বিলিয়ার বদলে এসকাসিবার – ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খোঁজে আর্জেন্টিনা

বিলিয়ার বদলে এসকাসিবার - ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খোঁজে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের আগমুহুর্তে দলের কোনো খেলোয়াড় ইঞ্জুরিতে পড়লে কেমন লাগতে পারে? লুকাস বিলিয়ার ইঞ্জুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে (প্রায়) ছিটকে পড়া আমার মত অনেক আর্জেন্টাইন ফ্যানদের কাছে এক শান্তিদায়ক খবর। ২০১৪ বিশ্বকাপের সময় যে বিলিয়াকে আমরা দেখেছিলাম তার সেই পারফর্ম্যান্সের ছিটেফোটাও এখন আর নেই। তারপরেও আর্জেন্টাইন কোচ হোর্হে সাম্পাওলির একাদশে নিয়মিত থাকতেন এসি মিলানের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও থাকা একেবারে নিশ্চিত ছিল, ইঞ্জুরি থেকে হয়তো ঠিক সময়ে ফিরে আসতে পারবেন না।
 
সেটাই হয়ত শাপে বর হতে পারে আকাশি নীলদের জন্য। ডাক পেতে পারেন জার্মান ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্টের খেলোয়াড় সান্তিয়াগো এসকাসিবার।
 
আর্জেন্টাইন ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেস থেকে গত সিজনেই জার্মান ক্লাব স্টুটগার্টে নাম লেখান এই তরুন তুর্কি। আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ম্যাশ্চেরানোর সাথে তুলনা করা হয় এই এসকাসিবারের। বলা হয় নতুন মাশ্চেরানো। মাশ্চেরানোর সাথে তুলনা হওয়া খেলোয়াড়ের আর যাই হোক পটেনশিয়াল নিয়ে কারো কোনো চিন্তা থাকার কথা না। এসকাসিবারের ট্যাক্লিং কিন্তু অসাধারণ। একেবারে মাশ্চেরানোর মত সলিড বললে হয়তো একটু বেশিই বলা হবে। বয়স মাত্র ২৩, মাশ্চেরানোর চেয়ে ভালো হবার যথেষ্ট সুযোগ আছে তাঁর। ছোটোখাটো গড়নের এসকাসিবারের উচ্চতা মাত্র ৫’৬” , তবে শারীরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী।
 
আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের একজন এই এসকাসিবার। ২০১৬ সালে এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে অভিষেকের পরপরেই আলো ছড়িয়েছেন। বিশেষ করে আরেক তরুণ তুর্কি গ্যাস্টন গিল রোমেরোর অনুপস্থিতিতে পাওয়া সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেছেন তিনি।
বিলিয়ার বদলে এসকাসিবার - ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খোঁজে আর্জেন্টিনা
পিঠের ইনজুরিতে বিশ্বকাপটাই না খেলা হতে পারে লুকাস বিলিয়ার
 
সান্তিয়াগো এসকাসিবার এর খেলার ধরণ সম্পর্কে আসুন কিছু জানা যাক। যেহেতু ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তাই ডিফেন্সিভ স্কিলগুলোই আগে বলি।
 
ট্যাক্লিং
 
অল্প বয়সেই যথেষ্ট ভালো করছেন। ২০১৬ সালে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনে অভিষেকের পর সবচেয়ে বেশি ট্যাকল করেছেন, ১৩৮টি।ট্যাক্লিং তার খেলার ধরনের ট্রেডমার্ক। প্রিমেরা ডিভিশনে তার ট্যাক্লিং একদম “সেকেন্ড টু নান” অর্থাৎ ট্যাকলিং এ একরকম অদ্বিতীয় ছিলেন তিনি লিগে। টাইমিং আর এক্সিকিউশন এত বেশি ভাল যে এই উপাধি অন্য কারও সাথে বেমানান। ধরে নিতে পারেন ট্যাক্লিং এ আমরা নিশ্চিত নতুন এক মাশ্চেরানো পাচ্ছি। মনে হচ্ছে না একটু বেশি বেশি বলছি? প্রমাণ তো চাইলেই পাবেন,ইউটিউব আছে না!
 
পজিশন আর ইন্টারসেপশন
 
ম্যাচ রিডিং ক্ষমতা আছে বেশ ভালোই। এই গুণটা একটা ফুটবলারের জন্যে একদম স্বর্গীয়। পজিশনিংও যথেষ্ট ভাল। ক্ষিপ্রগতির প্লেয়ার হওয়ায় মাঠের অনেক জায়গা একাই কাভার করতে পারেন বা দ্রুতই রিকোভারি করতে পারেন। শুধু যে রিকোভারি করে বসে থাকেন তা কিন্তু না, ওই রিকোভারড বল থেকে দারুণ আক্রমণ বা ফরওয়ার্ডদের বেশ ভালো থ্রু পাস দেয়াতেও এসকাসিবার এর জুড়ি নেই। ইন্টারসেপশন নিয়ে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না আশা করি, চোখ বন্ধ করেই বিশ্বাস করা যায়। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তার খেলা ছিল অনেক নজরকাড়া। বিশেষ করে ব্রাজিল আর উরুগুয়ের বিপক্ষে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত পারফর্মেন্স।
 
পাসিং ক্ষমতা
 
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলে যে পাসিং ভালো হবে না, তা এসকাসিবার এর বেলায় একেবারে ভুল। শুধু যে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ধবংস করাতেই ব্যস্ত এসকাসিবার তা কিন্তু নয়। প্রিমেরা ডিভিশনে খেলার সময় তার মোট পাসিং কমপ্লিশান ছিল ৮৪%, জ্বী, এসকাসিবার একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ছোট পাসেই বেশি সাবলীল হলেও লং পাস যে তিনি খারাপ দেন তা কিন্তু না। এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে লং পাসেই অনেকগুলা গোলের কারিগর ছিলেন তিনি। পাসিং ক্ষমতা সবচেয়ে মিলিয়ে তাই বেশ ভাল আর অনেক কার্যকরী তিনি। কলম্বিয়ার সাথে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তার লং পাস থেকে আর্জেন্টিনা পায় তাদের প্রথম গোল।
বিলিয়ার বদলে এসকাসিবার - ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খোঁজে আর্জেন্টিনা
বিলিয়ার পরিবর্তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা হতে পারে সান্তিয়াগো এসকাসিবারের
 
এসকাসিবার এর কিন্তু একটা সমস্যা আছে । প্রচুর পরিমাণে অযাচিত ট্যাকেল করেন। মাঝেমধ্যে তা কিন্তু বিপদ ডেকে আনে। যদিও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তী মিডফিল্ডার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের সাথে তিনি এই নিয়ে কাজ করেছেন ।
 
যদিও অনেকের মতে নতুন মাশ্চেরানো হতে যাচ্ছেন এসকাসিবার, কিন্তু তার খেলা আমার কাছে মনে হয় তাঁর খেলার স্টাইলের সাথে ইতালির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল ডি রসির স্টাইল বেশি মানায়। আর্জেন্টাইন বলে হয়তো মাশ্চেরানোর সাথে তুলনা করা হয় এসকাসিবারের।
 
যারা এসকাসিবারের খেলা দেখেছেন বা হাল্কা পাতলা খোজ খবর রাখেন তারা জানেন বিলিয়া থেকে এসকাসিবার অনেক ভালো খেলোয়াড়, যদিও অভিজ্ঞতা দিয়ে হয়তো অনেকেই বিলিয়া কে এগিয়ে রাখবেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিলিয়ার পারফর্মেন্স একদম সাদামাটা।একেবারে যাচ্ছেতাই।
 
একজন আবেগী, ডাইহার্ড ফ্যান হিসেবে চাই এসকাসিবার দলে আসুক, অন্তত নিরাশ করবে না। অনভিজ্ঞ হতে পারে, সমস্যা কি তাতে? বিশ্বকাপেই নিবেন নিজের অভিজ্ঞতার প্রথম পাঠ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + eighteen =