বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই মাঠে ফিরছে টনি ক্রুস

কালকের বরুশিয়া ম্যাচে স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন এই মিড রোবট ।

বিজ্ঞানের পয়মন্ত এই শতকে চলন্ত যন্ত্রে চলছে একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য ।
অথচ এর সৃষ্টিকর্তা মনুষ্য জাতিই কিনা মাঝে মাঝে বিরতিহীন চলমান যন্ত্রে রুপ নিচ্ছে !

হ্যা, বলছি মানুষরুপী এক জার্মান যন্ত্রের কথা ।
যে যন্ত্রের অভিধানে বিশ্রাম বলে কোন শব্দই নেই । ক্লান্তি কিংবা অবসাদ তাকে আলিঙ্গনে বারংবার ব্যর্থ ।

ফুটবলে জাতিগত যুদ্ধে সেরাদের অংশ তিনি । ইউরোপ ফুটবলের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের তকমাও তার শুভ্র পোষাকে ।
বাহ্যিক অবয়ব, আচার-ব্যবহার আর ময়দানীয় চরিত্রে পুরোদস্তুর এক ভদ্রলোকটির নাম টনি ক্রুস ।
১৯৯০ এর ৪ঠা জানুয়ারী পশ্চিম জার্মানীতে জন্ম নেওয়া ক্রুস জয় করেছেন জার্মানী । জয় করেছেন ইউরোপ, জয় করেছেন বিশ্ব ।
জার্মান্ট জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যমাঠ তখন দু পায়ের ছড়িতে ঘোরাচ্ছেন তিনি । ঘরোয়া লীগে জিতলেন তিন তিনবার শিরোপা ।
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের অংশিদারও হলেন ২০১২-১৩ মৌসুমে । দেশের হয়ে অবশ্য বার দুয়েক তাকে তৃতীয় হয়েই থাকতে হয়েছে । অনুর্ধ্ব ১৭ ও ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০ এর আক্ষেপটা ঘুঁচেছে অবশ্য ২০১৪ তে এসে ।
জিতলেন ফুটবলের দলগত শ্রেষ্ঠত্ব ।
হলেন আসরের সেরা মধ্যমাঠ খেলোয়ার ।
যোগ্যতার জানান আগেই দিয়েছিলেন । তবে এবার ক্রুসের ক্রমবর্ধমান আতশবাজী যেন ফুটতেই থাকলো ।
ইউরোপের সমস্ত জায়ান্ট ক্লাবগুলোর লোভী দৃষ্টি এই জার্মানের দিকে ।
শেষতক বাজিটা জিতে নিলো ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের রিয়াল মাদ্রিদ ।
যন্ত্র বা রোবট খেতাবটা তখনও পাকাপাকিভাবে পাননি তিনি । কিন্তু সহসাই পেয়ে গেলেন অভ্যস্থতার পরম নিদর্শন । ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ক্লাব, ভিন্ন সতীর্থ আর ভিন্ন পরিবেশে ক্রুসের প্রারম্ভিক মিশে যাওয়ায় চমত্‍কৃত ফুটবল বিশ্ব ।
প্রথম দিন থেকেই মাদ্রিদের হয়ে ক্রুসকে পাওয়া গেলো অত্যান্ত সাবলীল ও সহজরুপে ।
প্রথম দিবস থেকেই নিজেকে খুজে পেলেও মাঠে নিজের সহজাত পজিশনটা পেলেন না এই জার্মান ।
জাবি আলোন্সোর বিদায়ে রক্ষণাত্বক মধ্যমাঠ সামলানোর দায়িত্ব তার ঘাড়ে চাঁপলো ।
আক্রমণাত্বক থেকে এক ধাপে রক্ষণাত্বক ! ঘাবড়ালেন না জার্মান যন্ত্র মানব । খেলে গেলেন সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে । পুরো মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিলেন সহজাত বৈশিষ্ট্যে ।

টনি ক্রুসকে যদি বলা ‘মধ্যমাঠের রোনালদো’ তবে কি খুব বেশি ভুল হবে ?
প্রতি ম্যাচে পাক্কা নব্বই মিনিট খেলার দাবী ও সক্ষমতায় রোনালদো অন্য এক উঁচুতে ।
টনি ক্রুসও ঠিক তেমন শ্রেণিরই ।
ম্যাচের পর ম্যাচ ক্লান্তিহীনভাবে খেলে যাচ্ছেন । ঝড়ছে ঘাম, কিন্তু আত্নবিশ্বাসটা সঠিক স্থানে অটল ।
সাম্প্রতিক কোপা দেল রে’র প্রথম খেলায় মুল একাদশ বিশ্রাম পেলেও মাঠে খেলতে হয়েছে টনি ক্রুসকে । পরে এক প্রশ্নের জবাবে কোচ জিদান জানিয়েছিলেন- “ক্রুস নিজেই প্রতিটা ম্যাচের প্রতিটা মিনিট খেলতে চায় ।” মাঠের দীর্ঘ উপস্থিতি খেলোয়ারদের ইনজুরির উপকরণ । অথচ ক্রুস নামক যন্ত্রটির সাথে ইন্জুরির সখ্যতা যেন চাঁদ-বামুনে ।
টানা পরিশ্রম আর ভিন্ন পজিশনও যেন ছন্দপতন ঘটাতে বারংবার ব্যর্থ ।
দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে তাই ক্রুস তো গাইতেই পারেন নিজের শ্রেষ্ঠত্বের রণ সঙ্গীত । যে সঙ্গীতের ঝংকার ধ্বনিতে বারবার প্রকাশিত ক্রুসের বন্দনা, ক্রুসের যোগ্যতা ।
যে বন্দনা আর যোগ্যতার মিশেলে মাদ্রিদের সাদা পোষাকেও ক্রুসের অর্জন ঈর্ষণীয়, বর্ধনীয় তার শিখরে ওঠার ধারাবাহিকতা । বর্জনের খাতায় ছন্দপতন আর ইঞ্জুরি নামক দুটি চির শত্রুর ।

দায়িত্ববোধ আর আত্নবিশ্বাসে টইটম্বুর টনি ক্রুস গতকালের ম্যাচ শেষেই উড়াল দিয়েছেন জার্মানীর উদ্দেশ্যে । অক্লান্তির এই যুবরাজকে এবার লড়তে হবে নিজ জাতির হয়ে ।

সম্প্রতি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ টনি ক্রুস নামক সম্পত্তির সাথে চুক্তিটা বাড়িয়েছে । বার্নাব্যুর উঠোনে ব্যস্ত ক্রুসের দেখা মিলবে আরও অনেকটা বছর ।
আর তাতে শুভ্র শিবিরে হয়ত যোগ হবে আরও কিছু শ্রেষ্ঠত্ব । আর ক্রুস নামক যন্ত্র মানবে আসবে আরও পাণ্ডিত্য ।

বার্নাব্যুর সবুজ উঠোনে শুভ্র এই ভদ্রলোকের প্রতি রইল চিরকালীন শ্রদ্ধা ও শুভকামনা ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − fifteen =