বিশ্বসেরা সব্যসাচীর কথা বলতে এসেছি

মনে কর যেন বিদেশ ঘুরে,

লাল সবুজের জয়গান গাই,
ব্যাট বলের মধুর সুরে।

তার সম্পর্কে এই কথাটা লিখেছিলাম অনেক আগে। এখনও তিনি পৃথিবীর প্রতিটি কুড়ি ওভারের ব্যবসায়িক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ২০০৬ সালে অভিষেক হলেও তাকে আমরা প্রথম লাইম লাইটে আসতে দেখি ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৫০ করে। তবে সাকিবের সাকিব হয়ে ওঠার পিছনে দুটি জিনিসের বড় ভূমিকা আমার কাছে মনে হয়।

১। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিততে হবে যদি ফাইনালে যেতে চাই, কারণ জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছি- এমন সমীকরণে দাড়িয়ে ৫৭ বলে ৯২ রান করে দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। সেই থেকে আসলে আমি তার সাহস ও আত্মবিশ্বাসের ভক্ত। সাকিবের অনেক সমালোচনা থাকতে পারে, তবে দেখুক সারা দুনিয়াটা, আমরাও পারি! এই আত্মবিশ্বাস তিনিই আমাদের মধ্যে এনে দিয়েছিলেন। অনেকে আশরাফুলের কথা বলতে পারেন। কিন্তু আশরাফুলের ইনিংস হল হ্যালির ধুমকেতুর মতো। আর সাকিবের ধারাবাহিকতা- সেটা নিয়ে নতুন করে বলার আর কিছু নেই।

এতক্ষণ পর্যন্ত সাকিবের পরিচয় ছিল, ব্যাটসম্যান, যে কিনা টুকটাক বোলিং করতে পারে। এবার দেখি সাকিবের সব্যসাচীতে বদলে যাওয়ার গল্প।

২। কিউইদের বিপক্ষে হোম সিরিজ। কোচকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানালেন সাকিবকে তিনি বিশেষজ্ঞ স্পিনার মনে করেন। ব্যাস, এক কথাতেই যেন সাকিব বদলে গেলেন। তার ঘূর্ণির ফাঁদে হাঁসফাঁস করতে থাকলো কিউইরা। ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে এই সাকিব নতুন করে লিখলেন রেকর্ড। সেই থেকেই সাকিবের বদলে যাওয়ার শুরু। এখন তো বিশ্বসেরা সব্যসাচী বলতেই তার ছবিটা মনের পর্দায় ভেসে ওঠে।

৩। মনে আছে প্রথম বাংলা ধোলাই এর কথা? সাকিবের ৯৬ না হলে তো সেই টেস্ট জেতা হয়না। ম্যাসের ইঞ্জুরিতে অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব নিয়ে একদিনের সিরিজও জিতালেন প্রায় একক নৈপুণ্যে।

৪। ২০১০ সালে কিউইদের বাংলা ধোলাই করা হল প্রথমবার। কিউই কোচ বলেছিলেন, সাকিব তো একাই হারিয়ে দিলো আমাদের! ঐ সিরিজটার কথা মনে পড়লেই রুবেলের ইওরকারে মিলসের স্ট্যাম্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে ভাসে, কিন্তু দলটাকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা, ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিঙে পথ দেখানো অধিনায়ক সাকিবকে আমরা ভুলে যাই!

সাকিবের মূল শক্তি তার বোলিং, এমনটাই আমার ধারণা। তবে তাই বলে তিনি ব্যাটিঙে কম নন কারো চেয়ে। গতকাল তার ৪৮ রান আর অসাধারণ কিপটে বোলিং না হলে এতক্ষণ বিষাদে ডুবে যেত পুরো জাতি! বল হাতে সাকিব মুরালি বা ওয়ারন নন যে বলে বলে উইকেট আসবে। তিনি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা করেন সেটা হচ্ছে উইকেট না পেলেও রানের চাকা আটকে দেওয়া। কাল যেমন ১০ ওভারে দিলেন মাত্র ২৬! বলা যায় তিনিই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন, যদিও শেষের নায়ক তাসকিন, তবে তাকে একটুও ছোট না করে এটা বলাই যায়, সাকিব অমন কিপটে না হলে এই ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত, যেভাবে রুবেল তাসকিন প্রথমদিকে উদার হস্তে রান দিয়েছেন।

বিশ্বসেরা সব্যসাচী অল্পতে তৃপ্ত নন। তার হার না মানা লড়াকু মানসিকতা তরুণদের কাছে শিক্ষণীয় হতে পারে। আরও বড় বিষয় হচ্ছে আবেগের স্রোতে বাঁধ দিতে পারা, যেটা আমরা অনেকেই পারিনা, অথচ এটাই সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত।

সাকিবের প্রতি অনেক শুভকামনা। লাল সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় তিনি নিয়ে যাবেন, এই আশা নিয়ে শেষ করছি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight + 9 =