ভার্জিল ভ্যান ডাইক এখন লিভারপুলে : ডিফেন্সের সমস্যার সমাধান?

ভার্জিল ভ্যান ডাইক এখন লিভারপুলে : ডিফেন্সের সমস্যার সমাধান?

সেই গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় থেকেই নিজেদের ডিফেন্সের মান উন্নত করার জন্য সাউদাম্পটনের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক কে চাচ্ছে লিভারপুল। বিভিন্ন কারণে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও তাকে তখন দলে আনতে পারেনি তারা।  এদিকে লিভারপুলও ছিল নাছোড়বান্দা। ভার্জিল ভ্যান ডাইক কে না পেয়ে তারা অন্য কোন ডিফেন্ডারও কেনেনি, তাঁর পেছনেই লেগে ছিল। আর এই লেগে থাকার পুরষ্কারই পেল তারা শীতকালীন দলবদলের বাজারে এসে। সেই ভার্জিল ভ্যান ডাইক কেই বিশ্বের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার বানিয়ে সাউদাম্পটন থেকে নিয়ে এল তারা, ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে। যেকোন ডিফেন্ডারের জন্য ফুটবল ইতিহাসে এইটা সবচেয়ে বেশী দাম।

কিন্তু ভার্জিল ভ্যান ডাইকের মধ্যে কিরকম ডিফেন্ডারকে পেল লিভারপুল? কিরকম খেলোয়াড় তিনি? লিভারপুল কিংবদন্তী জেইমি ক্যারাঘারের একটা বক্তব্য উদ্ধৃত করলে বলতে হয় একটা সফল ডিফেন্ডার হবার সকল গুণাবলীই আছে ভ্যান ডাইকের মধ্যে। আধুনিক ডিফেন্ডারের অন্যতম সেরা একটা উদাহরণ এই ভার্জিল ভ্যান ডাইক। একটা বিশেষ শ্রেণীর সেন্টারব্যাককে লিবেরো বলা হয়। যারা সাধারণত একেবারে নিচে থেকে কোন একটা জায়গায় আবদ্ধ না থেকে ডিফেন্ড করে থাকেন – তারাই লিবেরো। কোন নির্দিষ্ট কাউকে মার্ক করার দায়িত্ব থাকেনা তাঁর উপর। একটা লিবেরো ডিফেন্সের মধ্যে যে জায়গার দায়িত্ব নেন সে জায়গাতে যেকোন আক্রমণ আসলেই সুন্দরমত সে আক্রমণের হাত থেকে দলকে রক্ষা করেন তিনি। এটাই লিবেরোর কাজ। সাবেক জার্মান কিংবদন্তী ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার কিংবা ইন্টার মিলান কিংবদন্তী আরমান্দো পিচ্চি এই লিবেরোর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ভার্জিল ভ্যান ডাইক কে বলা হচ্ছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম একজন লিবেরো। যিনি কিনা আবার নিচে থেকে আক্রমণ গঠন করতেও সহায়তা করেন, নিয়মিত ডিফেন্স থেকে সফল পাস দিয়ে নিজের দলের আক্রমণভাগে সুযোগ সৃষ্টি করেন।

ডিফেন্স থেকে বল বের করে এনে একই সাথে সফল লম্বা পাস দিয়ে আক্রমণ গঠন করা ভ্যান ডাইকের খেলার উল্লেখযোগ্য একটা গুণ। যেসব দল হাই লাইন ডিফেন্স অর্থাৎ একটু বেশী উপরে উঠে প্রেস করে ডিফেন্স করতে পছন্দ করে সেই সিস্টেমের জন্য তাই ভ্যান ডাইক আদর্শ একজন সেন্টারব্যাক। আর ইউর্গেন ক্লপের লিভারপুলের হাই প্রেসিং স্টাইল তো সর্বজনবিদিত। যে স্টাইলের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরেই দেয়ান লভরেনের মত ডিফেন্ডাররা হাস্যকর সব ভুল করে বসেন। সেক্ষেত্রে ভ্যান ডাইক যদি নিজের মান অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেন তবে বলতেই হয় নিজেদের ডিফেন্স সমস্যার সমাধান আসলেই পেয়ে গেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ, পেয়ে গেছে লিভারপুল।

ভার্জিল ভ্যান ডাইক এখন লিভারপুলে : ডিফেন্সের সমস্যার সমাধান?

বল পায়ে দক্ষতা তো বটেই, ভার্জিল ভ্যান ডাইক এর খেলার সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হচ্ছে বাতাসে ভেসে আসা বলকে দক্ষভাবে সামলাতে পারার ক্ষমতা। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির বিশালদেহী ডিফেন্ডার হবার কারণে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা ডিবক্সে ভ্যান ডাইকের সাথে সাধারণত পেরে ওঠেন না। উপর থেকে ভেসে আসা ক্রস বা লবগুলো ভ্যান ডাইক সামলাতে পারেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। যে কারণে প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোন ডিফেন্ডারের তুলনায় ভ্যান ডাইকের বাতাসে ভেসে আসা বল আয়ত্বে আনা বা Aerial Duel জেতার হার বেশী। সাধারণত দেখা যায় বিশালদেহী ডিফেন্ডাররা যারা বাতাসে ভেসে আসা বল সামলানো বা ট্যাকল করতে অভ্যস্ত তারা বল পায়ে সফল পাস, থ্রু বল, সফল লং বল এগুলো দিতে পারেন না – ভার্জিল ভ্যান ডাইক এক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। যেখানে লিভারপুলের বর্তমান সেন্টারব্যাকেরা – দেয়ান লভরেন কিংবা জ্যল মাতিপ সাধারণত ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়তে অভ্যস্ত, সেখানে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের লম্বা সফল পাস দেওয়ার বাতিকটা বেশী।

২০২৩ পর্যন্ত লিভারপুলের সাথে চুক্তি হয়েছে ভ্যান ডাইকের। ফি ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ভ্যান ডাইক কি পারবেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডারের তকমার মর্যাদা রাখতে?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 + 9 =