ব্রেক্সিট – কিরকম প্রভাব পড়বে ব্রিটিশ ফুটবলে?

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের ‘এক্সিট’, অর্থাৎ ব্রিটেন ইইউ বেরিয়ে যাবে, নাকি থাকবে – এ নিয়েই চাপানউতোর চলছে গত কয়েক বছর ধরে৷ ইইউ-তে ব্রিটেনের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে দেখা দেয়া এই জটিলতার নাম হয়ে গেছে ‘ব্রেক্সিট’৷

ঐতিহাসিক গণভোটে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে রবিঠাকুরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে “একলা চলো রে” নীতিতে বলীয়ান হয়েই ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ছাড়ছে ব্রিটেন।

ঐতিহাসিক ব্রেক্সিটের ফলাফল
ঐতিহাসিক ব্রেক্সিটের ফলাফল

 

ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের অর্থনীতি, পৌরনীতির মত ক্রীড়াক্ষেত্রও যে আক্রান্ত হবে সেটা বলেই দেওয়া যায়। ব্রিটিশ ফুটবলও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। যেমনটা ধরে নেওয়া যাক চলাচলের অবাধ স্বাধীনতার বিষয়টা, যেটা কিনা “ফ্রিডম অফ মুভমেন্ট” হিসেবে পরিচিত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের মধ্যকার ফুটবলাররা ই-ইউ এর এক দেশ থেকে অন্য দেশে কাজ করতে গেলে, অর্থাৎ ফুটবল খেলতে গেলে তথা ই-ইউ এর অন্তর্ভুক্ত অন্য কোন দেশের ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে, তাদের ঐ ক্লাবে খেলার জন্য কোন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কাজ করার ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। যেটা কিনা ই-ইউ এর বাইরে যেসব দেশ রয়েছে, সেসব দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। ওয়ার্ক পারমিট না যোগাড় করতে পারলে ক্লাব আপনাকে যত বেতন দেওয়ার জন্যই রাজী হোক না কেন বা আপনাকে ট্রান্সফার করে উক্ত ক্লাবে নিয়ে আসার জন্য যত ট্রান্সফার ফি-ই দেক না কেন, কোন লাভ নেই। আপনি যদি ই-ইউ এর বাইরের দেশের কোন ফুটবলার হন, তাহলে ওয়ার্ক পারমিট না থাকলে আপনি ই-ইউ এর অভ্যন্তরীণ কোন দেশের কোন ক্লাবের হয়ে খেলতে পারবেন না। ব্রিটেনের এই নিয়মের জন্য অনেক বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ই তাদের ক্যারিয়ারের শুরুটা ইংল্যান্ডে বা ব্রিটেনে করতে পারেননি। অনেকে পরবর্তীতে আর ব্রিটেনের ক্লাব ফুটবলে খেলতেই আসেননি। উদাহরণস্বরূপ হিসেবে বলা যায় আর্জেন্টিনার প্রবাদপ্রতিম স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিস্তুতার কথা, ওয়ার্ক পারমিটে ঝামেলা হবে দেখেই ফিওরেন্টিনা থেকে ইংল্যান্ডে আসতে পারেননি তিনি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা লিভারপুলের মত ক্লাবের আগ্রহ থাকা সত্বেও। হাভিয়ের জানেত্তি যোগ দিয়েছেন ইন্টার মিলানে, রোনালদো ব্রাজিল থেকে ইউরোপে গিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের স্বাদ পেয়েছেন পিএসভির হয়ে। ওয়ার্ক পারমিটের ঝামেলা তাঁরা এড়াতেও পারতেন, যদি ট্রান্সফারের সময় নিজ নিজ জাতীয় দলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রমাণ করতেন। যে কারণে আর্জেন্টিনার ব্যানফিল্ড থেকে ইতালির ইন্টারেই গিয়েছিলেন তরুণ জানেত্তি, কোন প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবে নয়। এই এক কারণেই গত মৌসুমে লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রবার্টো ফার্মিনিও বেঁচে গিয়েছিলেন। ওয়ার্ক পারমিট না থাকলেও গত চার বছরে ব্রাজিলের মোট ম্যাচের শতকরা ৩০ শতাংশ ম্যাচে তিনি খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন বিধায় জার্মানির হফেনহাইম থেকে লিভারপুলে যেতে তাঁর কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু গতবছর না এসে যদি আরও তিন কি চার বছর আগে লিভারপুলে আসতে চাইতেন, ওয়ার্ক পারমিট না থাকলে তিনি আসতে পারতেন না, যেটা যোগাড় করা অত্যন্ত কষ্টকর।

ওয়ার্ক পারমিটের ঝামেলার কারণে বাতিস্তুতার মত খেলোয়াড়েরা ইংল্যান্ডে খেলতেই আসতে পারেননি। এরকম সমস্যায় পড়বেন স্পেইন ফ্রান্স ইত্যাদি দেশের খেলোয়াড়েরাও
ওয়ার্ক পারমিটের ঝামেলার কারণে বাতিস্তুতার মত খেলোয়াড়েরা ইংল্যান্ডে খেলতেই আসতে পারেননি। এরকম সমস্যায় পড়বেন স্পেইন ফ্রান্স ইত্যাদি দেশের খেলোয়াড়েরাও

ই-ইউ এর অনভ্যন্তরীণ কোন দেশের খেলোয়াড়ের জন্য ওয়ার্ক পারমিট কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝা যায় আরেকটা উদাহরণের মাধ্যমে। ২০০৭ সালের দিকে আর্জেন্টিনিয়ান ক্লাব ল্যানুস থেকে স্ট্রাইকার সেবাস্তিয়ান লেতো কে ১.৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কিনেছিল লিভারপুল। কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট কোনভাবেই না যোগাড় করতে পারার কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারলেও প্রিমিয়ার লিগে একবারের জন্যেও মাঠে নামতে পারেননি তিনি। দুই বছর লিভারপুলের রিজার্ভ দলে ও একবছর গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে ধারে খেলার পর গ্রিক ক্লাব প্যানাথিনাইকোসে ৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চলে যান তিনি, প্রিমিয়ার লিগ আর খেলা হয়নাই তাঁর।

প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের জার্সি গায়ে কখনই খেলা হয়নি লেতো'র
প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের জার্সি গায়ে কখনই খেলা হয়নি লেতো’র

এখন ব্রেক্সিট হবার ফলে এই সমস্যা এবার আরও প্রকট হবে। ব্রিটেন ই-ইউ থেকে বের হয়ে যাবার ফলে এবার ই-ইউ এর অন্যান্য খেলোয়াড়রা নিজেদের জাতীয় দলে যোগ্য প্রমাণ না করে, জাতীয় দলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ম্যাচ না খেলে প্রিমিয়ার লিগের কোন ক্লাবে খেলতে আসতে পারবেন না। এই নিয়ম যদি আগে থাকত, অর্থাৎ ব্রিটেন যদি আগেই ই-ইউ তে না থাকত, সেক্ষেত্রে অ্যান্থনি মার্সিয়াল, দিমিত্রি পায়েত, হেসাস নাভাস, কার্ট জুমা, হুয়ান মাতা, ডেভিড ডা হেয়া, এনগোলো কান্তে, মর্গান শ্নাইডারলিন, এলিয়াক্যুইম মাঙ্গালা, হেক্টর বেয়েরিন, সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা, সামির নাসরি, হাতেম বেন আরফা, ফিলিপ ক্যুটিনিও – কোন খেলোয়াড়কেই আমরা হয়তবা প্রিমিয়ার লিগের কোব ক্লাবে খেলতে দেখতাম না। আর খেলতে দেখলেও তাদের অনেক হ্যাপা সহ্য করে ব্রিটেনে খেলতে আসতে হত। সবাই কি আর অত হ্যাপা সহ্য করতে পারে?

কারণ তাঁরা যত ট্যালেন্টেডই হোন না কেন, জাতীয় দলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ম্যাচ ত খেলতে পারেননি। অ্যান্থনি মার্সিয়াল-এনগোলো কান্তের জাতীয় দলে অভিষেকই হয়েছে যথাক্রমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পরে।
3329

ফলে ব্রিটিশ ক্লাবগুলো চাক বা না চাক, তারা চাইলেও কম খরচের কথা চিন্তা করে উঠতি কোন সুপারস্টার কম দামে দলে ভেড়াতে পারবে না। পারবেনা বলাটা ভুল হবে, পারলেও প্রচুর ঝামেলা সহ্য করতে হবে, অনেক দাম দিতে হবে, যে দামে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত কোন সুপারস্টারকেই কেনা যায়। এমনিতেই অ্যান্থনি মার্সিয়াল, এলিয়াক্যুইম মাঙ্গালাদের দাম আকাশছোঁয়া, ব্রিটেন ই-ইউ থেকে বের হয়ে যাবার ফলে এসব ক্ষেত্রে এসব তথাকথিত জাতীয় দলে অ-প্রমাণিত খেলোয়াড়দের দাম আরও বেড়ে যাবে হু হু করে।

এখন কান্তে, মার্সিয়াল, পায়েত, শ্নাইডারলিন, অ্যাজপিলিক্যুয়েটা, বেয়েরিন, মাঙ্গালা, নাভাস, মাতা ইত্যাদি খেলোয়াড়দের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে না পারা মানে সেটা প্রিমিয়ার লিগের জন্যই অনেক বড় একটা অশনিসংকেত। এসব খেলোয়াড়রাই লিগের মান উন্নত করেন, লিগটাকে করেন আরও বেশী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন যেসব খেলোয়াড়ের জন্য ইংলিশ লিগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে সেসব খেলোয়াড়েরাই যদি না থাকেন তবে কিভাবে ইংলিশ তাদের জৌলুশ ধরে রাখতে পারবে? কিভাবে নিজেদের অন্যতম আকর্ষণীয় লিগ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে বিশ্বসভায়? জৌলুশ হারালে পরে সম্ভাব্য ইনভেস্টরও হারাবে ইংলিশ লিগ, টিভিতে ইংলিশ লিগ দেখার আগ্রহও কমে যাবে বিশ্ববাসীর মধ্যে, সর্বোপরি আয়ের পরিমাণ কমে যাবে অনেক। টিভিস্বত্ব থেকে গতবছর যেরকম ৫.১৪ বিলিয়ন পাউন্ড হয়েছিল, ই-ইউ থেকে বের হয়ে যাবার ফলে সেই আয়ও আরও অনেক কমে যেতে পারে।

সমস্যা হবে মাইনর বা ১৬-১৮ বয়সী খেলোয়াড়দের দলবদলের ক্ষেত্রেও। ই-ইউ এর অভ্যন্তরীণ দেশের খেলোয়াড়েরা এক ই-ইউ দেশ থেকে আরেক ই-ইউ দেশে ১৬-১৮ বছর বয়সেই দল বদলাতে পারেন। যেটা কিনা নন ই-ইউ দেশের খেলোয়াড়দের জন্য একরকম অসম্ভব ব্যাপার। যে নিয়মের অধীনে বার্সেলোনার লা মাসিয়া প্রকল্প থেকে ১৬ বছর বয়সেই দল বদলে আর্সেনালে চলে আসতে পেরেছিলেন হেক্টর বেয়েরিন, বা তরুণ সেস ফ্যাব্রিগাস। ব্রিটেন এখন সেই ই-ইউ থেকে বের হয়ে আসার ফলে এধরণের কোন ট্রান্সফার হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী ঝামেলাপূর্ণ হয়ে দেখা দেবে।

হেক্টর বেয়েরিন
হেক্টর বেয়েরিন

এখন ব্রেক্সিটের ফলে পাউন্ডের দামও বিশ্ববাজারে কমে যাচ্ছে হু হু করে। ফলে একটা খেলোয়াড় কিনতে গেলে আগে যা খরচ হত ব্রিটিশ ক্লাবগুলোর, এখন তাঁর থেকেও বেশী খরচ হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ওয়েস্টহ্যামের কথা। গতকাল এই ইংলিশ ক্লাব ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁর ফরাসী স্ট্রাইকার অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটের জন্য ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড অফার করে, ইউরোতে যার মূল্য গতকাল পর্যন্ত ছিল ৫২ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু ব্রেক্সিট ঘটে যাওয়ার ফলে পাউন্ডের দাম কমে যাওয়ায় আজকের মধ্যেই সেই ৫২ মিলিয়ন ইউরো কমে হয়েছে ৪৮.৯ মিলিয়ন ইউরো, এদিকে লিওঁর প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-মিশেল অলাস বলেই দিয়েছেন ল্যাকেজেটে কেবলমাত্র দল ছাড়বে যদি কোন ক্লাব ৫০ মিলিয়ন ইউরো অফার করে, ফলে ওয়েস্টহ্যামের কালকের অফারটাও এখন ১.১ মিলিয়ন ইউরো কম পড়ে যাচ্ছে। বুঝুন অবস্থা!

ব্রেক্সিটের ফলে ক্লাবগুলোর মধ্যে ই-ইউ, নন ই-ইউ কোটাতেও পরিবর্তন আসছে যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ রিয়াল মাদ্রিদের কথাই ধরা যাক। আগে ব্রিটিশ খেলোয়াড় গ্যারেথ বেলকে ধরা হত ই-ইউ খেলোয়াড় হিসেবে। ব্রিটেন ই-ইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এখন তিনি হবেন রিয়াল মাদ্রিদের নন ই-ইউ খেলোয়াড়। রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাব নন ই-ইউ কোটায় খেলোয়াড় রাখতে পারে মাত্র তিনজন। বেল নন ই-ইউ খেলোয়াড় হয়ে যাওয়ার ফলে মাদ্রিদে নন ই-ইউ খেলোয়াড় এখন হবেন উইঙ্গার গ্যারেথ বেল, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো, ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানিলো ও কলম্বিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হামেস রড্রিগেজ। এখন এই চারজনের মধ্যে মাদ্রিদকে একজনকে বিক্রি করতেই হবে ফিফার নিয়ম মানতে গেলে। তবে এরই মধ্যে আবার কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে ওয়েলস ব্রিটেন থেকে বেরিয়েও আসতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্যারেথ বেল আবার ই-ইউ এর অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়ই হয়ে যাবেন আগের মত। যদিও এটা নিশ্চিত নয় এখনো।

গ্যারেথ বেলের মত খেলোয়াড়েরাও ব্রেক্সিটের প্রভাবমুক্ত নন
গ্যারেথ বেলের মত খেলোয়াড়েরাও ব্রেক্সিটের প্রভাবমুক্ত নন

প্রভাব যে শুধু এগুলোই তা কিন্তু নয়। সময়ের সাথে সাথে ব্রেক্সিটের কুফলও যেমন আরও বের হবে, ব্রিটিশ ফুটবলের কিছু সুফলও অবশ্যই আসতে পারে এই ব্রেক্সিটের মাধ্যমে। যদিও বলা হচ্ছে ব্রিটিশ ফুটবলে এই ব্রেক্সিটের প্রভাব আসতে আসতে আরও দুই বছর। আবার অনেক জায়গায় বলা হচ্ছে যে না, এখনই শুরু হয়ে যাবে ফুটবলের উপর ব্রেক্সিটের প্রভাব। কখন কি প্রভাব কিভাবে কার উপর পড়বে, সেটা জানার জন্য আমাদের মত ফুটবলমোদীদের বসে থাকা ছাড়া সেরকম কিছুই করার নেই!

কমেন্টস

কমেন্টস

One thought on “ব্রেক্সিট – কিরকম প্রভাব পড়বে ব্রিটিশ ফুটবলে?

মন্তব্য করুন

20 − 9 =