনহো প্রথমে লিভারপুলের ৪-৩-৩ ফর্মেশনে অতটা সুবিধা করতে না পারলেও দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারবিশিষ্ট ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন। শাকিরি, ফাবিনহো, সালাহ, মানে, ফিরমিনোর এই ক্রমাগত জায়গা বদল করতে পারার মানসিকতাই রক্ষণাত্মক ছোট দলগুলোর বিপক্ষে লিভারপুলকে পয়েন্ট এনে দিচ্ছে (উদাহরণ – হাডার্সফিল্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়, ফুলহামের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়), আর line breaker হিসেবে শাকিরি যে কতটা স্বচ্ছন্দ, সেটা দেখা গিয়েছে রেড স্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে হোম ম্যাচে, আর সাউদাম্পটনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে। দুই ম্যাচেই সালাহ-মানে-ফিরমিনোর পিছনে কলকাঠি নেড়েছেন শাকিরি।

নতুন মৌসুম, ভিন্ন লিভারপুল
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিভারপুলের আক্রমণভাগ

এখন আর পুরো নব্বই মিনিট ধরে প্রতিপক্ষকে চাপের ওপরে রাখেনা লিভারপুল। ক্লপ বুঝেছেন, প্রত্যেকটা ম্যাচের প্রতি মিনিটে পাগলের মত প্রেসিং করে খেললে নিজের দলের খেলোয়াড়দের উপর অনেক চাপ পড়ে যায়, ফলে চোটে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে মৌসুমের শেষে চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়দের দরুন ম্যাচ জেতা যায়না, পয়েন্ট হারাতে হয়, ফলে ট্রফি জেতা যায়না। যে কারণে এবার ক্লপ খেলোয়াড়দের দিয়ে অত প্রেস করাচ্ছেন না। প্রতিপক্ষরাও আগের মৌসুমের তুলনায় বেশীক্ষণ বল পায়ে রাখতে পারছে, নিজেদের মধ্যে সফল পাস আদান-প্রদান করতে পারছে, যেটা আগের মৌসুমে ক্লপের খেলোয়াড়েরা করতে দিত না। আগের মৌসুমের মাত্র ৭ ম্যাচে লিভারপুল তাদের প্রতিপক্ষকে ৮০% এর বেশি সফল পাস দিতে দিয়েছে। এই মৌসুমে এর মধ্যেই লিভারপুলের ৫ প্রতিপক্ষ ৮০% এর বেশি সফল পাস দিয়েছে। গোল করার আগে আক্রমণ রচনা করার সময়টাতেও এখন ক্লপের শিষ্যরা বেশী সময় ধরে বল পায়ে রেখে পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলতে চাচ্ছে। আগের মৌসুমে প্রত্যেকটা গোল করার পেছনে লিভারপুলের খেলোয়াড়েরা গড় পাস দিত ২.৯টা করে। গোল করার জন্য দশটার বেশী পাস তারা দিত না বললেই চলে। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছেনা। গোল করার পেছনে তারা এখন গড়ে পাস দিচ্ছে ৫.৮ টা করে। বেশ কয়েকটা গোলের আগের দশের অধিক পাস দিয়েছে তারা। আগে যেমন বল পাওয়ার সাথে সাথেই নিজেদের ডিবক্স থেকে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বলকে পৌঁছে দেওয়ার একটা তাড়া ছিল, এখন আর সেটা নেই। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা লিভারপুলের ডিফেন্সে। আগে ক্যারিয়াস, লভরেনের রক্ষণভাগ যেমন প্রচুর ভুল করে গোল খেয়ে বসত, ভার্জিল ভ্যান ডাইক, জ্যো গোমেজ আর অ্যালিসন বেকারের মত খেলোয়াড় লিভারপুলের রক্ষণভাগে আসার পরে তাদের গোল খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে গিয়েছে, রক্ষণকাজে অনেক পটু হয়েছে তারা, তাই আগের মত পাততাড়ি বল সালাহ, মানে, ফিরমিনোদের পায়ে পৌঁছে দেওয়ার তাড়া নেই এখন আর। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত করা ২৫ টা সেভের মধ্যে ২০টা সেভ অ্যালিসন সেসব মুহূর্তে করেছেন, যখন দল এক গোলে এগিয়ে ছিল, বা ম্যাচ সমতায় ছিল। অর্থাৎ এখন আর লিভারপুলের জালে সহজে বল জড়ানো যায় না।

এখন পর্যন্ত এভাবেই সফলতা পাচ্ছে লিভারপুল। তাও এই কৌশলেও যে খাদ নেই, তা কিন্তু নয়। একটু আগে যেটা বললাম, সেরকম ফর্মে নেই সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা। মূলতঃ ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে ফিরমিনোকে আগের মত স্ট্রাইকার হিসেবে না খেলতে দিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলাচ্ছেন ক্লপ। তাঁর জায়গায় একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন মোহামেদ সালাহ। ডানে-বাঁয়ে খেলছেন যথাক্রমে শাকিরি ও মানে। স্ট্রাইকার হিসেবে গত মৌসুমে খেলে যে কার্যকারিতা দেখাতে পেরেছিলেন ফিরমিনো, ‘নাম্বার টেন’ হিসেবে সেটা দেখাতে পারছেন না। ওদিকে প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়ের শিকার হচ্ছেন সালাহও। এ ক্ষেত্রে তাহলে সমাধান কি?

নতুন মৌসুম, ভিন্ন লিভারপুল
সম্ভাব্য সমাধান

একটা সমাধান হতে পারে, শাকিরিকে মাঝে নিয়ে আসা – সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। গত বেশ কয়েক ম্যাচে ঝলক দেখানো শাকিরি প্রমাণ করেছেন, ‘নাম্বার টেন’ পজিশনে খেলতে তিনি স্বচ্ছন্দ। বেলজিয়ামের সাথে সুইজারল্যান্ডের ম্যাচটার কথাই চিন্তা করুন, যে ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও পরে ৫-২ গোলে জিতে ইউয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। সে ম্যাচে স্ট্রাইকার হারিস সেফারোভিচের পেছনে নাম্বার টেন হিসেবে কিন্তু এই শাকিরিই খেলেছেন। সেফারোভিচ হ্যাটট্রিক করলেও দলের মূল প্রাণভোমরা কিন্তু এই শাকিরিই ছিলেন। সেফারোভিচ আর এলভেদিকে দিয়ে গোল করিয়ে সেদিন শাকিরিও অর্জন করেছিলেন অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক। তাই লিভারপুলেও যদি ‘নাম্বার টেন’ পজিশনে শাকিরিকে খেলানো শুরু করেন ক্লপ, ক্ষতি কি? নতুন এই ৪-২-৩-১ ছকে শাকিরিকে ‘নাম্বার টেন’ হিসেবে রেখে সামনে একক স্ট্রাইকার হিসেবে যথারীতি গত মৌসুমের মত খেলবেন ফিরমিনো, আর শাকিরি দুইপাশে খেলবেন সালাহ আর মানে।

নতুন এই ছক আর কৌশলে কি ট্রফি আসবে? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − 2 =