বিশ্বকাপে লাল সবুজের ক্রিকেট রুপকথা-১

 

সা

সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়,
বিশ্বকাপের আসরে, লাল সবুজের রুপকথা লেখায়।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ হচ্ছে খেলার বিশ্ব আসরের মধ্যে একমাত্র আসর, যেখানে আমাদের গর্বের লাল সবুজ উড়ে সম্মানের সাথে। এই আসর আসলে আমরা বিদেশী দল সমর্থন করি না ফিফা বিশ্বকাপের মতো, হৃদয়ে লাল সবুজ ধারন করে অপেক্ষা করি বাংলার বাঘেদের রুপকথার সাক্ষী হওয়ার, সব ভেদাভেদ ভুলে আনন্দে ভাসার। তা, রুপকথা এদেশের ক্রিকেটাররা লিখেছেন, ব্যাট বল দিয়ে- সেই সব বীরত্বের গল্পই আজকে আপনাদের শোনাবো।

১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি- যা জিতলে পাওয়া যাবে বিশ্বকাপ নামের স্বপ্নলোকের চাবি, সেটা আকরাম খানের নেতৃত্বে জয় করলো বাংলাদেশ, ফাইনালে হারালো আফ্রিকার কেনিয়াকে। সাইফুল ইসলামের সেই জয় সূচক রান এবং দুই হাত উচিয়ে দৌড়, উল্লসিত, উচ্ছাসিত ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের রঙ খেলা, এসবই রুপকথার প্রথম ধাপ।

hqdefault

বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল ২০০০ সালে, কিন্তু শতাব্দীর শেষ বছর বলে কথা, তাই ১৯৯৯ সালেই ক্রিকেটের আদি পিতা ইংল্যান্ডে চতুর্থ বারের মতো বিশ্বকাপের আসর বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ খেলে বি গ্রুপে, গ্রুপ সঙ্গী ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সবাই ক্রিকেটের বড় পরাশক্তি, স্কটল্যান্ড বাদে। সেই স্কটল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে বিশ্বকাপে প্রথম লাল সবুজের জয় পতাকা উড়েছিল, ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মিনহাজুল আবেদিন।

৩১ মে ১৯৯৯, বিশ্ববাসী এক রুপকথা রচিত হতে দেখে, ক্রিকেট যে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা- তার প্রমাণ আবার দেখা যায়, যখন ওয়াসিম ওয়াকার আফ্রিদি ইনজামাম সাইদ আনোয়ার- মোটকথা তারায় ঠাসা পাকিস্তান দলকে হারিয়ে দেয় নবাগত বাংলাদেশ। ব্যবধান টাও অল্প নয়-৬২ রান!

টসে জিতে পাকিস্তানি সেনাপতি বাংলাদেশকে ব্যাটিঙে পাঠান, প্রথম থেকেই সেদিন মনে হচ্ছিলো ‘কিছু একটা হয়ে যাবে আজ’। আর্দ্র পিচে রান তোলাই ছিল কঠিন কাজ, কিন্তু শাহরিয়ার আর মেহরাব- দুই হোসেনের সাবধানী শুরু বাংলাদেশকে ভালো একটা ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছিল। তাদের বিদায়ের পর এক প্রান্তে হাল ধরে থাকেন আইসিসি ট্রফি জয়ী অধিনায়ক আকরাম খান, আর অন্য দিকে চলছিল ছোট ছোট ইনিংস আর আশা যাওয়ার খেলা। শেষের দিকে খালেদ মাহমুদের ২৭ রানের ক্যামিও বাংলাদেশকে ২২৩ রানের সম্মানজনক স্কোরে পৌছাতে সাহায্য করে। ওহ, হ্যা, পাকিস্তানি বোলারদের উদারতার কথাও বলতে হবে, ৪০ টি অতিরিক্ত রান দিয়ে বাংলাদেশকে ‘সহায়তা’ করেছিলেন ভালোই, যার মধ্যে ২৮ টি ছিল ওয়াইড- ফলে প্রতি রান যেখানে হীরার মতো দামি, সেখানে প্রায় পাঁচ ওভার অতিরিক্ত পেয়ে যায় বাংলাদেশ! এই শম্বুকগতির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস থেকে এক ওভার কেটে নেন মাঠের বিচারপতি- আম্পায়াররা। সাকলাইন মুস্তাক পাঁচ উইকেট শিকার করেন।

খালেদ মাহমুদের নিরীহদর্শন মিডিয়াম পেস দিয়ে বোলিং শুরু করান লাল সবুজের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। প্রথম ওভারেই মেহরাব হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বিপদজনক মারকুটে ব্যাটসম্যান আফ্রিদি, পরের ওভারে সফিউদ্দিনের বল ভেঙে দেয় ইজাজ আহমেদের স্ট্যাম্প। শুরুর এই ধাক্কা আর সামলাতে পারলো না ৯২ এর সেরারা, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। খালেদ মাহমুদ পিচের সামান্য সহায়তাকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে এল বি ডব্লিউর ফাঁদে ফেললেন মুলতানের সুলতান ইনজামাম ও সাবেক অধিনায়ক সেলিম মালিককে। সাথে রান আউট ছিল মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মতো। সাইদ আনোয়ার গেলেন প্রথম দিকে আর আজহার মাহমুদ ইনিংস মেরামত করতে গিয়ে তাদের যে একটিমাত্র বলার মতো জুটি হয়েছিলো তা নিজেই ভেঙে দিলেন রান আউট হয়ে। খালেদ মাহমুদের থ্রোতে যখন সাকলাইন রান আউট হলেন, তখনও লক্ষ্য আর পাকিস্তানের দূরত্ব ছিল ৬২ রানের!

কখনও মনে হয়নি, এই ম্যাচে পাকিস্তান জিতবে- ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং তিন বিভাগেই সেরা ছিল আমাদের দামাল ছেলেরা। ম্যাচসেরা খালেদ মাহমুদ। এই জয় ই খুলে দিয়েছিলো টেস্ট স্ট্যাটাসের দুয়ার। আজ যে পথ ধরে ক্রিকেট বিশ্বের অভিজাত ক্লাবের সদস্য আমাদের ছোট্ট দেশটা।

এরকম রুপকথার গল্প আরও আছে, ২০০৭ এ ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ক্যারিবিয়ান সাগর পাড়ের মাঠে কুপোকাত করা, ২০১১ তে চট্টগ্রামের মাটিতে সাবেক ঔপনিবেশিক প্রভু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসম্ভবকে সম্ভব করার কাহিনী, সেসব তোলা থাকলো অন্যদিনের জন্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 5 =