ব্রাজিল বনাম জার্মানি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে যা যা বুঝলাম

ব্রাজিল বনাম জার্মানি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে যা যা বুঝলাম

ব্রাজিল ল্যাটিন আমেরিকায় বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করলো সবার আগে। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে স্কোয়াড নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তিতের হাতেই ছিলো। কিন্তু অবাক হয়ে তাকে ম্যাচের পরে ম্যাচ রেনাতো অগাস্টোকে মিডফিল্ডে সেঁটে দিতে দেখেছি । ফের্নান্দিনহো এমনকি সিটির হয়ে সবচেয়ে ভালো সময়টা কাটানোর পরেও স্টার্ট করার সৌভাগ্য তেমন একটা হয়ে উঠে নি। এমনকি ফ্রেডকে সিলেক্টেড ২৩ এ ডাকলেও তাকে নিয়ে ভালো কোন প্ল্যান কোচের দেখি নাই। তবে মন্দের ভালো এটাই যে, কোচ বুঝতে পারলেন, চাইনিজ লিগ ততোটা কম্পিটিটিভ নয় এবং রেনাতো অগাস্টোকে দিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কিছু জেতাটা সম্ভব নয়। ফের্নান্দিনহোকে নিয়ে কাজ শুরু করলেন এবং সেটা আমার মতো ৮০% ব্রাজিল সমর্থকই একমত হবেন, “একটু দেরি হয়ে গেছে …” আর হয়তো খুব বেশি হলে ৪/৫টা ম্যাচ এর বেশি না । আমার মনে হয় এই ফ্রেন্ডলির চেয়ে ওয়ার্ল্ডকাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ দলের দম আর কম্বিনেশন মিলিয়ে দেখার জন্যে অনেক ভালো জায়গা ছিলো।

লুইজ ফেলিপে স্কোলারির ব্রাজিল ফ্রন্টলাইনের চেয়ে তিতের ব্রাজিল এর ফ্রন্টলাইনের ধার আর ভার দুইটাই বেশি এইটা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই । ন্যাশনাল টিমের নেইমার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ডিসাইসিভ। ভিশনের দিক দিয়ে এই নেইমার ব্রাজিল দলের সেন্টার আর ফিনিশিং এর হিসাব করলে আগের চেয়ে অনেক ভালো ফরোয়ার্ড। ঐদলের সাবস্টিটিউট ছিলো বার্নার্ড আর উইলিয়ান আমার যতদূর মনে পড়ে। এই দলের সাবস্টিটিউট কৌতিনহো আর ডগলাস কোস্তা । ওখানে ফ্রেডের ব্যাকআপ নাম্বার নাইন ছিলো নাম না জানা জো আলভেজ আর এখানে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সাবস্টিটিউট লিভারপুলের হয়ে দারুন ফর্মে থাকা রবার্তো ফিরমিনো। এর মধ্যে আমার মনে হয়ে ফিনিশিং এ ফিরমিনো জেসুসের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও কোচ জেসুসের সাথে নেইমারের কেমিস্ট্রি আর স্টাইলটা একটু বেশি ম্যাচ করায় আমার মনে হয় জেসুস এই দলের অটো চয়েজ । ফিয়ার ফ্যাক্টরে ব্রাজিল এর ফ্রন্টলাইনের অন্তত আমার কাছে বেশ ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমার মনে হয়, কোচের কৌতিনহোকে দিয়ে আসলে কী করাতে চান এবং তার কৌশলে কৌতিনহোর জায়গাটা কোথায় হবে সেই ব্যাপারটা আস্তে আস্তে ঠিক করে ফেলা উচিত এবং তাকেও মানসিকভাবে সেভাবে এডাপ্ট করতে সময় দেয়া উচিত । একজন খেলোয়াড় তার পিক ফর্মে দলকে সার্ভ করতে না পারলে আর কখন ?

দানি আলভেজ আর মার্সেলো আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া দুইটি পাখি । এক আল্লাহই নির্ধারণ করবেন তাদের ভাগ্যে কি লেখা আছে । দুইজনই ক্লাব লেভেলে সর্বজয়ী ফুলব্যাক । অন্তত আমার চেয়ে ভালো জানেন তাদের কী করা উচিত। বাকি আবারও হতাশ হয়ে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া । থিয়াগো সিলভা আর মিরান্ডাকে প্রথমবারের মত ব্রাজিল দলের হয়ে সলিড মনে হয়েছে। আশা করবো ক্যারিয়ারজুড়ে তাকে নিয়ে হয়ে আসা বড় বড় হেডলাইনগুলোর একটা পারফেক্ট ফিনিশিং থিয়াগো সিলভা এতদিনে দিতে পারবেন।

৯০ মিনিট করে ৭টা ম্যাচের খেলা। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক বিষয় হলো এই টুর্নামেন্টে আমি কখনোই ফেবারিট খুঁজতে যাই না । জার্মানির ২৩ দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে যেকোন কোচ এই ২৩ থেকে ১১ বানাতে বিপদে পড়বেন । জার্মানির ৪/৫টা পজিশনে দুইজনের মধ্যে কে বেশি ভালো কিংবা কে ৭ ম্যাচের কাপ টুর্নামেন্টে ভালো করবেন এটা অনেক গণিতসাপেক্ষ বিষয় বলে মনে হয়েছে।

পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভরাডুবির পরে নেইমার নিজের গরজে নিজের দায়িত্বগুলো বুঝুক, আলভেজ আর মার্সেলো শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিক, ক্যাসেমিরো আরো একবার বড় নকআউট ম্যাচে তার ক্যালিবার বুঝিয়ে দিক আর থিয়াগো সিলভা শুধু “ভালো ডিফেন্ডার আর সেরা ডিফেন্ডারের” মিথ থেকে বেরিয়ে সফল ডিফেন্ডারের পরিচয় পাক আর ভাগ্যটা পক্ষে খেলুক। কে জানে… বিশ্বাস তো রাখা উচিত। কারণ মন দিয়ে কাউকে ভালোবাসলে তার উপর থেকে বিশ্বাস হারানো পাপ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 + fourteen =