ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা বড়ই থাকছে বাংলাদেশের

৩৯ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৮৪ । তামিম আর রিয়াদ গুণছেন শতকের প্রহর । রিয়াদ আউট হয়ে যান পরের ওভারেই । তাতেও বড় সমস্যা হবার কথা নয় বাংলাদেশের । তখনও যে বাকি সাকিব আল হাসান , মুশফিক আর সাব্বিরের মত ব্যাটসম্যানেরা । কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের স্থিতি যে এখন প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের চাইতেও আনপ্রেডিক্টেবল ! তাইতো ঐ শক্ত অবস্থান থেকে দলের রান গিয়ে টেনেটুনে ঠেকল ২৪৬ এ । তাও পুরো ৫০ ওভার না খেলেই অলআউট । এর মধ্যে ১৮৪ থেকে ১৯০ এই ৬ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় রিয়াদ, তামিম আর মুশফিকুর রহিমকে ।

টাইগারদের ত্রাতা মাহমুদুল্লাহ ও তামিম
টাইগারদের ত্রাতা মাহমুদুল্লাহ ও তামিম

এর আগে ১৬ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আশার আলো দেখায় ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তামিম ইকবাল ও চারে ব্যাট করতে নামা মাহমুদুল্লাহর ৮০ পেরোনো দুটি ইনিংস । রিয়াদ আর তামিমের জুটিটা ছিলো ১৬৮ রানের । কিন্তু ঐ পর্যন্তই ! মুশির ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশ কখনোই আর রানের গতি সেভাবে বাড়াতে পারে নি । বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ অংশের আলো বলতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৩ চারে ৩০ বলে ৩১ রানের ইনিংসটি ।

২৪৭ রানের টার্গেটে পাকিস্তানের শুরুটা হয় প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়েই । ৮ রান তুলতেই পাকিস্তানের ২উইকেট হাওয়া । দুটো উইকেট দুই পেসারের । একটা মাশরাফির আরেকটা রুবেলের । খানিক বাদে দলের রান ৫০ পেরোতেই নেই অভিজ্ঞ ইউনিস খান । তারপর থেকে পাকিস্তানের উইকেট পড়েছে ঠিকই কিন্তু আস্কিং রেটের সাথে তাল মিলিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে উঠায় ২৪৬ রানের মাঝারি সংগ্রহকে অনতিক্রম্য মনে হয় নি কখনোই । পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে একপাশ থেকে গতিকে সচল রেখেছিলেন শোহেব মাকসুদ । শুরু থেকে দারুন খেলা মাকসুদকে টলাতে পারে নি বাংলাদেশ । ৯০ বলে ৯৩ রান করা মাকসুদের ইনিংসে ৯ চার ও ২ ছক্কা । এর সাথে উমর আকমলের ৩৯, আফ্রিদির ২৪ আর হারিস সোহেলের ৩৯ রানের ইনিংসগুলো যোগ করে পাকিস্তান ম্যাচটা জিতে নেয় ১১ বল আর ৩ উইকেট হাতে রেখেই ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে পুরো ১০ ওভার বল করেছেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা । তাতে মাশরাফির খরচা ৫০ রান আর সাকিবের ৪৫ রান । ৮ ওভারে ৩২ রান দেওয়া রুবেল হোসেন বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচাইতে ইকোনোমিকাল । ৭ ওভারে ৪১ রান দিলেও মিসবাহ ও ইউনিসের দুটো মূল্যবান উইকেট নেন তরুণ সেনসেশন তাসকিন আহমেদ ।

বাংলাদেশের ২য় ওয়ার্ম আপ ম্যাচ ১২ ফেব্রুয়ারি । প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড । নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের ৫ম বিশ্বকাপটাকে সাফল্যের রঙে রাঙিয়ে তুলতে পুরো ব্যাটিং অর্ডারের একসাথে জ্বলে উঠার বিকল্প নেই বাংলাদেশের কাছে । ভালো শুরুর পর ৪০ ওভারের পর খেই হারিয়ে ফেলার রোগের ওষুধটা খুঁজে পাওয়াটা খুবই জরুরি বাংলাদেশের জন্য ।

অস্ট্রেলিয়াতেও লাল সবুজের সাথে স্থানীয় বাংলাদেশিরা
অস্ট্রেলিয়াতেও লাল সবুজের সাথে স্থানীয় বাংলাদেশিরা

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × four =