ব্রাজিল কোচ তিতে’র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশী দেরি নেই। এই বছরেই জুন মাসের ১৪ তারিখে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল লড়বে তার ষষ্ঠ বৈশ্বিক শিরোপা অর্জন করার জন্য। সেই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অর্জন করার পথে ব্রাজিলের মূল ২৩ জনের স্কোয়াড কি হতে পারে, ব্রাজিলের মূল একাদশ কিরকম হতে পারে, তার একটা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ তিতে। যে ২৩ জন ব্রাজিল স্কোয়াডে থাকবেন বিশ্বকাপে, তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম এর মধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। দেখে নেওয়া যাক কোন ১৫ জন পেলেন রাশিয়া বিশ্বকাপ এর টিকিট, আর কে কে থাকছেন ব্রাজিল এর মূল একাদশে!

১৫ জনের স্কোয়াড –

  • অ্যালিসন বেকার (গোলরক্ষক, এএস রোমা)
  • দানি আলভেস (রাইটব্যাক , প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • থিয়াগো সিলভা (সেন্টারব্যাক, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • মার্ক্যুইনহোস (সেন্টারব্যাক, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • মার্সেলো ভিয়েরা (লেফটব্যাক, রিয়াল মাদ্রিদ)
  • হোয়াও মিরান্ডা (সেন্টারব্যাক, ইন্টার মিলান)
  • কার্লোস হেনরিক ক্যাসেমিরো (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, রিয়াল মাদ্রিদ)
  • ফার্নান্দিনিও (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার সিটি)
  • রেনাতো অগাস্তো (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, বেইজিং গুয়ান)
  • পাওলিনিও (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, বার্সেলোনা)
  • উইলিয়ান (উইঙ্গার, চেলসি)
  • ফিলিপ্পে কউতিনহো (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, বার্সেলোনা)
  • গ্যাব্রিয়েল জেসুস (স্ট্রাইকার, ম্যানচেস্টার সিটি)
  • রবার্তো ফিরমিনো (স্ট্রাইকার, লিভারপুল)
  • নেইমার জুনিয়র (স্ট্রাইকার, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

এদের মধ্যে মূল একাদশে কারা কারা খেলবেন কোচ তিতের মতে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক –

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
বিশ্বকাপে ব্রাজিল এর মূল একাদশ

ব্রাজিলের মূল একাদশে থাকবেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ব্রাজিল ক্লাব ইন্তারব্যাসিওনাল থেকে ২০১৬ সালে রোমায় আসা এই গোলরক্ষক গত দুই মৌসুমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলছেন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিলের মূল দলে খেলা অ্যালিসন ২২ ম্যাচ খেলে এর মধ্যেই তিতের মূল একাদশের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। গোলরক্ষকের মধ্য এখনো পর্যন্ত এই একজনের জায়গাই তিতের স্কোয়াডে নিশ্চিত।

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
অ্যালিসন বেকার

মূল একাদশের ডিফেন্সে রাইটব্যাক হিসেবে খেলবেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের দানি আলভেস। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই রাইটব্যাক ব্রাজিলের হয়ে ১০৫ ম্যাচ খেলে এই স্কোয়াডে সবচেয়ে অভিজ্ঞতমও। মূল একাদশে সেন্টারব্যাক দুইজন হিসেবে থাকছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের মার্ক্যুইনহোস আর ইন্টার মিলানের হোয়াও মিরান্ডা। থিয়াগো সিলভার জায়গা মূল একাদশে না হলেও তাকে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। লেফটব্যাক হিসেবে থাকবেন এই যুগের অন্যতম সেরা লেফটব্যাক, রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলো ভিয়েরা। এই মৌসুমে মাদ্রিদের হয়ে এর মধ্যেই যার ৪ গোল আর ৫ অ্যাসিস্ট।

পুরো বাছাইপর্বে মূলত ৪-৩-৩ ফর্মেশানে খেলা ব্রাজিল বিশ্বকাপেও এই ফর্মেশানেই খেলবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার থাকছেন তিনজন। রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোকে নিয়ে দুইদিকে খেলবেন বার্সেলোনার পাওলিনিও আর চাইনিজ ক্লাব বেইজিং গুয়ানের মিডফিল্ডার রেনাতো অগাস্তো। সামনে খেলা তিনজন অ্যাটাকারের মধ্যে স্ট্রাইকার হিসেবে থাকবেন ম্যানচেস্টার সিটির গ্যাব্রিয়েল জেসুস, লেফট উইঙ্গার হিসেবে থাকবেন সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র আর রাইট উইংয়ে খেলবেন সদ্য লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ফিলিপ্পে কউতিনহো।

১৫ জনের মধ্যে বাকী চারজন হচ্ছেন সেন্টারব্যাক থিয়াগো সিলভা, ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনিও, চেলসির উইঙ্গার উইলিয়ান আর লিভারপুলের স্ট্রাইকার রবার্তো ফিরমিনো।

২৩ জনের স্কোয়াড পূর্ণ হতে আর বাকী থাকে ৮ জন খেলোয়াড়। ব্রাজিল যদি যথারীতি ৪-৩-৩ ফর্মেশানে খেলে, সেক্ষেত্রে মূল একাদশে খেলা প্রত্যেকেরই একজন করে ব্যাকআপ থাকা লাগবে। এই ৪-৩-৩ এর মধ্যে দেখাই যাচ্ছে, ১ জন গোলরক্ষক (অ্যালিসন), একজন রাইটব্যাক (দানি আলভেস), একজন লেফটব্যাক (মার্সেলো), দুইজন সেন্টারব্যাক (মার্ক্যুইনহোস/মিরান্ডা), তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার (পাওলিনিও/রেনাতো/ক্যাসেমিরো), একজন রাইট উইঙ্গার (কউতিনহো), একজন লেফট উইঙ্গার (নেইমার) এবং একজন স্ট্রাইকার (গ্যাব্রিয়েল জেসুস) রয়েছেন। বাকী যে চারজনকে নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন সেন্টারব্যাক (থিয়াগো সিলভা ; মার্কুইনহোস বা মিরান্ডার পরিবর্ত হসেবে নেওয়া যাবে যাকে), একজন উইঙ্গার যিনি কিনা ডানদিকেই খেলতে বেশী স্বচ্ছন্দ (উইলিয়ান ; কউতিনহোর পরিবর্তে নামতে পারবেন যিনি), একজন স্ট্রাইকার (রবার্তো ফিরমিনো ; গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পরিবর্তে খেলানো যাবে একে) এবং একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার (ফার্নান্দিনিও ; ক্যাসেমিরোর পরিবর্তে যিনি খেলতে পারেন)।

অর্থাৎ বাকী ৮ জনের মধ্যে দুইজন গোলরক্ষক ; নূন্যতম একজন করে সেন্টারব্যাক, রাইটব্যাক ও লেফটব্যাক ; নূন্যতম দুইজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, একজন উইঙ্গার বা স্ট্রাইকার দলে নিতে হবে ব্রাজিলকে।

প্রথমে আসা যাক গোলরক্ষকদের ব্যাপারে। ব্রাজিল দলে বর্তমান সময়ের অবিসংবাদিত মূল গোলরক্ষক যদি অ্যালিসন হন, গোলরক্ষকদের জন্য বরাদ্দ বাকী দুই জায়গার একটাতে অবশ্যই রাশিয়া যাবেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক এডারসন। অ্যালিসন-এডারসন দুইজনই বর্তমান সময়কার অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। দুইজনই একদম নিচ থেকে আক্রমণ শুরু করার মত যথেষ্ট ভালো “সুইপার কিপার”, যারা নিখুঁতভাবে ডিবক্সের মধ্যে থেকেই লম্বা পাস বা শট নিয়ে আক্রমণভাগে বল পাঠিয়ে গোল করার সুযোগ সৃষ্টি করে ফেলতে পারেন। দুইজনই বল পায়ে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ, ছোট-বড় সব ধরণের পাস দিয়েই খেলতে পারেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে, সেইভ করার ক্ষেত্রে এডারসনের থেকে অ্যালিসন ভালো হবার কারণে তিতের মূল পছন্দ অ্যালিসনই। এখন বাকী থাকে তৃতীয় গোলরক্ষকের জায়গাটা। তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে তিতে কাকে রাশিয়ায় নিয়ে যাবেন? পছন্দের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু নাম, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্ল্যামেঙ্গোর ডিয়েগো আলভেস, করিন্থিয়ান্সের ক্যাসিও, গ্রেমিওর মার্সেলো গ্রোহে, পালমেইরাসের ওয়েভারতন – ইত্যাদি। ঐতিহ্যগতভাবেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষকের সেরকম কোন গুরুত্ব নেই, নিতে হয় বলেই সাধারণত প্রত্যেক দল এই জায়গায় কোন না কোন গোলরক্ষককে নেয়। ব্রাজিল স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে এই কয়েকজনের মধ্যেই একজনকে নিতে পারেন তিতে। ডিয়েগো আলভেস ভ্যালেন্সিয়ায় যখন ছিলেন তখনই নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেনাল্টি ঠেকানোর ওস্তাদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাই আলভেসকে যদি স্কোয়াডে নেওয়া হয়, গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডের টিম ক্রুলের মত তিনিও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে হিরো বনে যাওয়ার যোগ্যতা রাখেন, খেলা যদি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় আরকি (গত বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে যথারীতি নেদারল্যান্ডের গোলবার সামলাচ্ছিলেন ডাচ দলের মূল গোলরক্ষক ইয়াসপার চিলেসেন, কিন্তু ১২০ মিনিট পার হয়ে যাওয়ার পর খেলা গোলশূণ্য থাকলে পেনাল্টি শুটআউটের সময়ে চিলেসেনের জায়গায় টিম ক্রুলকে মাঠে নামান কোচ লুই ভ্যান হাল, কারণ পেনাল্টি ঠেকানোতে তখন চিলেসেনের থেকে ক্রুল বেশী ভালো ছিলেন, আর ঐ সময় পর্যন্ত ক্যারিয়ারে একবারো পেনাল্টি আটকাতে পারেননি চিলেসেন। ব্রায়ান রুইজ আর মাইকেল উমানার পেনাল্টি আটকে দিয়ে নায়ক হয়ে যান ক্রুল, নেদারল্যান্ড ওঠে সেমিফাইনালে)। আবার কোপা লিবার্তোদোরেসে ভালো পারফর্ম করার দরুণ গ্রেমিও গোলরক্ষক মার্সেলো গ্রোহেও যেতে পারেন রাশিয়ায়, তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে। আবার দলে অভিজ্ঞ কারোর উপস্থিতি চাইলে ক্যাসিওকে দলে নিতে পারেন তিতে, অভিজ্ঞ হিসেবে দলে সুযোগ পেতে পারেন গ্রোহেও।

এখন আসা যাক সেন্টারব্যাক পজিশনে। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের দুই সেন্টারব্যাক মার্ক্যুইনহোস আর থিয়াগো সিলভার সাথে ব্রাজিল দলে ইতোমধ্যে জায়গা পেয়ে গিয়েছেন ইন্টার মিলানের মিরান্ডা। এদের মধ্যে মূল একাদশে খেলবেন মিরান্ডা আর মার্ক্যুইনহোস। এদের মধ্যে সেরকম কেউই বর্তমান সময়ে শ্রেষ্ঠতম সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নন, তবে তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেখিয়েছেন তাদের নিয়ে যদি দলগতভাবে কাজ করা যায় তবে মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস একসাথে একটা অসাধারণ ডিফেন্সিভ জুটি গড়তে পারেন। থিয়াগো সিলভার এককালে বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক ছিলেন, এসি মিলানে থাকার সময় ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে আসার পর প্রথম দুই মৌসুমে, কিন্তু এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কার্যকারিতাও কমে যাচ্ছে। ওদিকে মিরান্ডাও বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক নন, এখনো প্রতিপক্ষ দলের চূড়ান্ত প্রেসিং এর বিরুদ্ধে ভালোভাবে পাস দিয়ে বল নিজের ডিবক্স থেকে একা বের করে আনতে পারেন না। আর মার্ক্যুইনহোস নিজের দিনে অসাধারণ এক সেন্টারব্যাক হলেও এখনো সেটপিসে তাঁর অদক্ষতা চোখে পড়ার মত। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুরেফিরে বিভিন্ন জুটি খেলিয়ে তবুও এই মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস জুটিতে এসে স্থির হয়েছেন, তাই বলা যেতে পারে এটাই এখন ব্রাজিল দলের মূল সেন্টারব্যাক জুটি।

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
দলের মূল সেন্টারব্যাক মার্কুইনহোস আর হোয়াও মিরান্ডা

দলে আরেকজন সেন্টারব্যাক লাগবেই, সেক্ষেত্রে তিতের যাদের মধ্যে থেকে পছন্দ করতে পারেন তারা হলেন –

  • রড্রিগো কাইও : ব্রাজিল দলের অন্যতম সেরা তরুণ এই সেন্টারব্যাক অলিম্পিকজয়ী ব্রাজিল দলে মার্ক্যুইনহোসের সাথে জুটি বেঁধেছিলেন, হারিয়ে না গেলে ২০২২ বিশ্বকাপে অবশ্যই ব্রাজিলের মূল সেন্টারব্যাক তিনিই হবেন। দুর্দান্ত ট্যাকল করতে সক্ষম এই সেন্টারব্যাক অবশ্য এই মৌসুমে সাও পাওলোর হয়ে অতটা ভালো খেলছেন না। তবুও রাশিয়াগামী বিমানে চতুর্থ সেন্টারব্যাক হিসেবে তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচাইতে বেশী।
  • জেমারসন : মোনাকোর তরুণ এই সেন্টারব্যাককেও তিতে রেখেছেন তাঁর পছন্দের তালিকায়। গত মৌসুমে যখন ফরাসী লিগে মোনাকো ইতিহাস গড়েছিল তখন এই জেমারসন ছিলেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ছয়ফুটি হবার কারণে সেটপিসে হেড করার ব্যাপারেও দক্ষতা আছে তাঁর। খেলার স্টাইলের সাথে তরুণ ডেভিড লুইজের বেশ মিল রয়েছে।
  • ফেলিপে অগুস্তো : তিতে যখন করিন্থিয়ানসে ছিলেন, ফেলিপে তখন যোগ্য শিষ্য ছিলেন তাঁর। ব্রাজিলের বর্তমানে মূল পছন্দের তিনজন সেন্টারব্যাক মার্ক্যুইনহোস, মিরান্ডা আর আর থিয়াগো সিলভা প্রত্যেকেই সেটপিস ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রে বেশ দুর্বল, তাই চতুর্থ সেন্টারব্যাক হিসেবে তিতে চাইলে লম্বা কোন সেন্টারব্যাককে দলে নিতে পারেন যে সহজেই সেটপিস থেকে উড়ে আসা আক্রমণ সহজেই নস্যাৎ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ফেলিপে হতে পারেন একটা ভালো সংযোজন।
  • জিল : করিন্থিয়ান্সে তিতের থাকাকালীন সময়ের আরেক নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক। এর মধ্যে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১০ ম্যাচ খেলে ফেলা এই ডিফেন্ডার অতটা আহামরি কেউ নন।
  • নালদো : সাড়ে ছয়ফুটি এই ডিফেন্ডার শালকের হয়ে এই মৌসুমে বেশ ভালো খেলছেন, আর সেটপিস আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী হবার কারণে তিতের নজরে বেশ ভালোভাবেই আছেন তিনি।
  • জেরোমেল : গ্রেমিওর এই সেন্টারব্যাক কোপা লিবার্তোদোরেসে বেশ ভালো খেলেছেন, সেটপিস আটকানোর ক্ষেত্রে আরেক ভালো ডিফেন্ডার তিনি, কারণ তাঁর উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি।
  • ডেভিড লুইজ : এককালে বিশ্বের সবচাইতে দামী এই সেন্টারব্যাকের সেই সুদিন আর নেই। ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এই চেলসি সেন্টারব্যাকের একরকম নেই বললেই চলে।

এবার আসা যাক ফুলব্যাক পজিশানের ব্যাপারে। তর্কাতীতভাবে এই ব্রাজিল দলে রাইটব্যাক হিসেবে খেলছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের কিংবদন্তী রাইটব্যাক দানি আলভেস, আর লেফটব্যাক হিসেবে থাকছেন বর্তমান সময়ের সেরা লেফটব্যাক, রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলো। এখনো অসাধারণ খেলে যাওয়া দানি আলভেসের বিশ্বকাপ আসতে আসতে বয়স হয়ে যাবে ৩৫। এখন ৩৫ বছর বয়সে দানি আলভেস ৪-৩-৩ ফর্মেশানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং একটা পজিশনে খেলতে পারেন কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সমস্যা হয়ে গিয়েছে, ব্রাজিল দলে দানি আলভেসের মত সেরকম তরুণ তারকাও নেই রাইটব্যাক পজিশনে। জালমা সান্তোস, কার্লোস আলবার্তো, নেলিনহো, জোসিমার, জর্জিনহো, কাফু, মাইকন আর দানি আলভেসের মত রাইটব্যাক যুগ যুগ ধরে যে দল উৎপন্ন করেছে, এখন একই যোগ্যতাসম্পন্ন রাইটব্যাক না পাওয়ার কারণে এই ৩৫ বছর বয়সে এসেও আলভেসকেই খেলতে হচ্ছে। যেকোন বিশ্বমানের লেফট উইঙ্গারকে এখনো চুপ করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখলেও মাঝে মাঝে বেশী উপরে উঠে গেলে সময়মত নিচে নেমে ডিফেন্স করার ব্যাপারটা দানি আলভেস এখন আর অত ভালো নাও করতে পারেন, এটা একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পজিশনে আলভেসের ব্যাকআপ হবার জন্য যাদের নাম আলোচনায় আছে তারা হলেন –

  • ফাবিনহো : মোনাকোর এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যারিয়ারের শুরু রাইটব্যাক হিসেবে করলেও গত দুই মৌসুম ধরে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন, আর খেলছেন অসাধারণভাবে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ব্রাজিলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের কারণে সুযোগ না পাওয়া ফাবিনহোকে তিতে চাইলে নিতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে তাকে খেলতে হবে রাইটব্যাক হিসেবে।
  • দানিলো : রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এই মৌসুমেই ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া দানিলো এখন পেপ গার্দিওলার ব্যাকআপ ফুলব্যাক। মূল একাদশে খেললেও এখন তাকে খেলানো হয় লেফটব্যাক হিসেবে। এফসি পোর্তোতে খেলার সময় ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই রাইটব্যাক রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকেই চূড়ান্ত ফর্মহীনতায় আছেন। তাই তাঁর রাশিয়ায় যাওয়া নাও হতে পারে।
  • ফ্যাগনার : দুঙ্গার আমলে ব্রাজিল দলে সুযোগ পাওয়া ফ্যাগনারকে তিতে মাঝে মাঝেই ব্যবহার করলেও দানিলোর মত তিনিও কোচকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ।
  • এডিলসন মেন্ডেজ : দানিলো আর ফ্যাগনারের ব্যর্থতা ও ব্রাজিল দলে ফাবিনহোকে তিতের ডাকতে অনীহা – সবকিছু মিলিয়ে ব্যাকআপ রাইটব্যাকের জায়গাটা চলে যেতে পারে ক্রুজেইরোর অভিজ্ঞ রাইটব্যাক এডিলসন মেন্ডেজের দখলে। তিতে সেরকম আভাসও দিয়ে রেখেছেন একটা।
  • অন্যান্য : অন্যান্য রাইটব্যাকদের মধ্যে দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখের বর্ষীয়ান রাইটব্যাক রাফিনহা, গ্যালাতাসারাইয়ের রাইটব্যাক মারিয়ানো।

লেফটব্যাকে অবশ্যই ব্রাজিল দলের মূল একাদশে খেলছেন মার্সেলো। গত কয়েক মৌসুমে নিজেকে বিশ্বের সেরা লেফটব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা মার্সেলোর সমস্যা হল তাঁর রক্ষণে, প্রায়ই আক্রমণ করতে গিয়ে রক্ষণের দিক দিয়ে মাশুল দিতে হয় তাকে। ক্লাবে রোনালদোর সাথে মাঠের বামদিকে দুর্দান্ত জুটি গড়ে তোলা মার্সেলো একই জুটি জাতীয় দলে নেইমারের সাথেও গড়ে তুলবেন, এই প্রত্যাশা ব্রাজিলপ্রেমী সকলেরই। তবে রাইটব্যাকের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের যে সঙ্কট, লেফটব্যাক পজিশনে তাঁর বিন্দুমাত্রও নেই। এ জায়গাতে মার্সেলোর ব্যাকআপ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশ ঘাম ঝরাতে হবে ব্রাজিল কোচ তিতে কে।

  • অ্যালেক্স সান্দ্রো : গত দুই মৌসুম ধরেই জুভেন্টাসের হয়েই ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই লেফটব্যাককে এই মৌসুমে চেয়েছিল প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন চেলসি। ৪-৩-৩, ৩-৪-৩ কিংবা ৩-৫-২ বিভিন্ন ফর্মেশানে লেফটব্যাক বা লেফট উইংব্যাক হিসেবে খেলা সান্দ্রোর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক বিভিন্ন স্টাইল বা ফর্মেশানে মানিয়ে নিতে পারার ক্ষমতা। রাশিয়ায় মার্সেলোর সাথে অ্যালেক্স সান্দ্রোর যাওয়াটা একরকম নিশ্চিতই বলা চলে।
  • ফিলিপে লুইস : খুব সম্ভবত কখনো বিশ্বকাপ খেলতে না পারা ব্রাজিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ লেফটব্যাক হতে যাচ্ছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফিলিপে লুইস। ২০১৪ বিশ্বকাপে কেন লুইসকে রেখে ম্যাক্সওয়েলকে দলে নিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রাজিল কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি, এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। আর এবার তো লুইসের বয়স হয়ে গিয়েছে ৩২, তাই সান্দ্রোর মত ক্লাবে পারফর্ম করলেও এক বয়সের কারণেই বিশ্বকাপে যাওয়ার টিকিটটা এবার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তাঁর।
  • অন্যান্য : অন্যান্য লেফটব্যাকদের মধ্যে রয়েছেন এফসি পোর্তোর অ্যালেক্স তেয়েস, মোনাকোর হোর্হে, বেয়ার লেভারক্যুজেনের ওয়েনডেল আর হ্যামবুর্গের ডগলাস সান্তোস।
ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
দানি আলভেস ও মার্সেলো – দুই ফুলব্যাক

এবার আসা যাক মিডফিল্ডে। ৪-৩-৩ বা ৪-১-২-৩ ফর্মেশানে ডিফেন্সের সামনে একজন খাঁটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলাতে পছন্দ করেন তিতে। যার কাজই হবে ট্যাকল বা ইন্টারসেপ্ট করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে বাধা দেওয়া, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আসা ইত্যাদি। মিডফিল্ডারদের মধ্যে সেন্টারব্যাক আরকি। এই জায়গায় তিতের প্রথম পছন্দ বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রিয়াল মাদ্রিদের ক্যাসেমিরো। তবে ক্যাসেমিরোর রুক্ষ খেলার ধরণ ব্রাজিলকে যেকোন মুহূর্তে ঝামেলায় ফেলতে পারে, দেখা গেল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচগুলোতে একাধিক হলুদ বা লাল কার্ড খেলে পরের কোন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতেই পারলেন না তিনি। এই পজিশনে ক্যাসেমিরোর ব্যাকআপ হিসেবে তিতের পছন্দ ম্যানচেস্টার সিটির ফার্নান্দিনিও। যদিও দুইজনের খেলার স্টাইলে আকাশ পাতাল তফাত, ক্যাসেমিরোর মত অতটা রুক্ষ খেলতে অভ্যস্ত নন তিনি, বরং দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে থেকে নিখুঁত পাস দেওয়ার মাধ্যমে খেলা গড়ে দেওয়ার পেছনেই তাঁর আগ্রহ বেশী। তাও, যখনই ক্যাসেমিরোর জায়গায় ফার্নান্দিনিওকে খেলতে বলা হয়েছে, বেশ ভালো খেলেছেন তিনি। কিন্তু বয়স ৩২ হয়ে যাওয়ার কারণে যেকোন সময়ে ফর্ম পড়ে গেলে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে কাকে খেলাবেন তিতে? সেক্ষেত্রে তিতের পছন্দ হতে পারেন মার্শেইয়ের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুইজ গুস্তাভো, এই মৌসুমে যিনি অসাধারণ খেলছেন। আবার দলে ক্যাসেমিরোর সেরকম আদর্শ ব্যাকআপ না নিয়ে চাইলে রড্রিগো কাইও কেও (যদি তাকে চতুর্থ সেন্টারব্যাক হিসেবে তিতে দলে নেন আরকি) ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলাতে পারেন, কাইও ক্যারিয়ারের শুরু দিকে দুর্দান্ত ট্যাকল করা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারই ছিলেন, সেখান থেকে হয়ে গেছেন সেন্টারব্যাক।

তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মধ্যে ক্যাসেমিরোর সামনে খেলেন পাওলিনিও আর রেনাতো অগাস্তো। পাওলিনিওর খেলা যারা বার্সেলোনায় দেখছেন, তারা জানেন তিনি কিভাবে খেলেন, ব্রাজিল দলেও সেই স্টাইলের ব্যত্যয় ঘটেনা। এমন একজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার তিনি যাকে ডিবক্সে উঠে প্রায়ই গোল করতে দেখা যায়। শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের কাছে শক্তির দিক দিয়ে হার মানতে নারাজ এই মিডফিল্ডার অন্যান্য যেকোন বক্স-টু-বক্স সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের থেকে অনেক বেশী ডিবক্সে উঠতে পছন্দ করেন, প্রতিপক্ষ ডিবক্সে উঠে গিয়ে ডিফেন্ডারদের হয় তটস্থ রাখেন, নয় অন্য কোন সতীর্থদের সামলানোর জন্য প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা ব্যস্ত থাকলে নিজেই গোল করার কাজটা করে দেন। ব্রাজিলের হয়ে ৪৬ ম্যাচে ১১ গোল বা বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ২২ ম্যাচে ৮ গোল তাঁর গোল করার ক্ষুধাটাকেই প্রকাশ করে, আর এর জন্যই দলে ট্যাকটিক্যালি সবল ফাবিনহো বা অ্যালানের মত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থাকা সত্বেও পাওলিনিওকেই দলের অন্যতম অস্ত্র হিসেবে দেখেন তিতে। পাওলিনিওর জায়গায় খেলার মত ব্রাজিল দলে যেসব মিডফিল্ডার রয়েছেন, তারা হলেন শাখতার দ্যোনেতস্কের ফ্রেড, নাপোলির অ্যালান, মোনাকোর ফাবিনহো, ফেনারবাচের গিলিয়ানো, ফ্ল্যামেঙ্গোর ডিয়েগো রিবাস ইত্যাদি। নিখুঁত পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে বা আক্রমণ গঠন করার ক্ষেত্রে ফাবিনহো, ফ্রেড বা অ্যালান পাওলিনিওর চেয়ে অনেক ভালো হলেও শুধুমাত্র গোল করার ক্ষমতার জন্যই পাওলিনিও মূল দলে জায়গাটা ধরে রেখেছেন। আবার ক্যাসেমিরোর চাইতে ট্যাকটিক্যালি নিখুঁত খেলোয়াড় বিধায় এই জায়গায় খেলতে পারেন ফার্নান্দিনিও-ও।

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
ব্রাজিল দলের মূল মিডফিল্ডাররা ; পাওলিনিও-ক্যাসেমিরো-রেনাতো অগাস্তো

পাওলিনিও-ক্যাসেমিরো-রেনাতো অগাস্তো ; এই তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ত্রয়ীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ট্যাকটিক্যালি একটু সবল খেলোয়াড় রেনাতো, যদিও ব্রাজিল সমর্থকেরা আমার সাথে দ্বিমত করতে পারেন। প্রথাগত ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারদের মত ডিফেন্সচেরা পাস দিতে না পারলেও দলগত খেলায় ব্রাজিলের মিডফিল্ডে ছন্দ ধরে রাখতে তিনি মোটামুটি সহায়তা করেন। বল পাওয়ার সাথে সাথে আক্রমণভাগে বলটা পাঠিয়ে দেওয়াটাকেই তিনি নিজের কাজ মনে করেন, নিজে থেকে আক্রমণ একদমই করতে পারেন না, যা কউতিনহোর মত মিডফিল্ডাররা করে থাকেন। এই পজিশনে খেলার মত খেলোয়াড় আছেন, অবশ্যই কউতিনহো। কিন্তু ফিলিপ্পে কউতিনহোকে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলাতে বেশী আগ্রহী তিতে কউতিনহোকে এই পজিশনে খেলাবেন না সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে রেনাতো অগাস্তোর জায়গায় খেলার মত খেলোয়াড় রয়েছেন গ্রেমিওর আর্থার মেলো, পালমেইরাসের লুকাস লিমা, বেসিকতাসের অ্যান্ডারসন তালিস্কা ইত্যাদি।

এবার আসা যাক আক্রমণভাগে। আক্রমণভাগের বামদিকটা ব্রাজিল দলের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারের জন্য বরাদ্দ, এটা জানা কথাই। আর সুস্থ থাকলে প্রত্যেকটা ম্যাচের পুরোটা যে নেইমারই খেলবেন এটাও বলা বাহুল্য। কিন্তু বলা যায়না, গতবারের মত সেমিফাইনালের আগেই নেইমার ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেলে কে খেলবেন তাঁর জায়গায়? এ জায়গায় চলে আসতে পারেন ফিলিপ্পে কউতিনহো। সদ্য বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার লেফট উইঙ্গার বা লেফট মিডফিল্ডার হিসেবেই বেশী স্বচ্ছন্দ। যদিও নেইমারের উপর নির্ভরশীল থাকার কারণে এই পজিশনে তিতে এখনো সেরকম কাউকে খেলাননি। ওদিকে রাইট উইঙ্গারের জায়গাটা আপাতত ফিলিপ্পে কউতিনহোর জন্য বরাদ্দ থাকলেও তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন চেলসির উইঙ্গার উইলিয়ান। প্রয়োজন পড়লে ডান বা বাম, উভয় উইংয়েই যোগ্য ব্যাকআপ দিতে পারেন জুভেন্টাসের ডগলাস কস্টা, ফর্মে থাকলে যেকোন ফুলব্যাককে কাঁদিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে যার। ডানদিকের পজিশনে খেলার মত খেলোয়াড় তরুণদের মধ্যে আছেন বোর্দোর তরুণ উইঙ্গার ম্যালকম, যাকে নিয়ে এ বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একাধিক ক্লাবের মধ্যে টানাটানি পড়ে গিয়েছিল, খেলতে পারেন আয়াক্সের ডেভিড নেরেসও। অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আরো আছেন শাখতারের তাইসন, গ্রেমিওর লুয়ান। ম্যালকম ও ডেভিড নেরেসের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন তিতে, দুইজনই অসাধারণ তরুণ উইঙ্গার, যদিও পাস দেওয়া ও গতিশীলতার দিক দিয়ে ডেভিড নেরেসের থেকে ম্যালকম বেশী ভালো। বলা বাহুল্য, সামনের কাতার বিশ্বকাপে নেরেস-ম্যালকম ; এরাই মাতাচ্ছেন।

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
ব্রাজিল আক্রমণের মূল শিরোমণিরা – কউতিনহো, নেইমার ও হেসুস

তিনজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঝে, অর্থাৎ স্ট্রাইকার হিসেবে তিতের দলে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির গ্যাব্রিয়েল হেসুস। যদিও গত এক বছরে বিভিন্ন ইনজুরির কারণে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি, কিন্তু ছন্দে থাকলে তিনি কিরকম বিধ্বংসী হতে পারেন, সেটা ম্যানচেস্টার সিটি ও ব্রাজিলের হয়ে তাঁর খেলা ম্যাচগুলো দেখলেই বোঝা যায়। হেসুসের জায়গায় ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনো, যিনি কিনা লিভারপুলের হয়ে বর্তমানে ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় কাটাচ্ছেন। দলে আরেকজন স্ট্রাইকার নিতে পারেন তিতে, সেক্ষেত্রে সে জায়গাটা পাওয়ার জন্য লড়াই হতে পারে রিয়াল সোসিয়েদাদের উইলিয়ান হোসে, বেসিকতাসের অ্যান্দারসন টালিস্কা, বেনফিকার স্ট্রাইকার হোনাস ও সাও পাওলোর ডিয়েগো সৌজার মধ্যে। হোনাস, ডিয়েগো সৌজা ও উইলিয়ান হোসে তিনজনই প্রথাগত টার্গেটম্যান, তবে বয়স তুলনামূলকভাবে কম হবার কারণে সুযোগ পেতে পারেন উইলিয়ান হোসে। ওদিকে অ্যান্দারসন টালিস্কা সহকারী স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলতে বেশী স্বচ্ছন্দ, একেবারে প্রথাগত টার্গেটম্যান নন তিনি।

এবার রবার্তো ফিরমিনো প্রসঙ্গে আসা যাক। বর্তমানে বিশ্বের সেরা “অল রাউন্ড” স্ট্রাইকার যদি ফিরমিনোকে বলা হয়, সেটা বাড়িয়ে বলা হবেনা। শুধু গোল করাই নয়, ডিবক্সে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে বল কেড়ে নেওয়া, ট্যাকল করা, সাথে সহজাত ব্রাজিলিয়ান ড্রিবলিং মিলিয়ে ফিরমিনো যেন সম্পূর্ণ একটা প্যাকেজ। এর মধ্যেই ক্লাবে ২০ গোলের মাইলফলক পার হওয়া ফিরমিনো চলমান চ্যাম্পিয়নস লিগের ৭ ম্যাচে গোল করেছেন ৭টি, গোলসহায়তা ৪টি। আর চলমান মৌসুমে এখনো পর্যন্ত ২১ গোল, গোলসহায়তা ১১টি। হেসুস ফর্মে না ফিরলে তিতের মূল স্ট্রাইকার ফিরমিনোই হচ্ছেন, সেটা বলেই দেওয়া যায়।

ব্রাজিল কোচ তিতে'র ঘোষণা : যেমন হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাদশ
রবার্তো ফিরমিনো

বিশ্বকাপের বাকী আছে আর ১২০ দিনের মত, এর মধ্যেই আরো সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে ব্রাজিল স্কোয়াডের মধ্যে, ফর্ম ও ইনজুরির উপর নির্ভর করে। শেষ পর্যন্ত কাকে কাকে নিয়ে যাবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে? তারা কি ব্রাজিল কে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দিতে পারবে?

প্রশ্নটা সময়ের হাতেই তোলা থাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + eighteen =