যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : “গিভ মি দ্য ফাকিং বল!”

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : "গিভ মি দ্য ফাকিং বল!"

আর মাত্র ৪৯ দিন। ৪৯ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!

আজকের ঘটনাটা গত বিশ্বকাপেরই। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে মুখোমুখি হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি আর একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি কে মনে করা হচ্ছিল “গ্রুপ পফ ডেথ” বা মরণফাঁদ! আর সেরকম মনে করাটাই স্বাভাবিক। গ্রুপে যে ছিল  একইসাথে ইংল্যান্ড, ইতালি, উরুগুয়ের মত পরাশক্তি! এই তিন দেশের সম্মিলিত বিশ্বকাপ সংখ্যা ৭, এই গ্রুপকে গ্রুপ অফ ডেথ বলা হবে না তো কোনটাকে বলা হবে, আপনিই বলুন!

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই তিন দলের বাইরে আরেক যে দল ছিল, কাগজে-কলমে দুর্বলতম দল সেই কোস্টারিকাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যায়! এই গ্রুপ থেকে আরেক দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট কাটে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। যাইহোক, সেটা অন্য আলোচনা।

তো, গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইতালি আর ইংল্যান্ড। ৩৫ মিনিটে জুভেন্টাস মিডফিল্ডার ক্লদিও মার্কিসিওর গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। ৩৭ মিনিটেই গোলটা শোধ করে দেন তখন লিভারপুলে খেলা ইংলিশ স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল স্টারিজ। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করে ইতালিকে আবারও এগিয়ে দেন স্ট্রাইকার মারিও বালোতেলি। পরের ৪০ মিনিট হন্য হয়ে খুঁজেও ইতালির বিখ্যাত ডিফেন্স ভেদ করে আর গোল করতে পারেনি ইংল্যান্ড।

গোল করার জন্য মরিয়া উলটো ৯২ মিনিটে একটা ফ্রি-কিক হজম করে, ইতালির হয়ে ফ্রি-কিক নিতে আসেন জুভেন্টাস ও ইতালির ফ্রি-কিক মাস্টার অ্যান্দ্রেয়া পিরলো। অসাধারণ বাঁকানো সেই ফ্রি-কিকটা ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জ্যো হার্টকে বোকা বানিয়ে ক্রসবারে লাগে, কিন্তু গোল হয়না। অপদস্থ জ্যো হার্ট বিরক্ত হয়ে তাড়াতাড়ি পিছন থেকে বলটা আনতে গিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন, আর তাতেই সৃষ্টি হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাস্যকর কাহিনীর!

“গিভ মি দ্য ফাকিং বল!”

নির্দিষ্ট করে কাকে বলেছিলেন এ কথাটা জ্যো হার্ট, হয়ত তিনি নিজেও বলতে পারবেন না। তবে তা যে কোন একটা বলবয়কে উদ্দেশ্য করেই ছিল – এটা নিশ্চিত! আর অ্যান্দ্রেয়া পিরলোর কাছে জ্যো হার্টের অপদস্থ হবার ঘটনা তো সেবারই প্রথম ছিল না!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : "গিভ মি দ্য ফাকিং বল!"
ইউরোতে পিরলোর সেই পেনাল্টি!

২০১২ সালের ইউরোতে পেনাল্টিতে অসাধারণ এক পানেনকা পেনাল্টিতে হার্টকে বোকা বানিয়ে গোল করেন অ্যান্দ্রেয়া পিরলো! ২০১৪ সালে আবারও ঐ পিরলোর কাছেই অপদস্থ হতে যে কি পরিমাণ অসহ্য লেগেছিল জ্যো হার্টের, সে কথা বোঝাই যায় – হার্টের ঐ কথা শুনলে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − 5 =