বিশ্বকাপে ডেভিড ডা হেয়া এর ‘জঘন্য’ পারফরম্যান্স ও আমার কিছু কথা

বিশ্বকাপে ডেভিড ডা হেয়া এর 'জঘন্য' পারফরম্যান্স ও আমার কিছু কথা

::: আবু হেনা তসলিম অর্পন :::

সবার মত আমিও মনে করি যে এই বারের বিশ্বকাপে স্পেইনের গোলরক্ষক ডেভিড ডা হেয়ার পারফরম্যান্সটা ‘বিলো স্ট্যান্ডার্ড’ বা প্রত্যাশার তুলনায় বেশ নিচুতে ছিল। তবে যদি আপনার হাতে কিছু বকবক শোনার সময় থাকে তাহলে শুনুন, আর যদি ‘এভারেজ’ একটা গোলকিপারকে নিয়ে বকবক শোনা সময় নষ্ট মনে হয়, এড়িয়ে যান।

বিশ্বকাপকে বলা হয় Ultimate Stage of Recognition রোনালদো লিমা, জিনেদিন জিদান, পেলে, ম্যারাদোনাদের এই স্টেজের মাধ্যমেই শুধু মাত্র বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা মানুষদের কাছে গেছেন। ক্লাব ফুটবল সবাই দেখে না, কিন্তু রাস্তার অলি গলিতে, চায়ের দোকানে সবাই বিশ্বকাপ নিয়েই আলোচনা করে থাকে।

এখন আসি কিছু কথায়, মেসি রোনালদো আমাদের যুগের সেরা দুইজন ফুটবলার। এবং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় থাকবেন এই দুইজন। কিন্তু ওই যে, সবাই সব ফুটবল দেখেন না। সাধারণ মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করলে সর্বকালের সেরাদের নাম বলতে বললে অনায়াসেই পেলে ম্যারাডোনার নাম বলে দেবে, কিন্তু মেসি রোনালদোর নাম বলতে অনেকে দ্বিধা করবেন। কারণ? তাদের নামের পাশে বিশ্বকাপের ট্যাগটি নেই। কিন্তু আমরা যারা ফুটবলকে ভালোবাসি, তাদের কাছে তাতে মেসি-রোনালদোর মহত্ব এক ফোঁটাও কমবে না।

এবার গোলরক্ষকদের কথায় আসি, প্রথমে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ম্যানুয়েল নয়্যার থাকা অবস্থায়, একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফ্যানকেও বলতে শুনিনি যে ডেভিড ডা হেয়া বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিবে যে নয়্যার বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। কিন্তু নয়্যার এই মৌসুমের পুরোটাই ইঞ্জুরিতে ছিলেন এবং সেই ক্ষেত্রে আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকেরা বলেছি শুধুমাত্র এই কারণেই এই মৌসুমে ডেভিড ডা হেয়া সেরা গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপে ডেভিড ডা হেয়া এর 'জঘন্য' পারফরম্যান্স ও আমার কিছু কথা

এখন আসি আমাদের এমন বলার কারণ কি? আমি শুধু এই মৌসুমের দুইটা ম্যাচ দেখতে বলবো, সেভিয়ার সাথে ইউনাইটেডের অ্যাওয়ে ম্যাচটা এবং এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের সাথে ইউনাইটেডের ম্যাচটা। দুইটা ম্যাচ যদি সম্পূর্ণ দেখে থাকেন, তাহলে আপনাকে আর ক্লিন শিটের নম্বর দিয়ে প্রমাণ দেখানো লাগবে না যে ডা হেয়া বিশ্বসেরা গোলরক্ষক।

স্পেনের হয়ে ৪ ম্যাচের ৪ টিতেই খেলেছে ডা হেয়া। কিন্তু সেভ করেছে ১ টি। এটা অনেক বাজে পারফরম্যান্স। তবে ৪ ম্যাচে ছিল মোট ৭ টি শট অন টার্গেট, যার ৬ টি গোলে পরিণত হয়। এবং যার মধ্যে ১ টি ছিল ফ্রি কিক থেকে এবং ২ টি ছিল পেনাল্টি। বাকি ৩ টা গোলের ২ টিতে ডা হেয়ার কিছু করার ছিল না, এবং একটি খুব বাজে রকমের মিস করে, প্রচন্ড বাজে মিস সেটা আমিও বলছি।
এবং ভাগ্য নির্ধারক টাইব্রেকারেও ডা হেয়া বাজে খেলেছে, মেনে নিলাম এবং এই বিষয়ে আপনাদের সমর্থনও দিলাম, যে হ্যাঁ খুব বাজে খেলেছে।

এবার একটু চোখ বন্ধ করুন এবং এই চার ম্যাচ মাথার ভেতর থেকে মুছে ফেলুন। এই মৌসুমে গোল্ডেন গ্লাভস পেয়েছে ডা হেয়া এবং আমাদের ইউনাইটেডের ডিফেন্সের সামনে কারা কারা রয়েছে দেখুন, ক্রিস স্মলিং, ভিক্টর লিন্ডেলফ, ফিল জোন্স। যাদেরকে নিয়ে আমরা নিজেরাই দোয়া করি, “ভাই আজকে কোনো লর্ডগিরি করিস না।” এই আমাদের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডা হেয়া।

৪ ম্যাচের জন্য এখন এভারেজ মানের গোলরক্ষক এ পরিণত হয়েছেন ডা হেয়া। এটা কারো দোষ না, এটাই নিয়ম। এখন ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কথা বাদই দিলাম।

সর্বশেষে, যে যাই বলেন এই ডা হেয়া না থাকলে ইউনাইটেডের কি অবস্থা হত তা আপনারা যারা শুধু বিশ্বকাপ দেখছেন তা কল্পনাও করতে পারতেন না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three − 2 =