ভাঙ্গা সম্ভব টিপ ফস্টারের রেকর্ড?

অভিষেক টেস্টে ২৮৭ রান…শুধু এই যুগ কেন, সেই যুগ বা আগত যুগ…যে কোনো যুগেই ভাঙা কঠিন। খুব কঠিন। অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিই ফস্টারসহ আছে ৫ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জ্যাক রুডলফের ২২২। ফস্টারের এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব হয়ত নয়, তবে তার কাছাকাছিই।
ফস্টারের সর্বোচ্চ রান ২৮৭, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কত জানো? মাত্র ৫১! সর্বোচ্চ দুটি ইনিংসের মধ্যে ব্যবধান ২৩৬ রান, এটিও একটি রেকর্ড! এই যুগে এই রেকর্ড ভাঙাও অসম্ভরের কাছাকাছি।
তার আরেকটি রেকর্ড অবশ্য কদিন আগে ভেঙে গেছে। ১৯০৩ সালে সিডনিতে খেলা ওই ২৮৭ রানের ইনিংস এতদিন ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশী ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। গত নভেম্বরে সেই রেকর্ড ভেঙেছেন রস টেলর। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিং এখনও ফস্টারের ২৮৭।

ফস্টারের এই সব রেকর্ডও হয়ত একদিন ভাঙতে পারে। তবে একটি রেকর্ড যে অমর, কোনোদিনও ভাঙবে না, সেটি বাজী ধরেই বলা যায়। ক্রিকেট আর ফুটবল, দুই খেলাতেই ইংল্যান্ড জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি আছে তার, এখন এটা কল্পনাতীত ব্যাপার! ফুটবলে ফস্টার ছিলেন ফরোয়ার্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ৫টি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন দুটি, ওয়েলসের বিপক্ষে একটি।এছাড়া ১৯০১ সালে জার্মানির বিপক্ষে একটি ম্যাচেও খেলেছিলেন, গোল করেছিলেন ৬টি, ইংল্যান্ড জিতেছিল ১২-০ তে, তবে সেটাকে অফিসিয়াল ম্যাচ ধরা হয় না। এই যুগে ক্রিকেট-ফুটবল একসঙ্গে জাতীয় দল তো বহুদূর, ক্লাবেও সম্ভব নয়।

ফস্টাররা ৭ ভাই একসময় খেলেছেন ইংলিশ কাউন্টি ওস্টারশায়ারে। তখন কাউন্টি দলটিকে সবাই ডাকত ফস্টারশায়ার! জাতীয় দলে খেলেছেন অবশ্য শুধু এই রেজিন্যাল্ড ফস্টারই, যিনি পরিচিত ছিলেন টিপ ফস্টার নামে।

ক্যারিয়ার জুড়েই ডায়াবেটিস নিয়ে ভুগেছেন ফস্টার। তখন ডায়বেটিসের ভালো চিকিৎসা ছিল না। রোগ নিয়েই খেলে আরও খারাপ হয়েছে, আরও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল। হাওয়া বদলাতে দক্ষিণ আফ্রিকাও গিয়েছিলেন। লাভ হয়নি। মারা যান মাত্র ৩৬ বছর বয়সে…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − 2 =