ভবিষ্যৎ কিংবদন্তীর অপেক্ষায় মাদ্রিদ

যে মেয়ের সাথে বছরের পর বছর পিরিত করলেন, রাতে ফোনে করলেন সুখ-দুঃখের আলাপ, সেই মেয়েকে কোন টেকাওয়ালা বিজনেসম্যান পুত করে বিয়া করলে প্রেমিকের যে বেদনা হয়, এখন হয়ত সেই বেদনা অনুভব করছেন লিভারপুলের সাপোর্টাররা। করবেন নাই বা কেন। ইন্টার মিলানের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ লিভারপুলে “আসছে, আসবে” করে তলে তলে ত বেলা কম গড়ালো না।

hi-res-b342160485548f508a70e2cfc7ec26cf_crop_north

আজকের খবর, লিভারপুলকে পাশ কাটিয়ে (যথারীতি) মাতেও কোভাচিচকে পাওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সাবেক লিভারপুল ও ইন্টার মিলানের কোচ রাফায়েল বেনিতেজের বর্তমান ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। ২১ বছর বয়সের এই তরুণ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে মোটামুটি ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রাইসট্যাগে কিনে নিচ্ছে মাদ্রিদ, এতদিন দাম নিয়ে গড়িমসি করার মাশুল গুনছে লিভারপুল, আবারও ফিরছে শূণ্য হাতে। পাকাপাকিভাবে আজকালের মধ্যেই নীল-কালো জার্সি ছেড়ে সাদা জার্সি গায়ে চড়াতে যাচ্ছেন সময়ের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান এই মিডফিল্ডার।

hi-res-8687ea7e590dbaacf881f6d11a8fd0ad_crop_north

অথচ গত প্রায় দুইবছর ধরে প্রত্যেকটা দলবদলের সময়ে কোভাচিচের সাথে লিভারপুলের নাম জড়ানো হত হামেশাই। ইন্টার মালিক এরিক থোহির ৩৫ মিলিয়নের কমে কোভাচিচকে কখনই ছাড়তে চাননি, ওদিকে লিভারপুল বারবার দাম কমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে – চুক্তিতে অর্থের সাথে দিতে চেয়েছে ক্লাবের অন্যতম প্রাচীন সেনানী লুকাস লেইভাকেও, তাও থোহিরের মন গলেনি। ইন্টারে এর মধ্যে চলে এসেছেন নতুন নতুন অনেক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার – মার্সেলো ব্রোজোভিচ, হার্নানেস, জফ্রি কনডগবিয়া, গ্যারি মেডেল, আসানে নোকৌরি, দ্রাভকো কুজমানোভিচ ; সাথে আগের সেনানী ফ্রেডি গুয়ারিন ত ছিলেনই, আসার কথা চলছে গ্যালাতাসারাইয়ের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফেলিপে মেলোরও। ক্লাবে এত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থাকার অর্থ ক্লাবে খেলার সময় পাওয়ার জন্য আরও বেশী প্রতিযোগিতা করতে হত কোভাচিচকে। ফলে তাকে নিয়ে আসাটা লিভারপুলের পক্ষে এত অসম্ভবও ছিল না। কারণ আন্দ্রেয়া পিরলো, জাভি হার্নান্দেজ, জাবি আলোনসো, ডেভিড পিজারো, পল স্কোলস, স্টিভেন জেরার্ডদের হাত ধরে “ডিপ লাইয়িং প্লেমেকার (Deep Lying Playmaker)” বা “রেজিস্টা (Regista)” পজিশানের যে উত্থান ঘটেছে আধুনিক ফুটবলে, সেটার ব্যাটন সামনের প্রজন্মে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এখনকার তরুণ যে দুই-একটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মধ্যে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাতেও কোভাচিচ অগ্রগণ্য। দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মাঝখানে একটু সামনে, কিন্তু ট্রেডিশনাল ডেস্ট্রয়ার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের একটু পিছনে বা পাশাপাশি থেকে পুরো খেলার গতি ও ছন্দ নিজের নিখুঁত পাসিং এর মাধ্যমে ধরে রাখার কাজ করে থাকেন রেজিস্টা রা, যে কাজটা এখন করেন কোভাচিচের মত তরুণেরা। বলে রাখা ভালো, “রেজিস্টা” একটি ইতালিয়ান শব্দ, যার অর্থ “ডিরেক্টর” বা “পরিচালক” – নাম শুনেই বুঝে যাওয়ার কথা ফুটবল মাঠে একজন রেজিস্টার ভূমিকা কি হতে পারে!

দুইদিন আগে রাফায়েল বেনিতেজ বলেছিলেন দলবদলের জানালা বন্ধ হবার আগে একটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আর একটা স্ট্রাইকার কিনবেন তিনি। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কিনবেন যাতে ক্লাবের দুই মূল সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার টোনি ক্রুস ও লুকা মডরিচের উপরে চাপ বেশী না পড়ে, তাঁর উপরে এই মৌসুমে ক্লাব ছেড়ে চলে গেছেন স্যামি খেদিরা, ইস্কো ও আসিয়ের ইয়ারামেন্দিও চলে যেতে পারেন যেকোন মুহূর্তে।

এখনকার খেলোয়াড়দের মধ্যে "ভবিষ্যতের পিরলো" হবার ক্ষমতা যারা রাখেন, তাঁদের মধ্যে কোভাচিচ অন্যতম
এখনকার খেলোয়াড়দের মধ্যে “ভবিষ্যতের পিরলো” হবার ক্ষমতা যারা রাখেন, তাঁদের মধ্যে কোভাচিচ অন্যতম

কিন্তু ব্যাকআপের নাম করে বেনিতেজ যা কিনছেন, পারফরম্যান্সের জোরে তা কিছুদিন পর মূল একাদশ থেকে মডরিচ বা ক্রুসকে সরিয়ে দিলেও আশ্চর্যের কিছুই থাকবে না।

শুভকামনা মাদ্রিদ ফ্যানদের, একজন কিংবদন্তী পেতে যাচ্ছেন আপনারা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + seven =