ভলফসবুর্গের নায়কেরা : কে কোথায়… (১)

জার্মান বুন্দেসলিগা নিয়ে আমার স্বল্প জ্ঞান যা বলে, বছরের পর বছর বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়া মোটামুটি কোন দলই এই লিগে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে পারেনি। ইংলিশ লিগে যেরকম যতটাই আনপ্রেডিক্টিবিলিটি থাকুকনা কেন, টপ ফোরে সেই ঘুরেফিরে পরিচিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, লিভারপুল, আর্সেনাল – এদেরকেই দেখা যায়। স্প্যানিশ লিগে হুট করে অ্যাটলেটিকোর উত্থানটা এই দুই বছরে, নাহলে বার্সা আর রিয়াল এই দুই ঘোড়ার তোপেই মূলত স্প্যানিশ লা লিগা চলে। কিন্তু বুন্দেসলিগায় বিষয়টা সেরকম না। এখানে মোটামুটি মনেহয় নিয়ম করেই বায়ার্নের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে বায়ার্নের সিংহাসনের দাবি জানায় একেক ক্লাব। গত দুই-তিন মৌসুম ধরে যেরকম জানাচ্ছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ডর্টমুন্ড ছাড়াও বিভিন্ন মৌসুমে ভিএফবি স্টুটগার্ট, ভিএফএল ভলফসবুর্গ, হ্যামবার্গার এসভি, ওয়ের্ডার ব্রেমেন, শালকে ০৪, হফেনহেইম, বেয়ার লেভারক্যুসেন – অনেক ক্লাবই বুন্দেসলিগায় রানার্সআপ হয়েছে, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। যোগান দিয়েছে নতুন নতুন তারকাদের। আজকে টাইমমেশিনে করে চলে যাব ২০০৮-০৯ বুন্দেসলিগায় – যেবার বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য খর্ব করে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতে নিয়ে ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে নিজেদের প্রথম উপস্থাপন করেছিল ভিএফএল ভলফসবুর্গ। কোথায় আছেন এখন সেই ভলফসবুর্গের রূপকথার নায়কেরা? দেখে নেব আজকে!

ভলফসবুর্গের প্রিলিমিনারি স্কোয়াডটা ছিল অনেকটা এরকম –

গোলরক্ষক – ডিয়েগো বেনাইলিও, আন্দ্রে লেঞ্জ

ডিফেন্ডার – ক্রিস্টিয়ান জাক্কার্ডো, রড্রিগো অ্যালভিম, মার্সেল শ্যাফার, রিকার্ডো কস্টা, ইয়ান সিমিউনেক, অ্যালেক্সান্দার মাদলাং, পিটার পেকারিক, সাশা রিইঠার, ড্যানিয়েল রিয়েশ, সার্জেই কারিমভ, আন্দ্রেয়া বারজাগলি

মিডফিল্ডার – হোসুয়ে, ভেজদান মিসিমোভিচ, মাকোতো হাসেবে, জোনাথান সান্তানা, ইয়াচেক ক্রিনৌয়েক, আশকান দেইয়াগাহ, ক্রিস্টিয়ান জেন্টনার, সেবাস্তিয়েন শিন্ডজিয়েলর্জ

ফরোয়ার্ড – এডিন জেকো, গ্রাফিত, ইয়োশিতো ওকুবো, মাহির সালিইক, কাইউবি

কোচ ফেলিক্স ম্যাগাথ মোটামুটি পুরো মৌসুমেই দলকে খেলিয়েছিলেন ৪-৪-২ ও ৩-৫-২ ফর্মেশানে। মূল একাদশে খেলতেন ঘুরেফিরে বেনাইলিও, বারজাগলি, শাফার, রিইঠার, কস্টা, জাক্কার্ডো, মাদলাং, হোসুয়ে, হাসেবে, জেন্টনার, মিসিমোভিচ, জেকো, গ্রাফিত, কাইউবি – এদের মধ্যে থেকে ১১ জন।

=> ডিয়েগো বেনাইলিও

সুইস এই গোলরক্ষক বুন্দেসলিগার স্বাদ প্রথম পান স্টুটগার্টের হয়ে। সেখানে তিনবছর থাকার পর পাড়ি জমান পর্তুগালের নাসিওনাল ক্লাবে। সেখানেই মূলত তাঁর নাম কামানো শুরু, পরের মৌসুমেই আবার চলে আসেন বুন্দেসলিগায়, এবার ভলফসবুর্গের হয়ে। সেবারের লিগ টাইটেলজয়ী মৌসুমে মাত্র ৩ ম্যাচ ছাড়া সব ম্যাচই খেলেছিলেন তিনি। এখনও ভলফসবুর্গেই আছেন, ক্লাবের অধিনায়ক এখন তিনি।
Benaglio_2966621

=> আন্দ্রেয়া বারজাগলি

এখন জুভেন্টাসের হয়ে খেলা এই ইতালিয়ান সেন্টারব্যাক টানা সিরি আ জেতার আগে পেয়ে এসেছেন বুন্দেসলিগা জেতার স্বাদও, ভলফসবুর্গের হয়ে। ২০০৮ সালে তখনকার পালের্মোর অধিনায়ক বারজাগলি আরেক ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্টিনায় যোগও দিয়ে দিয়েছিলেন প্রায়, কিন্তু শেষ মুহূর্তে যোগ দেন ভলফসবুর্গে, এবং সেই মৌসুমের প্রত্যেকটি মিনিট খেলে ক্লাবকে জেতান বুন্দেসলিগা শিরোপা।
hi-res-98195876_crop_north

=> রিকার্ডো কস্টা

২০০৭ সালে স্বদেশী হোর্হে কস্টা, পেপে, ব্রুনো আলভেস, পেদ্রো ইমানুয়ালদের জন্য এফসি পোর্তোর সেন্ট্রাল ডিফেন্সে সেরকম সুযোগ পেতেন না রিকার্ডো কস্টা। তাই ভলফসবুর্গ ডাকামাত্রই চলে গিয়েছিলেন বুন্দেসলিগা অভিযানে। ভলফসবুর্গের শিরোপাজয়ী ২০০৮-০৯ মৌসুমে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য। শিরোপা জয়ের পর ভলফসবুর্গে বেশীদিন থাকেননি এই পর্তুগিজ জার্নিম্যান। ফ্রান্সের লিল, কাতারের আল-সাইলিয়া, স্পেইনের ভ্যালেন্সিয়া হয়ে এখন তিনি পাড়ি জমিয়েছেন গ্রিসের পিএওকে তে।
ricardo-costa

=> ক্রিস্টিয়ান জাক্কার্ডো

২০০৮-০৯ সালে ভলফসবুর্গের অল-ইতালিয়ান সেন্ট্রাল ডিফেন্সের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন এই ক্রিস্টিয়ান জাক্কার্ডো। এক মৌসুমই ছিলেন ভলফসবুর্গে, ঐ এক মৌসুমেই জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা। ভলফসবুর্গ থেকে পারমা-মিলান হয়ে এখন খেলছেন সিরি আ তে নবাগত কার্পি তে।

Wolfsburg's Cristian Zaccardo celebrates after scoring against AC Milan during their UEFA Cup soccer match at the San Siro stadium in Milan December 17, 2008. REUTERS/Alessandro Garofalo (ITALY) - RTR22O3N
Wolfsburg’s Cristian Zaccardo celebrates after scoring against AC Milan during their UEFA Cup soccer match at the San Siro stadium in Milan December 17, 2008. REUTERS/Alessandro Garofalo (ITALY) – RTR22O3N

=> সাশা রিইঠার

জার্মান এই রাইটব্যাক ছিলেন ভলফসবুর্গের শিরোপাজয়ী ২০০৮-০৯ মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ, খেলেছেন ঐ মৌসুমের ২৮ টি লিগ ম্যাচ। অপরপ্রান্তে মার্সেল শ্যাফারের সাথে গড়েছিলেন এক দুর্দান্ত উইংব্যাক জুটি। মাঝে ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামে ২ মৌসুমে খেলা এই রাইটব্যাক এখন খেলছেন জার্মান ক্লাব শালকে ০৪ এ।
Manchester+United+v+VfL+Wolfsburg+UEFA+Champions+i34fg2u03x6l

=> মার্সেল শ্যাফার

এখনো ভলফসবুর্গের হয়ে খেলে যাওয়া এই জার্মান লেফটব্যাক ২০০৭ এ মাত্র ১.২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দিয়েছিলেন ক্লাবে। ফেলিক্স ম্যাগাথের অল-অ্যাটাক ফুটবলে দুই উইং দিয়ে শ্যাফার-রিইঠার, মাঝে মিসিমোভিচ আর স্ট্রাইকে জেকো-গ্রাফিত, ভলফসবুর্গের বুন্দেসলিগা জয়ের পেছনে এই কেমিস্ট্রির অবদানটাই সবচেয়ে বেশী।
158886_heroa

(চলবে)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 5 =