গ্রুপপর্বে ব্রাজিল দলের প্রতিপক্ষ – কে কেমন?

গ্রুপপর্বে ব্রাজিল দলের প্রতিপক্ষ - কে কেমন?

মারুফ আহমেদ :

প্রিয় দল ব্রাজিল যখন গ্রুপ ই তে তখন তো গ্রুপের অনান্য দল সম্পর্কে হালকা তথ্য রাখা আবশ্যক হয়েই যায়। তাই গ্রুপের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে হালকা বিচার বিশ্লেষণ করার প্রয়াস নিলাম।

  • কোস্টারিকা

বাছাইপর্বে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের টিকিট পায় দলটি। কনকাকাফ অঞ্চল থেকে মেক্সিকোর পর ২য় দল হিসেবে বিশ্বকাপে আসে অস্কার রামিরেজের দল। বাছাইপর্বে শেষ ১০ ম্যাচে ৮ গোল হজম করেছে যা তাদের শক্তিশালী ডিফেন্সের কথা জানান দেয়।

দলের সেরা খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। ২০১৪ এর বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছিলো  দলটি যেখান থেকে তারা অনুপ্রেরণা নেবে এবারের জন্যেও। যদিও নাভাসের মাঝে মাঝেই ভুল করার অভ্যাস আছে তবে বড় প্লাটফর্মে তাঁর পারমারমেন্স কোস্টারিকা ফ্যানদের জন্য যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।

বেশী বয়সী এই দলটির মূল খেলোয়াড়েরা অনেকের বয়সই ৩০ এর উপরে। ৩৪ বছরের জনি একোস্টা, ক্রিশ্চিয়ান বোলানোস কিংবা ৩৩ বছরের ব্রায়ান রুইজ খুব একটা ভরসা দেবে না যেখানে ২৫ বছর বয়সের নিচের প্লেয়ার আছে মাত্র ২ জন। সাথে ফরোয়ার্ড জোয়েল ক্যাম্পবেলের ইনজুরি আক্রান্ত মৌসুম রামিরেজের কপালে ভাঁজ ফেলে দিচ্ছে নিশ্চিত করেই বলা যায়। বুড়ো হাড়ের উপর অতি ভরসা কাল হয়ে দাড়াতে পারে “লস টিকস”দের এইবারের তারুণ্য নির্ভর বিশ্বকাপে।

এই বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ সার্বিয়ার বিপক্ষে, ২য় টি শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচ সুইজারল্যাণ্ডের  ম্যাচেই হয়তবা তাদের এই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। গত বিশ্বকাপে ইটালি, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ডের গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ দলটি চাইবে গতবারের পুনরাবৃত্তি করে পরের রাউন্ডে যেতে। তবে শক্তিশালী ডিফেন্স নির্ভর কোস্টারিকার ম্যাচগুলোতে গোল কম হবার সম্ভবনাই বেশি।

  • সুইজারল্যান্ড

বাছাইপর্বে টানা ৯ ম্যাচে সবগুলো জিতে ২৭ পয়েন্ট পাওয়া সুইজারল্যান্ড হেরেছিলো শেষ ম্যাচে পর্তুগালের সাথে যার ফলে গ্রুপে ২য় অবস্থান পায় দলটি, গোল ব্যবধানে পর্তুগালের কাছে হেরে।  যদি ও প্লে-অফে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া বিতর্কিত হ্যান্ডবল থেকে প্রাপ্ত একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের মুল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি। ভ্লাদিমির পেৎকোভিচ যিনি এককালে পার্টটাইম চ্যারিটি শপে কাজ করতেন তিনি সুইজারল্যান্ড টিমকে কোচিং করাচ্ছেন কিংবদন্তী কোচ ওটমার হিজফিল্ডকে সরিয়ে। দায়িত্বে যে তিনি শতভাগ সফল এ পর্যন্ত তা সুইসদের রাঙ্কিং এ ৬ থাকাই বলে দেয়।

লং রেঞ্জে গোল করতে পটু জের্দান শাকিরি তুরুপের তাস এই দলের যদি ও তার দল স্টোক সিটি এবার অবনমিত হয়ে গেছে। দলে প্রথাগত কোনো নামকরা ফরওয়ার্ড নাই, মূলত ফরওয়ার্ডদের গোল করার ইতিহাসও কম সাম্প্রতিক সময়ে। বেনফিকার ফরওয়ার্ড হারিস সেফ্রোভিচ  যিনি এই সিজনে মাত্র ১১ টি গোল করতে সমর্থ হন সম্ভবত তিনিই হতে চলেছেন দলের মুল ফরোয়ার্ড। তবে পেছন থেকে গুছিয়ে আক্রমণে উঠে আসা দলটি সমমানের দলের জন্য যথেষ্ট ভয়ংকর তবে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভোগাতে পারে মাঝারি মানের রক্ষণ এবং আক্রমণভাগ।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শেষ ১৬ তে নিশ্চিত করা সুইসরা চাইবেই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল এর বিপক্ষে কমপক্ষে ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে যেখানে দেখা হয়ে যেতে পারে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সাথে। ১৯৫৪ এর পর আর কোয়ার্টার ফাইনালে না ওঠা সুইস দলটি এবার তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলটিকে নিয়ে নিজেদের পূর্বের রেকর্ড ভাঙ্গতে নিজেদের সব শক্তি প্রয়োগ করবে তা বলা বাহুল্য।

  • সার্বিয়া

গ্যারেথ বেলের ওয়েলস, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ সার্বরা যথেষ্ট সমীহ জাগানো দল এবার। বাছাই পর্বের শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র ১ টি পরাজয় তাদের শক্তিমত্তার কথা জানান দেয় বেশ ভালোভাবেই।

ম্লাডেন ক্রস্টাইচ এই দলটির দায়িত্ব পান সাবেক কোচ মুসলিনের অতি মাত্রার ডিফেন্সিভ খেলা এবং ল্যাজিওর সার্গেহ মিলিঙ্কোভিচ সাভিচ কে দলে না নেওয়ার কারণে। ৫ জনের ডিফেন্স থেকে ক্রস্টাইচ ৪ জনের ডিফেন্সে খেলাচ্ছেন দলকে আবারো।

২১ বছর বয়সী সার্গেহ মিলিঙ্কোভিচ সাভিচ  যাকে কিনতে ইউরোপের শক্তিশালী অনেক দল আগ্রহী বলে বাজারে জোর গুজব আছে তিনিই সার্বদের তুরুপের তাস। ল্যাজিওর হয়ে সিজনে ১৫ গোল করা এই ইয়ং ট্যালেন্ট যথেষ্ট পারদর্শী দূরপাল্লার শটে গোল করতে যা প্রতিপক্ষের কাছে  কপালে ভাঁজ ফেলার কারন হতে পারে।

ম্লাডেন ক্রস্টাইচ দলের দায়িত্ব নিয়েই ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচের কাছ থেকে নিয়ে কোলারভের কাছে অধিনায়কত্ব দেন যা দলে কিছুটা হলেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলো। ২০১০ এর বিশ্বকাপে তারা যেমন জার্মানিকে হারিয়েছিলো তেমনি ০৬ এর বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে ১০ গোল খাওয়া দলটি রীতিমত অধারাবাহিকতার ইঙ্গিতই দেয়। মূলত মাঝমাঠ এর উপর নির্ভরশীল দলটি নিজেদের দিনে যেমন হুমকির কারন হয়ে দাড়াতে পারে যেকোনো টিমের জন্য তেমনি বিনা কারণে লাল কার্ড খেয়ে ম্যাচ থেকে বের হয়ে ও যেতে পারে যে কোনোদিনে।

মাঝমাঠ নির্ভর দলটির মূল ভরসা নেমানিয়া ম্যাটিচ এবং লুকা মিলিভোজেভিচ। স্যাভিচ, মিত্রোভিচ এবং দুসান তাদিচের ফরওয়ার্ড লাইন যে কোনো দলের জন্য হুমকির কারণ হলেও বয়সী ডিফেন্স আর সাথে গোলবারের নিচে অধারাবাহিক ভ্লাদিমির স্টয়কোভিচ দলের সমর্থকদের দুশ্চিন্তার কারণ বৈকি।

দেখা যাক, ব্রাজিল এই তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে কত পয়েন্ট নিতে পারে!

স্কোয়াড প্রিভিউ দেখুন আরও –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 3 =