ভলফসবুর্গের নায়কেরা : কে কোথায়… (২)

প্রথম পর্বে আমরা ভলফসবুর্গের বিখ্যাত সেই ২০০৮-০৯ মৌসুমের ডিফেন্স লাইন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ দেখা যাক তৎকালীন কোচ ফেলিক্স ম্যাগাথ কিভাবে মিডফিল্ড সাজিয়ে ভলফসবুর্গকে এনে দিয়েছিলেন তাঁদের ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা।

মূলত ৫-৩-২ ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৪-৪-২ ডায়মন্ড ফর্মেশানে খেলা ভলফসবুর্গের মিডফিল্ডে বোঝাই যাচ্ছে, থাকতেন ৩ বা ৪ জন।

=> হোসুয়ে

সেইসময় ভলফসবুর্গের অধিনায়ক ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ভলফসবুর্গের হয়ে সফল ঐ মৌসুমই তাঁকে মূলত নিয়ে যায় বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে খেলার স্বপ্নের কাছে। ২০১০ বিশ্বকাপে দুঙ্গার ব্রাজিল দলে ছিলেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তাছাড়া ২০০৭ সালে কনফেডারেশানস কাপও জেতেন তিনি ব্রাজিলের হয়ে। মোটামুটি আটবছর ভলফসবুর্গে থাকার পর ২০১৩ সালে পাড়ি জমান তিনি স্বদেশের অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে। এখনো সেখানেই খেলছেন।

Wolfsburg-josue-jogando-640x480-gettyimages.jpg

=> মাকোতো হাসেবে

জাপানিজ লিগে উরাউয়া রেড ড্রাগনসের হয়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানো এই জাপানিজ মিডফিলডার ২০০৮ সালেই আসেন ভলফসবুর্গে, ভলফসবুর্গের ইতিহাসের প্রথম জাপানিজ ছিলেন তিনি। এবং আরো রেকর্ড গড়ে মাত্র বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় জাপানিজ হিসেবে ভলফসবুর্গের হয়ে লিগ জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। ২০১৩ সালে ভলফসবুর্গে ছেড়ে এক বছর নুর্নবার্গে থেকে এখন আইনট্র্যাখট ফ্র্যাঙ্কফুর্টে খেলছেন তিনি।

59621_heroa

=> ক্রিস্টিয়ান জেন্টনার
২০০৮-০৯ সালে ভলফসবুর্গের শিরোপাজয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন এই জেন্টনার। মিডফিল্ড থেকে প্রায়ই করতেন প্রয়োজনীয় সব গোল। ২০০৭ সালে স্টুটগার্টের হয়ে লিগ শিরোপা জেতার পরে যোগ দেন ভলফসবার্গে এবং বলা বাহুল্য, শিরোপা জেতেন সেখানেও। ২০১০ পর্যন্ত ভলফসবুর্গে থাকার পর আবারো ফিরে যান স্টুটগার্টে। এখনো সেখানেই আছেন।

christian-gentner-vfl-wolfsburg-514

=> ভেজদান মিসিমোভিচ

ভলফসবুর্গের সেই বিখ্যাত জেকো-গ্রাফিত-মিসিমোভিচ ট্রায়োর একজন। কিছু কিছু খেলোয়াড় আসেন, যাদের ক্যারিয়ার গ্রাফ পর্যালোচনা করলে মনে হয় একটা নির্দিষ্ট ক্লাবের জন্যই তারা এসেছিলেন – ভেজদান মিসিমোভিচের সাথে কথাটা খুব ভালোভাবে যায়। সদ্য অবসরে যাওয়া এই মিসিমোভিচ ছিলেন বসনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় (৮৪), আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৫)।

বায়ার্ন, বোশাম, নুর্নবার্গ ঘুরে ভলফসবুর্গে নাম লেখানো মিসিমোভিচ এইখানে এসেই দেখাতে পেরেছিলেন তার প্রতিভার পুরোটা। ভলফসবুর্গের শিরোপাজয়ী মৌসুমে নাম্বার টেন পজিশানে থেকে অ্যাসিস্টের পর অ্যাসিস্ট করে গেছেন, সামনে থাকা দুই স্ট্রাইকার জেকো-গ্রাফিতকে ১৩টা অ্যাসিস্ট দেওয়ার পাশাপাশি অন্য খেলোয়াড়দের দিয়েও করিয়েছিলেন ৭টা গোল। তাই বলে যে গোল করতে ভুলে গেছিলেন তা কিন্তু না। নিজেও করেছিলেন সাতটি গোল।

imago04121286h

২০০৮ সালে ভলফসবুর্গে খেলতেন আরেকজন অতি প্রতিভাবান ব্রাজিলিয়ান – মার্সেলিনিও। কিন্তু প্রতিভাকে পারফরম্যান্সে রুপান্তরিত করতে পেরেছিলেন তিনি কদাচিৎ। ঘরমুখো মার্সেলিনিও ব্রাজিলে ফিরে যেতে চাইলে দ্বিতীয় চিন্তা না করেই ফ্ল্যামেঙ্গোর কাছে তাঁকে বেচে দেন কোচ ম্যাগাথ, এবং তার পরিবর্ত হিসেবেই নুর্নবার্গ থেকে উড়িয়ে নিয়ে আসেন ভেজদান মিসিমোভিচকে, মাত্র ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের কিছু কম দিয়ে। সে সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল না, তা বলাই বাহুল্য।

নুর্নবার্গেও যা করার বলতে গেলে একাই করে গিয়েছিলেন মিসিমোভিচ। কারণ ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজেদের অর্ধেক ম্যাচ হেরে গিয়ে অবনমিত হতে হয়েছিল তাঁদের, তাই ২৮ ম্যাচে ১০ গোল করেও দলকে অবনমনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি মিসিমোভিচ, কারণ একটাই, দলে তাঁর মত করিতকর্মা খেলোয়াড় ছিল না।

এই পর্যায়ে তাঁকে ডাক দিতে আসলো ভলফসবুর্গ, নুর্নবার্গে ভালো স্ট্রাইকারের অভাবে থাকা মিসিমোভিচ এবার সামনে পেলেন একটা না, দুটো ইন-ফর্ম স্ট্রাইকারকে। ফলাফল – ভলফসবুর্গের ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা।

লিগ জয়ের পর মাত্র এক মৌসুম ভলফসবুর্গে থেকেছিলেন মিসিমোভিচ। সেখানেও ছিলেন আরো উজ্জ্বল। ১০ গোল আর ১৫ অ্যাসিস্টের ২০০৯-১০ মৌসুমের পর মিসিমোভিচ যোগ দেন গ্যালাতাসারাইতে। কিন্তু ঐ যে বললাম, কিছু কিছু খেলোয়াড় আসেনই শুধু একটা ক্লাবের জন্য! পরে গ্যালাতাসারাই, ডায়নামো মস্কো, চিনা ক্লাব গুয়াংঝু রেনহে – কোন জায়গাতেই আর নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি মিসিমোভিচ। এই বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি, তাও মাত্র ৩২ বছর বয়সে। এখনো খেলে যাচ্ছেন গুয়াংঝু রেনহে তে।

(চলবে)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − six =